বদলে যাওয়ার গল্প

কুয়াশা ভরা ভোড়ের সময়টাই ইদানিং ঘুরে বেড়ানোর একটা অভ্যাস হয়ে গেছে আদিত্যের, আর তার সাথে সোনালি বিকেলে ৬তলার বেলকনিতে দাড়িয়ে নিচে মানুষদের চলাচল দেখাটাও খুব উপভোগ করে সে। পরিবার থেকে দূরে, ঢাকা শহরে পড়ার উদ্দ্যেশে চলে এসেছে এই বছর। সাথে বিবিএ পড়ছে ঢাকা কলেজেই ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। সারাদিন বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে আদিত্যের খুব ভালো লাগে, বন্ধুরাও তাকে কোনবার একাই ছাড়ে না। আর তাদেরকে ছাড়া একা থাকতে সে একদমই পছন্দ করেনা। একা থাকতে তার খুবই ভয় করে, কেন জানি সে মুহুর্ত গুলো সপ্নের মত ভেসে বেড়াই যেগুলো সে ভুলতে চাই।

কুয়াশা ভরা ভোড়ের সময়টাই ইদানিং ঘুরে বেড়ানোর একটা অভ্যাস হয়ে গেছে আদিত্যের, আর তার সাথে সোনালি বিকেলে ৬তলার বেলকনিতে দাড়িয়ে নিচে মানুষদের চলাচল দেখাটাও খুব উপভোগ করে সে। পরিবার থেকে দূরে, ঢাকা শহরে পড়ার উদ্দ্যেশে চলে এসেছে এই বছর। সাথে বিবিএ পড়ছে ঢাকা কলেজেই ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। সারাদিন বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে আদিত্যের খুব ভালো লাগে, বন্ধুরাও তাকে কোনবার একাই ছাড়ে না। আর তাদেরকে ছাড়া একা থাকতে সে একদমই পছন্দ করেনা। একা থাকতে তার খুবই ভয় করে, কেন জানি সে মুহুর্ত গুলো সপ্নের মত ভেসে বেড়াই যেগুলো সে ভুলতে চাই।
তবুও ভালোই আছে সে। ঠিক এরকম ছিল না তো আগে, খুব চঞল স্বভাবের ছিল সে, পরিবারকে ছাড়া একটা মুহুর্তও থাকতে পারত না, এখনও অভস্য পারে না। কিন্তু ঐ পুরোন কিছু মুহুর্তকে ভুলতে আজ আদিত্য শহরে চলে এসেছে,
(১ বছর আগে)
রিমির জন্য অপেক্ষাটা তেমন একটা ভালো লাগছে না আদিত্যের, সেই কখন যে কলেজ ক্যাম্পাসে বসে আছে নিজেও হইত হিসেব রাখে নি। তবুও প্রিয় মানুষটার জন্য অপেক্ষা করাটাও একটা মজার। কিন্তু আজকাল রিমি কেমন জানি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফোনে বেশিক্ষন কথা বলতে চাই না, এইটা সেইটা অজুহাত দেখিয়ে এরিয়ে চলে আদিত্যকে। সেটা আদিত্যের আর তেমন ভালো লাগে না। এখন রিমি আদিত্যের খুব কাছের বন্ধুটিকেই বেশি সময় দেই, এইসব ভাবতে আর ভালো লাগছে না তার, ফোন করে রিমি কে, দুইবার ফোন কাটার পর অবশেষে ফোন রিসিভ করে,
— কই তুমি? কিছু হই নি তো তোমার? (খুব উদ্ভেগ নিয়ে)
— কেন আমি এখন *** রেস্টুরেন্টে আছি, (খুব একটা বিরক্তি নিয়ে)
— তুমি না বললা আজ আমার সাথে সময় দিবা, ভাবলাম তোমার(অর্ধেক কথায়েই আঁটকে দেই রিমি)
— হুম মনে ছিল না, এখন আমি আর আসতে পারছি না,
— কেন? তাইলে আমায় এতক্ষণ অপেক্ষা করালে যে,
(কোন উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেই)
আদিত্যের মন ভেঙে যায়, কি হচ্ছে এসব? আগে যে আমাই ছাড়া কিছুই বুঝত না আজ সে পরিবর্তন হচ্ছে, এইসব ভাবতে ভাবতে উঠতে যাবে এমন সময় রিহান আদিত্যের কাঁধে হাত দেই,
— দোস্ত তুই রিমির জন্য ওয়েট করছিস?
— হ্যা, তুই তো জানিস আমি এইসময় প্রতিদিন ওর জন্য অপেক্ষা করি,
— চল দোস্ত, আজ তোরে একটা সারপ্রাইজ দিব, তবে কথা দিতে হবে একটা,
— কি কথা?
— তুই উত্তেজিত হয়ে কিছু করবি না, মাথা ঠান্ডা রাখবি,
— কেন?
— আগে দে কথা,
— আচ্ছা ঠিক আছে, চল তাইলে
রিহান আদিত্যকে নিয়ে ***রেস্টুরেন্ট টাতে যাই, একটা কেবিনে পর্দা দেয়া থাকে, রিহান আঙুল দিয়ে সেই কেবিনটা দেখিয়ে বলে, “ঐ পর্দাটা সরাবি ভিতরে গিয়ে দেখবি, তবে কিছুই করবি না, মাথা ঠান্ডা রেখে চলে আসবি, তারপড় আমি যা বলব তাই করবি। আদিত্যও তাই করে, পর্দাটা আস্তে আস্তে করে সরিয়ে যা দেখে, তা সে আসলে কল্পনাও করতে পারে নাই কোনবার, সেই কেবিনে তার খুব কাছের বন্ধুটির সাথে রিমি খুব ঘনিষ্টভাবে বসে আছে। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে, সেখান থেকে রিহান আদিত্যকে নিয়ে নিজের বাসাই নিয়ে আসে। আদিত্যের তখন চিতকার করে কান্না করতে ইচ্ছে করে, রিহান আদিত্যকে সামলাল, বুঝাল,
— দোস্ত, এই চোখের পানি গুলোর অনেক দাম রে, এইগুলো তুই এমন একজনের জন্য অপচয় করিস না, যে তোরে নিয়ে কখনো ভাবেই নি,
— তুই আগে থেকে সব জানতিস,
— না, কয়েক দিন আগেই জানলাম,
— বলিস নি কেন?
— আগে একবার বলতে গিয়েছিলাম, তুই বিশ্বাস করিস নি, তাই সরাসরি দেখিয়ে দিলাম, দোস্ত বাদ দে তো ঐসব নষ্টা মেয়ের কথা, দেখ দোস্ত এইসব মানুষদের জন্য নিজের ক্ষতি কেন করবি, তুই জীবনটা মা বাবার নামে ব্যায় কর,
রিহানের কথাই আদিত্য সান্তনা পাই, সব কিছু ভুলার জন্যই তো আজ তার নতুন আগমন। ভালোবাসাটা অনেক পবিত্র একটা জীনিস, যেটা অনেকেই ফুর্তির জন্য করে বেরায়, আর তাদের জন্য আদিত্যের মত অনেকেই নিজের জীবনকে শেষ করে দেই, কিন্তু কিছু ভালো বন্ধুর কারণে তারা আবার উজ্জিবিত হয়,
আজকাল আদিত্য সেই ৬তলাই দাড়িয়ে মানুষের চলাচল করে, বুঝতে চেষ্টা করে, কে ভালো আর কে খারাপ, কিন্তু সবার একই মুখোশে আড়ালে থাকে বলে বুঝা বড় দায় হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *