হাজার শোকর যে আজ আমরা আর পাকিস্তানী নই

পাকিস্তানের পেশোয়ারে শিশুদের উপর চালানো জঙ্গীদের বর্বর আত্মঘাতী হামলার বিস্তারিত জানার জন্য অনলাইনে পাকিস্তানের বেশ কিছু পত্রিকা ঘাটছিলাম। এর মধ্যে পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক দ্য ডনের একটি শিরোনামের দিকে দৃষ্টি পড়ে যায় ।
“Another 16th December , another black day”

শিরোনামটি দেখে থমকে গেলাম। শুধু মনে হল হায় পাকিস্তান, ১৬ই ডিসেম্বরের ভুত এখনও তোমাদের পিছু ছাড়ল না। ১৬ই ডিসেম্বর নিয়ে ঐ পত্রিকায় আরও একটি আর্টিকেল রয়েছে। শিরোনাম :
Fall of Dhaka: Memories of a bloody December


পাকিস্তানের পেশোয়ারে শিশুদের উপর চালানো জঙ্গীদের বর্বর আত্মঘাতী হামলার বিস্তারিত জানার জন্য অনলাইনে পাকিস্তানের বেশ কিছু পত্রিকা ঘাটছিলাম। এর মধ্যে পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক দ্য ডনের একটি শিরোনামের দিকে দৃষ্টি পড়ে যায় ।
“Another 16th December , another black day”

শিরোনামটি দেখে থমকে গেলাম। শুধু মনে হল হায় পাকিস্তান, ১৬ই ডিসেম্বরের ভুত এখনও তোমাদের পিছু ছাড়ল না। ১৬ই ডিসেম্বর নিয়ে ঐ পত্রিকায় আরও একটি আর্টিকেল রয়েছে। শিরোনাম :
Fall of Dhaka: Memories of a bloody December

বেশ মনযোগ দিয়ে ঐ আর্টিকেলটি এবং এর উপর পাকিস্তানী কমেন্টারদের কমেন্ট পড়লাম। যথারীতি সেই পুরনো প্যাচাল। মুক্তিযুদ্ধ ও ১৬ ডিসেম্বরকেও যথারীতি দেখা হয়েছে পাকিস্তানী প্রস্পেক্টিভ থেকে । বাঙ্গালীদের প্রুতি রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক শোষণের উল্লেখ করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন বাঙ্গালীরাও যে উর্দু ভাষী বিহারীদের প্রুতি হত্যা নির্যাতন চালিয়েছে তাও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সুকৌশলে । কিন্তু যুদ্ধকালীন ৯ মাসে বাঙ্গালীদের উপর চালানো গণহত্যা ও নারী ধর্ষণের উল্লেখ খুব একটা নেই বললেই চলে। শুধু সিলোসিয়া জাইদি নামের এক সাংবাদিক যিনি ১৯৭১ সালে সপরিবারে ঢাকায় ছিলেন তার ভাষ্য অনুযায়ী তাদের হিন্দু ধোপার তরুণী মেয়েটিকে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে। সব শেষে আলী আহমেদ খান নামক এক উর্দু ভাষী সাংবাদিক যিনি যুদ্ধে তার বাবা ও ভাই কে হারিয়েছেন, তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:
“What happened to me on a personal level was painful, but it was inevitable. When a force denies people their basic rights such a reaction was to be expected.”

হ্যা এটা সত্য যে যুদ্ধে হত্যা-নির্যাতন কখনও একপক্ষীয় হয় না । কিছু বাঙ্গালীও হয়তো উর্দু ভাষী বিহারীদের উপর হত্যা নির্যাতন চালিয়ে থাকতে পারে ।এটিই ঐতিহাসিক সত্য, এটিকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। । যে কোন হত্যা-নির্যাতনই নিন্দনীয় ও বিচার যোগ্য অপরাধ। কিন্তু যুদ্ধকালীন ৯ মাসে পাকিস্তানিরা যে পরিমান গণহত্যা চালিয়েছে , হত্যা ,ধর্ষণ, নির্যাতনের যে বীভৎস নজির স্থাপন করেছে শুধু তাকে জাষ্টিফাই করার জন্য যদি এসবের উল্লেখ করা হয় তাহলে এই ধরনের আর্টিকেলের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায় খুব সহজেই। সেই সঙ্গে কি এটিও প্রতীয়মান হয় না যে পাকিস্তান এখনো ৭১ এ করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেয়নি? সে দেশের স্কুল কলেজগুলোতে এখনও শেখানো হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গৌরব গাঁথা। সেনাবাহিনীকে তুলে ধরা হয় এই উপমহাদেশে ইসলামের মহান খেদমতগার হিসেবে। বাংলাদেশ সৃষ্টিকে উল্লেখ করা হয় ভারতের চক্রান্ত হিসেবে। ৭১ এর ভুমিকার জন্য ক্ষমা প্রাথর্নাতো এখনও তাদের কাছে অলৌকিক কল্পনা। দেশের রাজনীতি ,অর্থনীতি সর্বত্র সামরিক বাহিনীর দাপট চলছেই। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই কখনো গণতান্ত্রিক সরকারের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে যায় ।এদেরই এক অংশ জঙ্গীদের মদদ দেয় আবার আরেক অংশ জঙ্গী দমনে অভিযান চালায়। ৭১ পুর্বকালীন আমাদের মত বেলুচিস্তানের বেলুচরা এখনো শোষণ ,গঞ্জনা ,বঞ্ছনার শিকার হয় প্রুতিনিয়ত। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই পুরনো সত্যটিকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়-“যারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না অতীতও তাদের পিছু ছাড়ে না”।

গতকাল প্রথম আলোর ক্রোড়পত্রে দেখলাম আইয়ুব খান তার ডাইরীতে লিখেছে একশ বছর পরে হলেও বাঙ্গালীরা একদিন বুঝতে পারবে পাকিস্তান থেকে পৃথক হয়ে তারা কত বড় একটা ভুল করেছে।
দুঃখিত আইয়ুব, তুমি চিরকালই বোকার স্বর্গে বাস করেছ। আমাদের শত বছরের অপেক্ষার কোন প্রয়োজন নেই । আমরা অনেক আগেই বুঝে গেছি যে আমরা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ভাল আছি । এদেশে আর যাই হোক প্রুতিদিন স্কুল , কলেজ ,মসজিদ ,মাজারে বোমা বিস্ফোরণে নিরীহ মানুষ মারা যায় না। আমেরিকান বিমান দেশের সার্বভৌমত্ব লংঘন করে ড্রোন হামলা চালিয়ে জঙ্গীদের পাশাপাশি নিরীহ নারী শিশুদের হুত্যা করে না । যদিও অনেকে ক্ষেত্রেই এখনও আমাদের উন্নতির সুযোগ রয়েছে তারপরও বলা যায় যে এদেশের মানুষ অন্তত দু বেলা খেয়ে পরে বেশ ভালমতই বেচে আছে। তোমরাও ভাল থেকো এই শুভ কামনা রইলো। সবশেষে আনিসুল হকের ভাষায় বলতে হয় “হাজার শোকর যে আজ আমরা আর পাকিস্তানী নই” ।

(পেশোয়ারের শিশুদের উপর বর্বর জঙ্গী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই )

৪ thoughts on “হাজার শোকর যে আজ আমরা আর পাকিস্তানী নই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *