জ্বালাও-পোড়াও-এর রাজনীতি বাদ দিতে হবে।।

জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকে ‘আন্দোলন’ নামের তিলক পড়িয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বক্তব্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা মাত্র। এখানে আরও একটি দিক আছে তাহলো এর মাধ্যমে জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে- হিংস্রতার মাত্রা কতটা হতে পারে, যা কিনা ক্ষমতা না পেলে আরও ভয়াবহ হবে। যেনতেনভাবে হলেও একটি নির্বাচনের আয়োজন জরুরি এতে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যেতে পারে।


জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকে ‘আন্দোলন’ নামের তিলক পড়িয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বক্তব্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা মাত্র। এখানে আরও একটি দিক আছে তাহলো এর মাধ্যমে জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে- হিংস্রতার মাত্রা কতটা হতে পারে, যা কিনা ক্ষমতা না পেলে আরও ভয়াবহ হবে। যেনতেনভাবে হলেও একটি নির্বাচনের আয়োজন জরুরি এতে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যেতে পারে।

অপরদিকে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন, বিরোধীদের মতো মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো জঘন্য কাজ তারা করেন না। অন্তত তাদের আন্দোলন প্রক্রিয়া-কৌশল সম্পর্কে জনগণের ধারাণা আছে। এবার বিরোধীদের সহিংস তাণ্ডব বুঝিয়ে দিয়ে কারা খারাপ আর কারা ভালো তার একটি তালিকা তৈরি করতে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বলেই মনে হয়। এ জন্য সরকার শুধু বুলি আওড়াচ্ছেন, ‘জ্বালাও পোড়াও-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’-কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। অবশ্য এ সময়ের মধ্যেই জনগণ তথাকথিত আন্দোলনের প্রভাব-পরিণতি বুঝে নিতে পারবে, সরকারের চাওয়াটিও পুরণ হয়ে যাবে (?)।

একদিনের গণতন্ত্রের মালিক হয়ে জনগণ পড়েছে যত বিপদে। অবরোধ-হরতালে আয়-রোজগার বন্ধ, পেট্রোল বোমার আঘাতে জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার, নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন আরও কত কী। এ অবস্থায় দেশী-বিদেশী নামী-দামী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত নছিয়ত করে যাচ্ছেন, ‘একমাত্র সংলাপেই সব সমস্যার সমাধান হবে’- এই বলে। সংলাপ হওয়াটা জরুরি; অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন কার সাথে কার সংলাপ হবে? আওয়ামী লীগ ও জোট এবং বিএনপি ও জোট-এর মধ্যে? এ ধরনের সংলাপের কোনোই প্রয়োজন নেই।

এখানে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সংলাপে জনগণের প্রবেশাধিকার নেই! যে কিনা জ্বলে-পুড়ে মরছে এবং ক্ষমতার বৈধতার জন্য যাকে একদিনের তথাকথিত গণতন্ত্রের সেবাদাস হিসেবে পাঁচ বছর পর পর ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে হবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর অধিকাংশেরই সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র দুই নেত্রীর পাশে বসার জন্য একটি করে দোকান খুলে বসেছেন তারাও সংলাপের অংশগ্রহণকারী; আর জনগণ দর্শক শ্রোতা। বাহ বেশ চমৎকার সব প্রক্রিয়া!

যদি সংলাপ করতেই হয়, জ্বালাও-পোড়াও-এর রাজনীতি বাদ দিতে হবে। উন্নয়নমুখি আন্দোলনের পাঠ গ্রহণ করে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনীতিকদের সংলাপে বসতে হবে। অন্যথায় সংলাপের প্রয়োজন নেই। এতে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারা বন্ধ হবে না। বরং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সন্ত্রাস-সহিংসতা মোকাবেলা করে জননিরাপত্তা বিধান করাই একমাত্র সমাধান। আর যদি সরকার মনে করে থাকে, জনগণ বিভৎস্যতা প্রত্যক্ষ করুক, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের চিনে নিক তাহলেও এর ফল ভালো হবে না; খেসারত একদিন দিতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *