রি-মেইকিং বা রি-মিক্সিং এবং আমাদের সংস্কৃতি…

রি-মেইকিং বা রি-মিক্সিং এর একটা ফ্লো মোটামুটি ভাবে সবগুলো কালচারেই ঢুকে গেছে| এর কারনটা হতে পারে ক্রিয়েটিভ লোকজনের সংকট| মানছি রবীন্দ্রনাথেরা প্রতিদিন জন্মায় না| আর মানুষেরও ঘুরেফিরে এক সময় পুরাতন কিছু ভাল লাগতে শুরু করে|

রি-মেইকিং বা রি-মিক্সিং এর একটা ফ্লো মোটামুটি ভাবে সবগুলো কালচারেই ঢুকে গেছে| এর কারনটা হতে পারে ক্রিয়েটিভ লোকজনের সংকট| মানছি রবীন্দ্রনাথেরা প্রতিদিন জন্মায় না| আর মানুষেরও ঘুরেফিরে এক সময় পুরাতন কিছু ভাল লাগতে শুরু করে|
সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমায় দেখতাম নায়ক-রাজ রাজ্জাক চিপা-চাপা ড্রেস পরে পার্কের মধ্যে নায়িকার সাথে গান গেয়ে বেড়াচ্ছে| খুবই কমেডি-টাইপ লাগত দেখতে| বছর পাঁচেক আগেও ঐ গানের পার্ট টুকু বাদ দিলে রাস্তাঘাটে অনেককেই দেখা যেত সেই একই গেট-আপে ঘুরোঘুরি করতে| খুব একটা খারাপ লাগত না তখন| তার ৫-৭ বছর আগে ছিল ঢোলা-ঢালা ড্রেসের ফ্লো| যতদূর মনে পরে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ঢোলা ড্রেস নিয়ে গাওয়া নকূলের একটা গানও প্রচার হয়েছিল| বোধ-শক্তি হওয়ার পর থেকে ঢোলা-চিপার আবর্তন দেখছি| খুব একটা খারাপ লাগেনি মেনে নিতে|

আমার মত ফোক গানের ফ্যান হয়ত অনেকেই আছেন| আমার বাবার ও খুব পছন্দের ছিল ফোক-সং| খুব ছোট বেলায় শুনতাম| ভুলেই গিয়েছিলাম একটা সময়| নিঃসংকোচে বলব, ওগুলো আবার মনে করিয়ে দিয়েছে হাবিব| হ্যা,সুর-ঢং কিছুটা পাল্টেছে,কিন্তু ভাল লাগেনি এমনটা বলতে পারব না| আনুশে কিংবা সুমির গলায় লালনের গানও কখনও খারাপ লাগেনি| এরা না আসলে আমাদের জেনারেশানের কয়জন আব্দুল করিমদের চিনত সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে| কে কী বলে জানি না,তবে আমি এদের কাজগুলোকে পজেটিভলি-ই নেব|

ক্ষ ব্যান্ডটি আমাদের জাতীয় সংগীতের রি-মেইক করেছে| সুর পাল্টেছে কিছুটা| অনেকেরই গায়ে লেগেছে| জাতীয় সংগীতের অবমাননা…!!! গায়ে লাগাটাও স্বাভাবিক|

ওদের গানটা আমিও শুনেছি| ভাল লেগেছে না খারাপ লেগেছে সে তর্কে যাব না| তবে যতটুকু বুঝেছি তাতে মনে হয়নি অপমান করাটা ওদের উদ্দেশ্য ছিল| বরং মনে হল বেশ আবেগ আর শ্রদ্ধা ছিল ওদের গাওয়ায়..|

তবে আমি বলব, কিছু কিছু ব্যাপার থাকে যা অপরিবর্তীত থাকাটাই শ্রেয়| পরিবর্তনটা যত সুন্দর বা বাজেই হোক,মূল ধারায়ই রেখে দেয়া উচিত ওগুলোকে| জাতীয় সংগীতটাও সেরকম| ওটা আমাদের সত্তা, মূল, আত্ম-পরিচয়| ওটাকে আরো সুন্দর করার তো প্রশ্নই ওঠে না,চেষ্টা করারও দরকার নাই….| এমনিতেই যথেষ্ট পরিমানে সুরন্দ আছে| আমরা আর সুন্দর চাই না| এক-এক জনের কাছে এক-এক ভাবে সুন্দর লাগতে পারে| আমাদের জাতীয় মৌলিকতাটাই তখন প্রশ্নের মুখে পরে যাবে| তাই অনর্থ ঘটে যাওয়ার আগেই সচেতন হওয়া উচিত…

৪ thoughts on “রি-মেইকিং বা রি-মিক্সিং এবং আমাদের সংস্কৃতি…

  1. জাতীয়ভাবে কিছু কিছু বিষয়
    জাতীয়ভাবে কিছু কিছু বিষয় অপরিবর্তিত রাখাই শ্রেয়। আমার মনে হয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় রচিত বাংলাদেশের সংবিধান বার বার সিজার করার কারণেই জাতি আজ এত দ্বিধা বিভক্ত ! সুতরাং জাতীয়ভাবে কিছু কিছু বিষয় অপরিবর্তিত রাখাই উচিৎ।

    1. যতদিন পর্যন্ত সরকার এবং
      যতদিন পর্যন্ত সরকার এবং বিরোধী দল সংসদে ৬০৪০ আসনে না থাকবে,ততদিন এই সিজার চলতেই থাকবে| ক্ষমতার সুষম বন্টন না হলে একচেটিয়া প্রতিপত্তি দেখিয়ে দলীয় স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করে গেলে অবাক হবার কিছু নাই| আর এর জন্য দায়ী আমরা জনগনেরাই| আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দলের উর্ধে দেশের স্থান দেয়ার মানষিকতাটা তৈরী করতে পেরে ওঠেনি| কামড়া-কামড়ি করাটাকেই তারা দেশ প্রেম মনে করে|

  2. স্বাধীনতা পরবর্তী সময় রচিত

    স্বাধীনতা পরবর্তী সময় রচিত বাংলাদেশের সংবিধান বার বার সিজার করার কারণেই জাতি আজ এত দ্বিধা বিভক্ত !

    এটাই মুল কথা। আমরা আইডেন্টি ক্রাইসিসে ভোগা জাতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *