ছোট গল্প :অপেক্ষা

সমুদ্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে।
সাদা ফেনাগুলো তীরে এসে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাদা জমিনের লাল শাড়ি পড়া মেয়েটির হৃদয়ও। দূরে… যেখানে নীল অতলান্তিক জলরাশিকে সাথে নিয়ে সমুদ্র তার চিরবহমান যাওয়া আসার গতিময়তার রুটীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে দিগন্তে গিয়ে মিশে গেছে… ত্রিশোর্ধ এক নারী সেদিকেই চেয়ে আছে।

বিষন্ন… একা… আশেপাশে অনেকের ভিতর থেকেও সমুদ্রের গর্জনের মধ্যে সে অসহ্য অলস এক নিরবতার মাঝে বিরাজ করছিল।
ইদানিং প্রচন্ড এক একাকীত্বকে সাথে নিয়ে প্রহরগুলো কেটে যাচ্ছে তার। জীবনের দিন রংহীন… আজকাল প্রতিদিন।


সমুদ্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে।
সাদা ফেনাগুলো তীরে এসে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাদা জমিনের লাল শাড়ি পড়া মেয়েটির হৃদয়ও। দূরে… যেখানে নীল অতলান্তিক জলরাশিকে সাথে নিয়ে সমুদ্র তার চিরবহমান যাওয়া আসার গতিময়তার রুটীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে দিগন্তে গিয়ে মিশে গেছে… ত্রিশোর্ধ এক নারী সেদিকেই চেয়ে আছে।

বিষন্ন… একা… আশেপাশে অনেকের ভিতর থেকেও সমুদ্রের গর্জনের মধ্যে সে অসহ্য অলস এক নিরবতার মাঝে বিরাজ করছিল।
ইদানিং প্রচন্ড এক একাকীত্বকে সাথে নিয়ে প্রহরগুলো কেটে যাচ্ছে তার। জীবনের দিন রংহীন… আজকাল প্রতিদিন।

পাশ দিয়ে একজন মধ্যবয়স্ক ফুটফুটে এক মেয়ের হাত ধরে চলে গেল। ছোট্ট মেয়েটির রিনরিনে গলার আওয়াজে মিলির তন্ময়তা কেটে যায়। সে ঘাড় ফিরিয়ে দু’জনের চলে যাওয়াটা দেখে। ভদ্রলোকের হাঁটার স্টাইলের সাথে খুব পরিচিত একজনের অদ্ভুত মিল দেখে একটু চমকে উঠে। আবারো ভালোভাবে তাকায়।
হ্যা! বেশ মিল আছে। রাশেদের হেঁটে যাবার সময়ে পেছন থেকে ওকে দেখলে এমনই লাগত।

একটা নাম… একজন মানুষ… অনেকগুলো স্মৃতিকে সাথে নিয়ে মুহুর্তে এক সাগর পাড়ের বিষন্ন বেলাভূমিতে হাজির হয়।
শেষ বিকেলের রৌদ্রোজ্জ্বল প্রগাড় নিস্তদ্ধতায় রাশেদ রউফ নামের এক বিখ্যাত লেখক, সাগর পাড়ের এক দুঃখী মেয়ের ভাবনাকাশে এসে হাজির হয়। মিলি কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে।
এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়?

রাশেদ রউফ নামের এই বিখ্যাত লেখক মিলিকে অনেক ভালবাসতেন, পছন্দ করতেন। বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্তেও, মিলি তাঁকে ভালোবেসেছিল। কেন জানি হৃদয়টা ঐ লোকটা কেড়ে নিলো ওর।রাশেদ একাধারে কবি এবং গল্পকারও ছিলেন। অনেকগুলো কবিতার বই বাজারে বেশ আলোড়ন তুলে চলছিল। ওদের মধ্যে প্রেম এক নতুন ঝলমলে দিনকে সাথে নিয়েই দুজনকে তাড়িত করে ফিরছিল। দুজনকে? নাকি মিলিকে?
এরপর কিভাবে ওদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হল? রাশেদের সাথে শেষ দেখার মূহুর্তে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল মিলির স্মৃতি। ধীরে ধীরে পিছনে যেতে লাগল। বহুদূর। যেতে যেতে এক সময় মনে হল, বোধ হয় তাদের পরিচয়টাই হয়েছিল ভুল দিয়ে।

মিলি ভাবছিল, যে ভুলের কারণে রাশেদ মিলিকে ওর হৃদয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে তা যে তার, তাদের ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়েছে সেটাই আসল ভুল।

ঢেউয়ের আসা যাওয়ার সাথে মিতালী পাতানো বাতাসে কান পাতে মিলি। যে যায়, সে কি ফেরে? জানে না সে। নিজের ও অলক্ষ্যে সে অপেক্ষায় থাকে। একবার ভুলগুলি ভাবে, আরেকবার ভালোবাসা…. আবার ফেরে ভুল.. আবার ভালোবাসা…

অপেক্ষা!

I’m lying alone with my head on the phone
Thinking of you till it hurts
I know you hurt too but what else can we do
Tormented and torn apart……
………
Please love me or I’ll be gone, I’ll be gone

what are you thinking of
What are you thinking of
What are you thinking of
what are you thinking of

কী ভাবছে মিলি? রাশেদ আর মিলির গল্পটা ভাবছে?

একজন মাঝবয়সী স্বনামধন্য ভদ্রলোক একটা ৩০/৩৫ বছরের মেয়েকে অনেক ভালোবেসেছিল…. খুব বিশ্বাস করতেন মেয়েটাকে তিনি…মেয়েটি ও তাকে খুব শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসতো….ভদ্রলোক তার নিজের থেকে ও বেশী বিশ্বাস করতেন সেই মেয়েকে। সারাদিন কত খোঁজ খবর নিতেন মেয়েটার। হঠাৎ একদিন মেয়েটাকে তিনি ভুল বুঝলেন…কিন্তু কি কারণে তা মেয়েটাকে বললেন না ….সেই থেকে ভদ্রলোক আর মেয়েটার সাথে যোগাযোগ করেননা… মেয়েটা তার অপেক্ষায় আছে এখনো…তার বিশ্বাস, লোকটা একদিন তার ভুল বুঝতে পারবে..

গল্পটা কি এমনই ? রাশেদ বললে এই গল্পটা কিভাবে বলবেন?

কী করেছিল মিলি?
মিলি কি করছে? অপেক্ষা করছে?
এইতো সে এত কাছে তার মত কেউ এসে চলে গেল। মিলি কি পিছু ডাকলো? জানতে চাইল,মানুষটা সত্যিই রাশেদ কিনা? সে যদি আবার অমন কাছ ঘেষে যায় মিলি কি ডাকবে? কিছু বলবে? কেন বলবে?

অভিমান জেগে ওঠে। কী করেছিল মিলি? পথে দেরী হয় না লোকের? রাশেদ কি অপেক্ষা করেছিল মিলির জন্য? ” বেলা শেষে ফিরে এসে ” মিলিই কি পেয়েছিল ওকে?

সাগর বেলায় গোধুলি আলো মুখেচোখে মেখে মোহময় বিষন্নতা নিয়ে মিলি হেটে যায়..
ঠিক কোন গন্তব্যে নয়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *