নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • নুর নবী দুলাল
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • চিত্রগুপ্ত
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

পুরুষকে নিয়ে সাহিত্য-শিল্পে আদিখ্যেতা করা যায় না


'ধ্যাত বোকা, ছেলেদের কাঁদতে আছে নাকি ?' পুরুষকে তার মা বলে। তারপর থেকে পুরুষ কাঁদে না । ভীষন কান্না পেলেও কাঁদে না। 'কাঁদতেই যদি হয় তো কাঁদবে মেয়েরা। ছেলেরা নয়'এটাও পুরুষকে বলে তার মা। পুরুষ তাই আরোও কাঁদেনা। মেয়েদের জামা গলায় না গায়ে। পাছে 'লেডিস' মার্কা বলে রাগায় কেউ হাতে মেহেদিও লাগায় না কোনো দিন। পুরুষরা মেয়ে হতে পারেনা। তারা আলাদা হবে একে অপরের থেকে। সারা দিন এই বাস এই ট্রেন অটো চেঞ্জ করে করে চাকরি খুজে বেড়াবে পুরুষ। 'দাদা চাকরির ব্যাপারটা একটু দেখবেন। মায়ের শরীরটা খারাপ। ছেলেটা এক ক্লাশ বদল করে আর এক ক্লাশে উঠল। ভেবেছিলাম পড়াব না। হাতে টাকা নেই। গরবীর বাচ্চা কী আর পড়বে। কিন্তু ওর মা জেদ ধরল । ছেলেকে পড়াবেই। এমনিতেও ছেলেটার পড়াশোনাতে মাথা ভালো দাদা। প্লীজ একটু চাকরি দেখবেন ' ধরনের হাজারো পায়ে-হাতে ধরা আবেদন করবে পুরুষ।কেরানির চাকরি পাবে বেসরকারি স্কুলের। নতুন স্কুল। ঘন্টা মারা, ঠিক ঠিক সময়ের চাবি দিয়ে ঘর খুলে দেওয়া, চা বানানো , চা দেওয়া , স্কুলে পরীক্ষা শুরু হলে ঘরে ঘরে খাতা বিলিয়ে দেওয়ার কাজ করবে। দিতে দেরি হলে উপরি পাওনা গালি খাবে। গালি খায় পুরুষ। কিন্তু মাখে না। পুরুষদের ওসব মাখতে নেই। মাখলেই বেকার খোস পাচড়া হবে। চুলকানি হবে। ঝামেলা বাড়বে। তার চেয়ে বরং কিছুই হয়নি ভাব নিয়ে সব হজম করা। তাহলেই চাকরি টিকে থাকব। রাখেও টিকিয়ে। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। বেকার পুরুষ একটা কাজ পেলেই গাছের মত হয়ে যায়। স্থির। ধারাবাহিক। নিজের সমস্থ ইচ্ছে মালিকের কাছে বিকিয়ে দিয়ে পুরুষই একমাত্র গাছ হতে পারে। পুরুষ জানে গুতোগুতি আর ঘামের গন্ধে অস্থির হয়ে যাওয়া বাসে 'লেডিস'দের তার কোনো স্পেশাল সিট নেই, ব্যাঙ্কে-রেশনের দোকানে-চাকরির পরিক্ষার ফর্ম তোলার লাইনে তার জন্য স্পেশাল কোনো লাইন নেই, 'মাতৃ ভূমি লোকাল'এর মত স্পেশাল কোনো ট্রেন নেয়। পুরুষদের জন্য কিচ্ছু থাকে না । হাতে চাকরি না থাকা বেকার পুরুষের কাছে প্রেমিকা থাকে না এমনি যৌথ পরিবারে বয়স্ক মা-বাবারাও থাকে না । পুরুষ কাঁদে না । কান্না তো মেয়েদের জন্য । তিন চার তলা সিড়ি ভাঙতে ভাঙতে এই বিল্ডিং থেকে সেই বিল্ডিং করে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়া পুরুষ জানে সকাল সাতটায় দোকান খুলে রাত এগারোটা পর্যন্ত বসে থাকতে । পুরুষই পারে । পারে বলেই হয়তো পুরুষের দিকে কেউ দেখে না । এমনকি তারই মত ভুক্তভুগী পুরুষও নয় । তার পরেও পুরুষ শক্ত থাকে । কথা বলে না । কথা বললেই নারী নির্যাতন কেসের ঝক্কি । অ্যাসিড হামলার মামলা । শ্লীলতাহানীর খাড়া । পুরুষ ভয় পায় । প্রচন্ড ভয়ে ভয়ে থাকে । অবশ্য পুরুষকে ভয় মানায় না । অকুতোভয়ী । তারপরেও পুরুষ অভদ্রতামী করা মেয়ের সাথে ঝামেলা করতে পারবে না । করলেই, 'কেমন পুরুষ হয়েছ হ্যা, মেয়েদের সঙ্গে ঝামেলা কর ?' পুরুষ চুপ করে যায় । কথা বলে না । তার পুরুষত্বতে লাগে । পুরুষদের কোনো মান সম্মান থাকতে নেই । ফোটোশপে তার নগ্ন ছবি চার দিকে ছড়িয়ে যাবার ভয় থাকতে নেই । কারণ ভয় শুধু মেয়েদের । মান সম্মানের ভয় । বিয়ে না হওয়ার ভয় । ছেলেদের সে সব কিছু থাকে না । সমাজ থাকে না । সম্মান থাকে না । তারপরেও নাকি বিয়ে না হবার ভয়ও থাকতে নেই । হায় ইশ্বর ! সবাই যে বলে এক মাটি দিয়েই নাকি তুমি সব বানিয়েছ । তারপরেও ফারাক কেন ? পুরুষদের কেন 'স্পেশাল চ্যাপ্টার' থাকবে না ? মাঝরাতে সংসার চালানোর জন্য যে পুরুষ এটিএম গার্ড দিতে গিয়ে ডাকাতদের গুলিতে মারা যায় তার খবর মেয়েদের মত কেন ফলাও করে লেখা হবে না ? পুরুষ তা জানে না । জানতেও চায় না । চাকরি না করা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসতে পুরুষের কোনো আপত্তি থাকে না । তারপরেও চাকরি করা স্ত্রী কে পুরুষ ভীষণ ভয় পায়। এই হয়তো মুখ ফসকে বলল কেউ, 'উমুকের বউ তো উমুককে বিড়ি খাবার টাকা পর্যন্ত দেয়... ।' অথচ পুরুষ কখনো প্রশ্ন করে না, 'অত দামী ফেসওয়াস এই বার না নিলে হত না ? ' পুরুষ চুপ থাকে। বাবা চুপ থাকে। বরং তার ওভার টাইম করে। আগামী পুজোয় বউকে বেনারসী কিনে দেবার জন্য ওভার টাইম করে। শেষ বয়সে মা-বাবাকে তীর্থ যাত্রায় পাঠানোর জন্য ওভার টাইম করে। একটু দূরের স্কুলে ছেলেকে পড়তে পাঠাতে সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য ওভারটাইম করে পুরুষ। রাত তিনটে অবধি ফলের দোকানে বসে, শেষ রাতে রিক্সা চালিয়ে কিংবা প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ২০টাকার ঘুষ খেয়ে পুরুষ বাড়তি উপার্যন করে। তারপরেও পুরুষরা নিজেদের সম্পর্কে বলতে শুরু করলেই পুরুষদের বলা হবে 'নারী বিদ্ধেষী'। কিংবা আরো অনেক কিছু। তারপরেও পুরুষ চুপ থাকে। পুরুষ চুপ থাকবে। কারণ তারা জানে স্বাধীনতা মানে একটা ভীষণ দায়িত্ব। সংসারের দায়িত্ব। সমাজের দায়িত্ব। সম্মান বাঁচানোর দায়িত্ব। সম্মান বাঁচাতে পুরুষ জানে মেয়ের বিয়ের আগের রাতেই কিভাবে পাত্রপক্ষকে দেওয়ার জন্য যৌতুক জোগাড় করতে হবে। আর পুরুষ জানে বলেই পুরুষক নিজেকে নিয়ে কোনো ইজম বানায় না। বরং অন্যরা পুরুষ সমন্ধীয় বিকৃত 'ইজম' বানায়। সেই 'ইজম'এ চোখ বুলিয়ে নেয় পুরুষ। তারপর আবার বাড়ির মেঝে মোজায়েক করার জন্য, রাতে ঘুমানোর আগে পুরো বাড়ি যেন দুমুঠো খেয়ে ঘুমায় তার ব্যবস্থা করার জন্য এ জায়গা সে জায়গা ঘুরে বেড়ায়। রাত ফুরোয়, দিন ফুরোয়, নটে গাছ মুড়োয় কিন্তু নিয়ে সাহিত্য-শিল্পে আদিখ্যেতা করা যায় নাপুরুষ দিন দিন পুরুষ হয়ে ওঠে। পুরুষ দিন দিন গাছ থেকে বৃক্ষ হয়ে ওঠে। তারপরেও পুরুষের জন্য কেউ কখনো কবিতা লেখে না , গল্প লেখে না। লিখবেও না। কারণ সে পুরুষ। তার কোনো অনুভূতি নেই। তাকে নিয়ে সাহিত্য-শিল্পে আদিখ্যেতা করা যায় না।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

লেখাটার ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ করে দিন। তাহলে পাঠক পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এছাড়াও যতিচিহ্নের আগে স্পেসগুলো ঠিক করে দিন। যতিচিহ্নের আগে স্পেস হয় না, পরে হয়।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বোকা বাক্স
বোকা বাক্স এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 5 দিন ago
Joined: শনিবার, আগস্ট 8, 2015 - 9:47অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর