নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

বাঙালি-মুসলমান ধর্মান্ধ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। একটা আকায়েদ উল্লাহ তারই প্রমাণ


বাঙালি-মুসলমান ধর্মান্ধ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। একটা আকায়েদ উল্লাহ তারই প্রমাণ
সাইয়িদ রফিকুল হক

গত সোমবার, ১১/১২/২০১৭ তারিখ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-শহরের ব্যস্ততম সড়কের জনবহুল বাস-টার্মিনালে ‘সন্ত্রাসী-হামলা’ চালানোর সময় সেখানকার নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছে একটা আকায়েদ উল্লাহ। আমেরিকার আইনশৃঙ্খলারক্ষাবাহিনী তাকে ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’ বলে অভিহিত ও শনাক্ত করেছে। তবে মার্কিন-কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে তার সম্পর্কে এখনও বেশি কিছু বলছে না। আর সে যে জঙ্গি তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

এই সন্ত্রাসী আকায়েদ উল্লাহর বয়স ২৭। তার মুখে ঘনকালো দাড়ি রয়েছে। আর সে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সে ট্যাক্সি-ক্যাব চালাতে শুরু করে। এভাবে, সে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-শহরে ট্যাক্সি ও লিমুজিন গাড়ি চালিয়েছে।

সে প্রচলিত এফ৪৩ ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তার মানে হলো—ইতঃপূর্বে এফ৪১ ভিসায় আমেরিকায় যাওয়া কারও সন্তান সে।
সে ব্রুকলিনে তার মা, বোন ও অপর দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকতো। সে গ্রীনকার্ডধারী।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর-মাসের ৮তারিখ সে সর্বশেষ বাংলাদেশে আসে।

একটা বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার যে, এরা পারিবারিকভাবে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিতৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজন্য আকায়েদ উল্লাহসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নিউইয়র্ক-পুলিশ গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আসলে, পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও সমর্থন ব্যতীত সহজে কেউই জঙ্গি হতে পারে না। আমাদের দেশের অনেক তথাকথিত মডারেট-মুসলমানদের ছেলে-মেয়েরা জঙ্গি হলে—তারা তখন বাঁচার জন্য বলে থাকে, “আসলে, এসব আমরা কেউই জানি না! ওর তো এমন হওয়ার কথা নয়! তবে সঙ্গদোষে হয়তো এসব হয়েছে! এখনও আমাদের এসব বিশ্বাস হচ্ছে না...।”
আসলে, এসবই এদের ভাওতাবাজি। তার কারণ, আজ পর্যন্ত দেশপ্রেমিক কোনো মানবসন্তানের সন্তানসন্ততিকে এখনও পর্যন্ত জঙ্গি হতে দেখিনি। দেশের কোনো প্রকৃত ও দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আজ পর্যন্ত জঙ্গি হয় নাই। আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষই জঙ্গি হতে পারে না।

এর আগে জঙ্গিতৎপরতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ‘নাফিস’ নামের বাংলাদেশের এক যুবক গ্রেফতার হয়েছিলো। তখন আমরা দেখেছি, তার পক্ষে এদেশের মডারেট-মুসলমানরা নানারকম সাফাই গেয়েছে। আসলে, এই শ্রেণীর মুসলমানদের এখন এমন একটা স্বভাব হয়েছে যে, এরা সব ব্যাপারে মিথ্যা বলতে ভালোবাসে। এরা সহজ-সত্যকে স্বীকার করতে চায় না। আর মিথ্যাই এদের জীবনের একমাত্র আদর্শ।

এগুলো একটি কিংবা দুটি ঘটনামাত্র নয়। এরকম আরও বহু বিপথগামী ‘বাংলাদেশী’র পরিচয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে এখন সেখানে তারা নিরাপদে-সুখেশান্তিতে বসবাস করে জঙ্গিবাদ কায়েমের স্বপ্নে বিভোর। কথায় আছে না—সুখে থাকতে ভূতে কিলায়! এদের হয়েছে তা-ই। এরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কায়েমের অপচেষ্টা করতে-করতে এখন ইউরোপ-আমেরিকাতেও জঙ্গিবাদসম্প্রসারণের ভয়ানক অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এ-পর্যন্ত এরা বেশ কয়েকটি দেশকে এদের টার্গেটে ফেলেছে। এরা সর্বত্র ‘বাংলাদেশী’র পরিচয়ে আমাদের ৩০লক্ষ শহীদের বাংলাদেশরাষ্ট্রকে জনসমক্ষে, বিশ্বের বুকে ও সর্বস্তরের মানুষের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করছে।

একটা আকায়েদ উল্লাহর জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের ফলে আমেরিকায় বাংলাদেশ-কমিউনিটির মানুষজন আবার নতুনভাবে আতংকিত। এমনিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-নীতিমালা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তারউপরে ‘বাংলাদেশী’র পরিচয়ে একটা আকায়েদ উল্লাহর এই জঘন্য পাশবিকতা আমেরিকা-প্রবাসী-বাংলাদেশীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশের একশ্রেণীর মুসলমান-নামধারী তরুণ-যুবক এখন বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, মনুষ্যত্ব, মানবতা, মানবপ্রেম ইত্যাদি বোঝে না। এরা বোঝে—সস্তা ধর্ম। আর খুব সহজে এরা ধার্মিক হতে চায়! আর সমাজে-রাষ্ট্রে খুব তাড়াতাড়ি ধার্মিক সাজতে চায়। তবে এরা কিন্তু নিয়মিত মদ্যপান করে, ব্যভিচার করে, সুদ-ঘুষ খায়, দুর্নীতি করে, সুযোগ পেলে নারীধর্ষণও করে, প্রতারণা করে, মিথ্যাকথা বলে, লোকদেখানো নামাজও পড়ে, আর সুযোগমতো মানুষও হত্যা করে। তবুও এরাই নিজেদের মুসলমান বলে!

এই বিভ্রান্ত-তরুণশ্রেণী আধুনিকশিক্ষাগ্রহণ করছে নামকাওয়াস্তে। অর্থাৎ, এরা দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করছে—কিন্তু এতে তাদের জ্ঞানার্জন হচ্ছে না। তারা শুধু সার্টিফিকেটসর্বস্ব ডিগ্রী নিয়ে সমাজের বুকে নিজেদের কিছু-একটা ভাবছে।
এরা জীবনের এই সোনালি মুহূর্তে ধর্মান্ধদের খপ্পড়ে পড়ে যাচ্ছে। আর এই ধর্মান্ধদের পাল্লায় পড়ে এরা ধর্ম ও মুনষ্যত্ব কোনোটাই বুঝতে না পেরে সরাসরি জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে। সমাজের প্রচলিত সাধারণ ধর্মবিশ্বাস কিংবা জীবনাচারের প্রতি এদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই। এরা নিজেদের বানানো, মনগড়া, উদ্ভট ও অবৈজ্ঞানিক চিন্তাচেতনাকে জীবনের সবচেয়ে বড় আদর্শ মনে করে তাকেই আবার ধর্মজ্ঞান ভেবে বসে আছে। এরা বিভ্রান্ত হয়েই অপর মানুষকেও আজ বিভ্রান্ত করছে। আর আজকের দিনে এই বিভ্রান্ত-ধর্মদর্শনের নামই হচ্ছে জঙ্গিবাদ।

যে-সব পুকুরে বা নদীতে কোনো স্রোত থাকে না—সেখানে ধীরে-ধীরে যাবতীয় ময়লা জমতে থাকে—তা ক্রমশ স্থবির কিংবা অচল হয়ে পড়ে কিংবা একসময় তা চর পড়ে ভরাট হয়ে যায় বা শুকিয়ে যায়। একসময় এইসব স্রোতবিহীন নদনদী মরে যায়। আর এভাবেই জলাবদ্ধ-স্থির পুকুরগুলোও একসময় মজাপুকুরে পরিণত হয়। ঠিক মানুষের জীবনটাও এইরকম। এইখানে, চিন্তার দীনতা প্রকাশ পেলে বা চিন্তাভাবনা কমে গেলে মনটা হঠাৎ মরে যায়। কেননা, যাদের জীবনে চিন্তাভাবনার কোনো সৃজনশীলতা বা আলোড়ন নাই—তাদের মৃতপ্রায় বলাই সমীচীন। আর এইখানেই সমস্ত ময়লা-আবর্জনা জমতে-জমতে তা একসময় ময়লার ডিপোতে পরিণত হয়। মানুষের মনে চিন্তা বা জ্ঞানের স্রোত সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে, সেখানে ধর্মান্ধতার মতো বাতিল জিনিস ও আবর্জনা কখনওই জমতে পারবে না। মানুষের মনোজগতে চিন্তার সৃষ্টি করতে হলে শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস ইত্যাদি অবশ্যই আঁকড়ে ধরতে হবে। অথচ, জঙ্গিবাদের নেপথ্য-কারিগররা এসবই বর্জন করছে। তাদের চিন্তার জগতে সৃষ্টি হয়েছে শূন্যতা ও স্থবিরতা। তাই, এরা আজ মানুষহত্যা করে আর মানুষের রক্ত দেখে এতো উল্লসিত হচ্ছে।

দেশের বিজ্ঞানমুখী শিক্ষার অবস্থাও আজ বেহাল। এসব কারণেই আজ দেশের মুসলমান-নামধারী একটা শ্রেণী খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে জঙ্গিবাদের পথে হাঁটছে। আজ একটা আকায়েদ উল্লাহ আবার আমাদের বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। মুসলমানদের একটি অংশ যে ধর্মান্ধ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে, তাতে আর-কোনো সন্দেহ নাই। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে এসেছে ওই বিভ্রান্ত-তরুণশ্রেণীটি। এরা জঙ্গিবাদকেই এখন জীবনের সবচেয়ে বড় আদর্শ ও কর্ম বলে মনে করছে। এদের এই পথ থেকে ফেরাতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রকে এব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপগ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রকে আরও বেশি দায়িত্বশীল-ভূমিকাপালন করতে হবে। আর জঙ্গিউৎপাদনের সমস্ত কারখানা অনতিবিলম্বে ভেঙ্গে দিতে হবে।

তথ্য-লিংক: http://www.bbc.com/bengali/news-42319493

জঙ্গিবাদ নিপাত যাক।
জয় হোক মানবাত্মার।

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১২/১২/২০১৭

Comments

কাঠমোল্লা এর ছবি
 

ইসলামকে দায়ী না করে , যারা জঙ্গি হচ্ছে , তাদের ওপর সব দোষ চাপালেন। ভাবখানা , তারা সবাই হয় মায়ের পেট থেকে জঙ্গি হয়ে বেরিয়েছে , না হয় মঙ্গল গ্রহ থেকে এসেছে। অথচ প্রতিটা জঙ্গিই কোরান হাদিসের বিধান অনুসরন করতে গিয়েই জঙ্গি হচ্ছে। আপনি যতই বলেন তারা কোরান হাদিসের ভুল ব্যখ্যা দিচ্ছে , কিন্তু সঠিক ব্যখ্যাটা যে কি , সেটাও আপনারা বলেন না। আর যদি বলেনও আপনার সঠিক ব্যখ্যা কেন সঠিক হবে , সেটারও কোন ব্যখ্যা নেই। তাছাড়া আপনার ব্যখ্যাটা সঠিক , আর তাদের ব্যখ্যাটা বেঠিক - এটাই যদি হয় ,তাহলে কার ব্যখ্যা আসলে সঠিক , সেটা কে নির্ধারন করবে। তারা ইসলামের বিকৃত ব্যখ্যার শিকার , এভাবে বলে মনে হয় না আর পার পাওয়া যাবে। কারন দেখা যায় , সঠিক ব্যখ্যা নিয়ে আপনাদের কেউ হাজির হয় না। সুতরাং বিষয়টা এমন দাড়াচ্ছে যে , যতক্ষন একজন জঙ্গি হাতে নাতে ধরা না পড়ছে , ততক্ষন সে সঠিক , যেই ধরা পড়ল সেই বিকৃত ব্যখ্যার শিকার হয়ে গেল , এইসব ধান্ধাবাজি এখন অমুসলিমরা ধরে ফেলেছে। সুতরাং ধান্ধাবাজি বাদ দিয়ে , ইসলামই যে প্রকৃত অর্থে জঙ্গিবাদ শিখায় , ইসলামই যে একটা জঙ্গিবাদ , সেটা স্বীকার করুন , তারপরই সমাধান মিলবে। না হলে , জাতি হিসাবে আপনাদের কপালে ঢের দু:খ অপেক্ষা করছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 11 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর