ছন্নছাড়া

রাস্তায় হাটছি একা দুরে একজন সিগারেট টানছে ,এই শীতে শরীর গরম রাখার এক ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে সিগারেট টেনেই চলেছে সে |ঠিক এই মুহুর্তে তাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে কিনা তা বুঝতে পারছিনা |অবস্য জগৎ সংসারের অনেককিছুই আমি বুঝতে পারিনা | বুঝতে পারিনা বললে ভুল হবে আসলে বুঝতে চেষ্টা করিনা | ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম তারদিকে |আধো আলো আধো ছায়ায় পরিস্কার বুঝা যাচ্ছেনা মুখ টি | গলা কেশে বললাম ভাইজান সিগারেটটা কিদেবেন একটু খেতাম |অদ্ভুত ও বিরক্তি ভাবে তাকালো সে |প্রবল অনিচ্ছা সত্বেও আধ খাওয়া সিগারেটটি দিলো সে |কোথাও শুনেছিলাম সিগারেট খোরী শুধু সিগারেট খোরের অনুভুতি বুঝতে পারে |সিগারেট টা নিয়ে কিছুক্ষণ ফুকে তাকে ফিরিয়ে দিলাম |খুশিতে সে উদ্বেলিত |চলে আসব তখন মনেহলো সিগারেট দানকারীর নাম জানা উচিত |তাই ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম ভাইসাহেবের নামটা কি | একফালি হাসি দিয়ে বললো তারেক |আচ্ছা হাসি কি এক ফালি হয় |হয় হয়তো ,আমারি জানা নেই |একই ভাবে তারেকও জিজ্ঞাস করলো আপনার নাম আশা হত ভাবে বললাম আনন্দ |তারেক বললো যদি তাড়া নাথাকে তাহলে বসুন আর একটা সিগারেট আছে শেষ করে যাই |সিগারেটের লোভেই কি না জানিনা কিন্তু আমি বসে পড়লাম |নিসসঙ্গ থাকারচেয়ে অপরিচিত সঙ্গী ভালো |তারেক বললো কিসুন্দর আধার দেখেছেন |আমি তাকিয়ে দেখলাম ,আসলেই সুন্দর | হঠাত তারেক আপনমনে কবিতা বলল |ভালই আবৃতি করে ছেলেটা |কবিতা শেষ করে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল |বেহায়ার মত প্রশ্ন করলাম “কি নাম ছিলো ” ? ভনিতা নাকরেই জবাব দিলো রেনু |বললাম বাহ চমত্কার নামতো | যদিও নামটা আমার মোটেও পছন্দ হয় নাই |কিছু না বলে চলে গেল তারেক |কে জানে হয়তো নামটা এখন আর ওর পছন্দের না |তবে যাওয়ার আগে সিগারেটটা দিয়ে গেল |ম্যাচটা দিতে ভুলে গেছে |এখন সিগারেটে আগুন ধরানোটা একটা সমস্যা |একেবারে জাতীয় সমস্যার মতন |সরকারের উচিত রাস্তার প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে সিগারেট জালানোর জন্য আগুনের ব্যাবস্থা রাখা |রাত প্রায় একটা বাজে সবাই যারযার ঘরে ঘাপটি মেরে পরে আছে আগুন পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নাই | কারো বাসায় ঢুকে যদি এখন আগুন চাওয়া যায় তাহলে ক্যামন হয় ? এইসব প্রশ্ন নিয়ে নিজেই বাসার দিকে হাটা দিলাম |কপাল ভালো হলে হয়তো আগুন পেয়েও যেতে পারি |কিন্তু বিধি বাম কোনো ম্যাচ বা আগুন পেলামনা |বাসায় ঢুকে প্রথমে অন্ধকার হাতরে ম্যাচ বেরকরে সিগারেটটা ধরালাম |অন্ধকারে বসে সিগারেট খাওয়ার মজাই আলাদা |সিগারেট ফুকতে ফুকতে আর বিশ্বভ্রম্মানডের চিন্ত করতে করতে মনে পড়ল আরে আমিতো ঘরে লাইট টা জালানো উচিত |লাইট জালানোর পর অবাক হয়ে দেখলাম কেও একজন জানালার ভাঙ্গা কাচের ভিতরদিয়ে সাতটা কদম ফুল ও একটা লাল খাম ফেলে গেছে |কদম ফুলদেখার পর মনে প্রশ্নের উদয় হোলো “এই আকালের দিনে কদম ফুল কোথা থেকে এলো ?” কেই বা দিয়ে গেল ?তবে যেই দিয়ে যাক কাছে থাকলে তাকে একটা ধন্যবাদ দিতাম |এবার খাম খুলার পালা |ভেতরে একটা চিঠি আর আরো একটা খাম |চিঠিতে লিখা 1. “এত বাহিরে ঘুরবানা ” 2. “আমার সাথে যোগাযোগ করবানা ” আর 3. ভিতরে পাচশ টাকা আছে রিক্সা ভাড়া (ভাংতি করতে পারবানা তাই ভাংতি করা আছে ) | বুঝলাম এইটা সোমার চিঠি | টাকাগুলা গুনে দেখি পাচশ না এক হাজার আছে | কোনো একটা অজানা কারণে এইমেয়েটা আমার সাথে আছে দীর্ঘ দিন যাবত …….(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *