নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাজ্জাদুল হক
  • শঙ্খচিলের ডানা
  • তাকি অলিক
  • ইকরামুল শামীম

নতুন যাত্রী

  • মোমিত হাসান
  • সাম্যবাদ
  • জোসেফ স্ট্যালিন
  • স্ট্যালিন সৌরভ
  • রঘু নাথ
  • জহিরুল ইসলাম
  • কেপি ইমন
  • ধ্রুব নয়ন
  • সংগ্রাম
  • তানুজ পাল

আপনি এখানে

আওয়ামী – হেফাজতঃ “এ ট্রু লাভস্টোরী” এবং ফরহাদ মজহারের আধ্যাত্মিক কান্নার মাজেজা ! পর্ব – ২


আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুণ

গৌরচন্দ্রিকা !
ফরহাদ মজহার কৃতী মানুষ। তাঁর কৃতিত্ব দৈনন্দিন আমলাতান্ত্রিক কৃতিত্ব না, তাঁর কৃতিত্ব সৃজনশীল, বিচিত্র এবং বহুমাত্রিক। তিনি পড়াশুনা করেছেন ফলিত বিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা ফার্মেসী বা ঔশুধবিদ্যা নিয়ে, মা্দ্রাসা বা কওমি মাদ্রাসায় নয়। পরবর্তীতে পেশাদার ফার্মাসিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন বিশ্ব পুঁজিবাদের হৃদপিণ্ড আমেরিকার নিউইয়র্কে, সেখানেই ডিসিপ্লিন বদল করে উচ্চতর পড়াশুনা করেছেন সমাজ বিজ্ঞানের ধারায়, পশ্চিমে মার্কসবাদ পড়েছেন পদ্ধতিগত ভাবে, বাংলাদেশে তাঁর মতো মার্কসবাদী পন্ডিত খুব বেশী নেই (অন্তত তাঁর মুরীদকূলের মতে)।সম্ভবত একযুগ পরে দেশে ফিরে এসে তিনি এনজিও ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন, সেখানেও তিনি সফল, উবিনীগ নামের এনজিওর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসাবে তিনি কর্মরত। সফল কবি হিসাবে তিনি স্বকীয় ধারায় উজ্জ্বল, এনজিও ব্যবসায়ী হিসাবেও তিনি সফল, প্রাকৃতিক কৃষির ধারনাটিকে ধীরে ধীরে তিনি জনপ্রিয় করে তুলছেন, এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্যে অবশ্যই ভালো। দেশে বহু বছর ধরে তিনি ছোটো-খাটো আকৃতির হলেও একটি নিবেদিতপ্রাণ ভক্তকুল বজায় রেখেছেন। তাঁর এই মুরীদকূল তাঁর মাঝে তাঁদের “সাঁই” এর সন্ধান পেয়েছেন।

এতো সাফল্যের মাঝেও যে একটি বিশেষ ব্যর্থতা এই ভদ্রলোককে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁর সারা জীবন ধরে, তা হচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পুরনের ব্যর্থতা। বহুবার বহুভাবে চেষ্টা করেছেন ফরহাদ ভাই, রাজনীতিতে “কিছু একটা” করার। কিন্তু হায় আল্লার দুনিয়ায় মাবুদ সবাইকে কি সবকিছু দেন? দেন না, সহজ সরল সাধারণ ধার্মিক মানুষেরা আল্লাহ্‌ মাবুদ যা দেন তাই নিয়ে সন্তুস্ট থাকেন, আল্লাহর শোকর গুজার করেন, বাকীটা পাবার জন্যে পরকালের অপেক্ষা করে। কিন্তু আমাদের ফরহাদ ভাইতো সাধারণ আর ধার্মিক মানুষ নন। তিনি পশ্চিমে পড়াশুনা করা মানুষ, বাউলের পোষাকে আপাদমস্তক এক নাগরিক মানুষ। পোষাকে বাউল মস্তিষ্কে নাগরিক, তাই রাজনীতির উচ্চাভিলাষ থেকে তিনি কখনই সরে আসতে পারেননি। তিনি কেবল একমাত্র মাবুদের দরদী আশেকান হয়ে জীবন কাটাতে চাননাই, তিনি ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চেয়েছেন। তাইতো সত্তর সালের দিকে তিনি সিরাজ শিকদারের দলে ভিড়েছেন। সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন আমেরিকায়। ফিরে এসে গঠন করেছেন ঐক্য প্রক্রিয়া। বামপন্থিদের ঐক্য প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হবার পর থেকে তিনি চেষ্টা করেছেন বড় দলগুলোর কাছাকাছি পৌছানোর। চেষ্টা করেছেন হাসিনার উপরে কাজ করার মধ্য দিয়ে। পরে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কাছাকাছি তিনি পৌছাতে পেরেছিলেন আর সব শেষে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই ইসলাম কায়েমের রাজনীতি, মুসলমানদের ঈমান আকিদা সংরক্ষনের নামে ক্ষমতার আরো কাছাকাছি যাবার রাজনীতি শুরু করেছেন। বড় দলের বড় রাজীতির কাছাকাছি যাবার জন্যে তাঁকে বড় রকমের হাদিয়া পরিশোধ করতে হয়েছে। বামপন্থি মহলের সাথে সম্পর্কছেদ, মুরীদানের একাংশের দলত্যাগ, সামাজিক ভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া আর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানল তো আছেই।

ফ্যাসিস্টের কাঁধে চড়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইঃ প্রসঙ্গ ফরহাদ মজহার ভাই !
বন্দনা শেষ করে প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ফরহাদ মজহার লিখছেন এভাবে

”আমি ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধী। তবুও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের আমি সব সময়ই প্রশংসা করেছি” !

”তাকে তারিফ না করা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। তার নিজের সমর্থক মতাদর্শিক শ্রেণী ও গোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে প্রথমে পাঠ্যক্রম এবং এখন কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির দাবি তিনি মেনে নিয়েছেন। দেবী থেমিসকে উচ্চ আদালতের প্রাঙ্গণ থেকে সরাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন”

বাহ বেশ ফরহাদ মজহার এই জাহেল সরকার শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন, কারণ তিনি এর পরেই বলেছেন, এই ইস্যুতে শেখ হাসিনার প্রশংসা না করাটা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। আর কে না জানে আমাদের ফরহাদ ভাইতো আর যাই হোননা কেনও, অন্তত বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে “অসৎ” নন। কিন্তু উপরের বাক্যটির শুরুতেই ফরহাদ ভাই কি বলছেন? তিনি ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাস্ট্রব্যবস্থার বিরোধী ! সত্যিই তাই কি? হ্যাঁ কথাটা হয়তো মিথ্যা নয়, কেননা কে না জানে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ফরহাদ ভাইএর অপূর্ব সব কবিতার কথা? কেনা জানে শুধুমাত্র কবিতা লেখার অপরাধে সামরিক শাসক এরশাদ তাঁকে দু-দুবার জেলের ভাত খাইয়ে ছেড়েছিলো? কবিতা না হলেও, শুধুমাত্র লেখার জন্যে তাঁর বর্তমান নেত্রী ম্যাদাম খালেদা জিয়াও তাঁকে জেলে পুরেছিলেন। সুতরাং, একথা ফরহাদ মজহারের শত্রুও অস্বীকার করবেন না। তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারী দলের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে দাড়িয়েছেন।

কিন্তু “ফ্যাসিবাদ” বলতে ফরহাদ মজহার আসলে কি বোঝেন? বা কি বোঝাতে চান? এই বিষয়টি তিনি কোথাও খুব পরিস্কার করে লিখেছেন কিনা মনে পড়ছেনা। আমি বলছিনা যে “ফ্যাসিবাদ” কি সেটা তিনি জানেন না। তিনি অবশ্যই জানেন, খুব ভালো করেই জানেন, কিন্তু তাঁর সেই বোঝাপড়াটা কি সেটা আমরা জানিনা। প্রচলিত অর্থে ফ্যাসিবাদ বলতে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থাকেই বোঝায়, যা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ডানপন্থী জাতীয়তাবাদ তাড়িত। আমার ধারণা ফরহাদ মজহার ফ্যাসিবাদের কর্তৃত্ববাদ বা অথরেটারিয়ান ভুমিকার কথাই বলে থাকেন সবসময়।


(কোনও সন্দেহ নেই, শেখা হাসিনার সরকার এবং বর্তমান আওয়ামীলীগ ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের শাসন কায়েম করেছেন আমাদের দেশে, এর বিরোধিতা করা সকলের দায়িত্ব)

বিরুদ্ধ মতামতের জন্যে মানুষকে জেলে ভরা ফ্যাসিবাদের নজির। কবিতা লেখার অপরাধে কবিকে জেলে ভরা ফ্যাসীবাদী নজির। পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া ফ্যাসিবাদী নজির। টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া ফ্যাসিবাদী নজির। কোনও ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার কেড়ে নেয়া ফ্যাসিবাদের নজির। এই রকমের আরো হাজারটা উদাহরন দেয়া যাবে। এবং এই সকল নজির ধরে নিলে, আওয়ামীলীগ সন্দেহাতীত ভাবে একটি ফ্যাসিবাদী দল এবং আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। যেকোনো সচেতন দেশপ্রেমিক মানুষেরই মাত্রই এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা দরকার। যেমন টা আমাদের ফরহাদ মজহার ভাই করছেন। কিন্তু পাঠক, ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে শেখ মুজিব থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা পর্যন্ত কোন শাসকটি ফ্যাসিবাদী ছিলেন না, বলতে পারেন?

শেখ মুজিব, সামরিক শাসক জিয়া, সামরিক শাসক এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা, কোন সরকারটি মানুষের মৌলিক অধিকার হরন করেনি? কোন সরকার মানুষকে স্বাধীন মতামতের জন্যে জেলের ভাত বরাদ্দ করেনি? খোদ ফরহাদ মজহারকেই জেলের ভাত খেতে হয়েছে তিন তিনবার।

কোলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা “দেশ” প্রথমবারের মতো নিষিদ্ধ হয়েছিলো খালেদা জিয়া প্রথম পর্বে ক্ষমতা নেয়ার পরপরই। তানভীর মোকাম্মেলের “স্মৃতি একাত্তুর” আর তারেক মাসুদের “মাটির ময়না” র সেন্সর আটকে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে খালেদা জিয়ার আমলে আর তানভীর মোকাম্মেলের “নদীর নাম মধুমতি” কে তো নিষিদ্ধ করা হলো, পরে ভদ্রলোক কোর্ট থেকে দুই বছরের মামলা লড়ে তা ছাড়িয়ে আনেন, এসব কি ফ্যাসিবাদী নজির? বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গড়ে ওঠা আনসার সদস্যদের বিদ্রোহ অত্যন্ত নির্মম ভাবে দমন করেছিলো খালেদা জিয়ার সরকার। বিডিআর জওয়ানদের হাতে নিহত হয়েছিলো তাদেরি সহোদর ভাই আনসার বাহিনীর সৈনিকেরা। এই কথাটুকু লেখার জন্যে ফরহাদ মজহার কে গ্রেফতার করেছিলেন তারই বর্তমান নেত্রী খালেদা জিয়া। এটা কি ফ্যাসিবাদী নজির ছিলো?

শুধুমাত্র "আওয়ামীপন্থী" হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের পথিকৃৎ একুশে টিভিত লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হয়। বাতিল করে দেয়া হয় চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী সাইমন ড্রিং এর ওয়ার্ক পারমিট। যিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানী বাহিনীর ভয়াবহতার সংবাদ সারা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন ১৯৭১ এ বিবিসির সাংবাদিক হিসাবে।শুধু তাইই নয়, সাইমন ড্রিং কে বাধ্য করা হয়, একুশে টিভিতে তাঁর শেয়ার বিক্রি করে দিতে এবং দেশ ছাড়তে। প্রতিষ্ঠানটির শত শত কর্মীদের পথে বসতে হয় চাকুরী হারিয়ে। পুরো বিএনপি আমলে একুশে টিভি আর জনসমক্ষে আসতে পারেনি। এটা কি ফ্যাসিবাদী নজির? আমাদের ফরহাদ মজহার ভাই কি এই সকল ফ্যাসিবাদী কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, তাহলে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথেই আবার গাঁটছড়া বেঁধেছেন কোন নীতিগত কারণে? বিএনপি কি এখন আর কোনও ফ্যাসিবাদী শক্তি নয়? আওয়ামীলীগ আমলে বিএনপি নির্যাতিত হয়েছে, হচ্ছে সেটা মানছি, কিন্তু তাতে কি বিএনপির রাজনীতি বদলে গেছে আমূল?

মানুষের মস্তিষ্কের দুইটি অংশ (লোব), ডান আর বাম। ফরহাদ ভাইয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনার একাংশের সঙ্গী বিএনপি আর আরেকাংশের সঙ্গী হেফাজতে ইসলাম, ইন্টারেস্টিং নয়?

(ফরহাদ মজহার ভাই হয়তো বলবেন, এটা ফ্যাসিবাদ নয়, এটা ঈমানী দায়িত্ব !)

এই হেফাজতে ইসলাম কি কোনও গণতান্ত্রিক শক্তি? এঁদের প্রধান জনাব আহমদ শফি প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা দেন, নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। এটা কি ফ্যাসিবাদী দাবী নয়? নাস্তিকদের কৃতকর্মের জন্যে দেশে প্রচলিত আইনে বিচার হতে পারে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠতেই পারে। নাস্তিকরা তো এমনিতেই সামাজিক ভাবে একঘরে তাই না? কিন্তু এই রকমের প্রকাশ্য হত্যার হুমকি কি ফ্যাসিবাদী নজির?

সারা দুনিয়াতে প্রায় দুই কোটি মানুষ আছেন, যারা এক আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, মুহাম্মদ কে নবী মানেন, কুরআন কে মুহাম্মদের উপরে নাজেল হওয়া গ্রন্থ হিসাবে স্বীকার করেন, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের প্রতিটিকে বিশ্বাস করেন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন ধারন করেন। এই রকমের একটি গোষ্ঠীকে রাস্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবী জানাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম, এটা কি ফ্যাসিবাদ নয়? জামাত – হেফাজত সহ ইসলামী দলগুলো কিছু দিন পর পর আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে, দফতরে হামলা চালায়, ভাংচুর করে, এগুলো কি ফ্যাসিবাদী নজির? হেফাজতে ইসলামের তেরো দফার মধ্যে কি কোনও ফ্যাসিবাদী দাবী আছে? কওমি মাদ্রাসার ছাত্র – শিক্ষকেরা যখন নাস্তিকদের হত্যা করার প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, সেটা কি ফ্যাসিবাদের নজির?

জানি ফরহাদ ভাই মার্কস - এঙ্গেলস থেকে তাড়া তাড়া রেফারেন্স দিয়ে দেখিয়ে দেবেন, প্রকাশ্য জনসভায় কাউকে হত্যা করার ঘোষণা কোনও ফ্যাসিবাদী দাবী নয়, বরং এটাই হয়তো সবচাইতে নৈতিক দাবী এই মুহূর্তে।

এক অর্থে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি নাগরিক ফ্যাসিবাদ বিরোধী ভুমিকা রেখেছেন। কখনও শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে, কখনও জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া আর এখন হাসিনার বিরুদ্ধে। নির্মম সত্যি হচ্ছে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এই জনগন প্রতিবারই প্রতারিত হয়েছেন। কখনও খালেদা জিয়ার কাছে, কখনওবা শেখ হাসিনার কাছে। জনগনের সাথে প্রতারনার ইতিহাসে খালেদা – হাসিনার মাঝে কোনও তফাত নেই। তফাত শুধু পরিমানগত, কে কত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেছেন তার উপর ভিত্তি করে।

এবার দেখুন ফরহাদ ভাই, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের কি করা উচিৎ সেই বয়ান পেশ করছেনঃ

”বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা। একইসঙ্গে এই ঐক্যকে দিল্লির আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানো”

এই পরামর্শে ফরহাদ ভাইয়ের “জনগন” হচ্ছে বিএনপি, জামাত, হেফাজত, ইসলামী ঐক্যজোট। ফরহাদ মজহার ভাই, এক ফ্যাসিস্ট শক্তির কাঁধে ভর দিয়ে আরেক ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগনকে ডাকছেন।জনগন তো সাড়া দেয়ইনি, বরং মিত্র হেফাজত এ ইসলাম ও চলে গেছে আওয়ামীলীগের ঘরে। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের কাঁধে বসে, কাজের কাজ বলতে ফরহাদ ভাই ও তার শিষ্যরা করেছেন নাস্তিকদের গালিগালাজ - খিস্তিখেউড়। নাস্তিকদের কে ইসলাম বিদ্বেষী ট্যাগ দিয়ে জনগনের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এই চেষ্টা তো সফল হবে কি? হয়েছে কি? হেফাজতে ইসলামের আওয়ামীলীগের ঘরে চলে যাওয়া কি প্রমান করছে? বাংলাদেশে নাস্তিকেরা কোনোদিনও খুব বিরাট কোনও শক্তি ছিলোনা, এখনও নেই, আগামীতেও হবেনা। সুতরাং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের কাঁধে চড়ে নাস্তিকদের গালিগালাজ করে আর যাইহোক, আওয়ামীলীগের মতো বনেদী ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া যাবেনা।

বরং আপনি ফ্যাসিবাদীদের কাঁধ থেকে নামুন, স্বাধীনভাবে কবি ফরহাদ মজহার (কিম্বা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের ভাষায় “মুসলমান কবি”) কিম্বা মার্কসবাদী ফরহাদ মজহার কিম্বা লালন ভক্ত ফরহাদ মজহার কিম্বা নিতান্তই নয়া কৃষি আন্দোলনের ফরহাদ মজহার হয়ে আসুন। হেফাজতের পেছনে দেদার সময় ব্যয় করার পরেও হেফাজত আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে, ফ্যাসিবাদের রঙ্গীন দরবারে, কিন্তু সত্যিকারের ফ্যাসিবাদ বিরোধী মানুষ আপনার সাথে থাকবে। দেখুন আপনি নিজেই কি লিখেছেন –

”প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের এই নতুন সম্পর্ক ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করার শর্ত তৈরি করতে পারে কি? হ্যাঁ পারে।

(বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে দাগী ফ্যাসিবাদী একনায়ক এরশাদের সাথে হেফাজত প্রধান আল্লামা শফি আহমদ। এরশাদ ক্ষমতায় থাকলে হয়তো এই মোলাকাতটি হতো বঙ্গভবনে।)

ফরহাদ ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন, হেফাজতের সাথে এই সন্ধি যদি আওয়ামীলীগের শাসন কে আরো দীর্ঘ হতে সহায়তা করে, তাহলে কি হেফাজত কে ইতিহাসে ফ্যাসিবাদের দোসর বলা যাবে? হেফাজতে ইসলামী তার চরিত্রগত ভাবেই একটি ফ্যাসিবাদী শক্তি, কিন্তু আমরা জানি আপনার সেই সৎ সাহস নেই তা বলার। অন্তত সাহস করে বলুন, হেফাজত এখন ফ্যাসিবাদের দোসর।

(অশুভ শক্তির ঐক্য খুব দ্রুত হয় এবং দারুন মিষ্টি হয়, মধুচন্দ্রিমার মতো। কিন্তু ইতিহাসে তাঁরা অশুভ হিসাবেই চিহ্নিত থাকে। দেখুন ফ্যাসবাদীদের ঐক্যের ছবি।)

ফ্যাসিবাদের কাঁধে চড়ে আরেক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়না। আপনার মতো পন্ডিত মানুষকে এই কথা বলতেও আমার শরম লাগতেছে ফরহাদ ভাই।
(চলবে)

Comments

মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
 

সাধুবাদ পলাশ.. দারুণ ছন্দময় গদ্য..

ড. মঞ্জুরে খোদা

 
 

ভালো ও তথ্যবহুল লেখা। ধন্যবাদ

 
মোমিনুর রহমান মিন্টু এর ছবি
 

দারুন লিখা। অনেক কিছু জানা হলো।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 5 দিন ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর