নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • সত্যর সাথে সর্বদা
  • রাজিব আহমেদ
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর
  • ফারুক
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • নীল কষ্ট

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

যে জাতির সামনে ১৪ই ডিসেম্বর আছে সেই জাতির অনন্তকাল কান্নার কারণ আছে।


রাও ফরমান আলির উপর যতটা না ক্ষোভ জন্মে তার থেকেও বেশি ঘৃনায় গা ঘিনঘিন করে এদেশীয় দেশদ্রোহী রাজাকার বাহিনীর উপর। কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যেতির্ময় গুহঠাকুরতা, সুরকার আলতাফ মাহমুদ এদের নাম পাকিস্তানিরা শুনেছিলো। কিন্তু ঢাকার কোন জায়গার, কোন গলির, কত নম্বর বাসায় এরা থাকতো সেই খবর ফরমান আলীর জানার কথা নয়, কিন্তু তারপরও জেনেছিলো। শুধু এরা নয় সেই রাত্রে বাংলার প্রায় দুই শত শ্রেষ্ঠ সন্তানের শোবার ঘর পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা। শুধুমাত্র একটি রাতে দুইশত মানুষকে তাদের বাসস্থান থেকে তুলে আনা ভিনদেশী হায়েনাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন ঘরের শত্রু। রাজাকারদের বিচারের দাবিতে কথা বললে গো-আজমের বেনামি সন্তানরা যখন আমাদের চেতনার ফেরিওয়ালা বলে গালি দেয়, তখন তাদের বলতে ইচ্ছে করে- আলতাফ মাহমুদ, মুনির চৌধুরীদের বাড়ি-ঘর পাক-বাহিনীদের চিনিয়ে দিয়েছিলো কারা?

১৬ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় তো পেয়েছিলাম, কিন্তু সেই রক্তস্নানে অর্জিত বিজয়ের সুফল আমরা পেয়েছিলাম কি? হয়তো আমার এই কথাটি আপেক্ষিক, কিংবা এটা নিয়ে বিতর্ক করা চলে অথবা রাজনীতিক মহল তার স্বমর্থিত সরকারের উন্নয়নের উদাহরন দিয়ে আমার বিরুদ্ধাচরন করবেন, কিন্তু কথাটি সত্য! বিজয়ের সত্যিকারের সুফল আমরা পাইনি। কারণ যাঁরা আমাদের বিজয়টিকে সত্যিকারার্থে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারতেন, যাওয়ার আগে পাকিস্তানিরা তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করে গিয়েছিলো। পাক বর্ববরেরা শেষ পর্যন্ত এই পন্থা অবলম্বন করেছিলো যে, 'বিজয় তো এদের আটকানো গেলো না, কিন্তু এই বিজয়কে কাজে লাগিয়ে যারা এই জাতিকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে, তাদের শেষ করে দিয়ে যাই'! স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী কাল অতিক্রান্ত হবার পরও একারণেই আমরা ক্ষুদায়, দারিদ্র্যতা ধুঁকছি। বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখে আমার লেখাটির হয়তো বিরোধীত হবে, তাই তাদের জন্য একটা উদাহরন দিচ্ছি, আজকের দিনে এক একর জমিতে কয়েক মন ধান হলে 'খুব ভালো ফলন হয়েছে' বলে আমাদের দেশের চাষিরা খুশি হয়, কিন্তু তারা জানে না এই এক একর জমিতে কয়েক'শ মন ধান হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কেন হচ্ছে না জানেন? বৃটিশ বেনিয়া শাসনের সময় বৃটিশরা এদেশের কৃষকদের দিয়ে জোরপূর্বক নীল চাষ করাতো। এই নীল চাষের সব থেকে খারাপ দিক হচ্ছে বিষাক্ত কেমিকেল ব্যবহারের ফলে জমির ঊর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। বৃটিশ শাসনের সেই নীল চাষের ফলে এদেশের সমস্ত আবাদি জমির ঊর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তাই বৃটিশ শোষনের ভুত আজো বাঙালির ঘাড় থেকে নামেনি। এমনই নীলনকশা করে গিয়েছিলে তারা। অনুরুপ ভাবে আজ আমাদের জাতীয় সমৃদ্ধি দেখে আমরা আন্দাজও করতে পারি না, যদি ১৪ই ডিসেম্বর এদেশের উপর এমন একটি নৃশংস রাত না আসতো, তাহলে আজকে জাতি হিসেবে বাঙালীর অবস্থান কোন উচ্চতায় গিয়ে ঠেকতো?

অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, ডা. মোহাম্মদ শফি, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, নিজামউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আবু তালেব, গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, সৈয়দ নাজমুল হক, ড. আবদুল খায়ের, ড. সিরাজুল হক খান, ড. ফয়জল মহী, ডা. আবদুল আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, হবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, গিয়াস উদ্দীন আহমদ বাঙালির এই মেধাবী সন্তনদের যদি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ পেতো, তাহলে বাঙালি আজ বিশ্বের বুকে অন্যরকম এক জাতি হিসেবে মর্যাদা আসনে উপবিষ্ট থাকতো। এই ভয়টা পাকিস্তানিদের ছিলো, তাই যাওয়ার আগে এমন ঘৃন্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে গিয়েছিলো তারা। আর এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সব থেকে বড় ভুমিকার দাবীদার বর্তমান জামায়াত! 

বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্প করা হয় ১৪ই ডিসেম্বরের বহু আগে। ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনার সময় একই সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়েছিলো। পাক বাহিনী অপারেশন চলাকালীন সময়ে খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে ২৫শে মার্চের রাতেই হত্যা করা হয়। ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়। ১০ ডিসেম্বর হতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নেয়া হতে থাকে। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয়। অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখক-সহ চিহ্নিত বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসরেরা জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেদিন প্রায় দুই'শ জনের মত বুদ্ধিজীবীদের তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ অন্যান্য আরো অনেক স্থানে গড়ে তোলা নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের উপর বীভৎস নির্যাতন চালানোর পরে তাদের নৃশংসভাবে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।

পরিকল্পিত হত্যার এই ব্যাপক অংশটি ঘটে যুদ্ধ শেষ হবার মাত্র দুইদিন আগে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের প্রশিক্ষিত আল-বদর এবং আল-শামস বাহিনী একটি তালিকা তৈরি করে, যেখানে এই সব স্বাধীনতাকামী বুদ্ধিজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে এ কাজের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি। কারণ স্বাধীনতার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বঙ্গভবন থেকে তার স্বহস্তে লিখিত ডায়েরী পাওয়া যায়, যাতে অনেক নিহত ও জীবিত বুদ্ধিজীবীর নাম পাওয়া গিয়েছিলো। তথ্য সবরাহ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা পর্যন্ত পুরো মিশনের অগ্রভাগে ছিলো রাজাকার আল-বদর বাহিনী।

এরপরও জামায়াতকে দেশদ্রোহী বললে, পাকিস্তানকে ঘৃনা করলে আমরা চেতনা ব্যবসায়ী! এরপরও আমাদের বলবেন, মুক্তিযুদ্ধ ধুয়ে আমরা পানি খায়! যে জাতির সামনে ১৪ই ডিসেম্বর আছে সেই জাতির অনন্তকাল কান্নার কারণ আছে। শোকের ব্যাপার আছে। আমরা তাই রাজাকারে বিচারের দাবীতে এক ইঞ্চিও সরতে পারি না। আমাদের তাই অনন্তকাল ধরে পাকিস্তানিদের ঘৃণা করার রসদ আছে। এত অপূরনীয় ক্ষতি, এত মৃত্যু, এত ত্যাগ আর এত রক্তের উপর আমরা কি করে রাজাকারদের সহ্য করি? আমরা কিভাবে বেঈমানীর তপ্ত বাসর রচনা কারি পাকিস্তানের সাথে! যখন আজো আমরা পাক বর্বরদের দগদগে ঘা পিঠে করে বয়ে বেড়াচ্ছি!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর