নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কুরআন অনলি: (১৭) শয়তানের গডফাদার ও মুহাম্মদের আল্লাহ!


দ্বিতীয় অধ্যায়:"মুহাম্মদের আল্লাহ!"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তার স্ব-রচিত ব্যক্তি-মানস জীবনী গ্রন্থ (Psycho-biography) কুরআনে বার বার ঘোষণা করেছেন যে ধর্মশাস্ত্রের নিকৃষ্টতম চরিত্র 'শয়তান' এর যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনের মদদদাতা যিনি, তিনি হলেন এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা স্বয়ং! যে স্রষ্টাকে তিনি 'আল্লাহ' নামে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি আরও দাবী করেছেন যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তানের কিচ্ছু করার ক্ষমতা নেই ও স্বয়ং আল্লাহ অবিশ্বাসীদের বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করেন!

মুহাম্মদের ভাষায়: [1] [2]

১) শয়তানের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনের মদদদাতা “স্বয়ং আল্লাহ!”

১৯:৮৩ (সূরা মারইয়াম) – “আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।”

৪১:২৫ (সূরা হা-মীম সেজদাহ) - 'আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।"

৪৩:৩৬ (সূরা যুখরুফ) - "যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।"

২) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তানের কিচ্ছু করার ক্ষমতা নেই!

৫৮:১০ (সূরা আল মুজাদালাহ) - "এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।"

৩) “স্বয়ং আল্লাহই” অবিশ্বাসীদেরকে বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করেন!

৪:৮৮ (সূরা আন নিসা) -"অত:পর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ্ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ্ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না|"

৭:১৮৬ (সূরা আল আ’রাফ) - "আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন| তার কোন পথপ্রদর্শক নেই| আর আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন|"

১৬:৩৭ (সূরা নাহল) - "আপনি তাদেরকে সুপথে আনতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তিনি তাকে পথ দেখান না এবং তাদের কোন সাহায্যকারী ও নেই।"

৩০:২৯ (সূরা আর-রূম) - "বরং যারা যে-ইনসাফ, তারা অজ্ঞানতাবশতঃ তাদের খেয়াল-খূশীর অনুসরণ করে থাকে। অতএব, আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কে বোঝাবে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।"

অনুরূপ বাণী: ২:২৬, ৪:১১৫, ১৪:২৭, ৩০:২৯, ৪০:৩৩, ৪২:৪৪, ৪২:৪৬, ইত্যাদি।

৪) “নিশ্চয়ই আল্লাহ” অবিশ্বাসীদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না!

৫:৬৭ (সূরা আল মায়েদাহ) - "হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।"

৬:১৪৪ (সূরা আল আন-আম) - "----অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ্ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।"

৬১:৭ (সূরা আছ-ছফ) - "যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহুত হয়েও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে; তার চাইতে অধিক যালেম আর কে? আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।"

অনুরূপ বাণী: ২:২৫৮, ২:২৬৪, ৭:১৪৬, ২৮:৫০, ইত্যাদি।

>>> মুহাম্মদের নিজেরই জবানবন্দি 'কুরআন' এর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ-সৃষ্ট ঈশ্বরের ‘আল্লাহ’ নামটি তৎকালীন আরবদের প্রধান দেবতা বা ঈশ্বর 'আল্লাহ' নামটির অনুকরণে, যার বিস্তারিত আলোচনা গত পর্বে (পর্ব-১৬) করা হয়েছে। সেই আলোচনায় আমরা জেনেছি, মুহাম্মদের পরিপার্শ্বের যে মানুষগুলো মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে অবিশ্বাস করেছিলেন, তাঁরাও বিশ্বাস করতেন:

"পৃথিবী ও পৃথিবী অভ্যন্তরে যা কিছু আছে তা ‘আল্লাহর’। যে আল্লাহ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক। যার হাতে আছে সব বস্তুর কর্তৃত্ব। যিনি রক্ষা করেন ও যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না। যিনি সৃষ্টি করেছেন এই ভূ-মন্ডল, আসমান, যমীন, নভোমন্ডল ও তাঁদের-কে। তিনি হলেন সেই সত্তা, যিনি মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ।"

আমরা আরও জেনেছি, অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি এনেছিলেন তা হলো, মুহাম্মদ তাঁদের ঈশ্বরের নামটি নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে তার চরিত্রের ওপর এমন এমন বৈশিষ্ট্য আরোপ করছেন যা 'মিথ্যাচার কিংবা উন্মাদের প্রলাপ' ছাড়া আর কিছুই নয় (কুরআন: ৩৪:৭-৮)। অবিশ্বাসীদের ঈশ্বর 'আল্লাহর' ওপরে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের ওপর মুহাম্মদ যে অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আরোপ করেছিলেন তার ধারাবাহিক আলোচনার এটি প্রথম পর্ব। কুরআনের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ তাঁদের ঈশ্বরের নামটি ব্যবহার করে দাবী করছেন, যারা তাকে নবী হিসাবে অস্বীকার করে, আল্লাহ স্বয়ং তাঁদের বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করেন ও তাঁদের বিরুদ্ধে শয়তান লেলিয়ে দেন; যে শয়তান আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না! যার সরল অর্থ হলো:

"কুচক্রী শয়তানের যাবতীয় অপকর্মের পেছনের 'গডফাদার' হলেন স্বয়ং আল্লাহ!"

>> এমত দাবী সত্য হলে হুকুম পালনকারী শয়তানকে ঘৃণিত-অভিশপ্ত ও তার গডফাদার-কে নিষ্পাপ ও পুত-পবিত্র জ্ঞান করা নিশ্চিতরূপেই অযৌক্তিক, উদ্ভট ও তা এক তামাসা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্রষ্টার নামে মুহাম্মদের এসকল উদ্ভট ও অনৈতিক দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কুরাইশ ও অন্যান্য অবিশ্বাসীদের অভিযোগগুলো ছিল যথার্থ। তাঁরা কোন অন্যায় করেন নাই। মুহাম্মদের এহেন উদ্ভট দাবীকে বৈধতা দিতে নিবেদিতপ্রাণ ইসলাম বিশ্বাসীরা যখন মুহাম্মদের চেয়েও বেশী উদ্ভট কু-যুক্তির অবতারণা করেন, তখন আবারও প্রমাণ হয় যে, বিশ্বাস মানুষের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি-বিশ্লেষণ ক্ষমতা অবশ করে দেয়।

ইসলামী পরিভাষা:

ইসলাম নামের মতবাদটি কে সঠিকভাবে বুঝতে হলে ইসলামী পরিভাষা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতেই হবে। তা না হলে সুবিধাবাদী ইসলামীস্টদের কুরান-হাদিসের উদ্ধৃতিতে বিভ্রান্ত হওয়ার গ্যারান্টি শতভাগ! "অত্যাচারী, জালেম, পথভ্রষ্ট, বিপথগামী, অসৎ, অভিশপ্ত, অনাচারী, অন্যায়কারী, সীমা লঙ্ঘনকারী, নির্বোধ, মূর্খ, মিথ্যাবাদী, মূক ও বধির" ইত্যাদি যাবতীয় বিশেষণের অর্থ (Meaning) সাধারণ জ্ঞান ও সর্বসম্মত পরিভাষায় যা সর্বজনবিদিত, ইসলামী পরিভাষায় তার অর্থ সম্পূর্ন ভিন্ন! শুধু অমুসলিমরাই নয়, কুরান-সীরাত-হাদিসে অনভিজ্ঞ সাধারণ মুসলিমরা ও এ সকল ইসলামী পরিভাষার কারসাজী খুব সামান্যই অবগত। তারা পদে পদে বিভ্রান্ত হন ইসলামী পরিভাষার এ সকল মারপ্যাঁচে! ইসলামী পণ্ডিতরা সাফল্যের সঙ্গে এ সকল প্রচলিত শব্দ-মালার ‘যেখানে যেমন সেখানে তেমন’ ব্যাখ্যা হাজির করে অমুসলিম ও সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে আসছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী!

মুহাম্মদের দাবী, 'তিনি বিশ্ব-স্রষ্টার মনোনীত শেষ নবী! তার দাবী, তিনি যা বলেন, তা বিশ্বস্রষ্টারই বাণী। ইসলামের প্রাথমিক সংজ্ঞা অনুযায়ী - পৃথিবীর সকল মানুষেরই অবশ্য কর্তব্য হলো মুহাম্মদের (আল্লাহ) বশ্যতা স্বীকার করে শুধু তারই হুকুম-আদেশ-নিষেধ পালন করা! যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুহাম্মদের জবানবন্দী কুরাআনের “যে কোনো একটি" দাবী-আদেশ-নিষেধকে অস্বীকার করবেন, অবাধ্য হবেন, প্রশ্ন তুলবেন, প্রতিরোধ করবেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদেরকেই ওপরোক্ত বিশেষণে আখ্যায়িত করা ইসলামী বিধান। তাঁরাই হলেন "সেই" কাফের, অবিশ্বাসী, অত্যাচারী, জালেম, পথভ্রষ্ট, বিপথগামী, অসৎ, অভিশপ্ত, অনাচারী, অন্যায়কারী, সীমা লঙ্ঘনকারী, নির্বোধ, মূর্খ, মিথ্যাবাদী, মূক ও বধির সম্প্রদায়! বিভ্রান্ত হতে না চাইলে ইসলামের যে কোনো আলোচনায় ইসলামী পরিভাষার এই প্রাথমিক পাঠ ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের সর্বদাই সর্বান্তকরণে মনে রাখা অত্যন্ত জরুরী।

পৃথিবীর সকল অবিশ্বাসীদের শায়েস্তা করার পূর্ণ ইসলামী তরিকা ('হুমকি-শাসানী, ভীতি-অসম্মান, দোষারোপ, ত্রাস-হত্যা-হামলা ও সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ) মুহাম্মদের ব্যক্তি-মানস-জবানী গ্রন্থের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে!

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 6 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর