অণুগল্প : পুশআপ

আমাদের নতুন অংক স্যার বেশ কড়া লোক ছিলেন । কেউ অংক না পারলে তিনি শাস্তি হিসেবে বুকডন দেয়াতেন । এখনকার ছেলেপেলেরা যাকে পুশআপ বলে । ধরেন , আপনি অংক পরীক্ষায় দশে সাত পেলেন । প্রত্যেক একমার্ক কমের জন্যে দশটা করে পুশআপ দিতে হবে ।সুতরাং , দশে সাত পেলে আপনাকে ত্রিশটা করে পুশআপ দিতে হবে । আবার পরীক্ষা বাদেও উনি যখন ক্লাসে পড়া ধরতেন তখনও ভুলভাল বললে পুশআপ দেয়ার নিয়ম ছিল । আমাদের ক্লাসের পোলাপান ছিল ছাগল টাইপের । ফার্স্টবয়ও অংকে ফুলমার্ক পেত না । ফলে দেখা গেল প্রতিদিনই আমরা প্রত্যেকে কম করে হলেও দেড়শ দুশ পুশআপ দিচ্ছি । আমদের ভয়াবহ ধরণের রাগ হত । কিছু বলতাম না । আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে ষন্ডা ধরণের ছেলেটা ঘাম মুছতে মুছতে বলত , “ এই বছরটা যাইতে দে ….”

বছর চলে গেল । দেখা গেল ক্লাসের আপামর ছাত্রজনতা এবার ফুলমার্ক নিয়ে অংকে পাশ করেছে । উপরি হিসেবে দৈনিক পুশআপ দিতে দিতে আমাদের একেকজনের মাস্‌ল ফুলেফেঁপে স্বাস্থ্য হয়েছে প্রকান্ড ।
রেজাল্ট বের হয়েছে । আজকে আমাদের শেষ ক্লাস । স্যার ক্লাসে ঢুকে শান্ত ভংগিতে সবার দিকে তাকালেন । স্বাস্থ্য আর বুদ্ধিতে তার ছাত্ররা জ্বলজ্বল করছে । আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে ষন্ডামার্কা ছেলেটা ধীর ভংগিতে উঠে এসে স্যারের সামনে দাড়াল । স্যার হাসার চেষ্টা করলেন । ছেলেটা “খানকির পোলা” বলে প্রচন্ড একটা চড় কষাল । স্যার বাধার দেয়ার চেষ্টা করলেন না। এমন কিছু হবে মেনেই নিয়েছিলেন যেন । একজন একজন করে আমরা সবাই এসে স্যারের চারপাশে জমা হলাম । আমাদের গায়ে এখন অনেক শক্তি , মাথায় অংকে পারদর্শী ব্রেইন ।
এই খানকির পোলার আজকে খবর আছে ।

১৩ thoughts on “অণুগল্প : পুশআপ

  1. হাহাহাহাহাহাহা
    চমৎকার

    হাহাহাহাহাহাহা
    চমৎকার লিখেছেন। :থাম্বসআপ:

    দীর্ঘ বিরতির পর অনলাইনে ফেরার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। আপনার সাইকো গল্পগুলো এখনো ভুলিনি। এ প্রজন্মের অনলাইন পাঠকদের জন্য পুরানো লেখাগুলো পোস্ট করতে পারেন।

    আপনার ছড়াগুলো বেশ ঝরঝরে লাগত। ঐরকম ঝরঝরে ছড়া এখন আর চোখে পড়ে না।

    আর হ্যাঁ, ইস্টিশনে আপনাকে স্বাগতম।

  2. আপনার গল্প আমাকে একেবারে ছেলে
    আপনার গল্প আমাকে একেবারে ছেলে বেলায় পৌঁছে দিয়েছে । হাতে ছড়ি খাওয়া আর কান ধরে উঠ-বস করা; এত গুলো বছর পর আবার মনে পড়ে গেল । কি দুষ্টুই না ছিলাম রে ভাই ।
    চমৎকার লিখেছেন ।

  3. দূঃখিত আপনার গল্পটি জঘণ্য
    দূঃখিত আপনার গল্পটি জঘণ্য লেগেছে। আমি জানি না এই প্রজন্মের স্কুল ছাত্ররা শিক্ষকদের প্রতি এই ধরনের মনোভাব লালন করে কিনা ।আপনার গল্পটি পড়ে যে অনেক স্কুল ছাত্র শিক্ষকদের প্রতি এই ধরনের আচরন করতে উৎসাহী হবে না এই ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত নই । আমিও স্কুলে পড়ার সময় স্যারের হাতে অনেক বারই বেতের বাড়ি খেয়েছি কিন্ত সেসব খেয়েছিলাম বলে জীবনে কিছু শিখেছি।

    1. পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ।
      আমিও

      পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ।

      আমিও স্কুলে পড়ার সময় স্যারের হাতে অনেক বারই বেতের বাড়ি খেয়েছি কিন্ত সেসব খেয়েছিলাম বলে জীবনে কিছু শিখেছি

      সেটাই….
      গল্পটা রূপকধর্মী , আপনি লিটারাল সেন্সে নিচ্ছেন কেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *