নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শহরের পথচারী
  • দীব্বেন্দু দীপ
  • অলীক আনন্দ
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • তা ন ভী র .
  • কেএম শাওন
  • নুসরাত প্রিয়া
  • তথাগত
  • জুনায়েদ সিদ্দিক...
  • হান্টার দীপ
  • সাধু বাবা
  • বেকার_মানুষ
  • স্নেহেশ চক্রবর্তী
  • মহাবিশ্বের বাসিন্দা

আপনি এখানে

আওয়ামী লীগ- হেফাজত কোলাকুলি শুধুই ভোটের খেলা নয়, এর পেছনে চেতনাগত নৈকট্যও আছে!


২০০১ এ পরাজয়ের পর ২০০৮এ ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ একের পর এক প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনার ইসলামী নামকরণ করতে থাকে। এতে করে দুদিক থেকে ফায়দা। এক. বিএনপি-জামাতের চেয়েও তারা বেশি ধর্মপ্রাণ সেটা প্রমাণ করা। দুই. প্রতিষ্ঠান আর স্থাপনাগুলোর নাম দেশের বিশিষ্ট ইসলামী পীর-বুজর্গদের নামে নামকরণ হওয়ায় আপামর ধর্মপ্রাণ মানুষও তাদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ না ভেবে ধর্মপ্রাণ মুসলিমই ভাবেন। আর এটাই আওয়ামী লীগের কাঙ্খিত ছিল। আওয়ামী লীগ যে ঘোষিত ইসলামী দল জামাতে ইসলামী আর নিজেদের ‘ইসলামের ঠিকাদার’ ভাবা বিএনপি’র চেয়েও বেশি ইসলামপ্রিয় এবং ধর্মপ্রাণ সেটা প্রমাণিত! এতে তাদের ঐতিহ্যের কোনো বত্যয় তো নয়ই বরং তারা এ নিয়ে গর্বিত!

এই অভিনব রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক নেয় ২০১৩ সালে। জামাত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন সাজা হলে শাহবাগে তরুণ সমাজ ফুঁসে ওঠে। শুরু হয় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দীর্ঘ এক অবস্থান আন্দোলন। এই আন্দোলনটি একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্ভব। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে না, অথচ চূড়ান্ত বিচারে রাষ্ট্রেরই বিরুদ্ধে।

শাহবাগ আনদেোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে এটা তাদেরই সুকীর্তির ফসল। বিএনপি প্রথমে চুপ থেকেছে। পরে বলেছে এটা সরকারের বিরুদ্ধে গণরোষ। এবং শেষে যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি থেকে টার্নআউট করে আন্দোলন জামাত নিষিদ্ধে ঠেকেছে তখন বিএনপি এবং তার পোষ্য চাটুকার সংবাদপত্র ‘নাস্তিক ইস্যু’ নিয়ে হাজির হয়েছে। রাতারাতি শাহবাগের আন্দোলনরতা হয়ে গেছেন ধর্মবিরোধী ‘নাস্তিক’! এমনিতেই এই রুটলেস মুভমেন্টে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অংশগ্রহণ ছিলনা, তার উপর এই নাস্তিক ইস্যূটা ‘বাজার পাওয়ার পর’ ধীরে ধীরে আন্দোলনে জনসমাগম কমতে থাকে। আসলে সরকারের ভেতরেই শাহবাগ তথা নাস্তিকবিরোধীতা তীব্র হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে ঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হয় রাজীব হায়দার নামক ব্লগারকে।

এরর পরের দৃশ্যাবলী একেবারেই প্যাটার্ণমাফিক। শেখ হাসিনা রাজীব হায়দারের লাশ দেখতে গেলে দেশজুড়ে ইসলামপন্থীরা সরব হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রীকেই তীরষ্কার করা হয়। তিনি এর পরেই একেবারে স্পিকটি নট হয়ে যান। এই শাহবাগকে কাউন্টার করতে পয়দা হয় হেফাজতে ইসলাম। তারা ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্তরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে কার্যত ঢাকাকে অচল করে দেয়। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে তাদের উৎসাহ এতটাই বেড়ে যায় যে তারা সরকারকেই এক রাতের আলটিমেটাম দিয়ে বসে।

হেফাজতের ১৩ দফা দাবী মেনে নেয়ার বাস্তবতা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন- ‘আমরা মদীনা সনদের ভিত্তিতে দেশ চালাব, যা ১৩ দফার সঙ্গে সাংঘর্ষিক তো নয়ই বরং অধিকাংশে ১৩ দফারই বাস্তবায়ন।‘ নিজেদের নেতা-কর্মী ছত্রভঙ্গ, গ্রেপ্তার হলেও প্রধামন্ত্রীর ওই আশ্বাসের পর পরই হেফাজত আশ্বস্ত হয়। এর পর একে একে হত্যা করা হয় ছয় জন ব্লগারকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ধর্মের বিরুদ্ধে কুৎসা লিখেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর কখনো ‘আনসার আল ইসলাম’, কখনো ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’, কখনো ‘আল কায়দা উপমহাদেশ শাখা’র নাম আসে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পরই সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজন কিছু গৎ বাঁধা বক্তব্য দিয়ে দায় সারেন। সরকারের দায়িত্বশীল লোকজন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলতে থাকেন- ধর্ম বিরোধী লেখালিখির কারণে তাকে হত্যা করেছে। এর পর পরই সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সমস্বরে প্রতিদিন নিয়ম করে লেখালিখির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকেন। প্রতিদিনই কেউ না কেউ লেখালিখির জন্য হুশিয়ারী দিতে থাকেন। এর ফলে হত্যাকারীরা ‘ব্রেক’ লাভ করে। এভাবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে সরকারের পক্ষে, বিরাট অংশের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে বৈধ্যতা দেয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নাম কা ওয়াস্তে কিছু পুলিশি অ্যাকশন দেখিয়ে তারপর ফাইল ধামাচাপা। এরই মধ্যে সরকারের তরফে নিয়মিত বলা হচ্ছে- আইন তার নিজ গতিতে এগুচ্ছে।

ইত্যবসরে ‘নাস্তিক ট্যাগধারী’ অনেকেই নিরাপত্তার জন্য দেশ ছেড়েছেন। সরকার ক্রমান্বয়ে মৌলবাদের পেটের ভেতর চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন আর সরকারের নিরাপত্তায় ভরসা পাচ্ছেন না। সরকারও গোঁড়াপন্থীদের তুষ্ট করার নীতিতে মুক্তচিন্তা, বিজ্হানমনষ্কতা এবং প্রগতিশীলতাকে কটাক্ষ করেছে, প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকার যত বেশি এই কাজটি করেছে তত বেশি করে অসহায় নিরস্ত্র মানুষগুলো হত্যাকারীদের টার্গেট হয়েছে। বেঁচে থাকা মানুষগুলো হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন এই সরকার যে একজন প্রগতিশীল মানুষকেও রক্ষা করবেনা, বরং হত্যাকারীর চাপাতির তলে ঠেলে দেবে। শুরুতেই যে আওয়ামী লীগের ধর্মাশ্রয়ী দলে টার্ন আউটের সূচনা দেখানো হয়েছিল সেটাই এখনকার কোটি টাকার প্রশ্ন-

কেন আওয়ামী লীগ চার মূল নীতির সাথে বেঈমানী করছে? কেন আওয়ামী লীগ সংসদে সর্বকালের রেকর্ড নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও ধর্মবাদী দলগুলোর হুমকিতে বিচলিত হয়ে এক সময়কার প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করছে? কেন সব দিক থেকে অটল অবস্থানে থেকেও ক্ষুদ্র শক্তির হামলাকারীদের ভয়ে ভীত হয়ে দেশের চরম সর্বনাশ করতেও পিছপা হচ্ছে না? কেন দেশটাকে সন্ত্রাসের চারণভূমি হয়ে ওঠায় সহায়তা দিচ্ছে? কেন আন্তর্জাতিক সতর্কবাণী উপেক্ষা করে ক্রমাগত অনন্ধকার গহব্বরে পতিত হতে চাইছে? যে শত্রুরা তাদের নেত্রীকে আঠারো বার হত্যা করার জন্য হামলা করেছে, সেই শত্রুদেরকেই কেন তারা ‘উম্মা’ ভেবে নিজেদের তথা দেশের সর্বনাশ ডেকে আনছে? এই প্রশ্নগুলো দুরকম উত্তর হয়।লীগের প্রতি ‘সফট’ কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এটা আওয়ামী লীগের একটা ‘স্ট্যান্টবাজী’। ভেতরে ভেতরে ঠিকই তারা ধর্মনিরপেক্ষ, কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠি যেহেতু ধর্মপ্রাণ মুসলিম, তাই তাদের অনুভূতির কথা মাথায় রেখে এমন ‘কৌশল’ নেয়া হয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন- শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ বাস্তব অবস্থার সঙ্গে তাল রেখেই পরিবর্তীত হয়েছে। সুতরাং যুগের সঙ্গে তাল রেখেই ধর্মপ্রাণ মানুষের পক্ষে থাকা। সাধারণের কাছে এটা প্রমাণিত হবে যে আওয়ামী লীগই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের হেফাজতকারী! এই সকল সম্ভবনাগুলো মাথায় রেখেও আরেকিট নিরেট সম্ভবনা রয়েছে এসবের পেছনে। সেটাই আসল কারণ।

এই ‘কৌশল’, ‘পদক্ষেপ’, ‘নীতি’ যা-ই বলি না কেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে নিরেট স্বার্থ বাস্তবতা। নির্ভেজাল নির্বাচনী স্বার্থ। ভোটের রাজনিততে নীতি-আদর্শের বালাই রাখেনি হালের গণতন্ত্রিরা। ভোটে জেতার জন্য হেন জটিল-কুটিল কৌশল নাই যা প্রয়োগ হয়না। এমন কূটকৌশল নেই যা গৃহিত হয়না। মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি আর ভূল করবেনা। বর্তমান সরকারের অধীনে হলেও তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। অংশ নেবে জামাতও। জামাতের মূল দল নিষিদ্ধ হলে ভিন্ন নামে ভিন্ন নীতি আদর্শে, ভিন্ন কৌশলে তারাও নির্বাচনে লড়বে। অর্থাৎ ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেয়ার সুযোগ থাকছে না। সে সময় যদি এই হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট বা ইসলামপছন্দ দলগুলো এবং সাধারণ ধর্মভীরু মানুষগুলো ‘ধর্মহীনের’ (ধর্মনিরপেক্ষ) দল বা ‘নাস্তিকের’ (মুক্তচিন্তার পক্ষের) দল বলে মুখ ফিরিয়ে নেয়! তাহলে তো আম-ছালা সবই যাবে! আর একবার ক্ষমতার মসনদ থেকে নেমে গেলে বিগত বছরগুলোর প্রত্যেকটা হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় নেয়া হবে, তখন? তখন কী উপায় হবে? এটাই হল মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের অন্যতম ভীতির কারণ।

ভোটারদের তুষ্ট রাখা? তাই যদি হয় তাহলে প্রশ্ন আসে এর আগে আওয়ামী লগি যতবার নির্বাচনে জিতেছে, কাদের ভোটে? তারা কি এই ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠি? নাকি নিজস্ব ভোটব্যাংক? অথবা সাধারণ মিশ্র শেণি আর মিশ্র ধর্মের মানুষ? উত্তর যদি হয় ‘দ্বিতীয় দল’, তখন সম্পূরক প্রশ্ন ওঠে- ভোটব্যাংকই যদি জেতায় তাহলে মৌলবাদী শক্তির কাছে নতিস্বীকার কেন? এর উত্তর হল- ভয়। সিম্পলি ভয়।

এইসব অকৌশল মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী গত বছর পহেলা বৈশাখে বলেছিলেন-‘আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি নোংরা কথা লেখে, সেটা কেনো আমরা বরদাশত করবো?’

‘ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তারা মুক্তচিন্তার ধারক! কিন্তু আমি এখানে কোনও মুক্ত চিন্তা দেখি না। আমি দেখি নোংরামি।’
‘এত নোংরা নোংরা কথা কেন লিখবে? আমি আমার ধর্ম মানি, যাকে আমি নবি মানি তার সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে সেটা কখনোই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের যারা তাদের সম্পর্কে কেউ কিছু লিখলে তাও কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। যারা এগুলো করে তা তাদের সম্পূর্ণ নোংরা মনের পরিচয়, বিকৃত মনের পরিচয়। এসব লেখার জন্য কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় সরকার নেবে না (বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ১৪.০৪.২০১৬)।‘

এই পর্যন্ত দাবী করার পর তারা থেমে যাননি। এর পরই বলেছেন ‘আসল’ কথাটি। তারা বলেছেন-

“জাহেলি নাস্তিক্যবাদী ও কমিউনিস্ট শক্তি পাঠ্যসূচি থেকে ধর্মীয় ও নৈতিকতানির্ভর অনেক নিবন্ধ ও কবিতা বাদ দিয়ে কৌশলে জাতিকে ধর্মহীন করার এবং প্রগতি, আধুনিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইসলামবিনাশী, বিজাতীয় অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মবিমুখ করার ষড়যন্ত্র করছে।“

হেফাজতিরা এখানেই থামেনি। এটা কি আওয়ামী লীগ জানত না? আলবত জানত। তার পরও তাদের ‘সখ’ হয়েছে ‘সাপের’ ল্যাজ দিয়ে কান চুলোকাতে। তারা আগামী ভোটের হিসেব-নিকেশ এখনই করে রাখতে চায়। সারা দেশের মানুষ তাদের স্বাভাবকি বোধ-বুদ্ধি দিয়ে যখন বুঝতে পারছে এতকিছু সুযোগ-সুবিধে, চোব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় পাওয়ার পরও, ত্রিশ কোটি টাকার জমি মুফতে পাওয়ার পরও তাদের একটি ভোটও আওয়ামী লীগের বাক্সে পড়বে না। অথচ এই সহজ-সরল সমীকরণটি আওয়ামী লীগ বা মহাজোট বুঝতে চাইল না। তাই ‘চাহিবা মাত্র বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’ নীতিতে হেফাজতের দাবী অনুযায়ী প্রথমে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন করে পাঠ্যসূচির ‘ধর্মীয়করণ’ করা হয়েছে, তার পর একে একে বাল্যবিবাহ আইন পাশ, ভাস্কর্য অপসারণ, কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিকে সরকারী স্বীকৃতি দেয়া, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিষিদ্ধকরণ (পরে সংক্ষিপ্তাকারে), সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার বিস্তৃতি এবং সর্বশেষ বর্ষবরণ সংক্ষিপ্তকরণ।

দেশের সাধারণ মানুষও এটা জানে হেফাজতের দাবী এখানেই শেষ হবে না। এর পর দাবী উঠবে- নারীরা ঘরে আবদ্ধ থাকবে, রেডিও-টিভিতে ‘বে-আদত’ গান-বাজনা করা যাবে না। এবং সর্বশেষ তাদের ‘প্রিয়’ নারী নেত্রী হারামকরণ। এর আলামতও তারা দেখিয়েছে। সেটা দেখেও না দেখার ভান করলে কার কি করবার আছে? যদিও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, “হেফাজত আজকে যেভাবে বলছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নয়, মনে হচ্ছে এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র।” তার পরও আমাদের শঙ্কা হয়, শেষ সবকিছুই এই আসকারার হাত ধরে নিষিদ্ধ হবে বা বহাল হবে।

যে আলেম-ওলামায়ে কেরামগণকে ‘বশে’ রাখার জন্য আওয়ামী লীগ তার অতীত ঐতিহ্যকে পর্যন্ত ছুঁড়ে ফেলে একের পর এক দেশের সব কিছুকে ইসলামীকরণ করতে চাইছে। যে ইমাম-মাশায়েখদের ভয়ে আওয়ামী লীগ বিগত চুয়াল্লিশ বছরের মোটামুটি লিবারেল শিক্ষানীতিও মাদ্রাসার অনুসরণে ইসলামীকরণ করতে ঘোষণা দিয়েছে। যে ধর্মভীরু ভোটারদের ভোট পাওয়ার আশায় তাদের অস্ফূট দাবীকেও বিশাল গুরুত্ব দিয়ে একপ্রকার অযাচিতভাবে পহেলা বৈশাখে মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি আর প্রগতিশীলতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতেও পিছপা হলেন না প্রধানমন্ত্রী, সেই ইসলামী দলগুলো তার ভূয়সী প্রশংসা করলেও ওই শেষ কথাটিও বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ তারা তাঁকে (প্রধানমন্ত্রীকে এবং তার সরকারকে) বিশ্বাস করেনা। এই অপশক্তি একটু সুযোগ পেলেই সরাসরি আওয়ামী লগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। এরা এখন যেটুকু পেয়ে সন্তুষ্টু হয়েছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ, আসলে তারা মোটেই এতটুকুতে সন্তুষ্টু নয়। তাদের আকাঙ্খা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। ইসলামী হুকুমত। শরীয়া আইন। সেসব কায়েমের জন্য আওয়ামী লীগ ‘যথাযথ’ যোগ্য দল হলে সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে ‘ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম’ হলেও সমস্যা নেই। এবং সেটা ভেবেই এক সময়কার চার মূল নীতির আওয়ামী লীগ এখন ব্লাসফেমি আর শরীয়া আইন জারি করার ‘যোগ্য’ হয়ে উঠতে চাইছে। আর যদি আওয়ামী লীগ কোনো কারণে ‘যোগ্য’ না হয় তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা দখল করতে চাইবে। কেননা তাদের চাওয়ার বহর ক্রমান্বয়ে বাড়বে। সেক্ষেত্রে তাদের শুরু করা ‘গৃহযুদ্ধ’ ঠেকানোর ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হবেনা। আওয়ামী লীগ তখন হাত বাড়াবে অন্যান্য সেক্যুলার বা আপাতঃ গণতন্ত্রী দলগুলোর দিকে। যাদেরকে এখন তারা উকুনের মত টিপে টিপে মারছে! তারা যদিও খুব শক্তিশালী নয়, তবুও তাদেরকেই একটা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কেননা সরকারের ইসলাম তোষণের রাজনীতি খুব দ্রুতই দেশের বিভিন্ন বাহিনীগুলোর ‘ইসলামীকরণ’ সম্পন্ন করবে। কারণ দেশের অধিকাংশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ধর্মভীরু। তারাও খুব দ্রুত পরিবর্তীত হবে। আর এতসব অনুসঙ্গ মিলিয়ে অদূর ভবিষ্যতে এই আশঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে যে যত নমনীয় হোন না কেন, শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা কখনোই মৌলবাদীদের মনপছন্দ হতে পারবেন না। আফগানিস্তানে নজিবুল্লাও পারেননি।

হেফাজতে ইসলাম ও তার প্রধান নেতা আল্লামা শফী দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের সঙ্গেই দর-কষাকষির কাজটি করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও শরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন অবশ্য খালেদা জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। অথচ ২০০৬ সালে তাঁর হেফাজত তুষ্টির কারণও ছিল ভোটের হিসাব। কেননা, সে বছরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আবার ২০১৩ সালের মে মাসের কর্মসূচিতে সমর্থনের কারণও ছিল ২০১৪-এর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন, যদিও শেষতক তাঁরা সেই নির্বাচন বয়কট করেন।

একইভাবে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনেও যে নির্বাচনী রাজনীতি মূল কারণ, তাতে সন্দেহ নেই। ২০১৮-এর শেষ নাগাদ যে নির্বাচন হওয়ার কথা, তাতে শুধু বামপন্থী মিত্রদের ভোট আওয়ামী লীগের জন্য যথেষ্ট নয়। এই উপলব্ধি থেকেই ইসলামপন্থীদের ভোট যেভাবে যতটা বেশি সম্ভব নিজেদের দিকে টানার প্রয়োজনীয়তা আওয়ামী লীগ অনুভব করছে।

২০১৩ সালের ৫ মের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির ঘটনায় হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলাও রয়েছে। কিন্তু তাতেও মাওলানা শফী বিতর্ক সৃষ্টি থেকে পিছিয়ে থাকেননি। ওই ঘটনার মাস দুয়েকের মধ্যেই তাঁর একটি ওয়াজের ভিডিও চিত্র ইউটিউবে বের হয় এবং ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ৯৩ বছর বয়সী হেফাজতের আমির ওয়াজে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করছেন। তিনি নারীদের বাড়ির চারদেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এরপর ওই বছরের ১৩ জুলাই ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একজন ধর্মীয় নেতা হয়ে আল্লামা শফী নারীদের নিয়ে যে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে৷ একজন ধর্মীয় নেতার এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নারীদের জন্য অবশ্যই অবমাননাকর৷ আল্লামা শফীকে ইঙ্গিত করে হাসিনা বলেন, ‘আমি তাঁকে বলতে চাই, তিনি কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেননি? তিনি কি সেই মাকে সম্মান করেন না? তাঁর কি স্ত্রী বা কোনো বোন নেই?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজত বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে৷ কিন্তু বিএনপির প্রধান তো একজন নারী৷ তাহলে তিনি কীভাবে তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন?’

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে নারীদের সোচ্চার হতে বলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘নারীদের বিরুদ্ধে যাতে আর কেউ কোনো দিন অশালীন মন্তব্য করতে না পারে, সে জন্য নারীনেত্রীদের সোচ্চার হতে হবে৷’ (প্রথম আলো, ১৪ জুলাই, ২০১৩)।
মাওলানা শফীর সঙ্গে গণভবনে গিয়েছিলেন সরকারের ঘনিষ্ঠ ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। মাওলানা মাসউদ ২০১৩ সালের মে মাসের ঘটনার পর বলেছিলেন যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে ইসলামের বড় ক্ষতি করছে৷ তাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির একাকার হয়ে গেছে৷ সে সময় আরেকটি সরকার-সমর্থক গোষ্ঠী ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা মেসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেছিলেন, আল্লামা শফী নারীদের নিয়ে যেসব কুরুচিপূর্ণ কথা বলছেন, তা কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয়৷ তিনি শুধু নারী নয়, পুরুষেরও অবমাননা করেছেন৷

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে মাওলানা শফী সম্পর্কে তির্যক মন্তব্যকারী তিন জনই একশ আশি ডিগ্রি ঘুরে বক্তব্য দিয়েছেন। সর্বশেষ কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্বের দাবিদার আলেমদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি।’ তিনি হেফাজতের নেতাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে।’ অনেক দিন ধরেই আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে দাবিদার আওয়ামী ওলামা লীগ (সম্প্রতি আওয়ামী লীগ এই সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে) এই ভাস্কর্যর অপসারণের দাবি করে আসছে। সরকার তখন সেটি অপসারণ তো দূরের কথা, ভাস্কর্যটি যে পছন্দনীয় বা দৃষ্টিনন্দন হয়নি এমন কোনো মতামত সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। মাওলানা শফীর সঙ্গে সহমত পোষণে তাই স্বভাবতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা উঠেছে। হেফাজতের মতো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে খুশি করার পেছনে যে সেই ভোটের রাজনীতি কাজ করেছে, তা বুঝতে দলটির কোনো মুখপাত্রের স্বীকারোক্তির প্রয়োজন হয়।

এরই মধ্যে হেফাজত ‘মূর্তি’ না সরালে দুর্বার আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে বলেছে-‘‘শত শত আলেমের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন, তার যথাযথ মূল্য দিয়ে অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ করে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান জানাবেন। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়েই হেফাজত ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে (বাংলা ট্রিবিউন, এপ্রিল ১৭, ২০১৭)।“

একদিকে প্রধানমন্ত্রী ‘মূর্তি’ সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে সেই সমালোচনাকে উপেক্ষা করতে দলের অন্য নেতা (ড. হাছান মাহমুদ ) বলেছেন-“সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাস্কর্য স্থাপন করেছে। ভাস্কর্য রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত ও এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব বিষয় (বাংলা ট্রিবিউন, এপ্রিল ১৫, ২০১৭)।“

‘মূর্তি’ সরানো বিষয়ে বিজয়ী হওয়ায় অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর ভেতরও জয়স্পৃহা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এখন অনেকটা অলিখিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে কে কতটা উগ্রতা দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করতে পারে তার।

গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য ২০ এপ্রিলের মধ্যে না সরালে ২১ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, ‘কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে মূর্তি অপসারণ করা হবে। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহারও অপসারণ হবে(বাংলা , এপ্রিল ১৬, ২০১৭)।“

প্রধার বিচারপতিকে অপসারণের হুমকি দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঠিক সেভাবে আজ হোক বা কাল, গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য অপসারিত হবে। হেফাজত বিজয়োল্লাস করবে। ইসলামী দলগুলো রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ঝালাই শুরু করবে। সেই স্বপ্নের বিস্তারে তারা এমনকি মন্ত্রিপরিষদের আয়তনও চিন্তা করে ফেলবে! আওয়ামী লীগ এবং তার জোটভুক্ত তথাকথিত সেক্যুলার দলগুলো না জানলেও হেফাজত বিলকুল জানে এই দেশের এই সমাজের সিংহভাগ মানুষ তাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, বিচার-বুদ্ধি দিয়ে মনে মনে ইসলামী হুকুমতের জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। শিল্প-সাহিত্য, কৃষ্টি-কালচার, শিক্ষা-দীক্ষা, পরম্পরা-ঐতিহ্য, চেতনা-আদর্শ আর হালের ‘ট্রেন্ড’ (ইসলামী উত্থান) মেনে সমাজটাই একটা ইসলামী জজবা সৃষ্টির অপেক্ষা করছে। বিএনপি-জামাত আর জাতীয় পার্টির প্রায় পুরোটাই ইসলামী দলগুলোর পেটে চলে গেছে। উত্তরাধুনিক বামরা পিকিউলিয়ার সব আরবি-ফার্সি ভাষাযোগে ইনসাফের নামে ইসলামী হুকুমত কায়েমকে শ্রেণি সংগ্রাম মেনে পুলকিত! এর পর থাকল সেক্যুলারিজমের ধ্বজাধারী আওয়ামী লীগ। বর্তমান প্রেক্ষিতে এই দলটিই এই মুহূর্তে দেশের সব চেয়ে বড় ‘ইসলামপ্রিয়’ দল! এবং এই ঐতিহ্যবাদী বিশাল ‘ইসলামপ্রিয়’ দলটির হাত ধরেই যদি দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হয় তাহলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে বলে কেউ কেউ তীরষ্কার করতে পারেন, তবে একেবারে আকাশ থেকে পড়ার মত অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে ওই ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে।

ঢাকা
এপ্রিল ২০, ২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনজুরুল হক
মনজুরুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 3 years 2 months ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 13, 2014 - 12:08পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর