মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি

মওলানা রুমির আসল নাম জালাল উদ্দিন
মুহাম্মদ। পিতার নাম মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন
খতিবি, ওরফে বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ। তার
পিতা ছিলেন সে যুগের একজন বিখ্যাত বুজুর্গ
আলেম। বৃহত্তর খোরাসানের বিখ্যাত শহর
বর্তমান আফগানিস্তানের
বালখে হিজরি ৬০৪ হিজরির ৬ রবিউল
আউয়াল (১২০৭ ইংরেজি) শেখ বাহাউদ্দিনের
ঘরে জন্মগ্রহণ করেন জালালুদ্দিন মুহাম্মদ।
খোরাসানে সুলতান মুহাম্মদ খারেজাম
শাহের শাসনাধীন অঞ্চলে মোগলদের
ধক্ষংসাত্মক আক্রমণের আতঙ্ক
ছড়িয়ে পড়লে শেখ বাহাউদ্দিন ওয়ালদ পুত্র
জালাল উদ্দিন মুহাম্মদকে নিয়ে বাগদাদ
হয়ে পবিত্র হজের উদ্দেশে রওনা হন।
কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী, সুলতান

মওলানা রুমির আসল নাম জালাল উদ্দিন
মুহাম্মদ। পিতার নাম মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন
খতিবি, ওরফে বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ। তার
পিতা ছিলেন সে যুগের একজন বিখ্যাত বুজুর্গ
আলেম। বৃহত্তর খোরাসানের বিখ্যাত শহর
বর্তমান আফগানিস্তানের
বালখে হিজরি ৬০৪ হিজরির ৬ রবিউল
আউয়াল (১২০৭ ইংরেজি) শেখ বাহাউদ্দিনের
ঘরে জন্মগ্রহণ করেন জালালুদ্দিন মুহাম্মদ।
খোরাসানে সুলতান মুহাম্মদ খারেজাম
শাহের শাসনাধীন অঞ্চলে মোগলদের
ধক্ষংসাত্মক আক্রমণের আতঙ্ক
ছড়িয়ে পড়লে শেখ বাহাউদ্দিন ওয়ালদ পুত্র
জালাল উদ্দিন মুহাম্মদকে নিয়ে বাগদাদ
হয়ে পবিত্র হজের উদ্দেশে রওনা হন।
কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী, সুলতান
মুহাম্মদ খারেজাম শাহের আচরণে রুষ্ট হয়েই
তিনি বালখ ত্যাগ করেন এবং তা ছিল ৬১০
হিজরির ঘটনা। বালখ থেকে বাগদাদ
হয়ে মক্কা যাওয়ার পথে যাত্রার
শুরুতে তারা বর্তমান ইরানের খোরাসান
প্রদেশের নিশাপুরে উপনীত হন
এবং সে যুগের প্রখ্যাত সাধক শেখ ফরিদ
উদ্দিন আত্তার (রহ.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ
করেন। বর্ণিত আছে, হজরত শেখ ফরিদ উদ্দিন
আত্তার (রহ.) জালাল উদ্দিন মুহাম্মদের
চেহারার দিকে তাকাতেই
সস্নেহে তাকে বুকে জড়িয়ে নেন
এবং পিতা বাহাউদ্দিন ওয়ালাদকে বলেন,
‘আপনার এ ছেলে দুনিয়ার দগ্ধপ্রাণ
প্রেমিকদের মধ্যে আগুন জ্বালাবে।’ অতঃপর
তাকে নিজের লেখা_ ‘আসরারনামা’
কিতাবের একটি কপি উপহার দেন।
নিশাপুর থেকে শেখ বাহাউদ্দিন
পুত্রকে নিয়ে বাগদাদের
উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে শেখ
শাহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দীর
সঙ্গে মোলাকাত হয়। এরপর মক্কা শরিফের
উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র হজ পালনের পর
পিতা ও পুত্র সিরিয়া গমন করেন
এবং ‘মালাতিয়া’ অঞ্চলে চার বছর অবস্থান
করেন। সেখান থেকে সালজুকি বাদশাহদের
অন্যতম শাসন কেন্দ্র লারেন্দ গিয়ে দীর্ঘ
সাত বছর বসবাস করেন। শেষ পর্যন্ত পূর্ব
রোমে সালজুকি বংশের দ্বাদশতম শাসক,
সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদের (৬১৬-৬৩৪
হিজরি) আমন্ত্রণে তার রাজধানী (বর্তমান
তুরস্কের) কুনিয়ায় গমন করেন এবং জীবনের
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার
সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন।
লারেন্দে থাকতেই পিতার নির্দেশে ১৮ বছর
বয়সে গওহার খাতুন নামক এক সম্ভ্রান্ত
পরিবারের কন্যার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে অবদ্ধ
হন। জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ তার পিতার
কাছেই প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা হাসিল
করেন। হিজরি ৬২৮ সনে তিনি বুজুর্গ
পিতাকে হারান এবং ২৪ বছর বয়সেই পিতার
স্থলাভিষিক্ত হন। পিতার ইন্তেকালের এক
বছর পর তিনি সৈয়দ বোরহান উদ্দিন
মুহাক্কেক তিরমিজির সাহচর্য গ্রহণ করেন।
সৈয়দ বোরহান উদ্দিন ছিলেন মওলানা রুমির
পিতার সাগরেদ। সৈয়দ বোরহান উদ্দিনের
পরামর্শক্রমে দেশ সফরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়,
উচ্চতর জ্ঞান আহরণ ও তরিকতের বুজুর্গদের
সাহচর্য লাভের জন্য দামেস্ক সফর করেন।
দামেস্কে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতায়
পূর্ণতা হাসিলের পর তিনি পুনরায়
কুনিয়া ফিরে আসেন। দীর্ঘকাল কুনিয়ায়
অবস্থানই মওলানা রুমি হিসেবে তার
খ্যাতির আসল কারণ। কেননা কুনিয়া ছিল
পূর্ব রোমের অন্যতম নগরী এবং তা রুমিয়াতুছ
ছোগরা বা ছোট রুম নামে প্রসিদ্ধ ছিল।
মওলানা রুমি সে যুগের প্রচলিত অধিকাংশ
জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন
এবং আমির-ওমরাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের
সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
মওলানা রুমি (রহ.) কুনিয়ায় অতি সম্মান ও
মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষা ও অধ্যাপনায়
নিয়োজিত ছিলেন। এমন সময় এক মহান মজজুুব
অলির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং তার
জীবনধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। সেই
মহাসাধকের নাম শামসে তাবরিজি।
তিনি মওলানা জালাল উদ্দিন রুমির
অন্তরে প্রেমের এমন আগুন জ্বালিয়ে দেন,
যার ফলে তার অন্তর থেকে একমাত্র
প্রেমাস্পদ আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই জ্বলে-
পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ ঘটনায় তিনি শামসে তাবরিজির প্রেমের
বাঁধন ও আসমানি আকর্ষণের ডোরে সম্পূর্ণ
বন্দি হয়ে যান। মসজিদের ইমামতি,
মাদরাসার শিক্ষকতা ও ওয়াজ-নসিহত ত্যাগ
করে গান, হাল,
মত্ততা প্রভৃতিতে ভীষণভাবে আসক্ত
হয়ে পড়েন এবং শামসে তাবরিজির জন্য
সম্পূর্ণ পাগল ও মওলানার ভাষায় গোলাম
বনে যান। শামসে তাবরিজির
সংস্পর্শে মওলানা রুমি এভাবে উদভ্রান্ত ও
পাগল হয়ে যাওয়ার ফলে কুনিয়ার
বাসিন্দারা শামসে তাবরিজির ওপর ক্রুদ্ধ
হয়ে ওঠে। এর
ফলে তিনি কুনিয়া ছেড়ে চলে যান। বলা হয়
যে, মওলানা রুমির ভক্তরা তাকে হত্যা করে।
শামসে তাবরিজিকে হারানোর পর মওলানার
অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।
তবে ধীরে ধীরে আত্মস্থ হলে ঝরনার
মতো অজস্র ধারায় কবিতা বলতে থাকেন।
মওলানার অবিস্মরণীয় রচনাবলির
মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে_
দিওয়ানে শামসে তাবরিজি।
দিওয়ানে শামসকে রচনার সময়কালের দিক
থেকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ও
প্রধান ভাগটির রচনাকাল শামসে তাবরিজির
সঙ্গে তার সাহচর্য ও বিচ্ছেদের সময়কার ১০
বা ১১ বছর (৬৪২ থেকে ৬৫২ হিজরি)। দ্বিতীয়
অংশ, যা প্রথম অংশের তুলনায় ছোট,
রচনাকাল ৬৫২ থেকে ৬৬২ হিজরি। দ্বিতীয়
অংশের চেয়েও ছোট তৃতীয় অংশের
রচনাকাল মওলানার শেষ জীবন ৬৬২
থেকে ৬৭২ হিজরি। জীবনের এ
অংশে মওলানা রুমি অধিকাংশ সময় তার
বিশ্ববিখ্যাত মসনবি শরিফ রচনার কাজেই
ব্যয় করেন।
মসনবি শরিফকে তৌহিদের কণ্ঠস্বর,
প্রেমের সঙ্গীত ও রুহের সায়কল
(বা জং পরিষ্কারকারী রেত) এবং শরিয়ত ও
তরিকতের জ্ঞানের বিশ্বকোষ
নামে অভিহিত করা হয়। মসনবি মওলানা রুমির
(রহ.) চিন্তা, চেতনা ও প্রেমের
সবচেয়ে সুন্দর, সাবলীল ও পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি।
মসনবি ছয় খ-ে, বাহরে রমলের
ছন্দরীতিতে ২৬ হাজার শ্লোকের
সমন্বয়ে রচিত, যা জীবনের শেষ ১০
বছরে রচনা করেন।
মওলানা রুমির অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে_
১৬০০ চতুষ্পদী নিয়ে লেখা ‘রুবাইয়াত’।
মওলানার পত্রাবলি ‘মাকতুবাত’।
‘ফিহে মা ফিহে’ (তাতে আছে, যা কিছু
আছে) আরবি প্রবচনে নামকৃত গ্রন্থটি খাস
মজলিসে প্রদত্ত আধ্যাত্মিক ভাষণের
সারসংক্ষেপ। সাতটি পৃথক
মজলিসে দেয়া মওলানা রুমির ভাষণ সংকলন
‘মাজালেসে সাবয়া’।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধক
কবি মওলানা জালাল উদ্দিন রুমি ৬৭২
হিজরির ৫ জমাদিউল আখের (১২৭৩ ইং) ৬৮
বছর বয়সে সূর্যাস্তের সময় পরম প্রেমাস্পদ
আল্লাহর সনি্নধানে চলে যান। বর্তমান
তুরস্কের কুনিয়া শহরে তার সমাধি বিশ্বের
আল্লাহ প্রেমিকদের জিয়ারতগাহ।
গবেষকরা বলেছেন, শামসে তাবরিজির
সঙ্গে সাক্ষাতের আগে মওলানা রুমি কখনও
কবিতা লিখেননি। শামসে তাবরিজির
সাক্ষাতের পরই তিনি অনর্গল
কবিতা লিখে বিশ্বসাহিত্যে অবিস্মরণীয়
অবদান রেখেছেন। ফলে মানুষ হতবাক
হয়ে ভাবে, আসলে শামসে তাবরিজি কোন
পরশমণি ছিলেন এবং মওলানা রুমির প্রেমের
গূঢ় রহস্যই বা কি ছিল?

১ thought on “মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি

  1. দুষ্টলোকেরা বলে তারা সমকামি
    দুষ্টলোকেরা বলে তারা সমকামি ছিলেন, আর এ জন্যই রুমির শিষ্যরা সইতে না পেরে শামস্কে পিটিয়ে হত্যা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *