নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • সাহাবউদ্দিন মাহমুদ
  • কিন্তু
  • পৃথু স্যন্যাল
  • তানভীর আহমেদ মিরাজ
  • নুর নবী দুলাল
  • সাজ্জাদুল হক
  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • কথা নীল
  • নীল পত্র
  • দুর্জয় দাশ গুপ্ত
  • ফিরোজ মাহমুদ
  • মানিরুজ্জামান
  • সুবর্না ব্যানার্জী
  • রুম্মান তার্শফিক
  • মুফতি বিশ্বাস মন্ডল
  • হাসান নাজমুল
  • নরমপন্থী

আপনি এখানে

মসজিদের ভেতরে মানব মানবীর গোপন গন্ধমের পাঠ


ব্লগে এটা আমার আত্মকথামূলক পোস্ট। আমি কোন বিখ্যাত ব্যক্তি নই যে আমার আত্মকথা লোকে আগ্রহ নিয়ে পড়বে। পড়ে জ্ঞান অর্জন করবে। তবু মনে হল, আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যদি ব্লগে উপস্থাপন করি, অভিজ্ঞতাগুলো থেকে হয়ত কেউ কোন উপসংহার টানতেও পারে। আমার যেসব অভিজ্ঞতা প্রতিনিয়ত আমাকে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে সেসব অভিজ্ঞতা হয়ত আপনাদেরকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই এই ব্লগের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করা।

আমার আইডির নাম দেখেই বুঝা যায় আমি একজন নাস্তিক। কিন্তু জন্মেছিলাম এক মুসলমান পরিবারে। শুধু মুসলমান বললে ভুল হবে, বলতে হবে কট্টর জামাতি মুসলমান পরিবারে। মূলতঃ ব্লগে লিখার উদ্দেশ্যই হলো এই পরিবার থেকেও আমি কিভাবে নাস্তিক হলাম, তা আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। কোন কোন ঘটনা আমাকে নাস্তিক বানিয়েছে অথবা ঈশ্বরের অনস্তিত্ব কিভাবে আমার কাছে ধরা পড়ল, সেসব নিয়েই আপনাদের সাথে কথা বলব।

আমার জন্ম হয়েছিল খুবই অজপাড়া একটি গাঁয়ে। আমাদের গ্রামে এখনও একটি ভাল রাস্তা নেই যেটা দিয়ে আমরা ভাল কোন জায়গাতে যেতে পারি। মোটামোটি ক্ষেতের আলই এখনও আমাদের পথ চলার একমাত্র অবলম্বন। এখনও আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, দুই থেকে তিনটি বাড়ি ছাড়া কোন বাড়িতেই নেই সৌর প্যানেলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। সন্ধার সাথে সাথেই আমার গ্রাম হয়ে উঠে নিজ্জুম নিরালা একটি গ্রাম। এমন একটি গ্রামে কেটেছে আমার শৈশব, শুরু হয়েছিল পৃথিবীর সাথে পরিচয়ের পাঠ।

জানি না আপনাদের ক্ষেত্রে এমন হয় কি না! বয়স প্রায় পয়ত্রিশের কাছাকাছি হলেও, আমি এখনও আমার দুই বছর বয়সের ঘটনাকে স্পষ্ট মনে করতে পারি। ছায়াছবির মত ভেসে উঠে আমার নিতান্ত শৈশবের দিনগুলি। তখন আমি মাত্র হাটতে শিখেছি, হাটতে হাটতে বাড়ির সামনে আলের মত যে রাস্তাটা গ্রামের বাজারে চলে গেছে, আমি সে রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। যে পথচারীকের ভাল লাগত তাঁকে কাছে ডেকে কাধে নিতে বলতাম। অবুঝ শিশুর আবদার রাখতে তারা অনায়াসেই আমাকে কাধে চড়িয়ে নিত। তখন তাদেরকে বলতাম, "বাজারে নিয়ে যাও"। একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক এবং হোমিও চিকিৎসক হবার কারণে বাবাকে মোটামোটি সকলেই চিনত, চিনত আমাদের বাড়ীটাকেও। তাই, পথচারীরা কোন ধরণের দ্বিধা না করেই আমাকে বাড়ির পাশের বাজারে নিয়ে যেত, পৌছে দিত বাবার হোমিও ডিসপেনসারিতে। বাজার আমার খুব প্রিয় ছিল কারণ, ওখানে গেলেই মিলত রসগোল্লা, বিস্কুট আর কমলালেবুর কোয়ার মত দেখতে হলুদ পলিথিনে মোড়ানো লাল লাল চকলেট। এ হলো আমার একদম শৈশবের একটা বিশেষ স্মৃতিগুলোর একটি এবং তখন আমার বয়স খুব সম্ভবত দেড় থেকে দুইএর মাঝামাঝি। তখনকার আরেকটা স্মৃতি আমার মায়ের দুধ খাওয়া নিয়ে। আমি তখনও মায়ের দুধ খাই। আমার এক বছরের ছোট বোনটাও খায়। এখনও স্পষ্ট মনে করতে পারি আমি একটা স্তন থেকে দুধ খেয়ে আরেকটা স্তন রেখে দিচ্ছি আর মাকে বলছি ওটা বেকুর (বোনটার ডাক নাম) জন্য ছোট বোনটা খাবে বলে।

তখন বয়স সাড়ে তিন থেকে চার। শীতকাল। মা কায়দা করে একটা চাদরে আমাকে আচ্ছা করে মুড়িয়ে দিয়ে পাশের বাড়ির মেয়েটির সাথে পাঠিয়ে দিতেন বাড়ির পাশের মসজিদে আরবী শেখার জন্য। মেয়েটির বয়স তখন ঠিক কত ছিল আমি আন্দাজ করতে পারি না এখনো। এইটুকু মনে করতে পারি মেয়েটা তখনও সবসময়ের জন্য ফ্রক পড়তো না, শুধুই একটা হাফপ্যান্ট আর স্যান্ডো গ্যাঞ্জি ছাড়া। তবে, তার মা তাঁকে বকুনি দিত এই বলে যে সে বড় হয়ে যাচ্ছে, কেন সবকিছু ঢেকে রাখতে শিখছে না ধীরে ধীরে। মাঝে মাঝে দেখতাম, তার সদ্য বড় হতে শুরু করা স্তনের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলত আর সেন্ডো গ্যাঞ্জি নয়, এখন থেকে অন্তত একটা শেমিজ গায়ে রাখার অভ্যাস করতে হবে, বুক ঢেকে রাখতে হবে। সেই মেয়েটির হাত ধরেই আমার মসজিদে যাওয়া, আরবী শিখার শুরু, শুরু হয় মসজিদের ভেতরেই মানব মানবীর গোপন গন্ধমের পাঠ।

বিস্তারিত নিয়ে পরের পর্বে আসছি...

Comments

পৃথু স্যন্যাল এর ছবি
 

ইস্টিশনে স্বাগতম। ধীরে ধীরে বলতে শুরু করেন। আমরা শুনি আপনার আত্মকথা।

ইস্টিশনে আপনার যাত্রা শুভ হোক।

*************************************
আমি কারো দেখানো পথে চলি না।
আমার ইচ্ছে মত পথের তৈরী করি।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

 
 

ধন্যবাদ পৃথু দা। আশা করি পাশে থাকবেন সবসময়।

উঠিয়াছি চির বিস্ময়, আমি বিশ্ব বিধাত্রীর।

 
অপ্রিয় কথা এর ছবি
 

আপনি "নাস্তিকের ধর্মকথা" আইডিটি না? স্বাগত আপনাকে। যাত্রা শুভ হোক

 
 

না ভাইয়া। উনাকে আমি চিনি না।

উঠিয়াছি চির বিস্ময়, আমি বিশ্ব বিধাত্রীর।

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

প্রথম পর্ব ভুমিকায় শেষ করে দিলেন?

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নাস্তিকের আত্মকথা
নাস্তিকের আত্মকথা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 week ago
Joined: বুধবার, জানুয়ারী 4, 2017 - 4:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর