নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 10 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিজ্ঞানী ইস্বাদ
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • বিজয়
  • সৈয়দ মাহী আহমদ
  • রাজিব আহমেদ
  • কিন্তু
  • নাগিব মাহফুজ খান
  • পৃথু স্যন্যাল
  • ফারজানা সুমনা
  • কাঠমোল্লা

নতুন যাত্রী

  • শেষ যাত্রী
  • নীলা দাস
  • উর্বির পৃথিবী
  • গোলাম মাহিন দীপ
  • দ্য কানাবাবু
  • মাসুদ রুমেল
  • জুবায়ের-আল-মাহমুদ
  • আনফরম লরেন্স
  • একটা মানুষ
  • সবুজ শেখ

আপনি এখানে

আওয়ামী – হেফাজতঃ “এ ট্রু লাভস্টোরী” এবং ফরহাদ মজহারের আধ্যাত্মিক কান্নার মাজেজা ! শেষ পর্ব


আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

গৌরচন্দ্রিকা
ফরহাদ মজহার একই লেখা দুই জায়গায় ছাপিয়েছেন (তা তিনি অবশ্যই ছাপাতে পারেন)। দৈনিক যুগান্তরে এবং তাঁর নিজের পত্রিকা “চিন্তা” তে। মূল বক্তব্য একই, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাঁর নিজের পত্রিকা চিন্তায় যে ভার্সনটি ছাপা হয়েছে সেখানে নাস্তিক – মুক্তমনা আর সেক্যুলার মানুষদেরকে গালিগালাজের পরিমাণটা দারুণভাবে বেশী (হয়তো যুগান্তর এই অংশগুলো সম্পাদনা করে ছাপিয়েছে!)। “চিন্তা”র লেখাটিতে বরাবরের মতোই তিনি কোনও সূত্র ছাড়া, মূল টেক্সট এর উল্লেখ ছাড়া নিজের বোঝাপড়া আর বয়ান চালিয়ে দিয়েছেন কার্ল মার্কস আর ইমানুয়েল কান্ট এর নামে। আমি বলছি না যে তিনি কান্ট ও মার্কসের নামে মিথ্যা কথা বলছেন, আমি বলছি, আমাদের কোনও উপায় নেই যাচাই করার, উনি আসলে কার বয়ান বলছেন, তাঁর নিজের বোঝাপড়া নাকি কান্ট ও মার্কসের বয়ান। এটা ফরহাদ মজহারের একটা বদখাসলত (দুঃখিত, বদখাসলতের কথাটি বলার জন্যে, মুরুব্বী মানুষদেরও তো বদখাসলত থাকতে পারে, তাইনা?)। যারা তাঁর ধর্ম ও নাস্তিকতা বিষয়ক লেখালেখি পড়েছেন তাঁরা জানেন, তিনি প্রায়শই মূল টেক্সট এর উল্লেখ করেন না, ফলে এটা বোঝা যায় না, তাঁর নিজের করা অনুবাদ কতটা মূলানুগ। তিনি প্রায়শই যথাযথ রেফারেন্স বা সূত্র উল্লেখ করেন না, শুধুমাত্র কোনও একজন দার্শনিক বা লেখকের নাম উল্লেখ করেই তাঁদের বয়ানে কিছু বানী উল্লেখ করেন। চিন্তায় প্রকাশিত এই লেখাটি তাঁর এই বদখাসলতের একটা উদাহরণ। তাঁর মূরীদদের জন্যে কোনও রেফারেন্স দরকার নেই, কিন্তু আমার মতো অবিশ্বাসী মানুষের জন্যে রেফারেন্স দারুনভাবে দরকার।

ইমানুয়েল কান্ট যখন বলেন মানুষের আলোকিত হয়ে ওঠা মানেই হচ্ছে মানুষের সাবালক হয়ে ওঠা, চার্চ, নেতা বা যেকোনো পরম শক্তির সহায়তা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে শেখা, সেখানে মানুষ আলোকিত হয়ে উঠলে বা সাবালক হয়ে উঠলে ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থের ভূমিকাটি কোথায় থাকে সেটা সত্যিই আশ্চর্য বিষয়! কান্ট বলছেন, মানুষের আলোকিত হয়ে ওঠার জন্যে আর কিছুই দরকার নেই, শুধু দরকার স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার প্রশ্নটিতেই সবাই বাধা দেয়। কান্ট বলেছেন, “সবাই বলে প্রশ্ন করোনা, প্রশ্ন করোনা, কোনও কিছু নিয়ে প্রশ্ন করোনা, কেবল মান্য করো, মান্য করো। মোল্লারা পাদ্রীরা বলেন তর্ক করোনা, কেবল বিশ্বাস কর। (কান্ট এর মূল টেক্সট এর অনুবাদ পাওয়া যাবে এখানে)। আমাদের ফরহাদ মজহার ভাইয়েরাও আমাদের প্রশ্ন করা নিয়ে দারুন বিরক্ত, ধর্ম আর ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানান বেসিক প্রশ্নে ফরহাদ ভাইয়েরা দারুণ ক্ষিপ্ত। তাইতো তিনি লিখছেন –

“আল্লা আছে কি নাই বাংলাদেশে এই ধরনের নিম্ন শ্রেণির থার্ড ক্লাস তর্ক ‘মুক্তমনা’ বা ‘মুক্তবুদ্ধি’র নামে জারি রাখা হয়েছে’।
(সুত্রঃ ঐতিহাসিক সন্ধি, চিন্তা এপ্রিল ২২, ২০১৭ সংখ্যা)

অন্যের প্রশ্নকে থার্ড ক্লাস বলাটা খুব সহজ, কিন্তু ব্যাখ্যা করাটা খুব কঠিন, প্রমান করাটা কঠিন, জবাব দেয়াটা খুব কঠিন। আল্লা আছে কি নেই, সেটা প্রমান বা অপ্রমানের কথা তো অনেক দূরের বিষয়, প্রশ্নটাকেই আপনি খারিজ করে দিচ্ছেন, গোড়াতেই আপনি রায় দিচ্ছেন এটা “নিম্ন শ্রেনির থার্ড ক্লাস তর্ক”। তাই আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি – আজকের এই ২০১৭ সালে কোনও প্রশ্নই “থার্ডক্লাস” নয়, কিন্তু ভ্যালিড প্রশ্নের কত “থার্ড ক্লাস” উত্তর হতে পারে, তা আপনার আর আপনার সাঙ্গোপাঙ্গোদের লেখালেখিতে আমরা দেখি। হিম্মত থাকলে, লিখুন। হিম্মত থাকলে প্রশ্নকে “থার্ড ক্লাস” না বলে, উত্তর দিন, উত্তর দিয়ে প্রমান করুন কেনো এই প্রশ্নটি “থার্ড ক্লাস”। সেই হিম্মত আপনাদের নেই। হিম্মত নেই বলেই, নিজের বিচার বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে মানুষকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সামিল করতে আপনারা ব্যর্থ, তাই আপনাদের হেফাজতের সংখ্যার শক্তি ধার করতে হয়।

আল্লাহ্‌ (গড) সম্পর্কে ইমানুয়েল কান্ট তাঁর “ক্রিটিক অফ পিওর রিজন” পুস্তকে বহু ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহর ধারনার নানান স্ববিরোধীতা নিয়ে লিখেছেন। প্রায় আটশো পাতার পুস্তকের দ্বিতীয় সংস্করনের ভুমিকায় তাই তিনি দ্বিধাহীন ভাবে উল্লেখ করেছেন – “এজন্যেই আমাকে - বিশ্বাস'কে জায়গা করে দেবার জন্যে জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করতে হয়েছে” (“Thus I had to deny knowledge in order to make room for faith” – Critique of pure reason, Immanuel Kant, p.117).

এই একই পুস্তকে জনাব ইমানুয়েল কান্ট লিখেছিলেন

"আমাদের সকল জ্ঞানের শুরু হয় আমাদের ইন্দ্রিয়গত অনুভুতি থেকে, তারপর তা আমাদের বোঝাপড়া তৈরী করে এবং জ্ঞানের শেষ ধাপ হচ্ছে কার্যকারণ বা ‘রিজন’ তৈরী করার মধ্যে। কোনকিছুই কার্যকারণ বা ‘রিজন’ এর উপরে নয়”।
(All our knowledge begins with the senses, proceeds then to the understanding, and ends with reason. There is nothing higher than reason. Critique of pure reason, Immanuel Kant.)

বাংলাদেশের মুক্তমনারা কেবল এই “রিজন” বা কার্যকারণের কথাই বলছেন, ফরহাদ মজহারদের কাছে যা “থার্ডক্লাস” মনে হয়, ঠিক যেভাবে কান্টের লেখায় দেখতে পাই মোল্লা – পাদ্রীদের বলতে “প্রশ্ন করোনা, তর্ক করোনা, কেবল বিশ্বাস করো”, আহা কি দারুন মিল!

এই একই পুস্তকে ইমানুয়েল কান্ট লিখেছেন –

“দর্শনের দায়িত্ব ছিলো সকল ধরনের ইলিউশন বা বিভ্রান্তিকে ধ্বংস করা, যা ভিত্তিহীন ধারণা বা বিশ্বাসের উপরে প্রতিষ্ঠিত, তা সে যতই মোহনীয় বা মূল্যবান প্রত্যাশাই তৈরী করুক না কেনও”।

ক্রিটিক অফ পিওর রিজন পুস্তকটি ছাপা হয়েছিলো ১৭৮১ সালে, মানে আজ থেকে প্রায় দুশো চল্লিশ বছর আগে। দুশো চল্লিশ বছর আগে – জনাব কান্ট যা বলতে পারেন, আজকের বাংলাদেশে আমরা তা বলতে পারিনা। সেই ১৭৮১ সালে তিনি লিখেছেন –

“আমাদের যুগ হচ্ছে সমালোচনার যুগ, সকল কিছুই এই সমালোচনার অধীন। ধর্মের পবিত্রতা আর কর্তৃত্ববাদী আইন কানুন যারা এই দুটি বিষয়কে সমালোচনার আদালত থেকে রেহাই দিতে চান, তাঁদের মনে রাখতে হবে, সমালোচনা থেকে রেহাই চাইলে, সারাজীবন মানুষের সন্দেহের নীচেই থাকতে হবে, সমালোচনা থেকে রেহাই চাইলে, মানুষের শ্রদ্ধাও হারাতে হবে”।

আজকের দিনে আমি বা বাংলাদেশের মুক্তমনারা যদি এই কথাটিও লেখেন তাহলে তাকে বলা হবে ধর্ম বিদ্বেষ ! আর লেখককে বলা হবে ধর্মবিদ্বেষী!

ফরহাদ মজহার এর আরেকজন প্রিয় মানুষ জনাব কার্ল মার্কস। যার কথাও তিনি সূত্রবিহীন ভাবে উল্লেখ করেন, প্রায়শই নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে। সেই কার্ল মার্কস মহাশয়ও বলেছিলেন, “জার্মানিতে ধর্মের সমালোচনা কার্যত শেষ হয়েছে এবং বাস্তবত সকল সমালোচনার শুরু ধর্মের সমালোচনা দিয়েই”। ফরহাদ মজহারদের সাফল্যের জায়গা হচ্ছে কার্ল মার্কসের মতো একজন সোচ্চার নাস্তিককেও তিনি ধর্মের সাফাই গাইতে ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের দুর্ভাগ্য তাদেরকে কার্ল মার্কসের বয়ান পড়তে হয় ফরহাদ মজহারের মতো মানুষের কাছ থেকে।
( Critique of Hegel's Philosophy of Right, Karl Marx)

কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মের সমালোচনা তো দূরের কথা, ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাও মৃত্যুর মতো ঝুঁকিপূর্ণ। ধর্ম নিয়ে ন্যূনতম প্রশ্ন তোলাও এখন ধর্মবিদ্বেষ বলে চিহ্নিত হচ্ছে। ফরহাদ মজহার ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গোরা হরেদরে সবাই কে “ইসলাম বিদ্বেষী” হিসাবে আখ্যা দিচ্ছেন। আমি কিন্তু তাঁকে বা তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোদের “সেকুলার চিন্তা বিদ্বেষী” বলছি না। কারণ আমি জানি বিষয়টি যত না সেকুলারিজমের প্রতি বিদ্বেষ তাঁর চাইতেও অধিক হচ্ছে “যন্ত্রনা”। আওয়ামীলীগের ক্ষমতার রাজনীতির কৌশলের সাথে পেরে না ওঠার যন্ত্রনা। এই যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে আমাদের ফরহাদ ভাইকে।

কওমি সনদের স্বীকৃতিঃ “ডিম পাড়ে হাসে, খায় বাঘডাসে”
যাইহোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, ফরহাদ মজহার এই ২০১৭ সালে এসে কওমি মাদ্রাসা সনদের সমমর্যাদা নিয়ে “জাত গেলো” বলে কান্না কাটি শুরু করেছেন। তিনি মূলত দুটি বিষয়ে চিন্তিত।

এক – কওমি মাদ্রাসার সনদের এই সমমর্যাদা বিষয়ক লেনদেনের কারণে হেফাজতে ইসলাম আওয়ামীলীগের ভোটের রাজনীতিতে “ভোটব্যাংক” হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। এবং এই সনদের স্বীকৃতি নিয়ে আওয়ামীলীগের সাথে গাঁটছড়া বাধার ফলে এদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন বাধাগ্রস্থ হবে ফলশ্রুতিতে ফ্যাসিবাদী শাসন আরো দীর্ঘায়িত হবে।

দুই – কওমি সনদের এই সমমর্যাদা কওমি মাদ্রাসা আলেমদেরকে “রুহানিয়াত” এর পথ থেকে বিচ্যুত করে, “দুনিয়াবী” রাস্তায় নামিয়ে আনবে, যা কওমি মাদ্রাসার আদর্শ, চিন্তা-চেতনা, মুল্যবোধের পরিপন্থি।

খুব ভালো কথা। ফরহাদ ভাইয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম নিয়ে গত পর্বে লিখেছি। আমি লিখেছি, ফরহাদ মজহার এক ফ্যাসিবাদীর কাঁধে ভর করে আরেক ফ্যাসিবাদীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাচ্ছেন, যা হাস্যকর। দুঃখজনক হলেও সত্যি ফরহাদ ভাইয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম আসলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সংগ্রাম ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি ইসলামের জজবা তুলে হেফাজতের কাঁধে বন্দুক রেখে আওয়ামীলিগের নির্বাচনী নৌকা ফুটো করতে চায়। আমাদের ফরহাদ ভাই হচ্ছেন সেই নির্বাচনী কৌশলের তাত্ত্বিক পন্ডিত । আর এই তাত্ত্বিক কৌশল রচনায় তাঁর হাতিয়ার হচ্ছে কওমি আলেমদের রুহানিয়াতের পথ দেখানো আর বিরুদ্ধমতের মানুষদের হরে দরে “ইসলাম বিদ্বেষী” আখ্যা দেয়া। বলাই বাহুল্য, ফরহাদ ভাই অবশ্যই বিএনপির হয়ে লড়াই করতে পারেন। তিনি কার হয়ে রাজনৈতিক সংগ্রামের মাঠে উপস্থিত হবেন, সেটা একান্তই তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তবে এটা পরিস্কার, তাঁর মূল এজেন্ডাটা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তা সংহত করা। কিন্তু ফরহাদ ভাইয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক “সততা” সেই গোপন এজেন্ডাটিকে প্রকাশ্যে বলতে দেয়না। তিনি কেবল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে “ফ্যাসিবাদ” বিরোধিতার কথা বলেন। আমার কথা গুলোকে কি খুব অযৌক্তিক মনে হচ্ছে? তাহলে খুলেই বলি, কি বলেন? তবে খুলে বলার আগে আসুন ফরহাদ মজহার এর লেখা থেকে কিছু অংশ পড়ে নেই -

”সরকার ইতিমধ্যেই একটি গেজেট প্রকাশ করেছে; ভালো। কওমি মাদ্রাসার আদৌ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দরকার আছে কি? একে চাকরি-বাকরি পাওয়ার তর্কে পরিণত করাটাই ছিল ভুল। করার কোনো যুক্তি নাই। কারণ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার উদ্দেশ্য আধাত্মিক শিক্ষা। এটাই সত্যিকারের শিক্ষা। আধ্যাত্মিক শিক্ষা কথাটা শুনতে খুব মিষ্টিক মনে হয়; মোটেও তা না। মানুষের মধ্যে সুপ্ত পরমার্থিক গুণাবলিকে বিকশিত করাই শিক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য। কওমি মাদ্রাসা সেই সুনির্দিষ্ট কাজটি করে।

আধ্যাত্মিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা কওম বা গণমানুষের প্রত্যাশা মেটাতে পারছে কিনা - সেই তর্ক হতেই পারে। কিন্তু মাদ্রাসায় পড়ে চাকরি-বাকরি পায় না, কারণ এর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নাই, অতএব রাষ্ট্রের কাছ থেকে কওমি সনদের স্বীকৃতি আদায় করতে হবে, এটা ইবলিসের তর্ক।

কওমি পাস করা ছাত্র অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারল কিনা কিংবা কোনো সরকারি চাকরি পেল কী পেল না সেটা আধ্যাত্মিক শিক্ষার জন্য অবান্তর ও কূটতর্ক। বরং সে সত্যিকার অর্থে পরমার্থিক জ্ঞানে বা রুহানিয়াতের প্রজ্ঞায় আলোকিত হতে পারছে কিনা, সেটাই হচ্ছে তর্কের বিষয়”।

“সরকার ইতোমধ্যেই একটি গেজেট প্রকাশ করেছে। গোড়ার প্রশ্ন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কওমি মাদ্রাসার আদৌ রাষ্ট্রীয় বা সরকারী স্বীকৃতির দরকার আছে কি? যদি দরকারি থাকতো তাহলে বিএনপি-জামাতের আমলে আরো অনায়াসেই তা আদায় করে নেওয়া যেতো। তখন হয়নি কারণ সার্টিফিকেট পাবার ইস্যুকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে আওয়ামীলীগ ও কওমি মাদ্রাসার মিলন ঘটাবার রাজনৈতিক প্রয়জনীয়তা দেখা যায়নি। ক্ষমতাসীনরা এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে”।
(ঐতিহাসিক সন্ধি, চিন্তা, এপ্রিল ২২, ২০১৭)

যাক, তাহলে আওয়ামী সরকার গেজেট প্রকাশ করার পরে ফরহাদ মজহার ভাই প্রশ্ন তুলেছেন কওমি মাদ্রাসার আদৌ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দরকার আছে কি? তিনি বলছেন কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রির এই স্বীকৃতি দরকার আছে কি নেই সেই তর্কটা একটা “ইবলিসের তর্ক”। তিনি বলছেন, এই স্বীকৃতি কওমি আলেমদেরকে প্রকৃত মোমিনের পথ থেকে বিচ্যুত করবে। প্রকৃত রুহানিয়াতের আলো থেকে বঞ্চিত করবে। ইত্যাদি ... ইত্যাদি। খুব ভালো কথা। এবার তাহলে আসুন একটু ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরাই।

ফরহাদ মজহারের লেখা থেকে তুলে দেয়া টেক্সট এর শেষ অংশ টুকু দেখুন। তিনি বলছেন বিএনপি–জামাতের আমলে কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি আদায় করা হয়নি তাঁর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দোষটি ঠেলে দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের কাঁধে, এই বলে যে আওয়ামীলীগই নাকি এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে। আসুন এবারে ইতিহাস থেকে জেনে নেই।

সনদের স্বীকৃতিঃ কোথায় শুরু কোথায় শেষ?
কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি আজকের বাহাস নয়। গোপনে – প্রকাশ্যে মিলে কম করে হলেও এটা প্রায় ১২–১৩ বছরের একটা নেগোসিয়েশন। কওমি মাদ্রাসার তো একাধিক সমিতি রয়েছে, কওমি মাদ্রাসা গুলোর মাঝেও বহুদিন ধরে চলে আসা বিভক্তি – বিবাদ রয়েছে। এই বিভিন্ন সমিতির সবাই যে সনদের সমমর্যাদা চান, তা নয়। যারা সনদের স্বীকৃতি চান তাঁদের এই আন্দোলন চলছে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে। অর্থাৎ ২০০১ – ২০০৬ এই মেয়াদের সময় থেকেই কওমি মাদ্রাসার সংগঠনগুলোর সাথে সনদের সমমর্যাদা নিয়ে দেন দরবার চলছে। প্রকৃত ইতিহাস হচ্ছে বিএনপির সাথে কওমি মাদ্রাসাগুলো এক রকমের সমঝোতা করেও ফেলেছিলো, বিএনপির সেই সময়ের শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক কওমি মাদ্রাসাগুলোর সাথে একটা আপোষ-রফা করেছিলেন যে অদূর ভবিষ্যতে কওমি মাদ্রাসার সনদের সমমর্যাদা প্রদান করা হবে। এমনকি বিএনপি সরকার এ সংক্রান্ত একটি গেজেটও প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্বাস হচ্ছেনা? হ্যাঁ ভাই, এখানেই আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক বনেদিয়ানা ! “ডিম পাড়ে হাসে, খায় বাঘডাসে”। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি হচ্ছে বিএনপির রাজনৈতিক আইডিয়া যা পরে আওয়ামীলীগ হাইজ্যাক করে এবং আওয়ামীলীগই এই “চাল” টাকে সফলভাবে ব্যবহার করে। কওমি মাদ্রাসা ও বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতের পাঠানো দুটি ক্যাবল (মেইল) ফাঁস করেছে উইকিলিকস। জে এফ মরিয়ারটি যখন রাষ্ট্রদূত ছিলেন, সেই সময়ে, ২০০৯ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার উপরে তিনি দুটি রিপোর্ট মার্কিন প্রশাসনের কাছে পাঠান। তার পাঠানো একটি বার্তাতে দেখা যায় বিএনপিই প্রথম কওমি মাদ্রাসার সমিতিগুলোর সাথে আলোচনা করে, ‘দাওরা–এ–হাদিস” কে সমমর্যাদা দেয়ার এবং সেই সুবাদে কওমি গ্র্যাজুয়েটদের সরকারী চাকুরীতে আবেদনের পথ পরিস্কার করার কথাও বলা হয়েছিলো। আগ্রহীদের জন্যে মার্কিন দূতাবাসের সেই চিঠির সংশ্লিষ্ট অংশ টুকু পুরোটাই তুলে দিলাম। আর অধিক আগ্রহীদের জন্যে উইকিলিকসের ফাঁস করা দুইটি চিঠির লিংক এখানে (উইকিলিক্স এক এবং উইকিলিকস দুই)

“আব্দুল জব্বার এর মতে, বিএনপি সরকারের ২০০১ – ২০০৬ মেয়াদের শেষ কয়েক মাস আগে দেওবন্দি কওমি মাদ্রাসা গুলো তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট তিন জন এমপির মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরী করতে থাকে কওমি মাদ্রাসার দাওরাহ – এ – হাদিস ডিগ্রির স্বীকৃতির জন্যে। ফলশ্রুতিতে বিএনপির শিক্ষা মন্ত্রী ওসমান ফারুক জানান যে তাঁদের সরকার কওমি মাদ্রাসা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা শুরু করেছে তাঁদের দাবীটির প্রসঙ্গে। আলোচনাটি যথেষ্ট জটিল ছিলো, কিন্তু তবুও বিএনপি সরকার এক পর্যায়ে একমত হয় এবং একটি গেজেট প্রকাশ করে যে তাঁরা দাওরাহ – এ – হাদিস ডিগ্রীকে স্বীকৃতি দেবেন যেনো তাঁরা সরকার নিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় পদ গুলোতে চাকুরীর জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। কিন্তু সরকার কার্যত এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাচ্ছিলো না, সনদের স্বীকৃতি প্রশ্নে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা গ্রুপের বিভক্তির কারণে। পরবর্তীতে ২০০৭ – ২০০৯ এর কেয়ারটেকার সরকার এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেয়”। (অনুবাদ আমার)

বিএনপির এই উদোগ সফল হয়নি, কারণ তার আগেই ফখরুদ্দিন সরকার ক্ষমতা দখল করে ফেলে এবং বিএনপি সরকারের পতন ঘটে। ফখরুদ্দিন সরকারের অনীহার কারণে কওমি সনদের সমমর্যাদার বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি। দেখুন এখানে সেই একই রিপোর্ট থেকে ফখরুদ্দিন সরকারের মনোভাব বর্ণনা করা হয়েছে –

“মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ক যুগ্ম সচিব জনাব মোজাম্মেল হক এর বরাতে জানা যায় - বর্তমান সরকার (ফখরুদ্দিন সরকার) বেশ জোরের সাথেই মনে করে দাওরাহ – এ – হাদিস এর স্বীকৃতি বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী নন যদি না কওমি মাদ্রাসার নীচের দিকের শ্রেনীগুলোর শিক্ষাক্রমের মান বিষয়ে সরকারের শর্তগুলো পূরণ করতে না পারে”। (অনুবাদ আমার)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – কওমি আলেমরা যখন তাঁদের সনদের স্বীকৃতির জন্যে বিএনপির সাথে দেন দরবার করছিলেন, তখন আমাদের ফরহাদ মজহার ভাই কোথায় ছিলেন? তার কি তখন মনে হয়নি, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির দরকার নেই। তাঁর কি তখন মনে হয়নি বিএনপি কওমি আলেমদের কে ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করতে পারে? তাঁর কি তখন মনে হয়নি, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি কওমি আলেমদের ঈমান – আকিদা কে দুর্বল করে দেবে? নাকি বিএনপির সাথে চুক্তি করলে এসব হয়না? কেবল আওয়ামীলীগের সাথে চুক্তি করলেই কওমি আলেমরা রুহানিয়াতের আলো থেকে বঞ্চিত হয়?

দেখুন ফরহাদ মজহার তাঁর "চিন্তা"য় প্রকাশিত লেখাটিতে কি লিখছেন -

"প্রশ্ন হচ্ছে এহেন কওমি মাদ্রসা এখন আধুনিক ফ্যসিস্ট রাষ্ট্র ও জালম সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি চাইছে এবং পেয়েছে – এটাই গুরুত্বপূর্ণ বোঝাবুঝির জায়গা। এতে কওমি মাদ্রাসা তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করল কিনা সেটা প্রজ্ঞাবান আলেম-ওলামারা ভাববেন বলেই আমার বিশ্বাস"।

"রাজনৈতিক সমালোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। সেটা হল- এটা স্পষ্ট ক্ষমতাসীন সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে। সেটা হল বিএনপি ও অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলোকে আরও বিপর্যস্ত করা। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের জন্য সেটা ইতিবাচক না'কি নেতিবাচক? এটা স্পষ্ট যে ক্ষমতাসীনরা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সন্ধির মধ্য দিয়ে অন্যান্য ইসলামি আন্দোলন বা ধারা থেকে তাদের আলাদা করতে চাইছে। আগামি নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকদের ভোটব্যাংক হিসাবে পাবার ইচ্ছা এখানে অবশ্যই কাজ করছে।"

অর্থাৎ শেখ হাসিনার কাছে স্বীকৃতির দাবী করা কওমি মাদ্রাসার ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া। শেখ হাসিনা যখন কওমি মাদ্রাসার সাথে সম্পর্ক করেন তাঁর উদ্দেশ্য হয় ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করা, ইসলামী শক্তিগুলোকে বিভক্ত করা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু একই প্রশ্ন কি তিনি করেছিলেন যখন বিএনপি সরকার একই রকমের একটি গেজেট প্রকাশ করেছিলো কওমি সনদের স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে? ফরহাদ মজহার কি একই রকমের একটা বিরাট নিবন্ধ লিখেছিলেন কওমি মা্দ্রাসার ছাত্র ও আলেমদের উদ্দেশে, তাঁদেরকে ব্যাখ্যা করার জন্যে কোনটা সঠিক তর্ক আর কোনটা ইবলিসের তর্ক যখন কওমি নেতারা খালেদা জিয়া সরকারের সাথে দেন দরবার করছিলেন? আমি জানিনা তিনি লিখেছিলেন কি না, কেউ জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো। যদি তিনি সেই সময়েও আজকের মতো একই রকমের সরব হয়ে থাকেন, তাহলে সেই লেখাগুলোর পুনর্মুদ্রণ করা দরকার। দুর্ভাগ্য হচ্ছে তিনি বিএনপি আমলে এসব লেখেননি, কেননা তখন তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী মন চায়নি বিএনপি কে “ডিস্টার্ব” করতে। যদি তিনি একই ভাবে লিখে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি আমার ভুল স্বীকার করবো।


(ফরহাদ মজহারের মতে ধর্মকে খালেদা ব্যবহার করলে তা ইসলামী শক্তিকে বিভক্ত করেনা, ইসলামী গোষ্ঠীকে ভোটব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করা হয় না, কেবল শেখ হাসিনা করলেই এসব হয়। মজহারদের এই বদমাইশি গুলো বোঝা না গেলে, আওয়ামীলীগের চাইতে কখনও বিএনপিকে অনেক মহান মনে হবে আবার কখনও বা বিএনপির চাইতে আওয়ামীলীগ কে অনেক মহান মনে হবে। বাস্তবত দুটি দলই গনশত্রু। ফরহাদ মজহার এক গণশত্রুর হয়ে আরেক গনশত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসলামী "জোশ" ব্যবহার করছেন।)

আর যদি সেই সময় তিনি লিখে না থাকেন, তাহলে এখন কেনও লিখছেন? ফরহাদ ভাই, আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া্র সরকারের সাথে সনদের স্বীকৃতি নিয়ে দেন দরবার করলে কওমি আলেমদের জাত যায়না আর আওয়ামীলীগের সাথে চুক্তি করলেই জাত চলে যায়? আপনার নেত্রী যদি কওমি মাদ্রাসা কে ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করে তাতে যদি কোন সমস্যা না হয় তাহলে আওয়ামীলীগ করলে কি সমস্যা? আপনি নিজেই তো লিখেছেন ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার না করাটা আহাম্মকি, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার করার বিরুদ্ধে বলাটা নিতিবাগীশ বাকোয়াজগিরি আর চরম তামাশা। আপনার মতে রাজনীতিতে নীতিবিদ্যা চর্চা করার যায়গা নেই, তাহলে আওয়ামীলীগ হেফাজতের এই সন্ধি নিয়ে মায়া কান্না করছেন কেন? দেখুন তো আপনার এই বক্তব্যের সাথে আপনার আপত্তির জায়গা গুলো স্ববিরোধী কিনা?

”এটা ঠিক যে, সবার মতো শেখ হাসিনাও ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। তিনি বামপন্থীদের মতো আহাম্মক নন। তাকেও রাজনৈতিক তোষামদি দিয়ে প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জয় করতে হয়”।

”ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার, কিংবা ধর্মীয় শক্তিকে রাজনৈতিক তোষামদি দিয়ে জয় করার বিরুদ্ধে নীতিবাগীশ বকোয়াজগিরির চেয়ে চরম তামাশা আর কিছুই নাই। রাজনীতি নীতিবিদ্যা চর্চার জায়গা নয়"।

একদিকে আপনি কওমি আলেমদের বয়ানে প্রশ্ন তুলছেন, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি, হেফাজত কি এটা ঠিক কাজ করলো? আবার আপনিই লিখছেন, রাজনীতি কোন মান–অভিমানের জায়গা নয়। কাল যাকে নরুন মেরেছো, আজ তাঁর সাথে কিভাবে হাত মেলালে, টাইপের নাকি কান্না নয়। দেখুন আপনি কি লিখেছেন ! এটা কি স্ববিরোধীটা নয়? রাজনীতিতে যদি ফাঁপা অভিমানের জায়গা নাই'ই থাকে, তাহলে হেফাজত ঠিক কাজটিই করেছে, তাই না? দেখুন তো নীচে আপনার কথাটির সাথে হেফাজত বিষয়ে আপনার প্রত্যাশাটি স্ববিরোধী কিনা?

কাল যাকে মেরেছ, আজ তার সঙ্গে কিভাবে হাত মেলালে ধরনের দীর্ঘশ্বাসসমেত ফাঁপা অভিমান নয়। রাজনীতি'র ব্যবহারিক অর্থ রাজনৈতিক ক্ষমতা তৈরির জন্য সমাজে শক্তির ভারসাম্য বদলানোর কারিগরি”।

ফরহাদ ভাই, নাচতে নেমেছেন যখন, তখন বোরখাটা খুলে রাখুন। বোরখা পরে কি আর নাচ করা যায়? আপনার নেত্রীর রাজনৈতিক ফরমুলা হাইজ্যাক করেছে শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ, তাও আবার আজকে নয়, প্রায় এগারো বছর আগে। মনে করে দেখুন ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক ইসলামী ঐক্য জোটের সাথে আওয়ামীলীগের পাঁচ দফা চুক্তির কথা। যে চুক্তির সব কোটি শর্ত বর্তমান হেফাজতের তেরো দফার অন্তর্গত। যে চুক্তির অধীনে আওয়ামীলীগ ছয়জন ইসলামী জঙ্গীবাদী নেতাকে নির্বাচনে নমিনেশন দেয়। এই ছয়জনের মাঝে দুইজন ছিলো আফগান ফেরত তালিবান গেরিলা, মনে পড়ে? প্রফেসর আলী রিয়াজের পুস্তকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। সুতরাং, আওয়ামীলীগ বলেন আর বিএনপি বলেন, কওমি আলেমদেরকে এরা ব্যবহার করছে গত দুই দশক ধরে। সুতরাং ইতিহাস বলছে– আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই প্রথম শুরু করেছেন কওমি মাদ্রাসার সনদ নিয়ে রাজনীতি। আওয়ামীলীগ শুধু সময়মত আইডিয়াটি হাইজ্যাক করেছে মাত্র। আপনি নিজেই বলেছেন রাজনীতি নীতিবিদ্যা চর্চার জায়গা নয়, সুতরাং এই হাইজ্যাক কে আপনি অসৎ নীতিহীন বলতে পারবেন না।

আপনি বরং আপনার নেত্রীর সাথে কাজ করুন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিন, দরকার হলে বিএনপিতে যোগদানও করে ফেলতে পারেন, তাতে সন্দেহাতীত ভাবে, বিএনপি জেগে উঠবে। আপনি তো বাউল মানুষ, সঙ্গীত অন্তপ্রান মানুষ, আপনি জানেন, ঢাকটা বাজাতে হলে নিজের কাঁধে নিয়ে বাজানোটাই সুবিধাজনক, অন্যের কাঁধে ঢাক রেখে শুধুমাত্র কাঠি দিয়ে বাড়ি দিলে না হবে ঢাকের আওয়াজ, না হবে তাল–লয় রক্ষা। আপনার হয়েছে সেই দশা। আপনার এই দশামুক্তি ঘটুক।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর