সংকটের সমাধান কোথায় ?

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় কার্যত অচলবস্থার সৃষ্টি । বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি। কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। পোল্ট্রি শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে নেমে এসেছে ধস। এ কারণে মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।সাধারন মানুষ আতংকে.জীবন বিপর্যয় ।

টানা অবরোধে ফসল উত্তোলনের খরচ আর গাড়ি ভাড়ার টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক। দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেনা। এতে মাঠেই পচে নস্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের হাজার হাজার একর জমির ফসল।


দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় কার্যত অচলবস্থার সৃষ্টি । বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি। কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। পোল্ট্রি শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে নেমে এসেছে ধস। এ কারণে মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।সাধারন মানুষ আতংকে.জীবন বিপর্যয় ।

টানা অবরোধে ফসল উত্তোলনের খরচ আর গাড়ি ভাড়ার টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক। দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি ক্ষেত থেকে সবজি তুলছেনা। এতে মাঠেই পচে নস্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের হাজার হাজার একর জমির ফসল।

১৭ দিনে পোল্ট্রিশিল্পের লোকসান হয়েছে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা।

এছাড়া অবরোধের দেশের মহাসড়কগুলো অচল হয়ে পড়েছে

বাস না থাকায় বিপাকে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। ফলে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সহিংসতার বেড়াজালে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিইবি) মহাসচিব ডাঃ এম.এম খান বলেন, “গত ১৪ দিনে প্রায় ২৮ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ডিমই পরিবহনের অভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখাতে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। ৭ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংস এবং ৯৯ লাখ একদিন বয়সী বাচ্চা বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি বলেন, “প্রতিটি ব্রয়লার বাচ্চার নূন্যতম উৎপাদন খরচ ৩৫ টাকা এবং এক কেজি ওজনের একটি মুরগির উৎপাদন খরচ প্রায় ১১০ টাকা। মুরগির মাংস উৎপাদনখাতে ক্ষতি প্রায় ৭৯ কোটি টাকা এবং একদিন বয়সী বাচ্চার উৎপাদন খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।”

এদিকে দেশের হাসপাতাল গুলোতে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন, ওষুধসহ জরুরি উপকরণ। শীত মওসুমে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ে। এছাড়াও বয়স্করাও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তাই এখন প্রত্যেক হাসপাতালে এরকম রোগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু তাদের চাহিদামতো কোন হাসপাতালে অক্সিজেন নেই। ফলে এরকম শিশু ও বৃদ্ধরোগীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, “স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা এভাবে চলতে পারে না। দীর্ঘ মেয়াদি রাজনৈতিক আন্দোলনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।”

ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইডের এজিএম করপোরেট ও কমিউনিকেশন সাইফুর রহমান লিলেন জানান, তারাও সঙ্কটের মধ্যে আছেন। তবে তা কাটিয়ে উঠতে তারা সক্ষম হয়েছেন।

তিনি জানান, চলমান অবরোধের কারণে ঢাকার বাইরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ঢাকার বাইরে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সঙ্কটের খবর পাওয়া গেছে।

পরিবহন সেক্টরেও নেমে এসেছে অচলবস্থা। দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষাকারী বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এগুলোর বেশির ভাগই গণপরিবহন। কিন্তু ৬ জানুয়ারি থেকে অবরোধ শুরুর পর যানবাহন চলাচলের পরিমাণ নেমে এসেছে অর্ধেকে।

এদিকে বিজিবির পাহারায় ৫০ হাজার পরিবহন চলাচলের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে খুব কম দেখা গেছে,

পরিবহন মালিকেরা বলছেন, দূরপাল্লার পথে চলাচলকারী নামীদামি পরিবহন কোম্পানিগুলো অবরোধে বাস বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিটি বাসের দাম ৭৫ লাখ থেকে পৌনে দুই কোটি টাকা। হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত বাস ইনস্যুরেন্স সুবিধা পায় না। এ কারণে তারা বাস চালাচ্ছে না

এদিকে সবজি চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ওইসব জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক সবজি রাজধানীতে আসে।

আবার পুড়িয়ে দেয়ার আশঙ্কায় মালিকরা ট্রাক ভাড়াও দিতে রাজি হচ্ছেন না। যারা রাজি হচ্ছেন, তারা ভাড়া চাইছেন দেড় থেকে তিনগুণ।

কারওয়ানবাজারের আড়ত মালিকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন সরবরাহ অনেক কম। যে ট্রাকের ভাড়া ১০ হাজার টাকা ছিল, এখন তা ২০ হাজার। তাই বাধ্য হয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ট্রাক মালিকরা বলছেন, অবরোধের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক চালাতে হয়। গাড়িতে আগুন দেয়। ভাংচুর করে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চালকও ট্রাক চালাতে রাজি হয় না। তাই বাধ্য হয়েই আগের ভাড়া চেয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

তাই যথারিতী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই সংকট কাটবে কবে? কারকাছে গেলে সমাধান মিলবে?. এমন পরিস্থিতিতে দেশের এ চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

see more www.shadhinbangla24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *