জগত্‍টা এত নিষ্ঠুর….

সকাল শেষে দুপুর হলো..দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা..তারপর সময়টা কখন যে গভীর রাত হয়ে গেলো তার বিন্দুমাত্র টের পেলো না নিশাদ..কি মনে হলো তাই সময়টা দেখতে মোবাইলটা খুঁজলো..মোবাইলে দেখে রাত ২ টা বেজে ৩০ মিনিট ।হতভম্ব!!! কেবল না সন্ধ্যা হলো ? তখন তার সেই কথাটি মনে হলো যে, ‘সময় কারোর জন্য অপেক্ষা করে না’..এটা মনে করার ফলে নিশাদ ভাবলো বাস্তবেও তাই ঘটছে..তার সাথে মিল আছে ।শীতের রাত হলেও তার তারাকে দেখবে বলে বিছানার পাশের জানালাটা খুঁলেই রাখলো..নিশাদ দেখতে পেলে তার তারা আকাশে জ্বলছে ও তার দিকে তাকিয়ে হাসছে..নিশাদের ও খুব ভালো লাগলো তারার হাসি দেখে..ইশারায় দুজনে কথা বলতে থাকে..কিন্তু নিশাদ তারাকে বলে আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও ..তারা বলে তাহলে তুমি লক্ষী ছেলের মতো ঘুমোও..তোমার সাথে তাহলে আমার দেখা হবে স্বপ্নের দেশে..নিশাদ বলে ঠিক আছে..চেষ্টা করছি । প্রতিটা রাতের গল্পটা এরকমই নিশাদের..একটা গান তার বর্তমানে খুব ফেবারিট..প্রায় সময় নিজ মনে গাঁইতে থাকে..গানটা এরকম,’বারিয়ে দাও তোমার হাত আমি আবার তোমার আঙুল ধরতে চাই…’হঠাত্‍ ই মনে হলো নিশাদের যে তার কাছে কিছু ভয়েস রেকর্ডস ছিলো!!! অনেকদিন পর একটু হলেও শান্তি পেলো রেকর্ডস গুলোর কথা ভেবে..খুঁজে বার করলো সেই কাঙ্খিত জিনিসগুলি..তন্মধ্যে একটি চালু করতে গিয়েই মোবাইল দেখায় ফাইলস আর নট সাপোর্টেড.!!! তারপর একে একে অন্যগুলোও চালু করলো,কিন্তু না..!! হলো না..ভাইরাসের সংক্রমণে সব নষ্ট..এতোটাই মন খারাপ হলো যে..তখন ভাবলো যে এটা তাহলে মনে হওয়ার কি দরকার ছিল ?? নিরাশ আর দুঃখ নিয়ে শুয়ে থাকলো..ভাবছে তারা এখন কি করছে ??নিশ্চই ঘুম ।এই সময়টাতে কত মজাই না হয়েছে..তারা খালি মেসেজ করতে করতে ঘুমায় যেতো আর খালি সরি-সরি বলতো ..আর নিশাদের কাজ ছিলো তাকে মেসেজ দিয়ে জাগানো..না জাগলে ডাইরেক্ট ফোন আর ঝারি ।কিন্তু এ সময়টা আজ পুরাই উল্টা..নিশাদের সাথে মজা করার মতোও নাই কেউ আবার খোঁজ খবর নেয়ার মতোও কেউ নায় ।সে বলতে বলতে কখন ঘুমিয়ে যায় যে,’বাস্তব জগত্‍টা এতটা নিষ্ঠুর যে তাকে আর তারাকে একসাথে থাকতে দিলো না’ কতটা দূরে সরিয়ে নিলো….।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *