মাত্রাহীন ডিজিটাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ রূপে ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে। যে দেশে মাত্র দশ থেকে এগার বছরের ছেলেমেয়েগুল সমাপনি পরিক্ষায় দেয় আর প্রশ্ন পত্র পরিক্ষার আগেই পেয়ে যায়। সেই দেশ কে আর কি বলবো। আমরাও একসময় এই পরিক্ষাটি অতিক্রম করে এসেছি। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস তো দুরের কথা একাজ হওয়া সম্ভব তাই আমাদের কল্পনাতে কখনো আসেনি। অথচ পরিক্ষার আগের রাতে যখন বই নিয়ে পড়তে পড়তে বই তছনছ হয়ে যাও্যার কথা সেখানে মোবাইল, প্রাইভেট স্যার, আর কয়েকটা কাগজের পাতা তছনছ হতে দেখা যায়। যেখানে পরিক্ষার আগের রাতে রিভিশন দেওয়ার কথা সেখানে সে শিক্ষার্থী হাতে পাওয়া প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখস্থ করা শুরু করে। আমারই এক ফুফাত বোন গতবছর এই পরিক্ষা দিয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিরে পরিক্ষা কেমন হল? ও বলল ভালো নয়া খুব একটা। আমি- কেন, কি হয়েছে? ছোট বোন- সবাই প্রশ্ন পাইছিল আগে। আমি বললাম তাতে কি? তুই কি প্রশ্ন পাইলে নিতি? ও উত্তর দিল- নিবনা কেন! সবাইত দেয়। আর আমাকে কাঠগড়ায় দাঁর করিয়ে বলল কি ভাই হইছ প্রশ্ন জোগাড় করে দিতে পারলা নয়া! আমি হতবাক। সত্যি বলতে ক্লাস ৫ এর প্রশ্ন্বও যে ফাঁস হয় তা অকল্পনিয় ছিল।আর ওর কথার মানে ওর কোন বিষয় খারাপ হয়নি সবাই প্রশ্ন পেয়েছে বলে ওর পরিক্ষা খারাপ হয়েছে। তাহলেই বুঝুন? আর এইবার আমার আরেক ছোট বোন পরিক্ষা দিচ্ছে। ইসলাম শিক্ষা পরিক্ষার দিন আমাকে আস্তে করে এসে বলছে- ভাইয়া কিছু পাইছ? আমি- কি? ও- পরিক্ষার। আমি বললাম- কাল কি পরিক্ষা। ও- ইসলাম শিক্ষা। আমি- এই পরিক্ষারও প্রশ্ন ফাঁস হয়!!!এই হল অবস্থা। ছাত্র সমাজ আজ এতটাই দুর্বল যে তাদের ইসলাম শিক্ষা পরিক্ষাতেও প্রশ্নটা আগেই লাগে। এটা ভেবে বেকুবের মতো অনেকক্ষণ বসেছিলাম। আর এই পরিক্ষা যখন শেষের পথে এতদিনে আমাদের দেশের বিশিস্ট জনদের মাথা ঘামা শুরু হয়েছে। কেনই ঘামালেন আর। একটা পরিক্ষা বাকি আছে। শুধু শুধু মাথা ঘামিয়ে শরীর খারাপ করবেন আপনারা, স্যার। তার থেকে বাদ দিন। দেশটাকে আমরা আরও বেশ ডিজিটাল হিসেবে দেখতে চাই। কারন, আমরাই বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *