গোপনেই হলো নাইকো মামলার শুনানি

জনগণের সম্পদ! কিন্তু পানির চেয়েও কম দামে বিদেশীদের হাতে তুলে দিবে সরকার!এটাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র! তাই সবকিছু হবে গোপনে!
কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকোর সাথে বাংলাদেশের যখন গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত চুক্তি হয়- তখনও বরাবরের মতো গোপনীয়তা বজায় রেখেই সেটা করা হয়। চুক্তির শর্ত জনগণ জানার অধিকার রাখে না! শুধু নাইকো যখন সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস জ্বালিয়ে দেয় -তখই পাবলিক নাইকো নামক দানবের নাম শুনতে পায়!


জনগণের সম্পদ! কিন্তু পানির চেয়েও কম দামে বিদেশীদের হাতে তুলে দিবে সরকার!এটাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র! তাই সবকিছু হবে গোপনে!
কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকোর সাথে বাংলাদেশের যখন গ্যাস উত্তোলন সংক্রান্ত চুক্তি হয়- তখনও বরাবরের মতো গোপনীয়তা বজায় রেখেই সেটা করা হয়। চুক্তির শর্ত জনগণ জানার অধিকার রাখে না! শুধু নাইকো যখন সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস জ্বালিয়ে দেয় -তখই পাবলিক নাইকো নামক দানবের নাম শুনতে পায়!

গত ২২ জানুয়ারী ২০১৫ সেই নাইকোর মামলার একটা শুনানী হয়ে গেলো লন্ডনের একটি আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে। বাস্তবতা হচ্ছে, এটাও করা হলো গোপনেই! আদালতের শুনানীতে অংশ নেন বাংলাদেশের বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং পেট্রবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ। শুনানীতে কি ঘটেছে এখনও জানা যায় নি কিছুই!

ঘটনাটা নিশ্চয়ই মনে আছে। ২০০৫ সালের জানুয়ারী এবং জুলাই মাসে নাইকোর অযোগ্যতায় সুনামগঞ্জের ছাতকে দু’টি গ্যাসকুপে আগুন লাগে! আগুনে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং পরিবেশ ধ্বংস হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি তখন নাইকো দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ৭০০০ (সাত হাজার) কোটি টাকা হিসাব করে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আন্দোলনের চাঁপে পড়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই দায় এড়াতে নাইকোর কাছে মাত্র ৭৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবী করে বাংলাদেশের আদালতে একটা মামলা দায়ের করে।

ওদিকে নাইকো এই মামলা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে। বাংলাদেশ সরকারও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে! কারণ বাংলাদেশ সরকারের ভিতরে-বাইরে সবখানেই বর্তমান এবং সাবেক অনেক মন্ত্রী-এমপি-আমলারা বরাবরের মতো নাইকোর দলে! বাংলাদেশ সরকারের মামলা অগ্রাহ্য করে নাইকো ২০১০ সালে উল্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদলতে দুটি মামলা দায়ের করে। একটি মামলা ‘পেমেন্ট ক্লেম’ অন্যটি ‘কম্পেনসেশন ক্লেম’। যেখানে বাংলাদেশ তার ক্ষতিপূরণের জন্য নাইকোকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে সরকারের দালালীর সুযোগে সেই নাইকোই বাংলাদেশকে উল্টো আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে দাঁড় করায়। এই নাইকো নিজ দেশ কানাডায়ও দুর্নীতির অপরাধে আদালত কর্তৃক দন্ডিত।
এতকিছুর পরেও এখনও নাইকোকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়ন করেনি সরকার। যে সরকারই আসে দেশের কথা চিন্তা না করে নাইকোর সাথে পিরিত করে। ৭০০০ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হলো বাংলাদেশের আর এখন বাংলাদেশকেই উল্টে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পালা শুরু হইছে। তারপরও গোপনে হয়ে যায় সেই মামলার শুনানী! মন্ত্রী-আমলারা মামলার হাজিরা দিতে লন্ডন ঘুরে আসেন পাবলিকের টাকার শ্রাদ্ধ করে!

হায়রে গণবিরোধী বাংলাদেশ, গণবিরোধী রাজনীতিক-আমলারা!!!

৪ thoughts on “গোপনেই হলো নাইকো মামলার শুনানি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *