নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • পৃথু স্যন্যাল
  • নুর নবী দুলাল
  • সজয় সরকার
  • আমি মানুষ বলছি

নতুন যাত্রী

  • নিনজা
  • মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
  • আমজনতা আমজনতা
  • কুমকুম কুল
  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী

আপনি এখানে

চলুন দেখে আসি, একটু ছুঁয়ে আসি


চোখ বুঁজে কল্পনার ডানা মেলে দিন, একটু ভাবুন তো - কেমন ছিল সেই দিনগুলো? যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেয়া আগুনে জ্বলেছে বাড়িঘর, সারাজীবনের সঞ্চয় ছেড়ে মানুষ উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটেছে অজানা গন্তব্যে; আবার সেই বাস্তুহারা-নিঃস্ব সম্বলহীন মানুষগুলোই বুক চিতিয়ে-জীবন দিয়ে রক্ষা করছে প্রিয় মাতৃভূমিকে। মাত্র নয় মাসে কত কিছুই না ঘটে গিয়েছিল। সোনায় মোড়ানো বাংলা পরিণত হয়েছিল শ্মশানে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন দেশ - বাংলাদেশ। আমাদের গৌরবের, আমাদের বেদনার সেই সব ইতিহাসকে মূর্ত করতে ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর। সেগুনবাগিচার ছোট্ট বাড়ি থেকে প্রতিষ্ঠানটি এবার যাত্রা শুরু করেছে আগারগাঁওয়ের নিজস্ব ভবনে, উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দেশপ্রেমিক এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে উঠার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশের ইতিহাস জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নানা কুশাসনে জমে উঠা দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সরিয়ে আগামীতে এদেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর যেন জানতে পারে কত মহান ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা এই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতালের বিপরীতে প্রায় দুই বিঘা জমির উপর ৯ তলা এই জাদুঘর ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর আয়তন প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার বর্গফুট। ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০২ কোটি টাকা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অস্ত্র থেকে শুরু করে ব্যবহার্য জিনিসপত্র, একাত্তরের নানা দলিলপত্র, বার্তা, চিঠি মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার নিদর্শন রাখা হয়েছে। নয় তলা ভবনের ৫ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনী গ্যালারিগুলো শুরু হয়েছে ৪র্থ তলা থেকে। এখানে এসে দর্শকেরা স্বাধীনতা অর্জনের স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখবে, উপলব্ধি করবে, অন্তরে ধারণ করবে এবং সেভাবেই নিজেদের চরিত্রকে গঠন করবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। এ জাদুঘরের চারটি প্রদর্শনালয়ের প্রতিটি পরতে ইতিহাস এসে স্পর্শ করবে দর্শককে। কখনও তাদের আবেগাপ্লুত করবে, কখনও করবে বিজয় উল্লাসে আনন্দিত। যার প্রবেশমুখে চারকোনা কালো মার্বেল পাথরে প্রজ্বলিত 'শিখা চির অম্লান'। যার উপরে লেখা- 'সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি/ সাক্ষী আকাশের চন্দ্রতারা/ ভুলি নাই শহীদের কোনো স্মৃতি/ ভুলব না কিছুই আমরা।'- এর চারপাশজুড়ে কাচের দেয়াল ও কালো ফলকে এ জাদুঘর নির্মাণে অনুদান দেয়া ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম অঙ্কিত রয়েছে। জাদুঘরের চারটি প্রদর্শনালয়ে প্রায় ১৭ হাজার স্মারক প্রদর্শিত হচ্ছে। চারতলায় প্রথম প্রদর্শনালয়; নাম- 'আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংগ্রাম'। যার প্রবেশমুখে প্রাচীন বঙ্গের মানচিত্র। এ প্রদর্শনালয়ে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কালের নিদর্শন রয়েছে। একই তলায় দ্বিতীয় প্রদর্শনালয়ের শিরোনাম- 'আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগ'। এর প্রবেশমুখেই অবস্থান বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিশালাকৃতির আলোকচিত্রের। যার মাঝখানে পর্দায় সে ভাষণটির ভিডিওচিত্র রয়েছে। পর্দা পার হতেই নিকষ কালো অন্ধকার। দেয়াল ভেদ করে ছুটে আসছে পাকিস্তানি সেনাদের গাড়ি। কালো টানেলের পুরোটাজুড়ে আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র আর প্রতীকী রূপ নিয়ে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার কালরাত্রি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যা দেখে আপ্লুত হতে হবে দর্শককে। 'আমাদের যুদ্ধ, আমাদের মিত্র' নামে তৃতীয় প্রদর্শনালয়ের অবস্থান পাঁচতলায়। এ প্রদর্শনালয়ে দেখা যাবে শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবনের চিত্র। চতুর্থ ও শেষ প্রদর্শনালয়ের শিরোনাম 'আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ'। এতে বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধ, যৌথ বাহিনীর অভিযান, চিতলিয়া স্টেশনের রেপ্লিকা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রদত্ত বিলোনিয়া যুদ্ধের মডেল, নারী নির্যাতন, বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্ব চিত্রিত হয়েছে। গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এবং শীতকালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। ঐখানে জেগে আছে বাংলাদেশ আর বাঙালির অস্তিত্বের ইতিহাস – চলুন দেখে আসি, একটু ছুঁয়ে আসি।

বিভাগ: 

Comments

MAZHAR এর ছবি
 

জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুগর আমাদের চেতনাকে বাড়িয়ে দেয়।আসুন আমরা সকলে এটা প্রদর্শনের মাধ্যমে আমদের মুক্তিযুদ্ধ কে ভালোমত জানি।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নিরব
নিরব এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 23, 2016 - 6:13অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর