দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায়ের পর বগুড়ায় পুলিশ ও সরকারি অফিসের উপর আক্রমন..(ডাইনোসর এর পোস্টের অনুসরণে)…

০২ মার্চ দিবাগত রাত ২.৩০ টা কোথাও কোথাও রাত ৩.০০ টায় বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয় যে, চাঁদে সাইদীর (দেইল্লা রাজাকার) চেহারা দেখা যাচ্ছে। সাইদী একজন নিরাপরাধ আল্লাহওয়ালা আলেম। তাকে বর্তমান সরকার বিনা দোষে সাইদীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। সুতরাং তাকে (সাইদী) ফাঁসির হাত থেকে বাঁচানো আমাদের ইমানি দায়িত্ব। তাকে (সাইদী) বাঁচাতে না পারলে কারও ইমান থাকবে না, আমরা সবাই গুনাগার হয়ে যাব। নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন এখনই এর প্রতিবাদ করতে হবে। সাথে আরও প্রচার করা হয় যে, যাদের ইমান দর্বল হয়ে গেছে তারা সাইদীকে চাঁদে দেখতে পাবেনা। আসুন আমরা সবাই প্রতিবাদ করে সাইদীকে মুক্ত করে আমাদের ইমানকে শক্ত করি। ‍উল্লেখ্য এ জেলার অনেক উপজেলার মানুষ অল্প শিক্ষিত এবং ধর্মান্ধ। বিশেষ করে, শাজাহানপুর, নন্দিগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ উপজেলা উল্লেখযোগ্য। ফলে তারা ইমান সবল করার মিথ্যা আশ্বাসে তথাকথিত মৌলভীদের ডাকে রাস্তায় নেমে পড়ে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামাত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী ছোট ছেলে-মেয়ে এবং নারীদের মিছিলের সামনে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশের ‍উপর, সরকারি অফিস, আওয়ামীলীগ নেতাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে তাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেসাথে এসএ পরিবহন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, এটিএন ইলেকট্রনিক্স শো-রুমসহ কয়েকটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে অগ্নি সংযোগ করে। পরবর্তীতে আরও শুনেছি তাদের মূল টার্গেট ছিল বগুড়া নিউমার্কেটের স্বর্ণের দোকানগুলি। কিন্তু সেটি পারেনি কারণ মার্কেটের ১০০ গজ দুরেই ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিজিবি,র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন ছিল।

তাদের পরিকল্পনার কথা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই অনুমান করতে পারলেও বগুড়া জেলায় সরকারি দলের সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে হওয়ার কারণে তারা তা বুঝতে এবং জনসাধারণকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়। বলা বাহুল্য বগুড়া জেলার সরকারি দলের কর্মকান্ড দু একজন নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাসহ জেলার অধিকাংশ জনসাধারণ বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে অসন্তুষ্ট। আবার আওয়ামীলীগ এর নেতা কর্মীদের আর একটি স্বভাব হলো, পাঞ্জাবি, টুপি পরা দাড়িয়ালা মানুষ দেখলেই মনে করে এরা জামাত! এমনিতেই এজেলা বিএনপি’র ঘাটি বলে পরিচিত তার পরের অবস্থানটিই জামাতিদের।
পুলিশের ব্যর্থতা সম্পর্কে বলতে গেলে, বলতে হয় পুলিশ কি কাজে ব্যস্ত এটা জাতির সবার জানা। সারা দেশের ন্যায় এখানকার পুলিশেরও একই স্বভাব অতি উৎসাহি হয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য এবং সরকারি দলের আনুগত্য দেখানোর জন্য বিরোদী দলের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে থাকে।

এবার আসি মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তারা (মুক্তিযোদ্ধারা) বছরে বিশেষ কয়েকটি দিনে কয়েকটি রজনী গন্ধার স্টিক, এক প্যাকেট খিচুরী, একটা ক্যাপ আর একটা গেঞ্জি ‍উপহার হিসেবে পেয়ে থাকেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর তাদের বয়স তো ইতোমধ্যেই অনেক হয়েছে। সুতরাং সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে তারা আর কিছু আশাই করতে পারে না। আর আওয়ামীলীগ সরকার এলে তো কথাই নেই। আওয়ামীলীগ এর নেতারাই সবচেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায়। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের চাকুরীর কোটা বন্টনও আওয়ামীলীগ এর এক বড় নেতা করে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রয়োজনই পড়ে না। একারণে মুক্তিযোদ্ধারাও সরকারি দলের নেতাদের উপর নাখোশ।

পরিশেসে বলছি, আমি এই এলাকারই একজন, ঘটনাগুলোর অনেকগুলিই আমার চোখে দেখা। তবে আওয়ামীলীগ দল ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে মতামত নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত…….

৮ thoughts on “দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায়ের পর বগুড়ায় পুলিশ ও সরকারি অফিসের উপর আক্রমন..(ডাইনোসর এর পোস্টের অনুসরণে)…

  1. বগুড়া জেলার সরকার সমর্থিত
    বগুড়া জেলার সরকার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের অবস্থা নড়বড়ে হতে পারে। কিন্তু এটা জেলার প্রশাসনিক অবস্থা যেমন থাকার কথা তেমনইতো ছিল। নাকি প্রশাসনও তারেক জিয়ার ইশারায় চলে। যদি তাই হয়, তাহলে সরকারের লজ্জ্বা পাওয়া উচিত।

    1. সরকার দলের প্রভাব যে অঞ্চলে
      সরকার দলের প্রভাব যে অঞ্চলে কম সেই অঞ্চলে প্রশাসনের উপর খবরদারি করবে কে? আর প্রশাসনে ছাগুদের লোকজন তো কম নেই? আওয়ামীলীগ টাকা পেলে জামাতীদের নিয়োগ দিতে কুণ্ঠা করে না। কয়েক দিন আগের খবর দেখলাম জামাত নেতাদের থানা থেকে ছাড়াতে আওয়ামীলীগের নেতার তদবির । আশা এখন কার উপর রাখব?

  2. প্রশাসনে সরকারি দল বা বিরোধী
    প্রশাসনে সরকারি দল বা বিরোধী দল কার্ও কোন কর্তৃত্বই নাই। কারণ প্রশাসন সরকারি দলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষের খবরটা ভালভাবেই জানে।

  3. ক্ষতিগ্রস্থদের তথ্য দিয়ে একটা
    ক্ষতিগ্রস্থদের তথ্য দিয়ে একটা লেখা দিতে পারেন। কোন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হলে প্রথমেই সাধারণ মানুষকে লুটপাটের সুযোগ দিতে হয়। লুটপাট না করতে পারলে কেউ ধংস যজ্ঞে অংশ নিবে না। বগুড়াতেও লুটপাট হয়েছে। সেই পুরনো বর্বরতার প্রমাণ আবার দিল ছাগুরা।

  4. কয়েক দিন আগের খবর দেখলাম

    কয়েক দিন আগের খবর দেখলাম জামাত নেতাদের থানা থেকে ছাড়াতে আওয়ামীলীগের নেতার তদবির

    ঠিক দেখেছেন ডাইনোসর…. সরকার দলের নেতাকর্মী এবং পুলিশদের টাকা উপার্জনের একটা বিরাট রাস্তা তৈরি হয়েছে……

  5. ভাই, বগুড়ার কথা আর কি বলব।
    ভাই, বগুড়ার কথা আর কি বলব। লজ্জায় মাথা কাটা যায় এটা ভাবলে যে আমরা একটা স্বাধীন দেশে বাস করি। :মাথাঠুকি:

  6. একটা শ্লোগান আমরা দিয়ে থাকি
    একটা শ্লোগান আমরা দিয়ে থাকি “মুক্তিযুদ্ধ হয়নি শেষ…গর্জে উঠো বাংলাদেশ”
    একাত্তরে স্বাধীন হয়েছি ঠিকই কিন্তু ৭৫ এ মার খেয়ে গেছি আর সেই থেকে এই দেশের অনেকগুলো অঞ্চল এখনো পরাধীন।
    অনেকেই বলছেন বগুড়ায় সরকার যদি কিছু করতে না পারে তাহলে লজ্জা থাকা উচিত তাদেরকেই বলছি দয়া করে একটীবার সাতকানিয়া ঘুরে আসুন কথা বলে আসুন সেই স্থানেরমুক্তিযুদ্ধাদের সাথে পরিষ্কার হয়ে যাবে অনেক কিছুই। যে মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন সেই মুক্তিযুদ্ধাদের প্রকাশ্যে কথা বলার স্বাধীনতা সাতকানিয়াতেই নাই। এরকম বেশ কিছু অঞ্চল এখন পরাধীন হয়ে গেছে তাই আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের এই যুদ্ধ দিয়ে সেগুলো মুক্ত করা।

    বগুড়ার একটি ভিডিও ফেসবুকের একটি ফ্যানপেজে শেয়ার করা হয়েছিল বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *