পৌত্তলিকতার জন্ম (একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও ইতিহাস ভিত্তিক আলোচনা)

এই ব্লগে আমি আজ নতুন লিখছি,তাই লেখায় বানানগত ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ।
পৃথিবীর সর্বপুরাতন ধর্ম কোনটি এ নিয়ে ব্লগ এবং ফেসবুকে আমি অনেক তর্ক দেখেছি।ফেসবুক এবং ব্লগে তর্কে বিতর্কে আমার বন্ধুরা একেক জন তাদের নিজেদের ধর্মকেই প্রাচীন বলে দাবী করে।তবে বেশির ভাগ ভোটই সনাতনদের পক্ষে পেয়েছি।
কিন্তু সনাতনের জন্ম বড়জোড় ছয় হাজার বছরই হবে?
ইতিহাস যিশুর জন্মের ১৭০০ বছর আগে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতীয়দের আদী বংশদ্ভুদ আর্যরা ভারতবর্ষে আসে ,এর আনুমানিক ৩০০বছর আগে থেকে তারা পৌত্তলিকতার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিল।
তাহলে এর আগে যারা পৃথিবীতে ছিল তাদের ধর্ম কি ছিল ?

এই ব্লগে আমি আজ নতুন লিখছি,তাই লেখায় বানানগত ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ।
পৃথিবীর সর্বপুরাতন ধর্ম কোনটি এ নিয়ে ব্লগ এবং ফেসবুকে আমি অনেক তর্ক দেখেছি।ফেসবুক এবং ব্লগে তর্কে বিতর্কে আমার বন্ধুরা একেক জন তাদের নিজেদের ধর্মকেই প্রাচীন বলে দাবী করে।তবে বেশির ভাগ ভোটই সনাতনদের পক্ষে পেয়েছি।
কিন্তু সনাতনের জন্ম বড়জোড় ছয় হাজার বছরই হবে?
ইতিহাস যিশুর জন্মের ১৭০০ বছর আগে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতীয়দের আদী বংশদ্ভুদ আর্যরা ভারতবর্ষে আসে ,এর আনুমানিক ৩০০বছর আগে থেকে তারা পৌত্তলিকতার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিল।
তাহলে এর আগে যারা পৃথিবীতে ছিল তাদের ধর্ম কি ছিল ?
ইতিহাস ঘাটলে বোঝা যায় যে ,প্রাচীন ধর্ম সনাতন ও না ,ইহুদিধর্ম ও না , খ্রীষ্টান ও না,ইসলাম ও না ।
প্রাচীনদের মধ্যে একেশ্বরবাদ বিদ্যমান ছিল ,আবার কিছু লোক ছিল ঈশ্বরে অবিশ্বাসী।[সূত্র P.K Hitti,History of the Arabs,P:179]
তাহলে পৌত্তলিকতা ,দেবদেবীর পূজো ,প্রকৃতি পূজোর জন্ম হল কিভাবে ?

[চিত্র:Nue,Noah বা নূহ আঃ এর সমাধি]
Nue,Noah বা নূহ আঃ হচ্ছে ইসলাম ,খ্রীষ্টান এবং ইহুদী ধর্মের একজন নবী ।Nue এর ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে ,Nue এর সমাধি এখনো আছে তা ধ্বংস হয়নি।
Nue বা নূহ আঃ এর ছিল ৪ পুত্র , এবং তাঁরা সাম ,হাম ,ইয়াফাস এবং রাফেজ(কেনান) নামে অভিহিত হত।
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ৩টি জাতি সেমেটিক,হ্যামেটিক ও আর্য।এদের আবির্ভাব ঠিক কত অব্দে হয়েছিল তার সঠিক কোন প্রামাণ্য দলিল ঐতিহাসিকদের কাছে নেই ।সেমেটিক শব্দটি বাইবেলের ‘সাম’ শব্দ হতে উদ্ভূত হয়েছে।সেমেটিকদের ঠিক
ঐতিহাসিকদের গবেষনামূলক তথ্য থেকে জানা যায় Nue(নূহ আঃ) এর প্রথম পুত্র সামের বংশধরগণ সেমেটিক(আরব),দ্বিতীয় পুত্র হামের বংশধরগণ হ্যামেটিক(মিশরীয়) এবং তৃতীয় পুত্র ইয়াক্ষাসের বংশধরগণ আর্য(ভারতীয় ,ইরানি)প্রভৃতি নামে পরিচিত ।নূহ আঃ এর চতুর্থ পুত্র রাফেজের(কেনান) বংশধর সম্পর্কে প্রামাণ্য ইতিহাস দুর্লভ ।
সেমেটিক জাতির আদি বাসস্থান ছিল আরব ভূমি।মানব ইতিহাসে তাদের অবদান অপরিসীম।
[নোট:বিশ্বের তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন এই সেমেটিক জাতিরই তিনজন অমর কৃতি সন্তান ।ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক মোজেস বা মূসা আঃ ,খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু বা ঈসা আঃ ,এবং সর্ব শেষ ইসলামের প্রবর্তক মুহাম্মদ সাঃ ।
ঐতিহাসিকের মতে ,কোনো এক সময়ে সেমেটিক জাতি গোষ্ঠীর সকলেই দলবদ্ধ ভাবে বসবাস করত ,একেশ্বরবাদী ধর্ম পালন করত এবং একই সমাজ বিধান মেন চলত ।আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০অব্দে সেমেটিক জাতির একটি শাখা আদি বাসভূমি আরব ত্যাগ করে টাইগ্রীস-ইউফ্রেটিস উপত্যকায় গমন করে সুমেরীয় নামক একটি অসেমেটিক জাতির সংস্পর্শে এসে ব্যাবিলনীয় ও আসিরীয় সভ্যতার উদ্ভব ঘটায় ।সেমেটিকের অপর একটি শাখা খ্রীঃপূঃ ৩৫০০অব্দে মিশরে বসতি স্থাপন করে স্থানীয় হ্যামিটিকদের(হামের বংশধর) সভ্যতার সংস্পর্শে এসে মিলিত ভাবে ইতিহাসখ্যাত মিশরীয় সভ্যতার উদ্ভব ঘটায় ।[পি.কে হিট্টি]
মিশরীয় সভ্যতার ইতিহাসে একটি গৌরাবোজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে ।তাদের সভ্যতার কথা কে না জানে ?বর্ণমালা ,লিখন পদ্ধতি ,পিরামিড ,মমি ,লাঙ্গল আরো অনেক কিছু তারা আবিষ্কার করেছে এ তথ্য সবারই জানা ।
তাদের প্রাচীন যুগের উন্নত সভ্যতার জন্য ঐতিহাসিক মায়ার্স(Myers) বলেছেন,

“Epypt ,we thus see,made valuable gift to civilization.From the Nile came the germs of much found in the later cultures of the peoples of western Asia and of the Greek and Romans.”
(Myers:A Short History of Ancient ,Medieval and Modern Times)

যাক মিশরের প্রশংসা মিশরের ইতিহাস আমদের সবারই জানা । এখন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় যাব ।
কারা প্রচলিত করল মূর্তি পূজা ?
প্রাচীন সেমেটিক ,অসেমেটিক এবং হ্যামেটিকরা সংস্পর্শে এসে তাদের বিশেষ কিছু দিক পরিবর্তন হল ,তিনটি জাতি একত্রিত হয়ে একটি সুসভ্য মিশরীয় সভ্যতা গড়ল । প্রকৃতির ক্ষমতা দেখে নতুন ধর্মের উদ্ভাবন করে,মতান্তরে রাজা বাদশাহরা করেন।তারা ভাবতে শুরু করেন ,একমাত্র পৃথিবীর শক্তিশালীরাই দেবতা এবং তারাই আমাদের পরিচালিত করছেন ।
প্রাচীন জাতীর মধ্যে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম পৌত্তলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচলন করে।মিশরীয়দের প্রতিটা ক্ষেত্রেই ধর্মের প্রভাব ছিল ।পিরামিড ,মমি ইত্যাদি ধর্মের কারনেই সৃষ্ট।মিশরীয়রা প্রধান দেবতার নাম দিয়েছিল আমন-রে ,নীলনদের দেবতার নাম ছিল ওসিরিস।মিশরীয়রাও সনাতনদের মত গরুর পূজা করত ।
উল্লেখ্য ,সনাতনরা দাবী করে গরু তাদের দুগ্ধ দেয় ,তাছাড়া শ্রীকৃষ্ঞকে দুধ খাইয়ে বাঁচিয়েছিল বলেই আমরা গরুর পূজা করি কিন্তু না গরুর পূজা সেই মিশরীয়দের থেকেই চলে এসেছে ,শুধু গরু নয় তারা বিড়াল ,কুমীর ,এবং কিছু পাখির ও পূজা করত অতএব গরুপূজা ঐ মিশরীয়দের ধর্ম থেকেই এসেছে ।
মিশরীয়দের মধ্যে পুরোহিততন্ত্র ছিল ,কিন্তু সনাতনদের মত তারা ৭জন্মে বিশ্বাসী ছিলেননা ।তারা আত্মায় বিশ্বাসী ছিল ,দেহ ছাড়া আত্মা ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভে বঞ্চিত হবে তাই তারা দেহকে মমিরুপে সংরক্ষন করত ।
খ্রীঃপূর্বে ১৩৭৫ অব্দে সম্রাট চতুর্থ আমেনহোটেপ পুরোহিতদের মন্দির থেকে বিতরিত করে,এবং সম্রাট ইখটান নাম ধারন করে পূণরায় এটন বা একেশ্বরবাদ ধর্মের প্রচলন করে।
এদিকে বিতরিত হওয়া সেই পুরোহিতরা ইউরোপ,এশিয়ার দিকে অগ্রগামী হন এবং তাদের বহুশ্বের বাদী ধর্মকে প্রচার করতে থাকে এবং এধর্ম একসময় বিশ্বব্যাপি খ্যাতি অর্জন করে ।
এভাবেই চলতে থাকে তাদের পৌত্তলিক ধর্মের প্রচার প্রসার……..

১০ thoughts on “পৌত্তলিকতার জন্ম (একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও ইতিহাস ভিত্তিক আলোচনা)

  1. প্রথমে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এত
    প্রথমে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলাপ পাড়ার জন্য। দ্বিতীয়ত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে এত হাল্কা একটা লেখা লিখেছেন, এজন্য আপনার সমালোচনা করছি। আরও পড়া ও অনুসন্ধান চালানোর দরকার ছিল। এই ব্লগে একটি লেখা পড়েছি, এর আগে! সাম্যবাদী ভাইয়ের এই লেখাটি পড়ে দেখুন। এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনাকে আলোচনার কেন্দ্রে টেনে নিয়ে যাবে।

    1. ধন্যবাদ আনিস ভাই ,প্রথম
      ধন্যবাদ আনিস ভাই ,প্রথম লিখেছি তাই লেখা বড় করার সাহস যোগাতে পারিনি ।
      সাম্যবাদী ভাইয়ের লেখাটি আমি আগেই পড়েছিলাম স্টিশনে পাঠক থাকা কালীন ।সাম্যবাদী ভাই একটা বিরাট ভুল ইতিহাস তুলে ধরেছেন ,সেটা হল

      ইহুদী বা হিব্রুরাই সর্ব প্রথম একেশ্বরবাদের প্রচলন করেন ।

      কিন্তু ঐতিহাসিক P.K. Hitti এর মতে সেমেটিক ,হ্যামেটিক ও আর্য ভাগ হওয়ার আগেই মানুষ একেশ্বরবাদ ও নিরিশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন ।
      আরো একটা বিষয় হল সেমেটিক হ্যামেটিকরা প্যালেস্টাইন ভুখন্ডে গিয়ে হিব্রু জাতী গড়ার আগেই একেশ্বরবাদের তথা এটনবাদের প্রচলন করেছিলেন ,মিশরের রাজা চতুর্থ আমেন হোটেপ ইখটন ।

      1. ওটা সাম্যবাদীর মত না। তিনি
        ওটা সাম্যবাদীর মত না। তিনি একটি লেখা পুনঃপ্রকাশ করেছেন মাত্র। তবে ওই লেখায় তথ্যের উৎস দেয়া আছে। তা হচ্ছে, বাইবেল। বাইবেল যদিও গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু তার চেয়ে প্রাচীন কোনো গ্রন্থের নাম নেই। P.K. Hitti-র তথ্যের উৎস কী?

        তাছাড়া একেশ্বরবাদী ধ্যান ধারণা সমাজে থাকা, আর একেশ্বরবাদ ধর্ম হিসেবে প্রচার করা তো এক জিনিস নয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লিখুন। আমিও লিখব। কথা দিলাম। 🙂

      2. ঐতিহাসিক P.K. Hitti এর তথ্যের
        ঐতিহাসিক P.K. Hitti এর তথ্যের উত্‍স হল ,তোরাহ,বাইবেল ও প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন নিয়ে গবেষনা।মিশরের আদি শীলালিপি নিয়েও তিনি ব্যাপক গবেষনা করেছেন।বিশ্বের প্রথম সারির একজন ঐতিহাসিক তিনি ।

        একেশ্বরবাদের ধ্যান ধারনা আর প্রচারনা এক জিনিস নও

        সহমত ।আপনি লিখুন , আমার এখনো অনেক বেশি জানার দরকার আছে ,এই ইতিহাস গুলো।

  2. একজায়গায় পরেছিলাম প্রাচীন
    একজায়গায় পরেছিলাম প্রাচীন রান্নার রেসিপি নাকি ফারাওদের । গ্রহণযোগ্য বলে মনে হল। ভালো লেগেছে।
    তবে ভাই আরও অনেক ধর্মের নাম শুনেছি সেগুলা কোথায় ? এসব বিষয় এত কম আঙ্গিকে লিখলে সমালোচনার স্বীকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  3. আপনাকে ধন্যবাদ রাফি ভাই
    আপনাকে ধন্যবাদ রাফি ভাই ,প্রথম লিখেছি তাই বিস্তর লেখার সাহস করিনি ।মূলত ধর্ম বিশ্বাসটা সর্বপ্রথম মিশরীয়রাই চালু করে ।তাদের ছিল অনেকগুলো ধর্ম ,আমি সবগুলো সম্বন্ধে জানিনা তবে কিছু ধর্ম সম্বন্ধে জানি ,যে ধর্মগুলো শুধু তাদের মধ্যেই বিস্তর ছিল ।
    তাদের প্রতিটা ক্ষেত্রেই ধর্ম বিদ্যমান ছিল ,তারা যা বিজ্ঞানমূলক কাজ করে গিয়েছেন সে সবগুলোই ধর্মীয় কারনে করে গিয়েছেন ।তাদের সময় দেহ ও কায়ার(আত্মা) প্রচলন ছিল ।তাদের বিশ্বাস ছিল দেহ ছাড়া কখনো আত্মা ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াতে পারবেনা ,এজন্যই তারা লাশ মমি করতেন ।তাদের তৈরীকৃত কিছু মমি বর্তমান বিশ্বের কাছে বিশাল রহস্যের এটা আপনার অজানা নও ।এই রহস্য তাদের সময় ও ছিল ধর্মীয় কারনে। যারা ঐ অভিশপ্ত মমি গুলোর কাছে যেতেন তারাই মারা পরতেন আর এতে তাদের ধর্ম বিশ্বাস এতে আরো গাঢ় হত ,তারা মনে করতেন এটা তাদের ধর্মীয় দেবতার রাগের ফল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *