খুলতেই পারি কিন্তু হুম …’

নায়লা নাইম,
খুব সম্ভবত আমাদের ‘সুশীল সমাজে’ অবস্থানকারী একমাত্র নারী , যিনি ‘খুলতেই পারি কিন্তু হুম …’ ভাবধারায় জনমনে নিজ স্থান করে নেওয়া ‘সুধু দেখবে, কিছু কিন্তু বলবে না’ দাবীতে অটল সাহসী ব্যাক্তিত্ত ! (আগের দিনের আপডেট আন্ডারওয়ার, পরের দিনে ওভার এন্ড আন্ডার বোথ !) সোজা ব্যাপার তো না !
হেহে, ‘সাহসী সুশীল নারী’দের বন্দনা শ্যাষ ! আসেন, আমরা কিছু সাধারন জীবন দেখি ! …………………………………..


নায়লা নাইম,
খুব সম্ভবত আমাদের ‘সুশীল সমাজে’ অবস্থানকারী একমাত্র নারী , যিনি ‘খুলতেই পারি কিন্তু হুম …’ ভাবধারায় জনমনে নিজ স্থান করে নেওয়া ‘সুধু দেখবে, কিছু কিন্তু বলবে না’ দাবীতে অটল সাহসী ব্যাক্তিত্ত ! (আগের দিনের আপডেট আন্ডারওয়ার, পরের দিনে ওভার এন্ড আন্ডার বোথ !) সোজা ব্যাপার তো না !
হেহে, ‘সাহসী সুশীল নারী’দের বন্দনা শ্যাষ ! আসেন, আমরা কিছু সাধারন জীবন দেখি ! …………………………………..

৩ছেলেমেয়ে নিয়ে স্বামীছাড়া সংসার চালান আমেনা বেগম । ছোটো মেয়ে হবার পরই স্বামী নতুন বউ নিয়া ভেগে গেছেন ! বিকাল হলে তিনি পিঠার সরঞ্জাম নিয়ে রাস্তায় বসেন, বড় ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে পুরো সন্ধ্যা রাত অব্দি পিঠা বানান, সে টাকায় সংসার চলে । দুই ছেলেমেয়েকে পড়ান ও তিনি ! মাত্র ২৪বছরে স্বামীহীন হয়ে যাওয়া যুবতী আমেনা, বস্তিতে, পথে ঘাটে বহু পুরুষের কামনার পাত্রী এখন ! কখনো ছেলেমেয়ের হাত ধরে, কখনো সম্মান বাঁচানোর প্রবল তাড়নায় ‘লোলুপ দৃষ্টি’কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জীবনের দৌড় দিয়ে যাচ্ছেন তিনি !

বাপ নাই সংসারে, মা অসুস্থ, ছোটো ৪ভাইবোন । ১৩ বছরের শাহানা তাই সিগনালে ফুল বেচে সারাদিন, সন্ধ্যায় এক বাড়িতে রান্নার কাজ করে, সেলাইয়ের কাজ জানে, তাই কখনো পরিচিত দর্জি দোকানে পার্টটাইম কিছু কাজ ও করে । দেখতে বড়সড় বলে, বহু লোক তাকে ইশারায় ইঙ্গিতে ডাকডাকি করে, জোরাজোরিও হইছে অনেকবার, অনেক টাকার লোভও দেখায়, ভালো খেতে দেবে, ভালো থাকবে জীবনের স্বপ্নও দেখায় … তার মনে সায় দেয় নাই, তাই কখনো গায়ের জোরে, কখনো মনের জোরে ‘খুব ভালো থাকার ভাবনা’কে সরিয়ে কষ্টের জীবন টেনে নিয়ে যাচ্ছে সে !

৩০বছরের ‘পাগলী’ (তার নাম নেই, জিজ্ঞেসেও বলেনি), পথেঘাটে ভিক্ষে করে বেড়ায় । হুটহাট চলতি বাসে উঠে পড়ে, সুন্দর সুরে গান করে করে টাকা চায় । আলুথালু কেশ আর বেশের মাঝে সুন্দর মুখটি দেখে আকৃষ্ট হয় পথচলতি ‘সুযোগসন্ধানী’রা ! ‘আয় টাকা দেই’ বলে গায়ে হাত দেয়ামাত্র গায়ের জোরে দেয়া বিশাল এক থাপ্পড়ের আওয়াজ পাওয়া যায় পাবলিক বাসে !
‘টেকা দিবি না না দে, গায়ে হাত দিলি ক্যান, কিনে লিয়েছিস হারামী ….’ বলে গটগট করে নেমে চলে যায় আরেক বাসের খোঁজে ! ………………………………..

‘আমার পোষাক, আমি চাইলে পড়ুম, নাইলে খুলুম তর কি’
অলিখিত এই ভাবধারায় চলে যাচ্ছে আমাদের আধুনিক-সুশীল সমাজ ও শোবিজনেস ও শো-পারসোনালিটিজ! সাহসিকতার সব সংজ্ঞা-উদাহরন আজ এসে এক হয়ে গেছে ‘বিকিনি-মাইক্রো মিনিজ আর সস্তা সুরসুরি দেয়া অঙ্গভঙ্গিমায়’ !
কামিজ খুলে আন্ডারওয়ার দেখিয়ে দিলাম,
ওয়াহ কি সাহাসী মডেল !
্রয়োজনহীন মেল একট্রেসকে জড়াজড়ি করে অনস্ক্রিন কিস করে দিলাম, ওয়াহ কি সাহাসী একট্রেস !
বিকিনি ফটোশুট করে ধুমধাম লাইমলাইটে চলে এলাম, ওয়াহ কি বোল্ড পারসোনালিটি !

সাহস, তোমার নাম কি গো আজ ? –
বিকিনি’তে পরিচয় !

সবচাইতে ‘অরক্ষিত’ পরিবেশে দাঁড়িয়ে ‘নিজ সম্মান বাঁচাবার’ সাহসিকতাকে সালাম ,শ্রদ্ধা, ব্র্যাভো !!!

আর, সবচাইতে ‘সুরক্ষিত’ পরিবেশে ‘কাপড় খোলার সাহসীকতা’কে একরাশ লজ্জা, অশ্রদ্ধা, ধিক্কার !!!

১ thought on “খুলতেই পারি কিন্তু হুম …’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *