নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • দ্বিতীয়নাম
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

“সুষুপ্ত পাঠকদের” নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি আছে – বিজ্ঞান আছে, নেই সত্যনিষ্ঠা, নেই ইতিহাসনিষ্ঠা ! পর্ব – ৩


বিগত পর্বের লেখাটি পড়ুন এখানে

বামপন্থিদের নিয়ে যেহেতু এন্তার অভিযোগ জনাব সুষুপ্ত পাঠকের তাই তা কিছুতেই শেষ হচ্ছেনা। এবারে ইরানের সাথে কিউবাকে টেনে নামাচ্ছেন তিনি। বামপন্থীদের সমালোচনা করা কোনও মন্দ কিছু নয়, দুনিয়াতে কোটি কোটি সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে। বামপন্থীদের সমালোচনার প্রচুর ভ্যালিড পয়েন্ট বা কারণ আছে। কিন্তু সমালোচনাটি তো হতে হবে যুক্তির উপরে ভিত্তি করে (Based on sound argument and reasoning) তাই না? দেখুন আমাদের নাস্তিক বন্ধু জনাব সুষুপ্ত পাঠক বামপন্থি কিউবার উদাহরন টেনে বামপন্থীদের সমালোচনা করছেন।

“সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট-বামদের যে পরিমাণ বাছবিচার দেখা যায় আশ্চর্যজনকভাবে ইসলামী সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতি এই বাছবিচার করতে দেখি না। আমেরিকার যে কোন প্রেসিডেন্ট কমিউনিস্ট দেশে শুকোরের-মাংসের মতই হারাম। কিন্তু কিউবাতে গিয়ে ইরানের ইসলামী ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় করতে দেখা যায়”।

যথারীতি এখানেও তিনিই বিচারক, উজিরে আজিম। অর্থাৎ কোনও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নেই, কবে? কোথায়? কখন? কোনও তথ্য নেই, তত্ত্ব নেই, রেফারেন্স নেই, আছে “জাজমেন্ট”। আমরা স্কুলের ধর্ম বইতে পড়েছিলাম দোজাহানের মালিক কেয়ামতের দিন নাকি হিসাব নেবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, তারপরে বিচার করবেন। কিন্তু আমাদের পাঠক ভাইয়ের মতো নিউ এথিস্টদের সেটারো দরকার হয়না। তাঁরা নিজেরাই এক একজন সয়ম্ভু ঈশ্বর, তাঁদের কোনও প্রমান দিতে হয়না, তথ্য দিতে হয়না, রেফারেন্স দিতে হয়না, তুলনামুলক ব্যাখ্যা করতে হয়না। তাদের মুরীদদের কোনও রেফারেন্স এর দরকার হয়না। লেখা মাত্রই হাজারো লাইক, মারহাবা ... মারহাবা বলে চিৎকার !

সুষুপ্ত পাঠক বলছেন, আমেরিকার যেকোনো প্রেসিডেন্ট কমিউনিস্ট দেশগুলোতে “শুকরের মাংসের” মতোই হারাম। ভালো কথা, কিন্তু এই তথ্যটির ভিত্তিটা কি? এই তথ্যটির মানেই বা কি? আমেরিকার রাষ্ট্রপতিরা কি কমিউনিস্ট দেশগুলো ভ্রমন করেননি? কিম্বা কমিউনিস্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রপতিরা কি আমেরিকা ভ্রমন করেননি? কমিউনিস্ট দেশগুলোতে কি আমেরিকার দুতাবাস ছিলোনা? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট থেকে শুরু করে জনাব ওবামা পর্যন্ত অন্তত দশজন মার্কিন রাস্ট্রপতি কমিউনিস্ট দেশগুলোতে ভ্রমন করেছেন (দেখুন এখানে )।

আমেরিকার রাস্ট্রপতিরা কমিউনিস্ট দেশগুলো ভ্রমন করেছিলেন মানে এই নয় যে এই দুই বলয়ের মাঝে দারুন প্রেম ছিলো । তা ছিলোনা, এঁদের শত্রুতাটা ছিলো পারস্পরিক। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির অংশ হিসাবেই তাঁরা নানান রকমের রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ইতিহাসে আমেরিকা ও সমাজতান্ত্রিক বলয়ের মধ্যে যে টানাপোড়েন, সেটা কি বামপন্থিদের দোষ? নাকি বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রান্তিক দর্শনের বিরোধিতার ফলাফল মাত্র? এটা এখন হাইস্কুলের ছেলে মেয়েরাও জানে “কোল্ড ওয়ার” বা ঠান্ডা যুদ্ধের কারণটি ছিলো প্রধানত আমেরিকা ও রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, এখানে কোনও আদর্শিক দ্বন্দ্ব ছিলোনা। এই বিরোধে সারা দুনিয়ার দেশগুলো ভাগ হয়ে গিয়েছিলো দুই শিবিরে। আমেরিকান লবি আর রাশিয়ান লবি। কিন্তু এই টানাপোড়েনের মাঝেও এই দুই বলয়ের রাস্ট্রপতিদের একসাথে বসতে দেখা গেছে। সেই সকল বৈঠক কতটা কাজে দিয়েছে সেই বিতর্ক আলাদা কিন্তু এখানে একক ভাবে বামপন্থীদের শুচিবায়ুতার উল্লেখ করা ইতিহাসের অসত্য বয়ান করা, যা দুঃখজনক।

(স্তালিন ও রুজভেল্ট দুই ভিন্ন বলয়ের দুই নেতা)

সুষুপ্ত’র যেহেতু দায় নেই ইতিহাসের প্রতি তাই তিনি জানেন না ইসলামী দেশগুলোর সাথে প্রেম পিরিতির ইতিহাস বামপন্থিদের নয়, বরং ভিন্নচিন্তার মানুষদেরই বেশী। তিনি জানেন না শতকরা ৯০ ভাগ ইসলামী দেশ বা মুসলিম প্রধান দেশগুলো আমেরিকা ও তাঁর মিত্র লবির সাথে সংযুক্ত। এই কারণটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক। প্রায় সকল আরব ও মুসলিম প্রধান দেশগুলো প্রধানত দুইটি পশ্চিমা দেশ দ্বারা কলোনাইজড হয়েছে ইতিহাসে। এই দুটো দেশ হলো, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরে ব্রিটেনের দখলে ছিলো আরব ও এশিয়ার মুসলিম দেশ গুলো আর ফ্রান্সের দখলে ছিলো আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলো। পরবর্তীতে একবিংশ শতাব্দীতে পুরো আরবের দখল নিয়ে নেয় আমেরিকা, বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে। গত পঞ্চাশ বছরে, সৌদী আরব, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, মিশর, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, ইরান, ইরাক, সুদান, জিবুতি, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ সহ প্রায় সকল মুসলিম প্রধান দেশই আমেরিকা অথবা তাঁর মিত্রদের অনুসারী হয়ে উঠেছে। এই "অনুসারী" হয়ে ওঠা যে সবসময় প্রেম পিরিতি থেকে হয়েছে তা নয়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এটা হয়েছে "ফেলো কড়ি - মাখো তেল" এর ভিত্তিতে। কিন্তু মোটের উপরে ইসলামী বিশ্বের উপরে নিয়ন্ত্রন টা সব সময়ই ছিলো ব্রিটেন - ফ্রান্স আর আমেরিকার হাতে। উইকিপেডিয়াতে ঢুকে শুধু লিখে দেখুন সৌদি আরব – আমেরিকা সম্পর্ক কিম্বা সৌদী আরবের সাথে কমিউনিস্টদের সম্পর্ক, এভাবে একে একে চেক করে দেখুন সকল “ইসলামী সাম্রাজ্যবাদী” দেশগুলোর সাথে বামপন্থি বলয়ের সম্পর্ক ।

বর্তমান কালে আমেরিকার জানের শত্রু ইরানের সাথে আমেরিকার দোস্তালি শুরু হয় ১৮৫৬ সালে, সেই দোস্তালি থেকে ফর্মাল কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয় ১৯৪৪ সাল থেকে, এই এক বিছানায় ঘুমানো অব্যাহত ছিলো ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। ইরানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক নষ্ট হবার বহুবিধ কারণ ছিলো যার দুটি প্রধান কারণ ছিলো সৌদি আরব ও ইসরায়েল। শিয়া মুসলিম প্রধান রাস্ট্র হিসাবে ইরানের উত্থান কট্টর সুন্নী ওয়াহাবীদের জন্যে এক রকমের আতংক আর অপর পক্ষে ইসলামী বিপ্লবের পর ইসরায়েল এর বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। আর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পশ্চিমা মোড়লদের নাকের ডগায় বসে নিউক্লিয়ার শক্তির মালিক হওয়ার প্রচেষ্টা। আমেরিকার মিত্রদের পক্ষে না থাকার দন্ড গুনতে হচ্ছে ইরান কে গত ৩৬ বছর ধরে। আর ইসলামী গোঁয়ার ইরানও পাল্লা দিয়ে চলেছে এই বিধ্বংসী রাজনীতির খেলায় (দেখুন এখানে এবং এখানে)। আর এখন তো ওপেন সিক্রেট কোন কোন আরব দেশ আমেরিকার “বেড – ফেলোস”, সেই তালিকায় সৌদি আর ইসরায়েল প্রথম দিকেই থাকবে, তাইনা?

(ইরানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়াকে এভাবেই সম্ভবত ব্যাখ্যা করা যায়)

সুতরাং ইসলামী সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে কমিউনিস্ট – বামপন্থিদের এক বিছানায় গড়াগড়ি করার রুপকথাটি ঠিক কোথায় থেকে পাচ্ছেন সুষুপ্ত তা আমার বোধগম্য নয়। বরং রুশ বিপ্লবের পরে বলশেভিক পার্টি যখন একের পর এক গির্জা বন্ধ করে দিচ্ছিলো, নাস্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্যে, তখন সোভিয়েত ইয়নিয়নের মধ্যেকার মুসলমানেরা একটু কম টার্গেট হয়েছিলো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ক লাভের আশায়, যা প্রকৃত অর্থে ব্যর্থ হয়েছিলো। কমিউনিস্ট রাশিয়া কখনই আরব ও মুসলিম বিশ্বে সুবিধা করতে পারেনি। রাশিয়ার সাথে সৌদী আরবের কুটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৬ সালে যার ভিত্তি তেল এবং অস্ত্রের বেচাকেনা। কিন্তু সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়েছিলো মাত্র ১২ বছর এবং তারপর থেকে আজ অবধি রাশিয়া বা বাম বলয়ের সাথে সৌদী আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসেনি (দেখুন এখানে)। কিন্তু যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির অ আ ক খ জানেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন কোন কোন দেশগুলো সৌদী আরবের সাথে এক বিছানায় রাত্রী যাপন করেন। যেহেতু সুষুপ্ত পাঠকের দাবীর স্বপক্ষে কোনও রেফারেন্স নেই, তাই এই দাবীটি পরীক্ষা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু ইতিহাস বলছে, গত আড়াইশো বছরে, ইসলামী দেশ গুলোর সাথে আমেরিকা আর তাঁর মিত্রদেরই দোস্তালি ছিলো বেশী, কমিউনিস্টদের বা বামপন্থিদের নয় (প্রধানত ব্রিটেন এবং ফ্রান্স, গত পঞ্চাশ বছরে আমেরিকা দখল করেছে সেই কর্তৃত্ব) । সুষুপ্ত পাঠকেরা গায়ের জোরে লিখতে পারবেন কিন্তু ইতিহাস থেকে কোনও প্রমান দিতে পারবেন না। এটাকেই বলেছি, “ইতিহাস নিষ্ঠা”র অভাব, যার মূল কারণ হয়তো ব্যক্তিগত পড়াশুনার অভাব।

সুষুপ্ত ইরানের রাস্ট্রপতির কিউবা ভ্রমনের উদাহরন দিয়ে বামপন্থিদের ইসলাম “প্রেম” কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। এটা ভালো কথা। সুষুপ্ত’র ভাষায় ইরান একটি ইসলামী সাম্রাজ্যবাদী দেশ তাই তার রাস্ট্রপতি কিউবা ভিজিট করলে সেটা হয় বামপন্থিদের সাথে ইসলামিস্টদের এক বিছানায় ঘুমানো। যুক্তি টা চমৎকার, তাই না? তাহলে দেখুন ইরানের বিছানা সঙ্গী কতগুলো – ২০১৩ সালে ক্ষমতা নেবার পরে ইরানের রাস্ট্রপতি জনাব রূহানী মোট ২৫ টি রাস্ট্র ভ্রমন করেছেন। এই তালিকায় আছে সুইটজারল্যান্ড, ইতালী, ফ্রান্স, ভ্যাটিক্যান সিটি, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা, কিউবা এবং এক গুচ্ছ ইসলামী দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, কুয়েত, আফগানিস্থান, পাকিস্থান, ওমান, মালয়শিয়া এবং সাবেক রাশিয়ান রাস্ট্র গুলো। খেয়াল করলে দেখবেন, এই তালিকায় আমেরিকান লবির দেশ যেমন আছে তেমনি আমেরিকা বিরোধী দেশও আছে আর বামপন্থি দেশ বলতে সবে ধন নীলমণি কিউবা আর ভেনেজুয়েলা (যদি ভেনেজুয়েলা কে সমাজতান্ত্রিক দেশ বলি আদৌ)। এই তালিকা থেকে জনাব সুষুপ্ত কেনও শুধু কিউবাকে বেছে নিলেন? তিনি তা ব্যাখ্যা করেন নি, সম্ভবত কিউবাকে পিক করলে বামপন্থিদের গালিগালাজ করতে সুবিধা হয়। এছাড়া আর কোনও কারণ আছে কি?

আজকের এই একবিংশ শতকের রাজনীতিতে, বিভিন্ন দেশের মাঝে সম্পর্ক নির্ভর করে পারস্পরিক স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ের উপরে। এখানে আবেগ, মায়া মহব্বতের যায়গা খুব কম। শীতল যুদ্ধের অবসানের পরে, তথাকথিত আদর্শবাদের যায়গাটিও আর নেই। এই বিষয়টা হয়তো হাইস্কুল পাশ দেয়া একটু রাজনীতি সচেতন কিশোর - কিশোরীরাও জানে।

সত্যনিষ্ঠা ও ইতিহাসনিষ্ঠার প্রয়োজন এখানেই। সত্য প্রকাশ করাটা জরুরী। ইরান ও কিউবার সম্পর্কের মাঝে যতটা “প্রেম – প্রীতি” আছে তাঁর চাইতেও অনেক বেশী আছে দুটি দেশের রাজনৈতিক পরিনতি। ইতিহাস না পড়লে এসব জানার কথা নয়। আমেরিকা ও তাঁর মিত্রদের দ্বারা দীর্ঘমেয়াদী বানিজ্য অবরোধের শিকার হচ্ছে এই দুটি দেশ। যখন আপনাকে একঘরে করে দেয়া হয়, যখন টাকা দিলেও কেউ আপনার কাছে প্রয়োজনীয় বস্তু বিক্রি করতে চায়না, তখন আদর্শবাদের চাইতেও জরুরী হচ্ছে কে আপনার কাছে চাল – ডাল – নূন বিক্রি করবে। যে বিক্রি করবে তাঁর কাছেই যাবেন আপনি। বিশ্বরাজনীতির মোড়লদের এই “অবরোধ” ইতিহাস জানা না থাকলে, ইরান – কিউবা সম্পর্ক কে কেবল বামপন্থীদের ইসলাম প্রেম হিসাবেই বোঝা যাবে, অন্য কিছু নয়।

কিউবা্র উপর আমেরিকার রাজনৈতিক ও বানিজ্যিক অবরোধ চলছে ১৯৬০ সাল থেকে। আর ইরানের সাথে ১৮৩৩ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত আমেরিকা এক থালায় ভাত খেয়েছে, আগের পর্বে লিখেছি খোমেনির ক্ষমতা গ্রহনে মার্কিন সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। সেই তুলনায়, ইরানের সাথে কিউবার প্রথম সম্পর্ক স্থাপিত হয় ২০০৬ সালে। দুটি সুস্পষ্ট প্রকল্পে দেশ দুটি পরস্পরকে সাহায্য করেছে। আমেরিকার কিউবা বিরোধী বেতার প্রচারনা বন্ধ করার জন্যে ইরান কিউবাকে টেকনোলজি দিয়েছে আর কিউবা ইরানে একটি মেডিক্যাল জেনেটিক রিসার্চ ল্যাব প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছে। ইরান ও কিউবার এ পর্যন্ত মোট বানিজ্যের পরিমান ৫ মিলিয়ন ডলার। আর আমেরিকাকে প্রতিবছর কিউবার উপরে বানিজ্য অবরোধ বজায় রাখার জন্যে ভরতুকি দিতে হয় ১,২ বিলিয়ন – ৩,৬ বিলিয়ন ডলার (দেখুন এখানে )। গত পঞ্চাশ বছরের অবরোধে কিউবার বানিজ্য খতির পরিমান ১১৬ বিলিয়ন ডলার (দেখুন এখানে )। ভেবে দেখুন ইরানের সাথে এক বিছানায় “ঘুমিয়ে” কিউবার অর্থনৈতিক ক্ষতির কতটুকু পোষানো গেছে? ইরানের সাথে কিউবার “প্রেমের” ভিত্তিটা কি তাহলে? ভিত্তিটা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিনতি, দুটি দেশই দীর্ঘ বছর ধরে আমেরিকার অবরোধের শিকার। দুটি দেশই আমেরিকা আর তাঁর মিত্র দেশের রাজনৈতিক শত্রুতার ভিক্টিম। এটা গড়পড়তা নিউ এথিস্ট বুদ্ধিতে বোঝা যাবেনা, এটা বোঝার জন্যে ইতিহাসের সত্য বয়ান পাঠ করতে হবে। যে পড়াশুনার সময় নেই আমাদের ফেসবুক কেন্দ্রিক “তারকা নাস্তিক”দের।

ফ্রান্স কমিউনিস্ট দেশ নয়। রাজনৈতিক ভাবে ফরাসী সরকার বামপন্থীদের সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রেসিডেন্ট এর সন্মানে দেয়া ডিনার বাতিল করেছিলেন কারণ ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান শর্ত দিয়েছিলেন ডিনার টেবিলে কোনও ওয়াইন রাখা যাবেনা। ফরাসী প্রেসিডেন্ট হোলাদ কিন্তু একজন বামপন্থিই, অন্তত রাজনৈতিক পরিচয়ে তো বটেই (দেখুন এখানে )। ইরানের রাস্ট্রপতির সাথে ডিনার বাতিল করাকে আমি জনাব হোলাদ বা বামপন্থিদের কৃতিত্ব মনে করিনা, আমি মনে করি ফরাসী প্রেসিডেন্ট তাঁর “র‍্যাশনালিটি”র পরিচয় দিয়েছেন। ফরাসী সংস্কৃতির প্রতি নিষ্ঠা দেখিয়েছেন। আর এর বিপরীতে গনতন্ত্রের স্বপ্নভুমি আমেরিকার জনাব জর্জ ডাব্লিউ বুশ কি করতেন তা দেখানোর জন্যে শুধু একটা ছবিই পোস্ট করছি, ব্যাখ্যা করছিনা।

সুতরাং ইসলামী সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে বামপন্থিদের প্রেম পিরিতির যে অভিযোগ জনাব সুষুপ্ত পাঠক করছেন, তা সত্যনিষ্ঠ নয়, ইতিহাসনিষ্ঠ নয়। ইতিহাসে বরং তাঁর উল্টো সাক্ষ্যই পাওয়া যাবে। এই ধরনের অভিযোগ হচ্ছে লেখকের পড়াশুনার দীনতার প্রকাশ। পড়াশুনার অভাব কোনও খারাপ কিছু নয়। দুনিয়ার সকল জ্ঞান একজন মানুষের থাকেনা, তা অর্জন সম্ভবও নয়। কিন্তু পড়াশুনা করতে না চাওয়াটা সমস্যা। বিশেষ করে যারা দাবী করেন “মুক্তমনা” বা “মুক্তচিন্তক” হিসাবে।

পাঠ করুণ পাঠক সাহেব। নিজের নামের সার্থকতা তুলে ধরুন। পাঠ করুন।

Comments

দ্বিতীয়নাম এর ছবি
 

যে কোন শক্তি, অপশক্তি (তা যেইই হোক না) আমেরিকা আর পশ্চিমা পুজিবাদী দেশ গুলিকে কিছু ক্ষতিগ্রস্থ করলেই এ তারা সময়ের বামদের স্বজন।

 
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
 

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে। যাক, আপনি তাহলে পুজিবাদী শব্দটা ব্যবহার করেছেন। হ্যাঁ, বামপন্থিরা, বিশেষত কমিউনিস্টরা পুঁজিবাদের বিনাশ চায়, সেই অর্থে পুজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আন্দোলন বামপন্থি ও কমিউনিস্টদের সমর্থন লাভ করবে। কিন্তু ইসলামী জঙ্গীরা কি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে? কিম্বা ইসলামী জঙ্গীরা কি কমিউনিজমের জন্যে লড়াই করছে?

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 14 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর