নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাজ্জাদুল হক
  • শঙ্খচিলের ডানা
  • তাকি অলিক
  • ইকরামুল শামীম

নতুন যাত্রী

  • মোমিত হাসান
  • সাম্যবাদ
  • জোসেফ স্ট্যালিন
  • স্ট্যালিন সৌরভ
  • রঘু নাথ
  • জহিরুল ইসলাম
  • কেপি ইমন
  • ধ্রুব নয়ন
  • সংগ্রাম
  • তানুজ পাল

আপনি এখানে

দ্যা জার্নি অব রেপ; সিরাজগঞ্জ টু বনানী!!


দ্যা জার্নি অব রেপ; সিরাজগঞ্জ টু বনানী!!

রাজধানী ঢাকার বনানীর রেইনট্টি নামের বিলাসবহুল হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রিত দুই বান্ধবীকে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী) ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারটি জানাজানি হবার পর প্রায় সবগুলো সংবাদ মাধ্যমে এনিয়ে প্রচুর চর্চা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুশীল শ্রেণীর লোকজন বিক্ষোভ, মানব বন্ধন সহ নানা কর্মসূচী শেষ করেছে। অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তের বাবা দিলদার সাহেবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের জাতীয় রাজস্ববোর্ডের কর কর্মকর্তারা হানা দিয়েছেন, ঘটনাস্হল রেইনট্রি হোটেলে কাষ্টমস কর্মকর্তারা হানা দিয়ে অনুমোদন বিহীন বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার করেছে। সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ধর্ষনের সহযোগী হিসাবে যাদের একজন অস্র তাক করেছিল এবং অন্যজন ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করেছে।

মামলা দায়ের চার দিন পর অভিযুক্ত সাফাতকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরেক আসামি সাদমান শাকিফ, যিনি পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে। অভিযুক্তরা সমাজের ধর্নাট্য সমাজের অতি উঁচু তলার পরিবারের সন্তান। তাদের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে, এটা অভিযুক্তরা স্বপ্নেও ভাবতে করতে পারে নাই। ঘটনার শিকার নারী থানায় অভিযোগ করতে দিয়ে প্রায় ৪৮ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে যায়। বিষয়টা যদি সংবাদ মাধ্যমের গোছরিভূত না হত, তাহলে হয়তো অভিযুক্তরা গ্রেফতার হওয়াতো দূরের কথা – তাহলে ভিকটিমরা হয়তো নতুন কোন ঘটনার ভিকটিম হতে পারতো। http://www.jugantor.com/online/national/2017/05/07/46542/%E0%A6%AC%E0%A6...
https://www.probashirdiganta.com/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%93-%...

এদেশে ধর্ষন নতুন কোন বিষয় নয়। প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষনের ঘটনা ঘটে সারা দেশে। ঐসব ধর্ষনের ঘটনার অতিক্ষুদ্র অংশ সংবাদ মাধ্যমে স্হান পায়। মাঝে মাঝে কোন কোন ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়। এবং সেগুলো নিয়ে কিছু ধরে চর্চা, আবার হারিয়ে যায়, আবার নতুন কোন ঘটনা সংবাদের শিরোনাম হয়। মূলতঃ এভাবে চলছে দিনের পর দিন। অনেক ধর্ষণ ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে কিছুদিন থাকে, কিন্তু দিন পর ঐঘটনা গুলোর অভিযুক্তের যথোপযুক্ত বিচার হয়েছে কি না জানা যায় না। কিংবা অভিযোগগুলির সমাপ্তি কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা জানা যায় না। কারণ। সংবাদ মাধ্যমের বদৌলতে কিছুদিন স্পট লাইটে থাকলে পরবর্তীতে ঐসব ঘটনা নতুন নতুন খবরের চাপা পড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষই এক পর্যায়ে বেমালুন ভুলে যায।

এমুহুর্তে ভুলে যাওয়া ঘটনাগুলো থেকে কয়েকটি ঘটনা স্মরণ করানোর চেস্টা করবো।

০১) সোহাগী জাহান তনু ধর্ষন ও হত্যাঃ কুমিল্লা সেনানিবাসে সশস্ত্র বোর্ডের একজন বেসামরিক কর্মচারীর মেয়ে সোহাগী জাহান তনু। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইতিহাস বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সাংস্কৃতিকমনা এমেয়েটি লেখাপড়ার পাশাপাশি কলেজে নাটকসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিলো। এছাড়াও কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরেই টিউশনি করে নিজের খরচের কিছুটা জোগাতো। কুমিল্লা সেনানিবাস একালায় বিকেলে টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরত আসেনি এবং পরে তাঁর কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুর লাশ পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠে যে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং কুমিল্লা সেনানিবাসের মতো একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জায়গায় তনু হত্যার ঘটনায় সংবাদ মাধ্যম সোচ্চার ছিল ও বিভিন্ন সং সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। ।http://www.bbc.com/bengali/news/2016/03/160323_tonu_murder_protest

(২) মোল্লার হাটে হিন্দু গৃহবধূ জোরপূর্বক ধর্ষণ ও স্বামীর শিরোচ্ছেদ রক্ষা করতে গিয়ে পা হারানোঃ বাগেরহাটের মোল্লাহাটে স্বামীর শিরোচ্ছেদ রক্ষা করতে গিয়ে দুবৃর্ত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীর পা কেটে পড়ে গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের শোলাবাড়িয়া গ্রামে। শুধু পা কর্তন করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি দুবৃর্ত্ত, এই ঘটনার পর হিন্দু ঐ পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রায় ১৫ দিন যাবৎ ঐ হিন্দু নারীকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুলে থাকা পা নিয়ে ঐনারীকে ঘরে বন্দী রেখেছে। বন্দী আবস্থায় ওই নারী বিনা চিকিৎসা জন্য ছটফট করতে থাকলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় এবং পরে প্রতিবেশীরা মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে প্রতিবেশীদের সহ-যোগীতায় ওই নারীর স্বামী বৃহস্পতিবার মোল্লাহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে শোলাবাড়িয়া গ্রামের মৃতঃ মোহাম্মাদ মোল্লার দস্যু চরিত্রের ছেলে সোবাহান মোল্লা (২৮) বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিবেশি হিন্দু একটি পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়ে ওই পরিবারের গৃহবধু (৩২) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিল। http://www.bd-pratidin.com/city/2016/10/15/176911http://deshersomoy.com/2016/10/15/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E...

(৩) পাবর্তীপুরের ধর্ষিত পাঁচ বছরের শিশু পূজা ধর্ষণ ও ঢামেকে আইসিওতে ভর্তিঃ খেলাধূলার জন্য পূজা পুতুল নিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে যায়। ঠিক সে সময়ে একই গ্রামের মানুষরূপী দুই দানব শিশুকে কৌশলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পাশের একটি হলুদ ক্ষেতে নিয়ে কোমল শরীরে চালায় নির্যাতন। ধর্ষন শেষে সময় বুঝে তে থেকে চলে আসে দানবরা। মুমূর্ষ অবস্থায় নির্জন ক্ষেতে পড়ে থাকে শিশুটি। এভাবেই সারা রাত ক্ষেতেই পড়ে থাকে তার শিশুটির নিথর দেহ। পরদিন ভোরে তার নিথর দেহ উদ্দার করে প্রথমে স্হানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। মাত্র পাঁচ বছর বয়েসী শিশু মেয়েটির যৌনাঙ্গ ছোট এবং মানুষরুপী পাষন্ডে লিঙ্গ ঢোকাতে শিশুর যৌনাঙ্গে ব্লেড ব্যবহার করার মত পাষবিক ঘটনা ঘটনানো হয়েছিল। পাষন্ড পূর্ব পরিচিত ও পূজার বাবার বন্ধু এবং ভিকটিম শিশু ঐ পাষন্ডকে কাকা সম্মোধন করতো। http://amaderorthoneeti.net/new/2016/10/26/36655/

(৪) ঝিনাইদহ জেলার স্কুল ছাত্রী পূজাকে কুপিয়ে আহত করাঃ ঝিনাইদহ সদরের নৃশিংহপুর গ্রাম থেকে স্কুল ছাত্রী পূজাকে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে। বখাটে লিটু কর্তৃক কুপিয়ে জখম। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হাওয়ায় স্কুল ছাত্রী পূজাকে কুপিয়ে আহত করে লিটু, সে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের বখাটে ছেলে। http://www.timewatch.com.bd/2016/10/26/22430

(৫) কুমিল্লায় মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যানঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং উত্তর গুনাইঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম এক হিন্দু মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে (১৪) তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরিচিত চেয়ারম্যান মেয়ের মাকে বলেন – “তোমাদের কষ্ট করে এক রিকশায় যেতে হবে না। তোমার বড় মেয়েকে আমার সাথে দিয়ে দাও”। এসময় আমার স্ত্রী আপত্তি জানালেও জোর করে আমার মেয়েকে রিকশায় তুলে নেন চেয়ারম্যান। অসুস্থ ছোট মেয়েকে (প্রতিবন্ধী) (১০) নিয়ে কুমিল্লায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং সঙ্গে ছিল বড় মেয়ে দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪)। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লা কান্দিরপাড় এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। তখন এ ঘটনা ঘটে। বাদী ভিটটিমের বাবা অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় শাসনগাছা থেকে রিকশায় আবারো তাদের খুঁজতে কান্দিরপাড় ফিরে যান। না পেয়ে দেবীদ্বারে চলে আসেন। রাত ৮টায় আমার মেয়ে তার মা’কে ফোনে বলে, ‘মা আমাকে বাঁচাও’। সূত্রhttp://www.pnsnews24.com/news/towns/17331; http://somoyerbarta.com/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0...

উপরের চারটি ঘটনা জাতীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে নেয়। এসব ঘটনা কিছুদিন সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও বর্তমানে ঘটনা সমূহের কি হাল তা জানা মুশকিল। কারণ ঐসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ হবার পর দেশ ব্যাপী আলোড়ন সু্ষ্টি করলেও কিছুদিন পর ঐ খবর গুলি হারিয়ে গেছে।

(১) হবিগঞ্জ ১ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণঃ সারাদেশে যখন ঢাকার বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে ধর্ষনের ঘটনা তোলপাড় এবং বিষবাষ্পে মুমূর্ষু অবস্থা ঠিক তখনই ধর্ষনের আরেকটা আঘাত, যদিও বিষয়টি এখনো লাইমলাইটে আসেনি। সূত্রে প্রকাশ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা সদরের যাত্রাপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২৬ এপ্রিল চকলেট কেনার টাকা দিবে বলে ফুসলিয়ে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বানিয়াচং মহারতপাড়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। http://www.eibela.com/article/%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A6...

(২)সন্তানদের খাবার আনতে গিয়ে ধর্ষণের পর খুন হলেন মাঃ সিলেটের বালাগঞ্জে সাফিয়া বেগম (২৭) নামে চার সন্তানের জননীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ১৫/০৫/২০১৭ইং মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সাফিয়া তার ৭ মাস বয়সী দুই যমজ শিশুর খাবার আনতে স্থানীয় বাজারে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত হন। http://www.jugantor.com/online/country-news/2017/05/17/47408

(৩) মেয়েসহ বাবার আত্মহত্যাঃ শিশুকন্যাসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা সিটপাড়া এলাকার হযরত আলী (৪৫) ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তার (৮)। তার স্ত্রী জানান, গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়া, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, শিশুকন্যাকে মারধর করে ধর্ষণের চেষ্টা এবং অপহরণের হুমকি দেয়ার পর, স্থানীয় শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিচার চেয়ে প্রতিকার পাননি স্থানীয় সালিশদার ও চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছেও। ক্ষোভ আর অভিমানে তাই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন হযরত আলী। বিচারহীনতার কারণেই এ ঘটনা।

দ্যা জার্নি অব রেপ; সিরাজগঞ্জ টু বনানী!! নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথাঃ-
প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলার আগে সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসেনি এমন একটি ধর্ষন ও খুনের ঘটনায় আত্মস্বীকৃত খুনীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হুবহু নিচে তুলে ধরা হল।

এক আত্মস্বীকৃত রেপিষ্ট ও খুনী জবানবন্দীঃ “গত ১৫/১২/২০১৪ইং সকাল অনুমান ১১:১৫ ঘটিকার সময় আমি একটি ধারালো দা নিয়ে পাহাড়ে লাকড়ি কাটতে যাচ্ছিলাম। মোঃ নিজাম উদ্দিন আমার প্রতিবেশী ও বন্ধু। আমি ব্যাৎছড়ি মুসলিমপাড়া বিদ্যুৎ টাওয়ারের নিচে আসলে নিজাম উদ্দিনের সাথে আমার দেখা হয়। নিজাম উদ্দ তখন আমাকে বলে “ টাওয়ারের নিচে ছবি মার্মা কাজ করতেছে, আমরা দুইজন মিলে তাকে ধর্ষক করব”। নিজাম উদ্দিনের এই প্রস্তাবে আমি রাজী হই। নিজাম উদ্দি লাকডির বোঝা আলগাইয়া দেওয়ার কথা বলে ছবি মারমাকে ডেকে নিয়ে যায়। কথা ছিল, নিজাম প্রথমে ছবিকে ধর্ষন করবে, তারপর আমি ধর্ষক করব। আমি পাহাড়ের উত্তর দিকে লোকজন পাহারা দিচ্ছিলাম। নিজাম ছবিকে পাহাড়ের উপরে ডেকে নিয়ে ধর্ষন করতে চাইলে ছবি নিজামকে বাঁধা দেয়। নিজামের ডাকে আমি ঘটনাস্হলে উপস্হিত হই। আমি ও নিজাম উদ্দিন মিলে একসাথে ছবি মারমাকে ধর্ষনের চেষ্টা করি। কিন্তু ছবি মারমা আমাদেরকে বাঁধা দেয়। সকাল অনুমান ১১:৪৫ ঘটিকার সময় আমি ও নিজাম জোরপূর্বক ছবি মারমাকে ধর্ষন করার জন্য চিত করে মাটিতে শোয়াই। ছবি চিৎকার করতে চাইলে আমি ধারালো দা তার গলায় চেপে ধরি। ছবি ধাক্কা মেরে উঠার চেষ্টা করলে ধারালো দায়ের আঘাতে ছবির গলা কেটে যায়। ঘটনাস্হলেই ছবি মারমা মৃত্যু বরন করে। আমরা ভয় পেয়ে পালিয়ে নিজেদের ঘরে চলে যাই। এই আমার জবানবন্দি ......মো: রানা ১৭.১২.২০১৪”। (সূত্রঃ এজাহার নং ৩৪১৮/১(৩), তারিখ ১৭/১২/২০১৪ইং কাপ্তাই থানা, রাঙ্গামাটি) ***** সূত্রঃ (Kotwali PS case No.128, dt. 27.12.14) ।

কোন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে উপগত হওয়া ধর্ষনের সংজ্ঞায় পড়ে। সেই অতীতকাল থেকেই সমাজে এধরনের ধর্ষককে লম্পট নামে অভিহিত করার পর সামাজিকভাবে ঘৃনার চোখে দেখা হয়। সাধারণতঃ নিয়ন্ত্রনহীন যৌনাবেশে কারণে এমনা ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। ধর্ষনের ঘটনা সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক একটা ব্যাপার। ধর্ষনের কারণ বহুবিধ হতে পারে। কোন কোন ধর্ষনের ঘটনা সংঘঠিত হয় ধর্ষকের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংঘঠিত হয়। উদাহরন হিসাবে বলা যায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বনানীর ঘটনা তেমনি একটি যেখানে ভিকটিমরা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিণ ছিলো, কিন্ত অভিযুক্তরা যা করেছে, তা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক করেছে।

আবার কোন কোন ঘটনা ধর্ষকের পূর্ব পরিকল্পনা থাকে না, কিন্তু ঘটনাটি ধর্ষক তাৎক্ষনিকভাবে ঘটিয়ে থাকে। যেমন উপরোল্লিখিত একটি ঘটনার আসামীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ধর্ষক ও খুনী মো: রানা ও তার বন্ধু নিজাম বিকার গ্রস্হ যৌনাবেশে ছবি মারমাকে আক্রমন করেছে। মো: রানা ব্যাৎছড়ি মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা, ঘর থেকে বের হবার সময় কোন নারীকে ধর্ষন করবে – এমন ভাবনা আসামী মো: রানা ও তার প্রতিবেশীবন্ধু নিজাম ঘূর্ণাক্ষরেও চিন্তা করেনি। কিন্তু আদিবাসী ১৬ বছরের কিশোরী ছবি মারমাকে একা পেয়েই ধর্ষন করা ইচ্ছা জেগেছিল। প্রায় একই ধরনের আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়, যেটি কুমিল্লার কান্দির পাড়ে ব্যস্ততম রাস্তায় ঘটেছিল। রিক্সায় এক হিন্দু মা ও তাঁর দুই কিশোরী কন্যাকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে কুমিল্লার গনু ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও তার বন্ধু কুমিল্লা বারের এডভোকেট সবুজের মুহুর্তের ছলে কিশোরী হিন্দু মেয়েটিকে রিক্সায় তুলে নিয়ে ধর্ষন করেছিল (Kotwali PS case No.128, dt. 27.12.14) । মো: রানা ও খোরশেদের মতো ধর্ষকদের নারী দেখলেই যখন তখন নারী ধর্ষনের ইচ্ছা জাগে না। এরা শুধু হিন্দু ও আদিবাসী নারী দেখলেই এদের ধর্ষনের দন্ড খাড়া হয় এবং ধর্ষনের সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে ধর্ষন ঘটনার বেশীর ভাগই ঘটে সাম্প্রদায়িক মনস্তাত্বিক ধারনা থেকে। যা মানুষের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক ভাবনার বিকৃত রুচিবোধের বর্হিপ্রকাশ ছাড়া অন্য কিছু নয়। এধরনের অবস্হা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায়ও সংঘঠিত হয়। উদারন হিসাবে বসনিয়া- হাজেগোভিনা, আফ্ররিকা মহাদেশের হুতু-তুতষী জাতিগত দাঙ্গার সময়, এমন কি বাংলাদেশ ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও। বর্তমানে সিরিয়া-ইরাকে সুন্নি যোদ্ধারা ঘটাচ্ছে ইয়াজাদি, কুর্দী, খ্রিষ্টান মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক ফৌজদারী অপরাধের আইনের সংজ্ঞায় এটি মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসাবে গন্য করা হয় – এ পৃথিবীর কিছু কিছু দেশে অপরাধীদের মানবতা বিরোধী অপারাধের আইনেই বিচার হয়েছে। বাংলাদেশে এযাবত অবধি হিন্দু ও আদিবাসী নারী ধর্ষনের ঘটনা ধর্ষন সংকান্ত সাধারণ আইনেই বিচার করা দূর্বল চেষ্টা করা হয়। কখনো আলাদাভাবে দেখা হয়নি এবং ভবিষ্যতে এর সেভাবে দেখা বা প্রয়োগ করার সম্ভবনা খুবই কম। কারণ আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্হা থেকে শুরু করে সমাজের সমস্ত চিন্তাশীল মানুষরাও এধরনের ঘটনা গুলিকে মামুলী ধর্ষণের ঘটনা ভাবতে পছন্দ করে।

“জার্নি অব রেপ এন্ড সিরাজগঞ্জ টু বনানী” শিরোনামে এলেখাটি যারা পড়বেন, তাদের অনেকের হয়তো ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জের একটি গণধর্ষন (গ্যাং রেপ) এর ঘটনাটি মনে পড়তে পারে । ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামাতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে ধরা হয়। এটিও রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িত জিজ্ঞাংসা থেকে সংঘঠিত হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্যাতনের শিকার ঐঘটনা দেশ ও বিদেশ বহুল আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর সিরাজগঞ্জের ঐ ধর্ষণ মামলার রায় হয়েছে। http://oldsite.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2011-05-05&ni=...। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট ফেনীর সোনাগাড়ী উপজেলা, ভোলা ও দেশের দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি জেলা প্রায় মাস ব্যাপী ধর্ষন উৎসব সহ দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছিল। তবে পত্রপত্রিকায় সাড়া ফেলেছিল শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার গণধর্ষন ঘটনা। কোন কোন পত্রিকায় এঘটনাটিকে ঘটনাটি '০১ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করেছে।

ধর্ষণ! পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এটি একটি অতি পুরাতন সামাজিক ব্যাধি। যদ্দুর জানা যায, ধর্ষনের ঘটনা পৃথিবীর প্রায় সব দেশে কম বেশী ঘটে থাকে। তবে ইসলামী বিশ্বের চোখের বালি ইসরাইলে এর হার সুপ্রাচীন কাল হতে এ ধরনের অপরাধ আজ অবধি অতি নগন্য। যদ্দূর জানি বর্তমান বিশ্বে এর পরের অবস্থানটা সম্ভবতঃ হিমালয় দূহিতা ভূটানের। ধর্ষনের মতো ঘটনা কারণ হিসাবে অনেকেই মনে করেন থাকেন যে, নগ্নতা, অতৃপ্ত যৌন আকাঙ্খা, বেহায়াপনা, অবাধ যৌনাচার, রাস্তার পাশে দেয়ালে নগ্ন পোস্টার, ফুটপাতে অশ্লীল ছবি সম্বলিত যৌন উত্তেজক অবৈধ বইয়ের রমরমা ব্যবসা, অশ্লীল পত্রপত্রিকা, অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, ব্লু-ফিল, চলচ্চিত্রে খলনায়ক কর্তৃক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দৃশ্যের মাধ্যমে সমাজে রাস্তাঘাটে বাস্তবে ধর্ষণ করার উৎসাহ যোগান, ইন্টারনেটে অশ্লীল সাইটগুলো উম্মুক্ত করে দেয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, নীল ছবি প্রদর্শন ইত্যাদি। তবে এগুলো সর্বাংশে সত্য নয়। কারণ হিসাবে ১৯৭১ সালকে আমরা তুলে ধরতে পারি। যদি ধর্ষনের কারণ হিসাবে এসব কথিত বেহায়াপনা, স্বল্প পোষাক, ব্ল-ফ্লিম, ইত্যাদিই হবে তাবে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে গণহারে ধর্ষণ হয়েছিল কেন? সেসময়তো এখনকার মত সমাজ ব্যবস্হা ছিল না। এছাড়াও যেমন বনানীতে সংঘঠিত অপরাধে অভিযুক্তরা সকলে বিবাহিত এছাড়াও প্রধান অভিযুক্ত সাফাত ও সাদমান শাকিফ উভয়ে প্রচুর ধনাট্য এবং অর্থের বিনিময়ে সুন্দরী নারী দেহপসারিনী ভোগকরার সুযোগ থাকা সত্বেও ওরা তাদের বান্ধবীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করার অভিযোগ এসেছে।

ধর্ষণের যে যত কারণই উল্লেখই করুন না কেন, তবে একবাক্য প্রায় সকল মনস্তাত্বিকবিদ স্বীকার করবেন যে ধর্ষনের মত বর্বর ঘটনা সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক বৈকল্য থেকে সংগঠিত হয়। এবং মনস্তত্বাত্বিক বৈকল্য শুধু উপরের কারণ গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে আছে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, সামাজিক অবক্ষয় মূল্যবোধের অভাব, জাতিগত বিভেদ ও বিদ্বেষ, ধর্মীয় কারণ সহ আরো অনেক গুলি কারণ জড়িত। ধর্ষণের যাবতীয় কারনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ অনেকই উল্লেখ করতে চান না। সেটি হল গোষ্টি ভিত্তিক সংকীর্ণ চিন্তুা ও ধ্যান ধারণা ধর্ষনের উৎপত্তি। অর্থাৎ রাজনীতি, সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে ঘৃনা করা হয় এমন শ্রেণী/গোষ্টির নারীর প্রতি সংহিসতা। যেমন ১৯৭১ সালে জারজ পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় জারজরা পূরাতন ফতোয়া “হিন্দু মেয়েরা গনিমতের মাল” দিয়ে এদেশের লক্ষ লক্ষ হিন্দু মা বোনের ইজ্জন লুন্ঠন করেছে এবং বলপূর্বক ধর্মান্তর করছে। ২০০১ সিরাজগঞ্জের উল্লা পাড়ায় হিন্দু কিশোরী ধর্ষন ও ঐ সময়ে দ্বীপজেলা ভোলায় কোন কোন এলাকায় সপ্তাহ/মাস ব্যাপি ধর্ষন উৎসব তেমনটি ঘটনার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।।

ভারতবর্ষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, প্রচীন ভারতে ধর্ষনের কথা কেহ স্বপ্নেও চিন্তা করতো না। এ কারণে আমরা পুরাতন গল্পে রাজা মহারাজাদের কাহিনীতে তাদের নারী পূরুষ নির্বিশেষে অপরাধীদের দণ্ড হিসাবে বনবাসে প্রেরনের ঘটনা দেখতে পাই, এবং বনবাসের নিদ্দিষ্ঠ মেয়াদ শেষে সুস্থ শরীলে এসব নারীদের পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তন করার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। যদি সেই সময়কার পূরুষদের মেয়েদের ব্যাপারে আজকের মত পূরুষ ধ্যান ধারণা থাকতো তাহলে যে নারীকে শাস্তি স্বরূপ বনবাসে পাঠানো হতো, সে সম্ভবতঃ বনবাসের প্রথম দিনেই একটানা ধর্ষনের শিকার হয়ে পরলোকে পাড়ি জমাতো এতে সন্দেহ থাকার অবকাশ ছিলো না। ভারতবর্ষের বাহির হতে কালক্রমে যে সকল সংস্কৃতি এসেছে, মূলতঃ সেগুলোই ধর্ষকে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

যেভাবে কিংবা যেখারণেই ধর্ষন সংঘঠিত হোক, ধর্ষন ধর্ষনই, এটি একটি ভয়াবহ ফৌজদারী অপরাধ। যেকোন প্রকার করান দেখিয়ে ধর্ষনকে জায়েজ করা উচিত নয়। যদিও আমাদের দেশে ধর্ষনকে নানাভাবে জায়েজ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। আবার সকল ধরনের ধর্ষন ঘটনায় এদেশের প্রতিক্রিয়াও সময় দেখা যায় না। যেমন - বনানীতে হাই সোসাইটির অনুষ্ঠানে হাইসোসাইটির কোন নারীর কোন ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনতা সংঘঠিত হয়েছে – তা নিয়ে সারাদেশের সকল মহল যতটা তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে কিংবা কুমিল্লায় সোহাগী জাহান তনু ধর্ষন ও খুন হবার ফলে সারাদেশে যেমন কাঁপন ধরাতে সক্ষম - এমন প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে, ঠিক তেমনি দেখা যায় না গ্রামেগঞ্জে গরীব অসহায় দরিদ্র পরিবারের কোন নারী কিংবা শিশু ধর্ষিতা হলে। কিংবাদেখা যায় না হিন্দু ও আদিবাসী নারী ধর্ষিতা হলে। বরং এসব ক্ষেত্রে কখনো কখনো ভয়ংকর মৌনতা পাশাপাশি কখনো কখনো ধর্ষকের পক্ষালম্বন করতে দেখা যায়। গোষ্টি ভিত্তিক সংকীর্ণ ধারনাথেকে ধর্মান্ধ এসব মানুষে চিন্তায় বিধর্মী মেয়েকে ধর্ষণ না জায়েজ নয়, বরং জোর পূর্বক ধর্মান্তরের মাধ্যমে ধর্ষন করা মহাপূণ্যের কাজ। এধারণা আজকের দিনে রাস্তায় রিক্সাওয়ালা হতে কোর্টে বিজ্ঞ বিচারপতিরা অলিখিত ভাবেই মেনে চলেন বলেই খোঁজ নিলে জানতে পারবেন কথিত ক্রস মেরেজ সংক্রান্ত ঘটনাগুলি মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলেও আদালতে বিচারাধীন রায় কখনোই হিন্দু ভিকটিমের পক্ষে যায় না । যদিও বাংলাদেশ ফৌজদারী দন্ডবিধিতে ঠিক এমুহুর্তে ধর্ষনের দায়ে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে বিদ্যামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুাল আইনে বলপূর্বক ধর্মান্তর শাস্তি ২০(২) ধারা মোতাবেক মৃত্যুদন্ড (যদিও সাঈদীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হবার পরও শাস্তি ঘোষিত হয়নি)।

২০০১ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লা পাড়ায় ১৬ বছরের কিশোরী ধর্ষন ঘটনার বিচার হয়েছে এবং আসামী ১১জনের দন্ড হয়ে ঘটনার ১১ বছর পর। ঐঘটনা দেশে বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। একটি মাত্র ঘটনার কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ণ ও পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্হাগুলো সোচ্চার ছিল বলে পরবর্তীতে বিএনপি-জামাতজোট সরকার বিতাড়ন সহজ হয়েছে। কিন্তু ঐঘটনার প্রেক্ষিতে এদেশের মানুষ যা করতে পারতো এবং অথচ করেনি – তাহলো ঐধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ধর্ষণ ও ধর্ষক বিরোধী আন্দোলন সৃষ্টি করা। যদি সিরাজগঞ্জের ধর্ষন ঘটনাকে মডেল হিসাবে গ্রহন করে সারাদেশে ধর্ষণ বিরোধী গনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হতো, তাহলে হয়তোবা হালের ঘটনা গুলো দেখা যেত না। সুতরাং, এলেখাটি যারা পড়বেন, তাদের কাছে আমার মিনতি, আপনার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ধর্ষকের পক্ষে কোন প্রকার সাফাই না করে ধর্ষনের ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করুন এবং আপনাদের যার যা সাধ্যমত ভিকটিমের পরিবাবরের সকলের পাশে দাঁড়িয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলন। তবে আপনার বোন ও কন্যা নিরাপদ থাকবে।
==========

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চিত্রগুপ্ত
চিত্রগুপ্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 2 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, মে 2, 2017 - 1:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর