তুমি ধরিত্রী!

বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে আসবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে শব্দ হয়ে ভাসবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে আগুন হয়ে জ্বলবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি নিজে পুড়ে কবিতা হয়ে আমাকে পোড়াবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে হাসবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে কাঁদবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার বর্ণমালা হয়ে সাজবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার ছন্দ হয়ে নাচবে!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে অনায়াসে রাত জাগবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে সকালের রোদ মাগবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় সন্ধ্যার আলো গায়ে মাখবে,

বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে আসবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে শব্দ হয়ে ভাসবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে আগুন হয়ে জ্বলবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি নিজে পুড়ে কবিতা হয়ে আমাকে পোড়াবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে হাসবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার মাঝে কাঁদবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার বর্ণমালা হয়ে সাজবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার ছন্দ হয়ে নাচবে!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে অনায়াসে রাত জাগবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে সকালের রোদ মাগবে।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় সন্ধ্যার আলো গায়ে মাখবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে কবির নামটি পাশে রাখবে!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় পূর্ণতা পেয়ে হবে স্নিগ্ধ সকাল,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় খুঁজে ফিরবে তোমার হারানো বিকেল।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় হবে বিষন্ন দুপুর,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার নীরবতা ভাঙ্গাবে বাজিয়ে সুখের নুপুর।
বলেছিলাম একদিন তুমি বৃষ্টির ফোঁটা হবে আমার কবিতায়,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় পাল তুলা নৌকা হবে কোন এক বরষায়।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে জ্যোছনা ধুয়া পূর্ণিমায়,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার আঁধার কাটাবে আঁধার হয়ে অমাবস্যায়,
বলেছিলাম একদিন তুমি কবিতায় হবে ছায়াবনের রাখালিয়া বাঁশি,
ফসল কাটার এক হেমন্তের বিকেলের কবিতায় তুমি হবে কৃষাণির হাসি।
বলেছিলাম একদিন তুমি কবিতার বাগানে ফুটে কেড়ে নিবে কৃষ্ণচূড়ার মন,
শরৎের শুভ্র মেঘের দল ছুটবে যখন তুমি হবে আমার কবিতার কাশবন।
বলেছিলাম একদিন তুমি পথ হবে আমার কবিতাক্ষরে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার পথিককে পৌছে দিবে ঘরে।
বলেছিলাম একদিন তুমি হবে আমার কবিতায় ঋতু বৈচিত্র্যের বাহার,
বলেছিলাম একদিন কবিতায় তুমিই হবে আকাশ বৃক্ষ ঝর্ণা নদী পাহাড়!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় একলা হবে বিরহী রমণীর মত,
সঙ্গোপনে বয়ে বেড়াবে কবিতায় আঁকা প্রিয়তমের দূর্বিসহ বেদনা যত!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতার কোলাহল হবে ক্লান্ত শরীরে,
ভিড়ের মাঝে নিঃসঙ্গ হবে কবিতার যুবকটির মত করে!
বলেছিলাম একদিন তুমি হবে বাঁধভাঙ্গা হাসি-সৃষ্ট উল্লাস কবিতায় সেই মেয়ের;
বলেছিলাম একদিন তুমি চাপা কান্না হবে, অব্যক্ত লজ্জা কৈশরের।
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় দূরন্তপনায় মাতবে,
বলেছিলাম একদিন কবিতায় অভিমানী এক বালিকা হয়ে তুমি পৃথিবীর পথে হাঁটবে!
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতা হয়ে আমায় সারা নিশি জাগাবে,
বলেছিলাম একদিন তুমি আমার কবিতায় ভোর হয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গাবে!
বলেছিলাম একদিন তুমি হবে আমার কবিতার দিন বদলের কথা;
বলেছিলাম একদিন তুমিই হবে, তোমাকে ঘিরেই সৃষ্টি হবে আমার সকল কবিতা!
বলেছিলাম একদিন হবে তুমি কবিতায় আমার আত্মার শান্তিমন্ত্র প্রেমের গায়ত্রী,
বলেছিলাম সেদিন, আজ হতে অনাদি অনন্তকালযাবত্ আমি কবিতায় শূন্যই রব; তুমি ধরিত্রী!
————————

– তুমি ধরিত্রী!
– নিবিড় রৌদ্র।
তারিখ- ২৩।০১।১৫ ইং।
রাত- ১১.২৪ মিনিট।
উত্সর্গ- দুষ্টু অথবা মিষ্টি মেয়ে ইফাত্ দিব্য’কে।

১ thought on “তুমি ধরিত্রী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *