নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 12 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌমেন গুহ
  • আগুনখোর আঁতেল
  • আমি অথবা অন্য কেউ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আরমান অর্ক
  • সুবিনয় মুস্তফী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • সুমিত রায়
  • মিশু মিলন
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • অন্নপূর্ণা দেবী
  • অপরাজিত
  • বিকাশ দেবনাথ
  • কলা বিজ্ঞানী
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • সাবুল সাই
  • বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
  • মাহফুজুর রহমান সুমন
  • নাইমুর রহমান
  • রাফি_আদনান_আকাশ

আপনি এখানে

কল্পনা চাকমা থেকে রমেল চাকমা বনাম- বাংলাদেশ


পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন। পাহাড় পর্বতে ঘেরা অপূর্ব প্রকৃতিক সৌন্দর্য্যে র লীলাভূমিরর এই অঞ্চলেরর সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা ভিড় করে নিয়মিত। কিন্তু কেউ খবর রাখে না এই অঞ্চলের উপজাতিদের খবর রাখে না সেনাবাহিনী-বাঙ্গালি সেটালার কর্তৃক নিপীড়িত নির্যাতিত আদিবাসীদের করুণ ইতিহাসের।

সেনাবাহিনী কর্তৃক এই আদিবাসীদের হত্যা, ধর্ষণ, গ্রেপ্তার, হয়রানি, সেনা হেফাজতে শারীরিক অত্যাচার, সামরিক কর্মকর্তা ও সেটলারদের ভূমি দখলের খবর যেমন কেউ রাখে না তেমনি তাদের এই অত্যাচার নিপীড়নের খববের কথা কখনোই আসে না মিডিয়ায়। মিডিয়ার ‘ব্ল্যাক আউট’ এবং ‘সেন্সরশিপ’-এর অন্ধকারে পাহাড়ের খবর কখনোই পাইনি আলো দেখা।

কল্পনা চাকমা থেকে রমেল চাকমা চলছে সেনাবাহিনীর কর্তৃক আদিবাসীদের উপর ত্রাসের রাজত্ব।

রাঙামাটি জেলার নান্যাচর উপজেলার পূর্ব হাতিমারা গ্রামের কান্তি চাকমার ছেলে, ডানচোখে দেখতে না পাওয়া আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রোমেল চাকমা ছিল এবারের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র দূরে হওয়ায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন নান্যাচর উপজেলা পরিষদ এলাকায়। ২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিলেন।

৫ এপ্রিল পরীক্ষা না থাকায় রমেল চাকমা তরিতরকারি ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে নান্যাচর বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে আনুমানিক সকাল ১০টার সময় সেনাবাহিনীর নান্যাচর জোনের মেজর তানভির-এর নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য তাকে আটক করে টেনে হিঁচড়ে জোনে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর দিনভর তার উপর অমানুষিকভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। দিনভর এই অমানুষিক নির্যাতনের ফলে রমেল চাকমা গুরুতর অসুস্থ ও অজ্ঞান হয়ে পড়লে সেনা সদস্যরা সন্ধ্যায় তাকে থানায় হস্তান্তরের চেষ্টা করে। কিন্তু থানার কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর সেনারা তাকে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করাতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানে ভর্তি না করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের পরামর্শ দেয়।

সেনারা সেদিনই তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সেনা নজরদারি ও পুলিশী পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল মারা যান পিসিপির এই নেতা।

এদিকে সেনাবাহিনীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে রমেল চাকমাকে গ্রেফতার করা হয় । পরে রমেল চাকমা বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের প্রহরায় মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রমেলের মৃত্যুর বিষয়ে একটি বেসরকারি অনলাইন পত্রিকার জিজ্ঞাসায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, একটি ট্রাক পোড়ানো ও দুটি বাস লুটের মামলার ওই আসামিকে গত ৫ এপ্রিল আটক করা হয়েছিল। সেদিনই তাকে নানিয়ারচর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
“পুলিশের হেফাজতেই সে চিকিৎসাধীন ছিল। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মৃত্যুর বিষয়টি ঠিক নয়, এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ,” বলেন এই সেনা কর্মকর্তা।

রমেল চাকমার মৃত দেহ পরিবার কে দিয়ে আবার পুনরায় পরিবার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আজ এই সেনাবাহিনী পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। সুযোগ দেয়নি আন্তস্টক্রিয়ার।

১৯৯৬ সালের ১১ জুন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির গভীর রাতে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের হিল উইমেনস ফেডারেশনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ছিলেন কল্পনা চাকমাকে । সেনাসদস্যরা অপহরণ করেছিল তাকে। আজ অবদি মেলেনি তার খোঁজ মেলনি বিচার।
কল্পনা চাকমা রমেল চাকমাদের অপরাধ পাহাড়িদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার ছিল। সোচ্চার ছিল অত্যাচারী এই সেনাবাহিনীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ৩১ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের কথা থাকলেও পাহাড়িদের ভাগ্যে মেলেনি এই অধিকারের সুযোগ।

সেনাবাহিনী কর্তৃক পাহাড়িদের খুন ধর্ষণ অত্যাচারের এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দেশ আজ ৭১ এর পাকিস্তানকেও হার মানিয়েছে। সেনাবাহিনী আজ যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে এই পাহাড়ি আদিবাসীদের উপর।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের উপর বিচার বহির্ভুত এই অত্যাচার খুন ধর্ষণ শুরু ১৯৭৯ সাল থেকেই।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান সরকার কাউন্টার ইনসার্জেন্সির পদক্ষেপ হিসাবে বাঙালি পুনর্বাসন শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ৪ লাখ বাঙালি পাহাড়ে পুনর্বাসন করেছিল, যাঁদের ‘সেটলার’ বলা হয়৷ শান্তি বাহিনীর গেরিলা আক্রমণ ঠেকাতে সেটলারদের ‘মানব ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে শান্তিবাহিনীর যুদ্ধকে জাতিগত সংঘাতে রূপ দেওয়া হয়েছিল সেটলারদের মাধ্যমে৷ দু’টি জনগোষ্ঠীকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল ৷ ভিডিপি ও আনসার বাহিনীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল সেটালারদেরকে ৷ আদিবাসীদের উপর প্রতিটা আক্রমণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে সেনাবাহিনী৷

পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসার কথা ছিল৷ কিন্তু চুক্তির পর জেএসএস (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি) গেরিলা যুদ্ধ থেকে নিরস্ত হলেও, থামেনি সেনাবাহিনী কর্তৃক এই অত্যাচার।

চুক্তিপরবর্তীকালে পার্বত্য অঞ্চলকে আদিবাসীদের জন্য ত্রাসের জনপদ বানাতে সেটলারদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী৷ যেমন সেটলারদের সংগঠন ‘পার্বত্য বাঙালি সমঅধিকার আন্দোলন’ ও ‘পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ’ গড়ে তোলা, পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটা বাতাবরণ তৈরি করে রাখা ইত্যাদি৷ যে জেলা গুলোর উপজেলাতে একটি স্কুল খুঁজে পাওয়া দায় সেখানে বাঙ্গালি সেটেলমেন্টের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া আদিবাসীদের তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা এখন প্রতিদিনের সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

আইনবহির্ভূতভাবে সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে৷ যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, হয়রানি, সেনা হেফাজতে শারীরিক অত্যাচার ও মৃত্যু প্রতি বছর বাড়ছে৷ সামরিক কর্মকর্তা ও সেটলারদের ভূমি বেদখলের ফলে আদিবাসীরা প্রান্তিকতার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে৷ সেনা-সেটলার কর্তৃক আদিবাসী নারীদের ধর্ষণের পরিসংখ্যান প্রতি বছর বেড়েই চলেছে।

সেনাবাহিনী রাষ্ট্রচরিত্রকেই ধারণ করে৷ ২০ বছর আগে পার্বত্যচুক্তির মাধ্যমে আদিবাসী জুম্মরা গেরিলা যুদ্ধ থামিয়েছে বটে, কিন্তু সেনাবাহিনী আজও যুদ্ধ থামায়নি৷ সেই জেনারেল সাহেবের আদেশ যেন আজও মেনে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী৷ কিন্তু তখন জুম্মদের পক্ষে লড়াই করার জন্য শান্তি বাহিনী ছিল, আজ আর কেউ নেই।

আল আমিন হোসেন মৃধা
লেখক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

Comments

রিপন চাকমা এর ছবি
 

প্রথমে উপজাতি,পরের প্যারা থেকে আদিবাসী! হয়ে গেল লেখকের সেন্স নিয়েই প্রশ্ন থেকে গেল।

dk

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আল আমিন হোসেন মৃধা
আল আমিন হোসেন মৃধা এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 11:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর