আওয়ামিলীগ আমাদের সমাজ – রাজনীতি – অর্থনীতিতে যে ‘ইতিবাচক’ পরিবর্তনগুলো এনে দিয়েছে !

আমরা সবাই জানি, বিএনপি বা জেনারেল জিয়ার প্রতিষ্ঠিত এই দলটির কোনও গনভিত্তি ছিলোনা, এই দলটি ক্যান্টনমেন্ট এর নিরাপদ ছাউনিতে গড়ে উঠেছিলো এবং পরবর্তীতে আওয়ামী – ডান – বাম – মৌলবাদী স্বার্থান্বেষী দলছুটদের নিয়ে বিকশিত হয়েছিলো। এই দলটি বিভিন্ন মেয়াদে ৪ বার ক্ষমতায় ছিলো, ক্ষমতায় থেকে এই দলটি বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে পৃথিবীর এক নাম্বার দেশে পরিনত করেছিলো। তারেক – কোকো – মামুনের দুর্নীতিতে বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত হয়েছিলো। সেই রকমের একটি প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশের হাল ধরে আওয়ামীলীগ তাদের তিনবারের ক্ষমতার সময়কালীন দেশের রাজনীতি – অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে পৃথিবীর একটি অন্যতম গতিশীল বা ডিন্যামিক দেশে পরিনত করেছে।

আওয়ামীলীগ আমাদের সমাজে – দেশে যে সকল ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে তা জানাটা জরুরী ! দেশে ও জনজীবনে আওয়ামীলীগের রাজনীতির অসংখ্য ইতিবাচক পরিবরতনের মাত্র ১৪ উল্লেখ করা হল এই লেখায়।

১- কোনও সন্দেহ নেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামীলীগের রাজনীতির একটি অন্যতম কন্ট্রিবিউশন। হোকনা তা ভোটের রাজনীতির অস্ত্র, তবুও তো আওয়ামীলীগই এই কাজটি করেছে, বিএনপি তো করেইনি, উলটো বিএনপি রাজাকারদের কে বাচানোর জন্যে সারা দেশে নৈরাজ্য তৈরী করেছে।

২- অভিজ্ঞ আওয়ামী কূটনীতির কারণে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের শ্রমবাজার সম্পূর্ণ অথবা অংশত হারিয়েছি আমরা, কিন্তু তাতে কি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সকল নজির কে ছাড়িয়ে গেছে, দিনের শেষে টাকাই তো বড় কথা তাইনা?

৩- বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে এসেছে ঐতিহাসিক সাফল্য। বিশেষ করে “কুইক রেন্টাল” পদ্ধতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্যে অন্ধকার থেকে নিরবিচ্ছিন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূর করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের দুর্নীতি।

৪ – ব্যাংকিং এবং অর্থনৈতিক খাতের সকল দুর্নীতি – স্বজনপ্রীতি দূর করার মধ্যে দিয়ে, এই খাতের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে আওয়ামীলীগ। এখন আর চাইলেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক এর পেছনের দরোজা দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া যায়না। ব্যাংকিং সেক্টরের এই স্থিতিশীলতা আওয়ামীলীগের ইতিবাচক রাজনীতিরই ফলাফল।

৫ – বিচার বিভাগ কে পাখীর মতো স্বাধীন করে দিয়েছে একমাত্র আওয়ামীলীগ।বিচার প্রক্রিয়ায় এখন আর কোনও সরকারী হস্তক্ষেপ নেই। বিচারকরা এখন সেই চোখ বাধা দাড়িপাল্লাধারী বিচারকদের মতই স্বাধীন। আইনের চোখে এখন ধনী – গরীব – আমির – ফকির – রাজা – প্রজা – মন্ত্রী – জনগন সবাই সমান। নেই কারো বিরুদ্ধে কোনও হয়রানিমূলক মামলা মোকদ্দমা। নেই টাকার বিনিময়ে জামিন আর জামিনে বের হয়ে পালিয়ে যাবার সুযোগ। বিচারবিভাগের কাছে নেই কোনও দলীয় আশকারা … !

৬- যে পিএসসি কে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো বিএনপি আমলে, সেই পিএসসি কে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে আওয়ামীলীগ। পিএসসিতে এখন আর নেই কোনও দলবাজি, সকল পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা এখন স্বাধীন – উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ। দলের পরিচয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটা এখন দুরের স্বপ্নের মতই।

৭ – শিক্ষাখাতে আওয়ামীলীগের সাফল্য পূর্বের সকল ইতিহাসকে ছাড়িয়ে গেছে। সময়মত পুস্তক সরবরাহের জন্যে, আওয়ামীলীগ সরকার সুদুর ভারত থেকে বাংলা পুস্তক ছাপিয়ে এনে ছাত্র – ছাত্রীদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রতি বছর। পাবলিক পরীক্ষায় দুর্নীতি নেই বললেই চলে। নকল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন রুপকথার গল্পের মতই শোনায়। স্কুল কলেজ গুলোতে শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ ফিরে আসার কারণে, দেশব্যাপী গোল্ডেন জিপিএধারী ছাত্র – ছাত্রীর সংখ্যা বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।।এভাবে চললে, বাংলাদেশ অচিরেই হবে পৃথিবীর সবচাইতে অধিক সংখ্যক মেধাবী মানুষের দেশ।

৮- দুর্নীতি দমন কমিশন এখন একটি শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, তাঁর প্রমান হচ্ছে একাধিক মন্ত্রী, আমলা ও ব্যবসায়ীকে এই প্রতিষ্ঠান ডেকে পাঠিয়ে তদন্ত করেছে। এমন কি কালো বিড়াল মন্ত্রীকেও ডেকে পাঠিয়েছিলো দুদক। এই রকমের শক্তিশালী মেরুদন্ডের দুদক বাংলাদেশে ছিলোনা কখনই।

৯ – পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি ও সামরিক বাহিনিকে সম্পূর্ণ দলিয়করন মুক্ত করা হয়েছে। এখন এই সকল বাহিনী সকল রাজনৈতিক প্রভাবের উপরে উঠে স্বাধীন ভাবে কাজ করছে। এই বাহিনী গুলোর রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ কে সম্পূর্ণ ভাবে দূর করা হয়েছে। দলের পরিচয়ে বা ঘুশ দিয়ে পুলিশের চাকুরী এখন একটি বিরল ঘটনা।

১০- পূর্বের সরকার গুলো আমলাতন্ত্র ও প্রশাসন কে দলীয়করণের চুড়ান্ত সীমায় নিয়ে গিয়েছিলো। আওয়ামীলীগ সরকার, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র কে দলীয়করনের রাহুগ্রাস থেকে রক্ষা করেছে। এখন প্রশাসনে বা আমলাতন্ত্রে দলীয় লোক বলে কিছু নেই, সবাই প্রজাতন্ত্রের সেবক। কিছু গোপন বিএনপিপন্থী আমলা অবশ্য এখনও আছে, যারা গোপনে রাজনিতিবিদদের সাথে দেখা করে, তাদের ব্যাপারে সরকারের কড়া নজরদারী আছে। যেহেতু প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ ভাবে দলীয়করণমুক্ত, তাই অহেতুক হয়রানি করার জন্যে কাউকে এখন আর “ও এস ডি” হতে হয়না।

১১- বিএনপি সরকারের সময়, ছাত্রদল ও যুবদল সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। সীমাহীন সন্ত্রাস – চাদাবাজী ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলাকে করে তুলেছিলো অন্ধকার ও আতংকের জনপদ। কিন্তু আওয়ামীলীগ এই ভুলটি করেনি। তাঁরা শুরু থেকেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কে কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিধায়, অন্ধকার – আতংকের জনপদ গুলোতে আজ সফেদ শান্তির পায়রা ঊড়ে বেড়ায়, এখানে সেখানে। ছাত্রলীগ – যুবলীগ এখন সোনার ছেলেদের সংগঠন। আমাদের দেশে যে সকল সমাজকল্যাণমুলক কাজকর্ম হয়ে থাকে তাঁর সিংহ ভাগ হয়ে থাকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সোনার ছেলেদের তত্ত্বাবধানে। সন্ত্রাস ও চাদাবাজির বিরুদ্ধে দুটি আপোষহীন নাম ছাত্রলীগ – যুবলীগ। দেশের টেন্ডার পদ্ধতিতে এসেছে আমুল পরিবর্তন, দলীয় পরিচয়ে টেন্ডারবাজির দিন শেষ হয়েছে।

১২ – দেশের সকল স্তরে পরিবারতন্ত্রকে নিরুতসাহিত করা হয়েছে। রাজনীতি – ব্যবসা বাণিজ্যে পরিবারতন্ত্রকে বর্জন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বা সকল মন্ত্রী নেতাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আর দেশের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্ত পূর্ণ পদধারী নন। পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

১৩ – বিএনপি আমলে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। দেশ বিদেশে এই বিষয় নিয়ে আমাদের সুনাম খুন্ন হয়েছিলো। আওয়ামীলীগের বিগত দুই সরকারের আমলে, দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। দেশে এখন আর কোনও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নেই। এটা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের রাজনীতির একটি বিরাট সাফল্য।

১৪ – দেশ ও জাতির জন্যে, আওয়ামীলীগের রাজনীতির সবচাইতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে, দেশের গনতন্ত্রায়ন। দেশে এখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইউরোপ বা উন্নত বিশ্বের যেকোনো দেশের মতই। জনগনের স্বাধীন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে নেই কোনও সরকারী বাধা। টেলিভিশন, সংবাদপত্র সকল মিডিয়া উপভোগ করছে চরম গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগনের প্রতি সরকারের বা গোয়েন্দাদের নেই কোনও নজরদারী।ইন্টারনেটে নেই কোনও নিয়ন্ত্রন বা নজরদারী। সকল দল মত পেশার নাগরিক তাঁর স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারে। সভা – সমাবেশ – মিছিল – মিটিং এ নেই কোনও সরকারী বিধি – নিষেধ। বিরোধী রাজনিতিবিদদের অহেতুক মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করার কুপ্রথা কে বিলোপ করতে পেরেছে আওয়ামীলীগ।

এই লেখাটি একান্তই ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, সুতরাং সকল ধরনের দ্বিমত, সমালোচনা কে অগ্রিম স্বাগত জানাচ্ছি।

১৭ thoughts on “আওয়ামিলীগ আমাদের সমাজ – রাজনীতি – অর্থনীতিতে যে ‘ইতিবাচক’ পরিবর্তনগুলো এনে দিয়েছে !

    1. এই পোস্ট আওয়ামীরা স্যাটায়ার

      এই পোস্ট আওয়ামীরা স্যাটায়ার বলে ধরে না নিলে মনে কষ্ট পেতে বাধ্য।

      এটা বুকে ব্যাথা চেপে রেখে হো হো করে হাসা’র মতো কষ্ট ভাই।
      স্যাটায়ার বলেই রক্ষে!

  1. এই না হলে সারোয়ার ভাই!নিজের
    এই না হলে সারোয়ার ভাই!নিজের দলের প্রতি আক্রমণ দেখেও যার স্যাটায়ার পড়ে আহত হয়না কেউ। বরং পায় নির্মল হাসির খোরাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *