Kiss is an angel feelings of love……


খুব ছোটবেলায় যখন আম্মু অফিসে যেত তখন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আদর করে একটা করে kiss দিয়ে যেত। প্রতি উত্তরে আমিও কিস দিয়ে জানাতাম আম্মু আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমার ছোট ভাইয়ের সাথে আমার জীবনে যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল সেদিন তাকে কোলে নিয়েই প্রথমে একটা কিস করেছিলা। কারণ আমি জানতাম আমার ভালোবাসা প্রকাশের এই ভাষাটি ছাড়া সে আর কিছুই বুঝবে না। এটাও দেখেছি বাবা যখন আমাদের ছেড়ে দূরে কোথাও কাজে যেতেন দরোজায় দাঁড়িয়ে আম্মুকে একটা কিস করে যেতেন। সেই মুহূর্তটি যে আমার মায়ের জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল তা বুঝেছি বেশ বড় হয়ে। আমিও আমার প্রেমিকাকে লোক চক্ষুর আড়ালে, কখনোবা ভরা মজলিসে দাঁড়িয়ে খুব গভীর করে জড়িয়ে ধরে আলতো করে কিস করেছি। বুঝেছি পৃথিবীর সকল আইন কানুনই মিছে এই ভালোবাসার কাছে। আমি যখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার কিছু কিস ফ্রেন্ড ছিল। স্কুলে গিয়েই একজন আরেকজনকে কিস দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতাম। সমলিঙ্গের ক্ষেত্রে কিছুটা স্পর্শ থাকলেও ছেলে মেয়েদের কিস দেওয়ার রিতি ছিল ফ্লাইং কিস। এবারো যখন শেষ বার বাড়ি থেকে ব্যাঙ্গালরের পথে রওনা দিলাম রাস্তায় শেষ বার ছোট ভাইয়ের হাতটা ছাড়ার আগে তাকে একটা কিস করেছিলাম। এমন করে কিসের ঘটনা অনেক আছে…………

ইসলামিক দেশ গুলোতে (মিসর, সৌদি আরব) বিদেশী অতিথিদের চুমু দিয়ে স্বাগত জানায় সেই দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা। এই কিস দিয়ে স্বাগত জানানোর রিতি পশ্চিমা দেশেও প্রচলিত আছে। কিছুদিন আগে একটা ছবিতে দেখলাম ডাঃ জাকির নায়েক মক্কা শরিফের ইমামকে জড়িয়ে ধরে কিস দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। আবার যারা মক্কায় হজ্ব করতে যায় তারাও বিশ্বাস থেকে হযরতে আসোয়াতে কিস করে প্রবিত্র হতে চায়। হযরত মুহাম্মাদ সঃ তার নাতী হাসান, হোসেনকে প্রকাশ্যে কিস করতেন। এই কথা হোসেন শিমারকে বলেছিল ফুরাত নদীর তীরে। বলেছিল “আমার গলায় ছুরি চালিয়ে তুমি আমাকে মারতে পারবে না। কারণ এই জাগায় আমার নবীজী, আল্লার বন্ধু, আমার নানা কিস করতেন। তুমি বরং ঐ পাশ থেকে ছুরি চালনা কর”।

তার মানে বোঝা যায় কিস কোন মতেই অসভ্য বা নোংরা ভালোবাসার বহিরপ্রকাশ নয়। যুগে যুগে এটা মানুষ ব্যাবহার করেছে তার প্রিয় মানুষকে ভালোবাসা প্রদর্শন করতে। মুখের যে কোন ভাষা থেকে শরীরের এই ভাষা অনেক বেশি সার্বজনীন বোধগম্য, তেমনি চূড়ান্ত আবেগের। সুতরাং কি অর্থে এটাকে আমরা গোপন করে রাখি?

সিনেমা, কবিতা, নাটক, পেইন্টিং, ফটো যে কোন মাধমেই চুমু খওয়াটা অনেক বেশি পজেটিভ ও আবেগি করে দেখানো হয়। কারণ এই ভালোবাসা প্রকাশটা অনেক বেশি স্বাভাবিক ও সহজ। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে কিস/ চুমু আমাদের মত দেশে যৌনতার প্রতিক/ ইঙ্গিত বলে ধরে নেওয়া হয়। আমার জীবনে আমি যতগুলো কিসে অংশ নিয়েছি তার খুব কমই যৌনতাকে উস্কে দেওয়ার মত ছিল। হিসাব করে বললে সেটা ১% এর মত হবে। এর বাইরে যে সকল ভালোবাসা ছিল তা কি কেবলই অন্যায়? কেবলই যৌনতা?

আমার জীবনে দেখা সব থেকে পবিত্র ও আবেগি কিসের দৃশ্যটি ছিল টাইটানিক মুভির এই দৃশ্যটি। যেটা আমাকে বার বার নস্টালজিক করে দেয়। বহুবার প্রিয়ার সাথে মান অভিমানের সমাপ্তি ঘতিয়েছি এই একটি হালকা স্পর্শে। তবে কি অর্থে এটা অন্যায়?

ইদানিং ভারতে KISS করা নিয়ে প্রশাসনের একটা দাদা গিরির প্রতীবাদ স্বরূপ কিস মুভমেন্ট চলছে। শুরু হয়েছে কোলকাতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ থেকে। এটা আজ পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কাল হয়েছে ব্যাঙ্গালরে। আগে থেকে জানলে হয়তো অংশ নেওয়া যেত। কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি।

ভেবেছিলাম এটা নিয়ে লিখব না। গত পরশুদিন লেখতে গিয়ে আবার ডিলিট করে দিয়েছি। আমি জানি অনেকেই ফাঁকা বুলি আওড়াবে যে এটা আমাদের বাঙ্গালিয়ানা, ধর্ম, সাংস্কৃতির সাথে মানায় না। একারনেই এতো উদাহরণ দিয়ে লেখাটা লেখলাম। আমি বিতর্ক এড়াতেই এটা লিখবনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু হটাত মনে হল আমি অন্যায় আপোষ করছি। তাই লিখেই ফেললাম।

এই কিস করে প্রতীবাদ জানানোটা কোন যৌনতার লক্ষন না। এটা হল নিজের ব্যাক্তি স্বাধীনতার বহিরপ্রকশ। দির্ঘদিন যাবত মোড়ালিটির নামে যে অদৃশ্য শিকল দিয়ে আমাদের বেধে রাখা হয়েছে সেটা ভেঙ্গে ফেলার প্রচেষ্টা। কেন জীবনের চরম তম ভালোবাসা, অনুভুতির কথা আমি আমার প্রিয় মানুষটার কাছে প্রকাশ করতে পারবো না? কেন আমি আমার মত করে আমার দেহ, মন, শ্রমকে ব্যাবহার করতে পারবো না? এই কিস সমাজকে সেই প্রশ্নই করছে।

যদি প্রকাশ্যে গালি গেওয়া, ভাত খাওয়া, টয়লেট করা, মারামারি করা, হিংসাকরা, অহংকার করা, ঘৃণা করা, ঝগড়া করা অন্যায় না হয়ে থাকে তা হলে কি বিচারে আমার প্রেম নিবেদন তোমার কাছে অন্যায় বলে মনে হচ্ছে? জবাব দেও………

৫ thoughts on “Kiss is an angel feelings of love……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *