পার্বত্য চট্টগ্রাম : আন্দোলনের ‘অস্ত্র’ যখন নারী


পাহাড়ের আন্দোলনের 'অস্ত্র' যখন নারী



পাহাড়ের আন্দোলনের 'অস্ত্র' যখন নারী

তার নাম কাজলী ত্রিপুরা। তিনি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের ইউপি সদস্য ও পাহাড়ি ‘নারীনেত্রী’। সম্প্রতি সেখানে বাঙ্গালীদের আনারস বাগান ও পাহাড়িদের ঘরবাড়ি পোড়ানোর গল্প গণমাধ্যমে এসেছে। এরপর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কয়েকদিন আগে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তার সাথে স্থানীয় ইউএনও নুরুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মিজানুর রহমান চলে যাবার পর ইউএনও নুরুজ্জামানের উপর ‘আচ্ছা স্যার, আপনি সবসময় এত মিথ্যা বলেন কেন?’ বলে একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়েন কাজলী। পুলিশ ঘটনার আকস্মিকতা দ্রুত সামলায় বটে, তবে কাজলীদের গর্জন থামাতে বেশ কসরত করতে হয়। আমি জানি, আপনি কী ভাবছেন। ভাবছেন, ‘ঠিকই করেছে! এভাবেই প্রতিরোধ করা উচিৎ! স্যালুট কাজলীকে!’ বলি, একটু ভাবুন। কয়েকটা প্রশ্ন করলাম, উত্তর দিন। নীচে ভিডিও ক্লিপস দিলাম, একটু দেখে নিন। এতজন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে একজন ইউএনও’কে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ যেন কিছুতেই থামাতে পারছিল না। কাজলী চিৎকার করেই যাচ্ছিলেন। চাকমা ভাষায় ইউএনও’কে গালিগালাজ করছিলেন। যেমন, ‘মগদ্দামুইই’ কথাটার বাংলা ভাবানুবাদ হলো, ‘মরার ঘরের মরা’। কিছু শব্দের ভাবানুবাদ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। ভাবুন, এতক্ষণ ধরে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপর আপনি, আমি কিংবা দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনো নাগরিক যদি এমন করতেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করতে কতটুকু সময় নিত প্রশাসন? আমার ধারনা, ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো। মামলা তো হতোই। এরপর ওই ঘটনার দুইদিন পর নুরুজ্জামান সাহেবের মোবাইল ফোনে ভয়াবহ হূমকি দিয়ে এসএমএস করা হয় বলে খবরে বেরিয়েছে। মজার ব্যাপার কি জানেন? এখনও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। কারো বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট করে কোনো মামলা হয়েছে বলেও শুনিনি। স্বয়ং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন না। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী, সেটি সহজেই অনুমেয়।

আমি ধরেই নিলাম, নুরুজ্জামান দোষী, তিনি মিথ্যে বলেছেন, তিনি অনেক অপরাধ করেছেন, যেটাতে কাজলী ক্ষুদ্ধ হতে পারেন। আমি জানি আপনিও এমন ভাবছেন এবং কাজলীর আচরনের একটি যৌক্তিকতাও বের করে ফেলেছে আপনার মগজ। কিন্তু এটা কি ভেবেছেন যে, কেন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এত বড় ঘটনা ঘটার পরও কাজলীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও করা হলো না? আপনি বলবেন, এতে কী প্রমাণ হয়? আমি বলবো, এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজলীরা ‘নিষ্পেষিত’ নয়, যেমনটা আপনি ভাবছেন। সেখানে কাজলীরাই বরং প্রভাবশালী। কাজলীরা নির্যাতিতা নয়, তারাই সেখানে ভাগ্যবিধাতা। কাজলীরা অপরাধের শিকার নয়, বরং তারা অপরাধী কিংবা অপরাধীদের ব্যবহার্য ‘টুল’।


পাহাড়ের আন্দোলনের 'অস্ত্র' যখন নারী

আমি অনেকদিন ধরেই বলছি, পাহাড়ি নারীদের ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, পাহাড়ের বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বাঙ্গালী রক্ষণশীল সমাজে আপনি বা আমি আমাদের মা-বোনকে সামনে রেখে আন্দোলন করতে পারবো না। কিন্তু তারা পারবেন, তাদের সংস্কৃতি যতটা রক্ষণশীল, তার চেয়ে বেশি উন্মুক্ত (নো অফেন্স)। তবে এ উন্মুক্ততা কেবল নিজেদের সম্প্রদায়ের ভেতরই মাত্রাহীন। সম্প্রদায়ের বাইরে এই উন্মুক্ততার জায়গায় রক্ষণশীলতা নয়, চরম-রক্ষণশীলতার আবির্ভাব ঘটে।

এইতো সদ্য গত হওয়া বছরটিতে পাহাড় বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সরগরম ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষ। বিজিবি’র জন্য ১৯৯১ সালে বরাদ্দকৃত জমিতে কয়েকজন নারী বিজিবি সদস্যদের সামনেই কলাগাছ লাগাতে আসেন। বিজিবি খুব স্বাভাবিকভাবে বাঁধা দিলে বিজিবি’র সঙ্গে নুরুজ্জামানের মতই আচরণ করা হয়। এরপর লাগিয়ে দেয়া হয় সংঘর্ষের তকমা। পরেরদিন পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই, “আদিবাসী নারী নির্যাতিত বিজিবি’র দ্বারা”। নিজের চোখে দেখা ঘটনাবলী এভাবে উল্টে যেতে দেখে নিজের অজান্তেই মুখ ফসকে বের হয়ে আসে, ‘ইম্প্রেসিভ’। সেখানেও সামনে ছিলেন কাজলী ত্রিপুরাদের মতো নারী নেত্রীরা।

সাজেকেও আন্দোলন হয়েছিল বিজিবি’র বিরুদ্ধে। ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাজেকে বিজিবি অনেকদিন ধরেই ক্যাম্প স্থাপন করতে চেয়েছে। এ অঞ্চল পপি চাষের আখড়া বলে শোনা যায়। বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রতিবেদন হয়েছে এলাকাটি নিয়ে। এছাড়া অস্ত্রচোরাচালানের জন্য রীতিমত স্বর্গ বলা চলে একে। কয়েক হাজার মানুষ বাস করে আয়তনে গড়পড়তা একটি জেলার সমান এই ইউনিয়নে। তাদের বেশিরভাগই দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন। বাংলাদেশের অংশ হলেও সীমান্তের ওপাশের অংশটার সাথেই তাদের যোগাযোগ বেশি। মোবাইল ফোন অপারেটর থেকে শুরু করে অনেককিছুর জন্য ওখানকার মানুষের নির্ভরশীলতা পার্শ্ববর্তী ভারতের রাজ্যটির উপর। সেখানে কয়েক বছর আগেও স্থানীয় পাঙ্খোয়াদের প্রভাব ছিল বেশি। কিন্তু এখন তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ইউপিডিএফ-এর ছত্রছায়ায় হাজারো চাকমা এখন পাঙ্খোয়াদের ভূমির মালিক। তাদেরকে আমি সেটেলার বলি। কিন্তু অনেকে ক্ষিপ্ত হন। অনেকে পাল্টা যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করেন, তারা অভ্যন্তরীণ উদ্ধাস্তু। আমি বলি, তোমরা যাদের ‘বাঙ্গাল সেটেলার’ বলো, তারাও পরিবেশ উদ্ধাস্তু। আগামী ৫০ বছরে এমন পরিবেশ উদ্ধাস্তুর সংখ্যা বাংলাদেশে দাঁড়াবে সাড়ে ৩ কোটিতে। যা বলছিলাম, সাজেকের কয়েকশ’ কিলোমিটার সীমান্তে কোনো পাহারা নেই। অনেকদিন ধরেই অঞ্চলটা ইউপিডিএফ-এর দখলে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিজিবি সীমান্ত চৌকি ও ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিলে তীব্র বিরোধীতা করে সংগঠনটি। ব্যবহার করা হয় ধর্মীয় ইস্যু। বলা হয়, বিজিবি’র জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায় বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করা হবে। প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনায় বসতে রাজী হলেও পরবর্তিতে নারীদের সামনে রেখেই বানচাল করে দেয়া হয় সবকিছু। একই কথা প্রযোজ্য দীঘিনালার বাবুছড়ার ঘটনার ক্ষেত্রে। বনবিভাগের জায়গায় বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করতে গেলে প্রশাসন বাঁধা দেয়। সেটাকে ধর্মীয় ইস্যুতে পরিণত করা হয়। এমনকি উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মর্তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয় নারীদের। দুঃখিত, ‘লেলিয়ে’ কথাটা ব্যবহার করেছি বলে। তবে এ ধরণের আচরণ ব্যখ্যা করতে আর ভালো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না।

ঘিলাছড়িতে যমুনা চাকমা নামের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বেশ আন্দোলন হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধে গঠন করা হয় ‘ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’। কাজলী ত্রিপুরা এই কমিটির একজন সদস্যও। একই ধরণের কমিটি সাজেকেও গঠন করা হয়েছে। মূলত, ইউপিডিএফ সমর্থিত অসংখ্য নামকাওয়াস্তে সংগঠনের মতো এসবও একেকটি ভুঁইফোড় সংগঠন। এই সংগঠন নারীর উপর নির্যাতন কতটুকু প্রতিরোধ করতে পেরেছে তা জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের হেয় করতে বেশ দক্ষ এই সংগঠনের মুখচেনা কয়েকজন ‘নেত্রী’। ওনাদের মুখের ভাষা যতটা অশ্রাব্য, শারীরিক ভাষা ততটাই আক্রমণাত্মক। ভাবার কোনো কারণ নেই যে, তারা নিষ্পেষিত হয়ে এমনটা করছেন। কয়েকদিন আগে বিবিসি বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষ একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যার শিরোনাম ছিল, ‘দিল্লির মেট্রোতে মহিলা পকেটমারই অনেক বেশি’। সেখানে তিনি বলেছিলেন, সাধারণত পুরুষ পকেটমার ধরা পড়লে সবাই দু-চার ঘা সুযোগ পেলে লাগিয়ে দেন। কিন্তু মহিলা পকেটমার ধরা পড়লে মার দেয়া দূরে থাক, বরং সবাই একটু ভয়ে থাকেন – মহিলাকে হেনস্থা করার অভিযোগে উল্টো অন্যরাই না তাকে কখন মেরে বসে! অপরাধকর্মে নারীদের এজন্যই ব্যবহার করা হয়। নারীদের প্রতি সমাজের একটি সম্মান থাকে, দূর্বল জায়গা থাকে। এই সমাজেই আবার এমন অনেকে আছে যারা ওই সম্মানের অপব্যবহার করে ফায়দা লুটতে সিদ্ধহস্ত। কাজলী ত্রিপুরারা কিংবা তাদের পেছনের ওই ব্যক্তিরা সমাজের এমনই কিছু মানুষ যারা নিজেদের সম্মানের অপমর্যাদা করতে ভালোবাসেন।

গত বছরই বান্দরবানে ধর্ষনের পর খুন করা হয় এনজিও কর্মী উপ্রু মারমাকে। কয়েকদিনের মাথায়ই ধর্ষক বিজয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ঘটনার দুইদিন পর ওই এলাকায় নিজের বাগানে কাঠ কাটতে গেলে পাহাড়ি নারীরা পিটিয়ে খুন করেন মোসলেম মিয়া নামের এক বাঙ্গালী কাঠ ব্যবসায়ীকে। ভিডিও ক্লিপটা নিচে দিলাম। মোসলেম উদ্দীনকে খুব ভয়ানকভাবে পেটানো হয়। ঘটনাস্থলের একেবারে সাথেই ছিলেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা কেবল ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করেননি। কোন অপরাধে মোসলেম মিয়াকে খুন করা হলো তা পরিষ্কার ছিল না। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার ছিল, যুবকরা যখন মারতে যাচ্ছিল তাকে, তখন খুব সচেতনভাবে তাদের কাছ থেকে বাঁশ বা লাঠি সরিয়ে নেয়া হয়। যুবকদের পরিবর্তে এ হত্যাকাণ্ডে নারীরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন! অর্থাৎ খুনটা করতে হবে নারীদের দিয়েই। কারণ, তারা খুব ভালোভাবেই জানেন, ‘আদিবাসী নারীদের’ কিচ্ছু করার ক্ষেমতা বা হ্যাডম সরকারের নেই। ঘটনার পর স্থানীয় থানা থেকে ওই মহিলাদের তলব করা হয়। কিন্তু তারা সেখানে যাওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননি। নিজেদের চোখের সামনে একজন লোককে পিটিয়ে খুন করা হলো, অথচ সেই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এল না। বাংলাদেশের কোনো মূলধারার পত্রিকায় খবরটা প্রকাশের সাহস কোনো প্রতিবেদক দেখাতে পারলেন না। তাদের কারও শাস্তি হয়নি। যদি কোনোদিন বিবেকের শাস্তি তারা পান, সেটাই হবে তাদের মূল শাস্তি। আর হ্যাঁ, মোসলেম মিয়াকে খুনের ঘটনার একটা বেশ ভালো অজুহাত বানানো হয়েছিল। এই মোসলেম মিয়াই নাকি উপ্রু মারমার ধর্ষক ও খুনী। এবং আমাদের মধ্যে অনেকেই এ কথা বলেই সেই হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করেছিলেন, যাদের মুখে আমি নিত্য ‘মানবাধিকার’ শব্দটি শুনতে অভ্যস্ত। জানিনা, মোসলেম মিয়াকে খুন করার আগে কেন তার বিরুদ্ধে মামলা দূরে থাক, পাহাড়ি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উপ্রু মারমার ধর্ষণের ঘটনায় তাকে জড়িয়ে একটি অভিযোগও করা হলো না। তিনি ধর্ষন ও খুন করেছেন এটা কি ওই মহিলারা আগে থেকেই জানতেন? যদি জানতেনই, তাহলে তাদের এত ভালো মিডিয়া সংযোগ থাকার পরও, সেটা আগে প্রকাশিত হলো না কেন? কীসের ভিত্তিতে মোসলেম মিয়াকে খুনি ও ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? কেনইবা খুন করার পরই মৃত লোকটার নামের পাশে ধর্ষক কথাটি জুড়ে দেয়া হলো? কে দেবে আমার এ প্রশ্নের উত্তর? আমি জানি কেউই দেবে না। বুক চিরে আসা দীর্ঘশ্বাস ব্যতিত আমার অনুভবের কিছু অবশিষ্ট নেই আর।

পার্বত্য চট্টগ্রামে খুব সচেতনভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি নারীদের। যেকোনো ইস্যুতে তাদের সামনে রাখা হচ্ছে। একটি সহানুভূতি মানুষের মনে এমনিতেই রয়েছে, নারী দেখলে সেটার পারদ আরও বেড়ে যায়। তাদের কোনো অপরাধকে তখন আর অপরাধ মনে হয় না, মনে হয় ‘সাহস’। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যেকোনো ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। বাঙ্গালী কিংবা পাহাড়ি, সেসব বড় কথা নয়। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লিঙ্গভেদ, জাতি বা ধর্মভেদের বিরুদ্ধে আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। যেকোনো নাগরিককে সমান চোখে দেখতে হবে। নানিয়ারচরের ঘটনায় যারা ১২-১৫ একর জায়গার আনারস কিংবা কয়েক লাখ সেগুন গাছ ধ্বংস করেছে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে, আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা বাড়িঘর পুড়িয়েছে তাদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে। দু’টোই ফৌজদারি অপরাধ। এছাড়া যেহেতু আনারস গাছ দু-এক বছর পরপরই কাটা হয় কিংবা এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়, সেহেতু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিতেই এসব করা হয় কিনা, তা নিয়ে আলাদা তদন্ত করা উচিৎ। বিজয় দিবসের প্রাক্বালে এ ধরণের গর্হিত অপরাধ যে-ই করুক না কেন, তার আলাদা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, সেসবও বিবেচনায় নিতে হবে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত

১ thought on “পার্বত্য চট্টগ্রাম : আন্দোলনের ‘অস্ত্র’ যখন নারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *