রাবিতে যৌন নিপীড়ন ও বিচিত্র কিছু ঘটনা

দিনকে দিন যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলছে। পিছিয়ে নেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নামের একটি কমিটি থাকলেও, মূলত তা অথর্ব। প্রশাসনের বাইরে কিছুই করার থাকে না কমিটির। এদিকে প্রশাসন, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্যাডার, কে নেই নিপীড়কের তালিকায়! ফলে ছাত্রীদের কাছে ক্রমশই অনিরাপদ এবং আতঙ্কের ক্যাম্পাসে পরিণত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আজ এই লেখায় আমি এমন কিছু তথ্য দিব, যা সবাইকে অবাক করবে। কিন্তু এর কিছুই গালগল্প নয়! একেবারে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখাটি তৈরী! যার অনেকগুলো আবার আমার নিজের হাতেই করা। আসুন, শুরু করা যাক!

যৌন কেলেঙ্কারিতে যুক্ত শিক্ষক সমিতির সভাপতিও
উপাচার্যের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অভিভাবক মর্যাদা নিয়ে দায়িত্ব পালন করার কথা শিক্ষক সমিতির সভাপতির। এবার খোদ শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধেই যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামীপন্থি ওই শিক্ষক নেতা কামরুল হাসান মজুমদারের (৫৫) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিভাগেরই এক ছাত্রী। ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুমদার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিরও সভাপতি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কামরুল হাসান শিক্ষক পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

অক্টোবরের শেষদিকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী নিজ বিভাগের শিক্ষক কামরুল হাসান মজুমদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যরত যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে। শিক্ষক কামরুল হাসান কর্তৃক তাকে কীভাবে উত্ত্যক্ত করা হতো, কী কী প্রস্তাব দেয়া হতো, পরীক্ষার খাতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলা হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয় অভিযোগপত্রে। জানা গেছে, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পরপরই ওই ছাত্রী নজরে পড়ে বাবা বয়সী শিক্ষক কামরুল হাসানের। ল্যাব, টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্টসহ নানা কাজে সহযোগিতার কথা বলে ছাত্রীকে ব্যক্তিগত আহ্বানে সাড়া দিতে বলেন কামরুল হাসান। কামরুল হাসান তার কক্ষে ওই ছাত্রীকে একাকী আসার প্রস্তাব দেন বেশ কয়েক বার। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

বিষয়টি বন্ধুদের এবং বিভাগের অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও প্রভাবশালী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন সবাই। বিভাগে অভিযোগ করলে বিপত্তি হতে পারে বলে শিক্ষকদের কেউ কেউ ভয় দেখাতে থাকেন। এদিকে কামরুল হাসানের উপর্যুপরি প্রস্তাব এবং হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে কোনো উপায় না পেয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ফোনালাপের একটি কম্প্যাক্ট ডিস্ক (সিডি) এবং মোবাইল ফোনে শিক্ষকের দেয়া খুদে বার্তার অনুলিপি। পরে যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন নিরোধ কমিটি বিষয়টি বিভাগকে আনুষ্ঠানিক অবহিত করে।

অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে গত ৩০ নভেম্বর ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কামরুল হাসান মজুমদারকে বিভাগের সব ধরনের পরীক্ষা নেয়া থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া ছাত্রীদের গবেষণা কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কামরুল হাসান শুধু পাঠদান কাজে অংশ নিতে পারবেন। বিভাগের সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ওইদিনই লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিষয়টি যাতে মিডিয়ায় প্রকাশ না পায় এর জন্যও নানা গোপনীয়তার আশ্রয় নেয়া হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনে চরম অস্বস্তি দেখা দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি এবং মহিলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনের ম্যানেজনীতিতে চুপ মেরে যায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি এবং মহিলা পরিষদের সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কেউ কেউ মুখ খুললেও পরে সবাই মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন। এমন গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে লঘু শাস্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই তড়িঘড়ি করে এমন নামমাত্র শাস্তি প্রদান করা হয় বলে তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়তুল্লাহ খোমেনী বলেন,‘সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে যখন এমন কর্মকাণ্ড ঘটে, তখন এ নিয়ে মন্তব্য করতেও বিব্রত হতে হয়। মানুষ গড়ার কারিগরেরা নিজেরাই অমানুষের রূপ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমাজ অপরাধীর পক্ষ নিলে ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। ঘটনাগুলোর উপযুক্ত শাস্তি দিয়েই যৌন হয়রানি রোধ সম্ভব।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আমি কথা বলি অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল হাসান মজুমদারের সঙ্গে।
প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন।
কামরুল হাসান মজুমদার : এটি মিথ্যা অভিযোগ। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
প্রশ্ন : তাহলে বিভাগ আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল কেন?
কামরুল হাসান : বিভাগ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার এখতিয়ার বিভাগের নেই। বিষয়টি নিয়ে বিভাগ বাড়াবাড়ি করেছে বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন : কে নেবে সিদ্ধান্ত?
কামরুল হাসান : এরকম ঘটনায় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বিভাগ শুধু সুপারিশ করতে পারে।
প্রশ্ন : বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে আপনার অবস্থান কী?
কামরুল হাসান : ইতোমধ্যেই ওই সিদ্ধান্তের বিপরীতে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছি। কারণ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তা স্পষ্ট বুঝতে পারছি।
প্রশ্ন : কী সে ষড়যন্ত্র?
কামরুল হাসান : উপাচার্যকে লেখা চিঠিতে আমি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছে। লম্বা ইতিহাস। এই মুহূর্তে বলতে চাইছি না।

অর্ধশতাধিক অভিযোগ, চাকরি হারিয়েছেন একজন!
যৌন হয়রানির দায়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক শাওন উদ্দিনকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন শাওন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে শাওন উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দেন। পরে তদন্ত সাপেক্ষে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা ২০১০’ অনুযায়ী ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট শাওন উদ্দিনকে বরখাস্ত করে।

এই ঘটনার আগেও শাওনের বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ছাত্রদের আবাসিক হলে ছাত্রীদের প্রবেশের বিধান না থাকলেও সৈয়দ আমীর আলী হলে শিক্ষক শাওনের কক্ষ থেকে একবার মধ্যরাতে এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। শাওন তখন ওই হলের আবাসিক শিক্ষক ছিলেন। হল প্রভোস্টকে না জানিয়ে বিশেষ ক্ষমতা বলেই ছাত্রীকে হলে প্রবেশ করিয়েছিলেন শাওন। হলের ছাত্ররা শাওনকে হাতেনাতে ধরে প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ করলেও তৎকালীন উপাচার্য আব্দুস সোবহানের কারণে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। উপাচার্য আব্দুস সোবহান নিজেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন বলে জানা যায়। এমনকি মিডিয়ায় যাতে প্রকাশ না পায়, এর জন্য সাংবাদিকদেরকেও শাসানো হয়।
একই বছর মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক জুলফিকারুল আমীনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। যে অভিযোগে শিক্ষক শাওনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, এর চেয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে শিক্ষক জুলফিকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু জুলফিকারের ব্যাপারে প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু সাময়িকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।


যৌন নিপীড়নের বিষ ঠেকানো যাচ্ছে না!

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বেশ আগে থেকেই। কাজী জাহিদুর রহমান নামের ওই শিক্ষক ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগ দেন। যোগদানের পরপরই তিনি হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কম্পিউটার কোর্স-৩১০-এর খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশি দেয়ার নাম করে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি বিভাগের সভাপতি এবং অন্য শিক্ষকদের জানালে বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির নামমাত্র সুপারিশে শিক্ষক কাজী জাহিদকে সংশ্লিষ্ট কোর্স থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার বিরুদ্ধেও কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

২০১০ সালে ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশি পাইয়ে দেয়া এবং বিয়ে করার কথা বলে অনার্স শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে একই ছাদের নিচে দীর্ঘদিন রাত কাটিয়ে শেষ বেলায় ওই শিক্ষক সব সম্পর্ক অস্বীকার করেন। পরে সম্পর্কের দাবি নিয়ে বিষয়টি ভুক্তভোগী ছাত্রী তার সহপাঠীদের জানালে উল্টো ওই ছাত্রীকেই নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। প্রাণ ভয়ে ছাত্রী তার সব অভিযোগ গোপন করতে বাধ্য হন।

একই সালে একই বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও এমন একটি অভিযোগ ওঠে। শিক্ষা সফরে গিয়ে খুলনায় বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের বাংলায় শেষ বর্ষের এক ছাত্রের সঙ্গে ওই শিক্ষিকাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা সফরের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক এবং অন্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি রাতেই মোবাইল ফোনে বিভাগীয় সভাপতিকে জানালে সভাপতি তাৎক্ষণিক শিক্ষা সফর বাতিল করেন। তৎকালীন বিভাগীয় সভাপতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

এর আগের বছর ছাত্রীকে গানের প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় যৌন হয়রানির দায়ে টিএসসিসির প্রশিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে বরখাস্ত করে প্রশাসন। একই সময় একই অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধেও শাস্তির সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু শিক্ষক বলেই শাস্তি মওকুফ হয় সাইদুর রহমানের।

সম্প্রতি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ওই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটি তদন্ত শেষ করেছে। আগামী সিন্ডিকেটে এজেন্ডা হিসেবে গুরুত্ব পাবার কথা রয়েছে।

২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাবির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)- এর সচিব এসএম গোলাম নবীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু এক ছাত্রী তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় ওই সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই বছরেরই ১৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক অমিতাভ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী ছাত্রীকে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে সংগীত চর্চার নাম করে অমিতাভ চ্যাটার্জি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকিও দেন তিনি। শিক্ষক অমিতাভ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে অন্য ছাত্রীরাও যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ তোলেন।

বিভিন্ন বিভাগ, মহিলা পরিষদ এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত চার বছরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অর্ধশতাধিক অভিযোগ দাখিল করেছেন ছাত্রীরা। এর মধ্যে যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছেই ২০-এর অধিক অভিযোগপত্র জমা পড়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে অর্ধশতাধিক অভিযোগের বিপরীতে একজন শিক্ষককে বরখাস্ত এবং গুটি কয়েক জনকে নামমাত্র শাস্তি প্রদান করা হলেও অধিকাংশ ঘটনাই অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে।

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফারুক ইমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। এ কারণেই অপরাধ করে পার পেয়ে যান এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। যদি ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হতো, তাহলে যৌন হয়রানি অনেক কমে যেত। শিক্ষা জীবনে বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে শত হয়রানি, নিপীড়ন সত্ত্বেও মুখ খুলতে চায় না কেউ।

উল্টো শাস্তি ভুক্তভোগীর!
যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের দায়ে যে বছর ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক শাওনকে বরখাস্ত করা হয়, ওই বছরই বিভাগের আরেক শিক্ষক জহুরুল আনিস জুয়েলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভাগের এক ছাত্রীকে জোর করে ধর্মান্তরিত এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন শিক্ষক জুয়েল। কিন্তু ছাত্রীটি ধর্মান্তরিত হওয়ার পর জুয়েল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। উপায় না দেখে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মহিলা পরিষদ বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু প্রশাসন শিক্ষক জুয়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ওই ছাত্রীর ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। প্রশাসনের চাপে ছাত্রীটি সব অভিযোগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এদিকে মেয়েটি অভিযোগ তুলে নিলেও ছেলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষক আনিসের মা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। কিন্তু সেটিও আমলে নেয়া হয়নি।

২০০৯ সালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান সাইফুল ইসলাম সুমন। তৎকালীন প্রক্টর চৌধুরী মুহাম্মদ জাকারিয়ার এক নিকট আত্মীয়কে বিয়ে করার শর্তে সুমনকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে ক্যাম্পাসে চাউর রয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পাবার পরপরই শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সুমন গোপনে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের নিজ কক্ষে শিক্ষক সুমন ওই ছাত্রীর সঙ্গে রাতের পর রাত কাটাতে থাকেন। গোপনে দু’জনের থাকা-খাওয়া চলতে থাকে একই ছাদের নিচে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীকে আগের স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্সও করিয়ে নেন সুমন। এরই মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক সুমন ওই ছাত্রীর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক অস্বীকার করেন। ২০১০ সালে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষক সুমনের এমন আচরণে ছাত্রীটি দিশেহারা হয়ে পড়েন। সুমনের সঙ্গে সম্পর্কের আদ্যোপান্ত চিঠিতে লিখে ওই দিন রাতেই হলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ছাত্রীটি। কিন্তু হলের অন্য ছাত্রীদের বাধার কারণে আত্মহত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হন।

পরের দিন ছাত্রীটি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে প্রক্টর জাকারিয়ার কাছে নালিশ করতে যান। প্রক্টর জাকারিয়া শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সুমনের পক্ষ নিয়ে উল্টো ওই ছাত্রীকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, ‘শিক্ষক মানুষ তোমাকে নিয়ে তো ক্যাম্পাসে গাছ তলায় বসে প্রেম করতে পারে না। এ কারণেই শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সুমন তোমাকে রুমে নিয়ে গেছে।’ ছাত্রীকে মিথ্যাবাদী, চরিত্রহীন সাব্যস্ত করে অপদস্থ করতে থাকেন প্রক্টর চৌধুরী জাকারিয়া। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে প্রক্টর তাও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে প্রক্টর জাকারিয়া এবং শিক্ষক সুমন মিলে ছাত্রলীগ ক্যাডার আরিফকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন। ব্যক্তি ও শিক্ষা জীবনের এমন বিপর্যয়ে বাড়িতে গিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ছাত্রীটি। বাড়িতে গিয়েও এসময় একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

তৎকালীন উপাচার্য আব্দুস সোবহান এবং প্রক্টর জাকারিয়ার কারণেই শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং যে তিনজন সহপাঠী ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন তাদের সবাইকে ঠুনকো অজুহাতে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে কানিজ ফাতেমা নামের একজনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। আর এর সবই হয় উপাচার্য আব্দুস সোবহানের বিশেষ ক্ষমতা বলে। অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অর্থই ছিল শিক্ষক সুমনকে সুরক্ষা এবং প্রক্টর জাকারিয়ার সেই আত্মীয়ের সঙ্গে বিবাহ দেয়া। কিন্তু এখানেও সুমন ডিগবাজি দিয়েছেন। নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সুমন ঘটনার পরপরই অন্যত্র বিয়ে করে ফেলেন।

শুধু সুমন নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়র শিক্ষকদের কেউ কেউ প্রেম, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যেমন হয়রানি করছেন, তেমনি সিনিয়র শিক্ষকদের কেউ কেউ চাকরি, নম্বর বেশি দেয়ার নাম করে হয়রানি করছেন। এসব নির্যাতন, হয়রানি মুখ বুজে সহ্য করেই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন ছাত্রীরা। ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও বিষয়টি প্রকাশ করতে পারছেন না। কারণ, ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের অধিকাংশই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের কথা মাথায় রেখেই শিক্ষকদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা লিখতে পারছেন না তারা। যদিও অন্যান্য বিভাগের চিত্র একই।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভাবছিলাম, উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে এসে শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিক শিক্ষা আলাদাভাবে রপ্ত করতে পারব। কিন্তু অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। মাঝে মাঝে লেখাপড়া শেষ না করেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে মন চায়। কাউকে নালিশও করতে পারি না। মুখ খুললে বিপদ বাড়ে।’

নিষ্ক্রিয় যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেল
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গত ১৪ মে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দিকনির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১০ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন-২০১০’ শিরোনামে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে। এরপর খসড়াটি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। প্রস্তাবিত খসড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রোধের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
হাইকোর্টের রায়ের পর ২০১১ সালের ২৭ জুন ৪৩৭তম সিন্ডিকেট সভা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা ২০১০’ অনুমোদন করে।

২০১১ সালে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটি গঠন হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যক্রম দেখাতে পারেনি। বলা যায়, প্রশাসনের তল্পিবাহক হিসেবেই ভূমিকা রাখছে এই কমিটি। প্রশাসন চাইলেই কোনো ঘটনার ব্যাপারে কমিটি সরব হয়, আবার না চাইলে নীরব থেকে যায়। গত চার বছরে কমিটির কাছে ২০টিরও অধিক অভিযোগ লিখিতভাবে জমা পড়লেও কমিটি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে দুই থেকে তিনটির। বাকিগুলো কমিটিই ধামাচাপা দিয়েছে। আবার কখনও কখনও প্রশাসনের হয়ে বিভাগ বা অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে দেখা গেছে। এতে করে প্রতিটি ঘটনাই অভিযোগকারীর বিপক্ষে যাচ্ছে। ফলে হয়রানির শিকার হলেও ছাত্রীরা যৌন হয়রানি নিরোধ কমিটির কাছে অভিযোগ দিতে তেমন আর উৎসাহবোধ করছে না।

এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মিজান উদ্দিনের সঙ্গে। …৯২৫১২৪২ মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার ডায়াল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একই নম্বরে দুইবার খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তার ….১৪২৫৩৪০৩ মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। উপাচার্য দপ্তরের ৭১১০০১ টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন তোলেননি।
একই বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারাওয়ার জাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কথা বলতে আমি এই মুহূর্তে প্রস্তুত নই। সময় নিয়ে পরে কথা বলতে হবে।’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ছাত্র উপদেষ্টা, প্রফেসর সাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। যৌন হয়রানির দায়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষককে বরখাস্তও করা হয়েছে। ফলে ব্যবস্থ নেয়া হচ্ছে না, এই অভিযোগ সঠিক নয়।‘

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সভাপতি, প্রফেসর ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, ‘আমি যথেষ্ট বলছি না। তবে অভিযোগ করতে শুরু করেছে ছাত্রীরা, এটিই পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সবার আগে এ ব্যাপারে সচেতন হবে। কোনটি নিপীড়ন আর কোনটি হয়রানি তা-ই শিক্ষার্থীরা জানে না।‘
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের সর্বত্রই পক্ষপাতিত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় তো এর বাইরে নয়। নিপীড়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সময় তার রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা গুরুত্ব পায় এমন চিত্র আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি। এ কারণেই নিপীড়িতরা সাহস করে অভিযোগ দিতে চায় না। কারণ অধিকাংশ সিদ্ধান্তই নিপীড়িতের বিপক্ষে যায়।‘

সংশ্লিষ্টরা নানা মত দিয়েছেন। তবে আমি মনে করি, ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য গণআদালত বসিয়ে নারীদের সাক্ষ্য নেয়া দরকার। এরপর জায়গায় দাঁড়িয়ে ফাঁসি কার্যকর করা দরকার অপরাধীদের। নইলে এসব সুশীল আলাপ চলতেই থাকবে। অবস্থার পরিবর্তন হবে না! পরিবর্তন আনতে হলে লড়তে হবে!

১৫ thoughts on “রাবিতে যৌন নিপীড়ন ও বিচিত্র কিছু ঘটনা

  1. সবাই ইতিবাচক বাংলাদেশের খবর
    সবাই ইতিবাচক বাংলাদেশের খবর প্রচারে ব্যস্ত! কিন্তু আমি মনে করি, মাকাল ফলের সৌন্দর্য বর্ণনা আদতে জাতির সঙ্গে বেঈমানী। দেশটা কোথায় যাচ্ছে দেখেন! দেখে নিন উচ্চশিক্ষাস্থলে আমাদের নারীরা কি অবস্থা পার করছেন! যে দেশে শিক্ষকরা ছাত্রীদের পেছনে উত্থিত লিঙ্গ নিয়ে ছুটে বেড়ায়, সে দেশের উন্নয়নের গল্প বলার আগে বুক পকেটে দালালীর পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে নিলে ভালো হয়।

    1. যে দেশে শিক্ষকরা ছাত্রীদের

      যে দেশে শিক্ষকরা ছাত্রীদের পেছনে উত্থিত লিঙ্গ নিয়ে ছুটে বেড়ায়, সে দেশের উন্নয়নের গল্প বলার আগে বুক পকেটে দালালীর পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে নিলে ভালো হয়।

      ভাই, শওকত ওসমানের ‘কৃতদাসের হাসি’ পড়ছেন তো? ওই উপন্যাসের কৃতদাসের মত অবস্থা এখন বাংলাদেশের মানুষের ! আওয়ামী সরকার দেশবাসীকে ভয়-ভীতি-জুলুম-গণতন্ত্রহীনতা- স্বাধীনতাহীনতার ভিতর দিয়ে দিন গুজরান করাচ্ছে, আর আশা করছে আমরা উন্নয়নের জোয়ার দেইখা সব ভুইলা থাকবো।

      ‘কৃতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শত রাজকীয় বিলাস-ব্যসনের মধ্যেও যেমন কৃতদাস হাসতে পারে নাই, তেমনি বাংলাদেশের মানুষও ‘হাজার উন্নয়নের’ ভিতরেও সুখি হতে পারবেনা… ।

  2. যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
    যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি যৌন নিপিড়নে জড়িত, সেখানের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে ধারনা করা যায়।

  3. বেড়ায় ক্ষেত খায়,,,, আমরা আবার
    বেড়ায় ক্ষেত খায়,,,, আমরা আবার সযতনে বেড়া বান্দি,,,,।
    বেড়ায় বুইরা আঙ্গুল দেখায়,,,, আমরা ভুদাই হইয়া কান্দি,,।
    শালার বাঙালীর গৌরবময় যিন্দেগী।

  4. আমি রাবি এর মার্কেটিং বিভাগ
    আমি রাবি এর মার্কেটিং বিভাগ এর একজন ছাত্র হিসেবে এটাই বলতে চাই যে অভিযুক্ত জুলফিকার আমিন স্যার পরিপূর্ণ ভাবে নির্দোষ ছিলেন। সেই ছাত্রী তার প্রেমিক এর সাথে স্যার এর দ্বন্দ্ব এর প্রতিশোধ গ্রহণ এর জন্য তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে ফাসিয়ে দেন । এই অপমান এর যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ২০১২ সনে জুলফিকার আমিন স্যার রোড এক্সিডেন্ট এবং হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। আসলে যত দোষ নন্দ ঘোষ । আমরা এটাই ভুলে গেছি যে আইন এর ভুল প্রয়োগ ও হতে পারে । আর নারীরা কোন দেবী না তারাও আমাদের মত হিংসা লোভ আর ঘৃণা এর বশবর্তী একজন মানুষ মাত্র।

    1. যদ্দূর জানি, এই লোকটি মারা
      যদ্দূর জানি, এই লোকটি মারা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে কারো কারো মধ্যে সিমপ্যাথি দেখা যায়। আপনিও সেই দলের একজন। কে জানে! আত্মীয়তা, ঘনিষ্ঠতাও থাকতে পারে। আমি জানি যে, তার বিরুদ্ধে বিভাগে উত্থাপিত অভিযোগ ও তার বক্তব্যের ভিত্তিতেই তাকে আট বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। সেখানে বিভাগের বক্তব্য ও তার বক্তব্যগুলো কী ছিল, সেগুলো মেলে দেখেন। তাহলেই অনেকখানি বুঝতে পারবেন।

      আপনি যা বুঝতে বললেন, সেটা বোঝাই সোজা- মেয়েদের দোষ আছে। কিন্তু যেটা বোঝা কঠিন- এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, সেটা একটু কষ্ট করে বোঝেন। এটা যে আপনি বোঝেন না তা আপনার মন্তব্যে স্পষ্ট।

  5. RU তে আমি অনেক দিন
    RU তে আমি অনেক দিন কাটিয়েছি। সব যে ঘটনায় যে শিক্ষকরা জড়িত তারা মূলত ছাত্রিদের রেজাল্ট ভাল করিয়ে দেবার লোভ দেখিয়ে এ কাজ করে

    1. আরে, RU তো RU, আমি আমাদের
      আরে, RU তো RU, আমি আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখলাম কত মেয়ে যে টিচারদের রুমে ১-২ ঘন্টা কাটিয়ে বেড়িয়ে আসে। 😀

      দোষ দুই পক্ষেরই আছে। শিক্ষকদের অনেকেই যেমন কামুক, তেমনি অনেক মেয়ে নিরলজ্জ-বেহায়া-পতিতা !

        1. কিছু মানুষ আছে ব্যতিক্রমকে
          কিছু মানুষ আছে ব্যতিক্রমকে উদাহরণ করে প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার চেষ্টা করে। এটা ঠিক না। ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরণ হতে পারে না।

        2. আনিস ভাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
          আনিস ভাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম যে কত দেখলাম চোখের সামনে — মেয়েরা পুরুষ টিচারের রুমে ঢোকে, রুমের দরজা থাকে বন্ধ, আর ১-২ ঘন্টা পর মেয়েটা বেরিয়ে আসে। এই সময়ের মধ্যে যে কত কি হয়, সেটা বইলা ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইনা।

          আমার কথা সিম্পল, এই যে মেয়েদের নিজে থেকে কিছু বেনিফিটের বিনিময়ে ব্যবহার হতে চাওয়ার কালচার, এটা ছাত্রী নির্যাতনের ক্ষেত্র তৈরি করে রাখছে বেশ ভালভাবে, যেখানে ভাল মেয়েরাও কিছু লম্পট টিচারের শিকার হচ্ছে।

          So, We always need to hear both side of the story!

          রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে যে শিক্ষক খুন হলো, তার সাথে কিন্তু একটা ছাত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একজন বুড়ো স্যারের সাথে একটা তরুণীর কি সম্পর্ক থাকতে পারে?
          এসব বিষয়ও আমাদের বিবেচনা করে দেখতে হবে। …আর কথায় কথায় ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজ’ কথাটা টেনে আনাটাও এক ধরণের মৌলবাদীতা বলে মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *