নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

একটি উপলব্ধির সূত্রপাতঃ মাতৃভাষায় বসবাস


মাতৃভাষা হল মাতৃদুগ্ধ -মাতৃভাষার উপর এমন অনেক আপ্তবাক্য সেই ছোট্টবেলা থেকেই শুনে আসছি।মাতৃভাষা চর্চার গুরুত্ব নিয়েও কত কিছু পড়ে আসছি।কিন্তু যতদিন না নিজের ভিতর থেকে বিষয়টি আবিষ্কার করতে পারছিলাম না ততদিন 'মাতৃভাষা' আমার কাছে অন্য অনেক বিষয়ের মতই ছিল সাধারণ।অন্য সকলে আলাদা ক্রেডিট দিলেও আমার পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব ছিল না।

তবে প্রশ্নগ্রস্থ মনের কবলে পড়ে নিজের ধারনার ইমারত গড়েছি ধীরে ধীরে।তখনও টেক্সটবুকস-এর বাইরে যাওয়া হয়ে ওঠে নি।আসলে ঠিকভাবে জানতামই না যে তথাকথিত টেক্সটবুকস ছাড়াও আরেকটা ভূবন আছে।সত্যি বলতে কি আশে পাশের আর সকলের এমন কি শিক্ষক সমাজের অধিকাংশেরই সেই জগতটাতে তেমন আনাগোনা ছিল না।তাই সেখানে প্রবেশের তেমন কোন রহস্যগাঁথাও শুনাতে পারতেন না তারা যে সেই দিকটাতে যেতে মন চায়।

যাই হোক বিজ্ঞান গ্রুপের ছাত্র হওয়ার পর একটু অস্বস্তিতেই পড়েছিলাম।কঠিন কঠিন সব টার্মের কারসাজি প্রতিটি বইয়ের পাতায় পাতায়,চতুর্দিকে সবাকার বিজ্ঞান ভীতি আরো আরো দুর্বল করে ফেলছিল আমাকে।কিভাবে কি করব বুঝে ওঠে পারছিলাম না।তখন আমাদের বাংলা শিক্ষকের সারসংক্ষেপে বলে যাওয়া নানা গল্পের সমাপ্তির খোজে পড়া শুরু করে দিলাম নানা বই।গ্রামের লাইব্রেরীতে আগে যাওয়া-আসা না থাকলেও যাওয়া শুরু হল।এর মধ্যে বিভিন্ন চিন্তাশীল প্রবন্ধ আমাকে বিশেষভাবে আলোড়িত করা শুরু করল।বিশেষত, শিক্ষা বিষয়ে নানা লেখালেখি যেখানেই পেতাম পড়ে ফেলতাম।ভাবনাচিন্তা পাল্টাতে লাগল ধীরে ধীরে।বলা চলে খানিকটা নিজেকেই নিতে হলো নিজেকে শেখানোর দায়িত্ব।যদিও শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবশ্যই সাহায্যকারী হিসাবে ছিল।তবে অনেক বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর আমাকে নিজেকেই খুজতে হতো।এভাবে বাইরের বই আর টেক্সটবুক পড়া সমানে চলতে লাগল।

ইতিমধ্যে কিন্তু আমার টেক্সটবুকের অনেক বিষয়ই নিজে নিজে বুঝে ফেলেছি।যদিও পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সমাধান করার মত সক্ষমতা তখনও তৈরি হয় নি।মূলত তখন নজর ছিল বিষয়বস্তু গুলো বোঝা।যদিও পরে জেনেছি, তখন বুঝে নেওয়া অনেক ধারনা ভূল ছিল। হয়তো সেই জন্য ভিতরে ভিতরে একটা হীনমন্যতা কাজ করত।

একটা বিষয় আমি লক্ষ্য করতাম,শুধু বিজ্ঞানের বই কেনো যে কোন বই পড়ে একটু হলেও বুঝতে পারি।যা হয়তো আগে সাধ্যের বাইরেই ছিল।একবার, ভূগোলের কোন একটা গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে দেবো বলে এক বৌদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।বন্ধুর কাছ থেকে বই এনে উক্ত বিষয়ের উপর একেবারে গোড়া থেকে পড়তে শুরু করলাম।অবশেষে সফল হলাম।তখনো বাইরের বই বলতে একটা সীমানা ছিল।গল্প, উপন্যাস,প্রবন্ধ আর কবিতা।বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা গোয়েন্দা সিরিজ পড়েছি বলে মনে হয় না।তবে খুব তাড়াতাড়ি কোন বই শেষ করতে পারতাম না।এ নিয়েও ভিতরে ভিতরে হীনমন্যতা কাজ করতো। যার জন্য দ্রুত পড়ার কলাকৌশলের উপরও কয়েকটি বই পড়েছি।কিন্তু তাতে বিশেষ কোন কাজ হয় নি।এক সময় বুঝলাম দ্রুত পড়া আর বই পড়ায় আনন্দ লাভ এক ব্যাপার নয়।তাই এখনো হয়তো কোন কিছু তড়িঘড়ি করে শেষ করার প্রবণতা নিজের ভিতরে দেখতে পাই না।

আগেই বলেছি 'শিক্ষা' বিষয়টা ছিল আমার বরাবরই আগ্রহের বিষয়।এর পিছনে একটি কারণ ছিলো-আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের সমাজে বিদ্যমান হাজারো সমস্যার সমাধান হবে যদি কিনা 'শিক্ষা সিস্টেমে'র গলদগুলো দূর করা যায়।আর মানবিক হবার, মানুষের জন্য কিছু করা যে আমার দায়িত্ব -এই ব্যাপারটিও আবিষ্কার করেছিলাম।আর মানুষের জন্য কিছু করা মানেই মানুষের শিক্ষা নিয়ে কিছু করা-এই উপলব্ধি টা আমাকে শিক্ষা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে শিখিয়েছি। অনেক প্রথাগত ধারনার বাইরে গিয়ে ভাবতে হয়েছে।যেমন, প্রাইভেট টিউশনি তথা শিক্ষা নিয়ে বানিজ্যের বিরোধী হওয়া এবং নিজেকে কোন প্রাইভেট টিউটরের কাছে না নিয়ে যাওয়া।অতিরিক্ত জানানো টা আমার কাছে ফ্যাক্ট নয়, আমার কাছে বিষয় হলো-বানিজ্যিক মনোভাবের শিক্ষক গোষ্টি,যাদের একটা বড় অংশই আবার স্কুল কলেজের শিক্ষকতার সাথে যুক্ত।তবে আমার এই বিদ্রোহ কারও কাছে সহানুভূতি পায় নি। অনেকে আবার আরো আগ বাড়িয়ে আমার ব্যাপারে দুঃখানুভূতি প্রকাশ করেছেন।যদিও তা আমার কাছে যক্ষের ধন বলে কিছু মনে হয় নি বরং খারাপই লেগেছে।

তবে এই সময়টাতে অনেক বন্ধুদের সংস্পর্শে এসেছি।বিশেষত যারা বিজ্ঞানগ্রুপের ছাত্র ছিল না তাদের। এক সময় কয়েকজন মিলিত হয়ে গ্রুপ স্টাডি শুরু করি।মূল উদ্দেশ্য ছিলো এমন একটা প্লাটফরম তৈরি যেখানে বন্ধুরা নিজেদেরকে নিজেরাই শিক্ষা দিবে।প্রত্যেকে প্রত্যেকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে।যাই হোক, কয়েকদিন যেতে না যেতেই বুঝতে পারলাম বন্ধুদের অনেকেই তাদের নিজেস্ব বাংলায় লেখা টেক্সটবুক পড়ে অর্থ উদ্ধার করতে পারছে না।ইংরেজির কথা ছেড়েই দিলাম।অথচ যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বই আমি তেমন ভাবে কোন দিন পড়ি নি কিংবা যে ইতিহাসের টপিকটার নামও শুনি নি -বার দুইয়েক পড়ে তার অর্থগত একটা ইঙ্গিত পাচ্ছি।খটকা লাগল এখানে!

ভাবনা চিন্তা শুরু করলাম।প্রশ্ন উঠল-বাংলাতে কথা বললে মোটামুটি সবাই বোঝে। কিন্তু টেক্সটবুকের লেখা শুনে বা পড়ে তারা বুঝতে পারছে না কেন?

এর মাঝে 'দর্শন' সাবজেক্টটাতে আলাদা একটা ভালো লাগা তৈরি হয়েছে।বন্ধুদের টেক্সটবুক পড়ি।চিন্তা-ভাবনার নানা সূত্রের ইঙ্গিত পাই।যার অনেক বিষয় আমি নিজে নিজেই ইতিমধ্যে আবিষ্কার করে ফেলেছি।
উক্ত প্রশ্নটির উত্তর খুব কম দিনেই পেয়ে গেলাম।বলা চলে মুহুর্তেই।এখানে আরেকটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে ওঠে তাহলো-
"কোন কিছু পড়ে বোঝা মানে কি?"

'কোন কিছু' মানে বইয়ে যেকোন বিষয়ের উপর ছাপার অক্ষরে নানা শব্দ নিয়ে গঠিত এক বা একাধিক বাক্য।এখানে দেখার বিষয়-'কোন বিষয়ের উপর কোন কিছু' ব্যাপারটা কেমন??
-জানার নানা দিকের প্রকাশ। আর সেটা সব চেয়ে সুন্দর এবং উৎকৃষ্ট ভাবে সম্ভব একমাত্র -ভাষা দিয়ে।ভাষার মহাসাগরে বিচিত্র ভাবের শাব্দিক সঞ্চয়। অর্থাৎ শব্দগত দক্ষতাই কোন কিছু পড়ে বোঝার সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
এভাবেই প্রথম উপলব্ধি করলাম ভাষায় দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব।

আর মাতৃভাষা হলো যে ভাষায় আমাদের পারিপার্শ্বিক নানা বিষয়ে চেতনার পরিধি উন্মুক্ত হতে শুরু করেছিল।অর্থাৎ মা যে ভাষা দিয়ে পৃথিবীকে চিনিয়েছেন।উৎপত্তিগত স্তর থেকে উপলব্ধির জন্য এই ভাষায় প্রাধান্য পাবে-এটাই সত্য।আর কোন কিছুকে তখনই বোঝা সম্ভব হয় যখন কিনা সেটা নিজের থেকেই আবিষ্কার করা যায়।নিজের থেকে আবিষ্কারের একটা অন্যতম দিক হলো, নিজের সাথে কথা বলা।আর নিজের সাথে আমরা মাতৃভাষাতেই কথা বলি।

আমার বন্ধুদের মূল সমস্যা কিন্তু আমি ধরে ফেললাম। বুঝলাম, মূলত ভাষাগত দক্ষতার পরিধি সীমিত হবার দরুন তাদের বৌদ্ধিক স্তরের এই থমকিত অবস্থা।কিন্তু তাদের জন্য আমার পরামর্শ ছিল,সামনে যতই পরীক্ষা থাকুক, এখন থেকেই তারা যেনো দুই একটা গল্পের বই বা ছড়ার বই পড়া শুরু করে।কিন্তু আমি জানি কেউই আমার সেই পরামর্শ মনে রাখে নি,মনে রাখে না!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

দীপ্ত সুন্দ অসুর
দীপ্ত সুন্দ অসুর এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, মে 7, 2017 - 6:13পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর