নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বাপ্পার কাব্য
  • নীল কষ্ট
  • মুফতি মাসুদ
  • অনন্য আজাদ
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
  • সংশপ্তক শুভ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

স্মৃতিতে সজীব ভাই...


ছেলেটার নাম প্রথম আলাদা করে শুনেছিলাম তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীর মারা যাওয়ার পরে শহীদ মিনারে ঈদ উদযাপন এর যে কর্মসুচী দেয়া হয়েছিলো সেখানে। সেখানে সকালে গিয়েই যখন চোখে ব্যানারটা পড়লো তখন বুঝেছিলাম এটা সাধারণ কোন ব্যানার লেখার দোকান থেকে করা নয়। জিজ্ঞেস করতেই তার নাম শুনলাম। “ছাত্র ইউনিয়ন এর সজীব”। এর আগেও বেশ কয়েকটা জায়গায় পরিচয় হয়েছিলো। কেমন যেন চুপচাপ একটা ছেলে। রাজনীতি করা যেসব ছেলে আমাদের চোখে ভাসে তার থেকে সম্পুর্ণই আলাদা যেন সে। কেমন একটা নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই ভালোবাসে এমন একটা ভাব। তার গাম্ভীর্য যেন অন্য জায়গায়। সবার সাথেই মিশে যাবে, কিন্তু নিজের সাথে মিশতে দেয়না কাউকে।

হাসান ইকবাল সজীব

হাসান ইকবাল সজীব। এরপরে অসংখ্যবার দেখা হতে থাকে তার সাথে। আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলাম । রাজনীতির বাইরেই একটা পরিচয়। টিএসসিতে নিয়মিত আড্ডা দেয়া হয় সজীব ভাইর সাথে। তখন দেখতাম খুব দুষ্টুমির একটা ভাব তার চোখে মুখে সবসময় ঘুরে বেড়ায়। এর মধ্যেই পরিচয় হয়েছে তার অসাধারণ একটা গুণ এর সাথে। ব্যানার লেখা। একটা ব্যানারকে কিভাবে কথা বলাতে হয় সেটা তার হাতে বানানো যেকোন ব্যানার দেখলে বোঝা যেত। সঞ্জীব চৌধুরী স্মরনে ছাত্র ইউনিয়ন এর অনুষ্ঠান এর জন্য সারা রাত জেগে ব্যাকড্রপ এর কাজ এর সময় দেখলাম, সুমন’দা(সাংস্কৃতিক সম্পাদক) আর সজীব ভাইর হাতের অসাধারণ কাজ। মুগ্ধ হয়ে গেলাম তখনই।
এরপরে থেকে নিয়ম করেই তার সাথে দেখা হতো। টিএসসিতে গিয়েই ফোন দিতাম তার নাম্বারে। একটা হাসি মুখ নিয়ে আসতো। এই হাসি মুখটাই ছিলো সব ভালো লাগার মুল রহস্য। আর তার চোখ। এই দুটো নিয়ে প্রায়ই তার সাথে মজা করতাম কতজন মেয়ে এই চোখ আর হাসির প্রেমে পরেছে তার হিসাব চাইতাম। স্বপ্নালু এক জোড়া চোখ ছিলো তার। চোখে সবসময় একটা রহস্য খেলা করতো। যেন অনেক কথা বলে আবার বাকি থাকে না বলা অনেক কথা। কখনোই এই চেহারাটা ছাড়া দেখিনি আমি তাকে। ছাত্র ইউনিয়নের এতো বড় দায়িত্ত্বে থাকা একটি ছেলের সাথে এতো আড্ডা দেয়া হতো তারপরেও রাজনৈতিক কোন আলাপ কখনো হয়নি। সবসময়ই হাসি-ঠাট্টা হতো।
জীবনের একদম শেষের দিকে এসেই তার পরিচয় আমার সাথে। দেখেছি সাংগঠনিকভাবে অসাধারণ এই ছেলেটিই আবার ব্যক্তিজীবনে কেমন নিজ খেয়ালে চলে। মনের খুশীতে চলে যেতো যেখানে সেখানে নিজের ইচ্ছে মত। আবার সংগঠনের যেকোন কাজেও সব কাজ শেষ করতো সবার আগেই। যেকোন কাজে ডাকলেই পাওয়া যেতো তাকে। রক্ত দেয়া থেকে শুরু করে তার প্রিয় ব্যানার লেখা। সবকিছুতেই সবার আগে পাওয়া যেতো তাকে।

এই হাসিমাখা মুখটা আর দেখবো না কোনদিন।আর কোনদিন দেখবো না রংতুলি হাতে সজীব ভাইকে...এভাবে যেতে হয় না সজীব ভাই...একদম না।

হুট করেই দেখতাম হাওয়া হয়ে গেছে আড্ডা থেকে আবার হুট করেই দেখতাম সামনে। দেখতাম সবার মাঝেই চুপ হয়ে বসে আছে, কিছু ভাবছে। কিন্তু কখনোই কিছু বলতো না। মোবাইলে থাকা কিছু গান ছেড়ে কানের সামনে ধরে রাখতো। সেগুলোই শুনতো বেশ কিছুক্ষণ। আবার কিছুক্ষণ পরেই সেই পরিচিত সজীব। হৈ-হুল্লোড় করতো না খুব একটা কিন্তু মাতিয়ে রাখতো সবাইকে।
সজীব ভাই তখন বিদ্যাগঞ্জে। তার মোবাইল বন্ধ। হুট করেই রাত দুইটার দিকে কথা বলতে ইচ্ছে হয় তার সাথে। দুই একজন এর কাছে খুজলামও অন্য কোন নাম্বার আছে কিনা। পেলাম না। রাতে ফোন দেয়াদের একজন সুমন’দা আমাকে ফোন করলেন খুব সকালে। উনি জানতে চাইলেন আমি কেন রাতে সজীবের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। হুট করেই তিনি খবরটা জানিয়েই কল কেটে দিলেন দ্রুত। হতবাক হয়ে পড়ে থাকি অনেকখন। এরপরে ঢাকা থেকে জামালপুর গিয়ে যখন নিথর শরীরটা দেখলাম তখন সবকিছুই শেষ। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিশাল সেলাই এর দাগ নিয়ে শুয়ে আছে সজীব ভাই। আশেপাশে ডুকরে কেদে ওঠার শব্দ, অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে লাশঘর সবকিছু মিলিয়েই মনে হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত নিঃশ্বাস আটকে দেয়া ভৌতিক একটা স্বপ্ন হলেও বেচে যাই।
১বছর হয়ে গিয়েছে সজীব ভাই না থাকার। এর মধ্যেই অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। তার পরিচিত জায়গা,মানুষগুলোও পরিবর্তিত। কিন্তু কিছু কিছু জায়গা থাকবে সেই আগের মতই। তার বন্ধুরা এখনো তার কথা মাথায় আসলেই হয়তো কাদতে চাইবে আকাশ ভেঙ্গে কিন্তু পারবে না, অনেকে লিখতে চাইবে সজীব ভাইর না বলা অনেক কথা কিন্তু সেটাও সম্ভব হবে না, অনেকের চাপাকান্না পড়ে থাকবে তার বুকের ভেতরেই।
কিন্তু এখনো তোমাকে দেখতে পাই সজীব ভাই। অনেকগুলো মানুষকে একা দেখলেই মনে হয় তোমার থাকার কথা ছিলো। অনেকগুলো জায়গায় বসতে গেলে মনে হয় তোমার থাকার কথা ছিলো। এভাবে চলে যেতে হয় না। খুব কষ্ট লাগে,সজীব ভাই। খুব কষ্ট হয়।

## গত বছর জানুয়ারীর ২৭ তারিখ ময়মনসিংহে এক ট্রেইন দুর্ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল সজীব মারা যান।

Comments

সাগর সাগর এর ছবি
 

দুনিয়াটা বড় নোংরা হয়ে গেছে বাবু ভাই। তাই ভালো মানুষেরা এই নোংরা ঘাটার জন্য বেশীদিন থাকেন না। কি বলব............ :মনখারাপ:

 
বাবু আহমেদ এর ছবি
 

:ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম:

___________________________________________________________________________
পাকিস্তানী এবং ভারতের দালালমুক্ত,রাজাকারমুক্ত,রাজাকারমুক্ত এবং রাজাকারমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই....

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

ভাল মানুষেরা এভাবে হারিয়ে যায় আমাদের থেকে.....! সজীব বেঁচে থাকুক অনুপ্রেরণা হয়ে সহকর্মীদের মাঝে।

 
বাবু আহমেদ এর ছবি
 

সজীব বেঁচে থাকুক অনুপ্রেরণা হয়ে সহকর্মীদের মাঝে।

:থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

___________________________________________________________________________
পাকিস্তানী এবং ভারতের দালালমুক্ত,রাজাকারমুক্ত,রাজাকারমুক্ত এবং রাজাকারমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই....

 
ব্রহ্মপুত্র এর ছবি
 

:কানতেছি: :salute:

 
মোঃ সেজান মাহমুদ এর ছবি
 

সজিবের জন্ন শুভ কাম না রইল। ।

MD Shezan Mahmud

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বাবু আহমেদ
বাবু আহমেদ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 years 3 months ago
Joined: শনিবার, ফেব্রুয়ারী 2, 2013 - 12:34অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর