শীতের দিনে শীতের রাতে, আসুন দাঁড়াই গরীবের সাথে…

ময়নার কথা মনে আছে তো? ঐযে, এবার গরমে আপনারা সবাই যাদের আম খাওয়ালেন! যার বাবা “জুতা সেলায়” আর পিচ্চি ভাইটার বয়স ২ বছর।

ময়নার কথা মনে আছে তো? ঐযে, এবার গরমে আপনারা সবাই যাদের আম খাওয়ালেন! যার বাবা “জুতা সেলায়” আর পিচ্চি ভাইটার বয়স ২ বছর।
ও এবার ওদের ক্লাসে ফাস্ট হয়েছে। সেই খুশিতে ওর বাবা ঘোষণা দিয়েছে- এবার শীতে ওদের দুই ভাইবোনকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাবে। ময়না গ্রামে যায় না অনেক দিন। সেই ছোট্টবেলায় মায়ের সাথে একবার গিয়েছিল। মা মারা যাবার পর সব এলোমেলো হয়ে গেল। এমনিতে গ্রামে গেলে খুব মজা হতো। গ্রামে ওদের জায়গা সম্পত্তি কিছু না থাকলেও দুই চাচা আর এক ফুফু আছেন। তারাও খুব গরীব, নুন আনতে পান্তা ফুরায়- তবু ওরা বেড়াতে গেলে আদর-যত্নের কমতি করে না। সদ্য গাছ থেকে পাড়া কাচা খেজুরের রস, গরম ভাঁপা আর খেজুর গুড়ের রসের পিঠা… আরো কত কী!
পিচ্চিটা এর আগে কখনও গ্রামে যায়নি। তবু ময়নার মুখে গল্প শুনে শুনে সেও সারাদিন লাফিয়ে বেড়ায় “গ্লামে যামু” গ্লামে যামু”! সব কিছুই ঠিক ছিল, শুধু সমস্যা একটাই- গ্রামে এখন প্রচুর ঠাণ্ডা! ময়নাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। এমনিতেই ওখানে ভীষণ ঠাণ্ডা পড়ে শীতে, তারমধ্যে এবার নাকি পুরো ডিসেম্বর জুড়েই বেশ ক’বার শৈত প্রবাহ হবে! শহরের মানুষগুলো তবু যাহোক একটু উষ্ণতা পায় নানাভাবে। কিন্তু ঐ অত দূরের অজ পাড়া গাঁয়ে কে যায় কাকে সাহায্য করতে? ওদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই হত দরিদ্র। দু’চার জন তবু কোন রকম গরম জামা কেনার সামর্থ রাখে। কিন্তু বেশির ভাগেরই ক্ষেতের নাড়া জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই ভরসা। সেটা অল্প-বিস্তর শীতে মোটামুটি কাজে দিলেও শৈত প্রবাহ বা প্রবল শীতে কোন কাজেই আসে না। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় একটু কম্বলের উষ্ণতা অনেক বেশি প্রকট হয়ে পড়ে।
অথচ ওরা এতোই গরীব যে ঐটুকু কেনার সামর্থই অনেকের নেই!

বাইরের অনেক দেশে শীতে রিতিমত তুষারপাত হয়। রাস্তা-ঘাট-বাড়ি-গাড়ি পর্যন্ত সব ঢেকে যায় বরফের আস্তরণে… তবু সেসব দেশেও শীতে শুধুমাত্র ঠাণ্ডার কারণে এতো মানুষ মারা যায় কিনা সন্দেহ। অথচ আমাদের দেশে প্রতি শীতে স্রেফ ঠাণ্ডায় ও ঠাণ্ডাজনিত রোগেই মারা যায় গড়ে ৮০-১০০ জন মানুষ! শুধ মাত্র গত বছরই শীতে প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে ৮৫ ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ!

তবে আশার কথা হচ্ছে, গরীব দেশে জন্মালেও আমরা মহানুভবতা ও আর্তমানবতায় বিশ্বসেরা! আর তাইতো ময়নাদের এই শীতটাকে একটু সহনীয় করতে বরাবরের মত এবারও ফেসবুক গ্রুপ Amra Khati Gorib… এগিয়ে এসেছে। বিগত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি (উড়িয়া, উদাখালী, কঞ্চিপুর) ইউনিয়নে আগামী ১৯শে ডিসেম্বর শীতবস্ত্র নিয়ে যাবে গরীবের দল!
এবার তাদের স্লোগান- শীতের দিনে শীতের রাতে, আসুন দাঁড়াই গরীবের সাথে…
আপনারা যারা ময়নাদের আম খাইয়েছিলেন কিংবা যারা খাওয়াতে পারেননি- সবার জন্যই এই সুযোগ! তবে আর দেরি কেন? একটা কম্বল কিনতে দরকার মাত্র ৩৫০টাকা! সিদ্ধান্ত নিন আপনি কয়টা কম্বল/কম্বলের দাম দিতে চান। অথবা অন্য কোন এমাউন্ট (২০/৫০/১০০/২০০) হলেও ক্ষতি নেই। পরিমানটা যতই হোক পাঠিয়ে দিন এক্ষুণি! বিজয়ের মাসে আসুন আমরা জয় করি কিছু শীতার্ত মানুষের হাসি…

– সফিক এহসান
(২৯ নভেম্বর ২০১৪)
কপি রাইটঃ Amra Khati Gorib. কর্তৃপক্ষ

[আপনারা যারা যারা এই উষ্ণতা বিলানোর মিছিলে শামিল হতে চান, তাঁরা আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারেন নিচের ঠিকানায়ঃ
Account name: Redwan Ahmed.
Account no. : 110.101.319931.
Dutch Bangla Bank Limited.

কিংবা বিকাশ করতে পারেন এই নম্বরগুলোতেঃ
01674488096,
01759501222,
01832694663…

এছাড়াও শীতবস্ত্র প্রদানে যারা সাহায্য করতে চান, তারা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিম্নোক্ত নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেনঃ

ঢাকা :
মেহেদী – ০১৮৩৬৭৯৭৪৪৫
সাজু – ০১৭১৯১৮৫২৩৭
তিথি হোসেন – ০১৯১১৯১৮৭৩৪
তানিয়া হোসাইন – ০১৮৩২৬৯৪৬৬৩

চট্টগ্রাম :
রাজকুমার দাশ – ০১৭৬৭ ৯৪২ ০০০
সীমান্ত সেন – ০১৭২৭ ৬৫৮ ৬৯১
গাজী এনামুল হক – ০১৮৩১ ৫৭০ ৩৮৫

রংপুর :
নাসিরুল আলম মন্ডল – ০১৭১৭ ২৭৬ ৬৩৭
রাজ্জাকুর রহমান- ০১৭২৩ ৫৮৫ ৮০১
জীবন ঘোষ – ০১৭৬১ ০৭১ ০৭০
আবীর রিফাত – ০১৭৩৮০৩৭২০৯

সিলেট :
মুন্নী – ০১৬৭৩ ৬০০ ৬৪৬
তাহমিদ – ০১৭৩৭ ১৮১ ১৬০

খুলনা :
তানজীর হোসেন লিটিল – ০১৯১১ ৬০২ ৫৫০, ০১৬১১ ৬০২ ৫৫০

বরিশালঃ
সামিনাজ হাসান জিয়ান – ০১৭৪৭ ৪৯৮ ৪৮৮
নিশাদুল ইসলাম নিশাদ – ০১৭৭২ ৫৫৮ ৯৩৯

এছাড়াও শীতবস্ত্র সম্পর্কিত যেকোন বিষয় সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করতে পারেন রেদওয়ান রিদন এর সাথে…
রেদওয়ান রিদন – ০১৭৫৯৫০১২২২]

২ thoughts on “শীতের দিনে শীতের রাতে, আসুন দাঁড়াই গরীবের সাথে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *