নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট


বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ছিল অপরিসীম। পাকিস্তানী বাহিনী এদেশের বাঙালীদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে গঠন করে "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট(EBR)" ।প্রথম দিকে শুধু একটি ব্যাটেলিয়ন থাকলেও পরবর্তীতে ব্যাটেলিয়ন সংখ্যা আটে উন্নীত করা হয়।এই রেজিমেন্টের 5th EBR এর সাহসী সৈনিক এবং অফিসারেরা ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে এবং ভারত বাহিনীর কাছ থেকে লাহোরকে রক্ষা করে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানী শাসন যন্ত্র যখন এদেশের নিরীহ বাঙ্গালীদের হত্যাযজ্ঞের নীল নকশা করছিল তখন থেকেই বাংলাদেশ অবস্থানকারী এই রেজিমেন্টগুলোর অনেক অফিসার পরিকল্পনা করছিলেন বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়ার। এখানে উল্লেখ্য,সামরিক আইনে বিদ্রোহের চেষ্টা,পরিকল্পন া মাত্র মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধ। কোর্ট মার্শালের ভয় বিন্দুমাত্র দমিয়ে রাখতে পারেনি দেশপ্রেমিক এই সব বীর সেনাদের। পাকিস্তানের তৎকালীন এক মেজর সাদিক সালেকের "Witness to surrender" বই থেকে জানা যায় বাঙ্গালী সেনারা ঊর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশ অমান্য করবে,কিন্তু তারপরও নিজ জাতভাই এর উপর গুলি চালাবে না।
অবশেষে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের 1st,2nd,3rd,4th এবং 8th রেজিমেন্ট যথাক্রমে যশোর,জয়দেবপুর, রংপুর,কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ শুরুকরে।
পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিশ্চিত জীবন ছেড়ে দিয়ে পরিবার-পরিজনদের পাকিস্তানী বাহিনীর কব্জায় ফেলে এবং মাথার উপর মৃত্যু দণ্ডের খড়গ নিয়ে সেই সব বীর সেনা এবং অফিসাররা শুরু করেন অনিশ্চিত বাংলাদেশের স্বপ্নের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এভাবেই শুরু।দেশের টানে,সব কিছু ফেলে শুরু হয় নয় মাসেরসংগ্রাম। যেসব সৈনিক এবং অফিসার বিদ্রোহ করেছিলেন তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিয়েই সেসময় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়েছিলেন। বাকী সব জিনিসপত্র তারা ফেলে আসেন এবং যা পরবর্তীতে পাকবাহিনীরসদস্যরা লুণ্ঠন করে। ফলে যারা সেদিন বিদ্রোহ করেছিলেন,যুদ্ধে র পর আক্ষরিকঅর্থে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত ছিলনা।
এদের মধ্যে 2nd রেজিমেন্ট শুধু নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই বের হয়নি,বরঞ্চ জয়দেবপুরের অর্ডিন্যান্স ডিপো থেকে তারা যত অস্ত্র ছিলতা সাথে করে নিয়ে আসেন।আর যেগুলো আনতে পারেননি সেগুলো নষ্ট করে আসেন।
আবার 8th রেজিমেন্ট বিদ্রোহের পাশাপাশি কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র রক্ষা করেন এবং এই রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ২৭শে মার্চস্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে আরও উদ্বুদ্ধ করে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে মাত্র নয়জন মেজর বিদ্রোহ করেন।পরবর্তীতে আরও তিনজন মেজর পাকিস্তান থেকে পালিয়েএসে যুদ্ধে যোগ দেন। একজন মেজর ছুটিতে থাকা অবস্থায় যুদ্ধে যোগদান করেন।এবং এই তের জন মেজরের উপর ভিত্তি করেই একাত্তরের পুরো মুক্তিরসংগ্রাম পরিচালিত হয় । প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে যে,অনেক উচ্চপদস্থ অফিসার বিদ্রোহে যোগদানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি। আবার অনেকে সুযোগ সন্ধানী অফিসার মুক্তিযুদ্ধের একদম বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিসেম্বর এর প্রথম দিকে পক্ষবদল করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
অনেক জুনিয়র অফিসার ক্যাপ্টেন,লেফটে নেন্ট ,সেঃ লেফটেনেন্ট এবং সেই সাথে এনসিওরা নিজ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দান করেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো অফিসারদের থেকে সাধারণ সৈনিকদেরই দেশের টানেমুক্তিযুদ্ধে যোগ দানের জন্যবিদ্রোহ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশী দেখা যায়।
যুদ্ধের মাঝামাঝি এয়ারফোর্স থেকে মুক্তিযুদ্ধের সহ অধিনায়ক এ,কে,খন্দকার সহ আরো অনেক অফিসার মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারী প্রথম নয় জন মেজর সিনিয়োরেটির ভিত্তিতে হলেনঃ
#মেজর জিয়াঃ ৮ম বেঙ্গল।
#মেজর শফিউল্লাহঃ ২য় বেঙ্গল।
#মেজর মীর শওকত আলীঃ ৮ম বেঙ্গল।
#মেজর খালেদ মোশাররফঃ ৪র্থ বেঙ্গল।
#মেজর ওসমান চৌধুরীঃ ইপিআর।
#মেজর নাজমুল হকঃ আর্টিলারি ইপিআর(বর্তমানে বিডিআর থেকে বিজিবি)
#মেজর নুরুল ইসলামঃ ২য় বেঙ্গল।
#মেজর শাফায়াত জামিলঃ ৪র্থ বেঙ্গল।
#মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরীঃ ২য় বেঙ্গল।
এছাড়া আগস্ট মাসে আরো তিনজন মেজর পালিয়ে আসেন।তারা হলেনঃ
#মেজর মঞ্জুরঃ প্যারা কমান্ড ইউনিট।
#মেজর তাহেরঃ স্পেশাল কমান্ডো ইউনিট।
#মেজর জিয়াউদ্দীনঃ সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
এছাড়া ছুটিতে থাকা অবস্থায়যুদ্ধে যোগ দেন সিআরদত্ত তথা মেজর চিত্তরঞ্জন দাস।
এই অফিসারগণই পরবর্তীতে সেক্টর কমাণ্ডার হিসেবে থেকেমুক্তিবাহিনীকে পুনর্গঠন,ট্রেনি ং এবং তাদের পরিকল্পনা দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে হানাদারবদেরকিলিং মেশিনে পরিণত করেন। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং সেই রেজিমেন্টের এসব বীর অফিসার এবং সৈনিকদের অবদান ভোলবার নয়।
শ্রদ্ধা রইলো জাতির এইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি।
আমরা তোমাদের ভুলব না।
জয় বাংলা।

Comments

অধম এর ছবি
 

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।প্যারাগুলোর মাঝে কিছুটা স্পেস দিলে ভালো হয়। দেখতেও ভালো লাগে,পড়তেও সুবিধা হয়। এই ব্যাপারটা একটু খেয়াল রাখবেন।

.......................................................................
আমি অধম তাই বলে তুমি উত্তম হইবানা কেনো?

 
আশরাফুল করিম চৌধুরী এর ছবি
 

মোবাইলের মাধ্যমে লেখাতে সমস্যাটা হয়েছে। পরেরবার থেকে খেয়াল রাখব। ধন্যবাদ।

 
শামীমা মিতু এর ছবি
 

স্যালুট আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের :bow: :bow: :bow:

---------------------------------------------------------
মরার জন্য যারা জন্মায় আমি সেই ধর্মবংশ
বাঁচিয়ে রাখার জন্যে বারবার ঝুলি না ফাঁসিতে

 
আশরাফুল করিম চৌধুরী এর ছবি
 

স্যালুট। ধন্যবাদ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আশরাফুল করিম চৌধুরী
আশরাফুল করিম চৌধুরী এর ছবি
Offline
Last seen: 4 years 1 month ago
Joined: শনিবার, ফেব্রুয়ারী 16, 2013 - 8:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর