নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী প্রতিশ্রুত মসীহ ও মাহদী (আ)-এর বিরুদ্ধে সতেরটি মিথ্যা অভিযোগ ও তার খন্ডন


অভিযোগ ১: মসীহ মাউদ (আ) এর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

খন্ডন:

অভিযোগ করা হয় যে আহমদ (আ) এর পরিবার এমন ছিলো না, যেখান থেকে আল্লাহর কোনও নবী আসার আশা করা যায়্। যাহোক, কোরআনে বারবার বলা হয়েছে যে নবীদের পারিবারিক মর্যাদার সাথে তাঁদের প্রচারিত বাণীর কোনও সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়:

আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য উদাহরণ দিচ্ছেন, নূহের পত্নী ও লূতের পত্নীকে। তারা আমাদের দুই সুযোগ্য বান্দার অধীনে ছিলো, কিন্তু তাদের সাথে ধোঁকাপূর্ণ আচরণ করেছিল। (আল কোরআন ৬৬: ১০-১১)

অভিযোগ ২: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ব্রিটিশ এজেন্ট ছিলেন[/sb]

খন্ডন:

এই অভিযোগ আনা হয় কারণ সেই সময়ে ব্রিটিশরা শুধু সারা বিশ্বের সবচেয়ে প্রতাপশালী রাজত্বই ছিলো না,
মসীহ মাউদ (আ) এর বাসস্থানেও তাদের রাজত্ব ছিলো। যাহোক, এটা প্রমাণিত মিথ্যা।
ব্রিটিশদের ভারত অধিগ্রহণের অনেক আগে থেকেই মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এর পরিবার পাঁচটি গ্রামের প্রধান ও শাসক ছিলেন, এবং আরও কয়েক ডজনের অধিকারী ছিলেন। তাঁরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারত রক্ষার জন্য লড়াইও করেছেন, যখন বাদবাকি মুসলিম নৃপতিরা বৃটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতায় মত্ত ছিলেন। তাঁরা যদি বৃটিশদের এজেন্টই হতেন তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধই বা কেন করতেন?
ভারত অধিগ্রহণের পরে বৃটিশরা তাদের প্রকৃত এজেন্টদের হাতে ভূমি তুলে দেয়। আর মির্যা সাহেবের পরিবারের সাথে তার উল্টাটা হয় – তাঁদের অধিকাংশ ভূমি অধিকৃত হয় আর তাঁদের সম্মানও খর্ব করা হয়। নানা মুসলিম নেতা যেমন স্যার আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল পাচ্ছিলেন বিভিন্ন টাইটেল, ইকবালের ক্ষেত্রে নাইটহুড, সেখানে মির্যা গোলাম আহমদ (আ) কিছুই পাননি। কিরকম এজেন্ট হয় যে তার মালিকের কাছে কিছুই পায়না?
ব্রিঠিশদের সকল গোপন রেকর্ড বর্তমানে জাতীয় আর্কাইভে প্রকাশিত হয়ে গেছে, যেখানে বহু মুসলিম নেতার সরকারের কাছ থেকে মো্টা অঙ্কের টাকা নেয়ার বদলে মুখ বুজে থাকার প্রমাণ আছে। অথচ সেখানে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের নামে একটাও রেকর্ড পর্যন্ত নেই।
আরও, আহমদ (আ) নিজের অনুসারীদের জামাতের জন্য আর্থিক কুরবানী করার তাহরিক করেন (প্রকাশনার কাজ, নির্মাণকাজ, স্কুল-কলেজ রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি)। এটা দুটো কথা পরিষ্কার করে দেয়। প্রথমত, অনুসারীদের কাছে অর্থ চাওয়ার ফলাফল বিপরীত হয় কারণ এতে অনুসারীর সংখ্যা কমে যায়। যারা কেবল দাবীর সত্যতার ব্যপারে নিশ্চিত এমন লোকেরাই কেবল জামাতে দাখিল হবে, কারণ জামাতের জন্য বেশ বড় পরিমাণ আর্থিক ত্যাগ করা প্রয়োজন। এই তাহরিক অনুসারীর সংখ্যা বিপুলহারে কমিয়ে দেবে। ব্রিটিশরা কেন তাদের এজন্টকে এমন কাজ করতে দেবে? দ্বিতীয়ত, কেন আহমদীয়া মুসলিম জামাতের এমন ব্যাপক হারে চাঁদার প্রয়োজন পড়বে যদি সেটা ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ বা তদস্বরূপ কোনও ধনী ও শক্তিশালী সরকার দ্বারা অর্থায়ন পেয়ে থাকে?
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য খ্রিস্টানদের দ্বারা পরিচালিত, এবং তারা তাদের মিশনারীদের নিয়ে এসেছিল-বর্তমান ভারতের বিভিন্ন অংশে কয়েক কোটি খ্রিস্টানদের উপস্থিতি সে ইতিহাসেরই সাক্ষ্য বহন করে। যাহোক, আহমদ (আ) খ্রিস্টানদের ধর্মমতের বিরুদ্ধে অসংখ্য পুস্তক লেখন ও বিতরণ করেছেন, ইসলামের শ্রেষ্ঠতার ওপরে জোর দিয়ে। কিরকম ব্রিটিশ এজেন্টকে তাদের নিজেদের ধর্মের বিরুদ্ধে ও স্থানীয় ধর্মের পক্ষে এমনভাবে প্রচার করতে দেয়া হবে?


অভিযোগ ৩: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ঈসা (আ) কে অপমান করেছেন

খন্ডন:

এ অভিযোগ করা হয় বিভিন্ন উদ্ধৃতির সাহায্যে, যেমন

এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে পর্বতের খুতবা, যেটা নিউ টেস্টামেন্টের মূল সেটা ঈসা (আ) কর্তৃক ইহুদীদের তালমুদ কিতাব থেকে সংগৃহীত হয়েছিল, এবং তিনি এভাবে ভান করলেন যে এটা যেন তাঁর নিজের শিক্ষা, কিন্তু যে সময় থেকে এই নকল আবিষ্কৃত হয় খ্রিস্টানরা বড় লজ্জায় পড়ে গেছে। ঈসা (আ) এই কাজ (নকল) এজন্য করলেন সম্ভবত যাতে করে কিছু ভালো শিক্ষা উপস্থাপন করে প্রভাব অর্জন করা যায়।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), আনজাম-এ-আথম)

প্রকৃতপক্ষে, এমন সব উদ্ধৃতিসমূহ এমন সব মিথ্যা অভিযোগের উত্তরে করা হয়েছিল যেগুলো ভারতের খ্রীস্টান মিশনারীরা হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর বিরুদ্ধে আনত। আহমদ (আ) খ্রীস্টান পাদ্রী আথমকে উত্তর দিচ্ছিলেন এবং কোরআন যে বাইবেল থেকে নকল করা এই অভিযোগ খন্ডন করছিলেন এভাবে যে একই অভিযোগ তো ঈসা (আ) এর শিক্ষার বিরুদ্ধেও আনা যায়। আহমদ (আ) ব্যাখ্যা করেছেন,

যখন আমরা গভীরভাবে আঘাত পাই এবং অন্যায়ভাবে আমাদের পবিত্র নবী (সা.) এর বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হয়, শুধু তখনই, সতর্কবাণী হিসেবে, আমরা তাদের (খ্রীস্টানদের) নিজস্ব নির্ভরযোগ্য বইয়ের থেকেই তাদের যথাযোগ্য জবাব দেই। তারা আমার লেখায় খুঁজে বের করে দেখাক যে কোনওকিছু আমি তাদের জবাবে লিখেছি এবং সেটা গসপেলে পাওয়া যায়নি। যতই হোক, এটা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়, যে পবিত্র নবী (সা.) এর নামে অপমান শুনে চুপ করে থাকি।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), মালফুজাত)

আমার লেখার সবখানে আমি (খ্রীস্টের ব্যপারে) খ্রীস্টানদের কুসংস্কারের ঈসাকে বুঝিয়েছি। ঈসা ইবনে মরিয়ম, যিনি ছিলেন আল্লাহর একজন নবী এবং যিনি পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত অবশ্যই কখনোই আমার রুক্ষ মন্তব্যের লক্ষ্য ছিলেন না এবং ভবিষ্যতে এটা মনে রাখা উচিৎ যে যদি কোনও (খ্রীস্টান) পাদ্রী, নিজের গালাগালির পথ বন্ধ করে, ভদ্রভাবে কথা বলেন, আমিও তার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলবো। বর্তমানে তারা নিজেরাই তাদের ঈসার ওপরে আক্রমণের জন্য দায়ী কারণ কোনও অবস্থাতেই তারা অপমান বা নোংরা বিতর্ক থেকে বিরত হননা।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), নূর-উল-কোরআন)
হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর একজন মহান নবী। কোনোই সন্দেহ নেই, ঈসা মসীহ (আ) খোদার প্রিয় একজন, বেছে নেয়া একজন, দুনিয়ার জন্য আলো, পথপ্রদর্শক সূর্য, ভালোবাসার একজন, তাঁর (আল্লাহর) সিংহাসনের কাছে অবস্থিত। কোটি কোটি লোক যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং তাঁর শিক্ষা সঠিকভাবে অনুসরণ করে তারা অবশ্যই জাহান্নাম থেকে বাঁচবে।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), দামিমা রিসালাহ গভর্নমেন্ট আংরেজী আওর জিহাদ)

অভিযোগ ৪: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ৫০ বইয়ের প্রতিজ্ঞা দিয়েছিলেন কিন্তু পাঁচটি বই পাঠান

খন্ডন:

অভিযোগ আনা হয় যে আহমদ (আ) প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বারাহীনে আহমদীয়ার ৫০ টি খন্ড লিখবেন, ইসলামের শ্রেষ্ঠতার প্রমাণ নিয়ে লেখা একটি বই, কিন্তু মাত্র পাঁচটি সরবরাহ করেন। এটা সত্য কারণ তিনি পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। যাহোক তিনি ইসলামের সপক্ষে বারাহীনে আহমদীয়ার পরেও ৫০টিরও বেশী বই লেখেন (৯০ এর কাছাকাছি) সুতরাং প্রকৃতপক্ষে তিনি প্রতিজ্ঞার অনেক বেশীই দিয়েছেন। আরেকটি অভিযোগ আনা হয় যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ৫০টি বইয়ের টাকা তো নিয়েছিলেন সুতরাং মাত্র পাঁচটি লেখার জন্য এটা একটা প্রতারণা। এটাও একটা মিথ্যা, কারণ যারা অখুশী ছিলেন তাদের সবার টাকা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ফেরত দিয়েছিলেন:

আমরা দুবার লিফলেট ছাপিয়েছি যেটায় বলা আছে যে কেউই নিজের বারাহীনে আহমদীয়ার জন্য দেয়া অর্থ ফেরত পেতে চান শুধু আমাদের বইগুলো ফেরত পাঠাবেন এবং আমরা তাদের টাকা ফেরৎ দিয়ে দেবো। সুতরাং সেই সকল অন্তঃমুর্খ ব্যক্তি আমাকে তাদের বই ফেরত পাঠিয়ে টাকা ফেরত নিতে পারেন। কিছু এমন ব্যক্তিও আছেন যারা বই বহু করুণ অবস্থায় ফেরত পাঠিয়েছেন কিন্তু তবুও আমরা তাদের অর্থ ফেরত দিয়েছি। এবং আমরা বহু সময়ে লিখেছি যে আমরা সবসময়ই তাদের টাকা ফেরৎ দেবার জন্য প্রস্তুত আছি, কিন্তু আমরা এখন আবার এই নোটিশ লিখছি যে যদি কোনও অখুশী গ্রাহক থেকে থাকেন যিনি বারাহীনে আহমদীয়ার বিলম্বের জন্য অভিযোগ করেছেন তাহলে তার উচিৎ হবে আমাদের কাছে তার বই পাঠিয়ে দেয়া এবং পত্রপ্রাপ্তির সাথে সাথে আমরা তার টাকা ফেরত পাঠিয়ে দেবো।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), আইয়াম এ সুলাহ)



অভিযোগ ৫: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) দাবী করেছেন যে কাদীয়ানের নাম কোরআনে আছে

খন্ডন:

এই অভিযোগ আনা হয় আহমদ (আ) এর একটি উদ্ধৃতির অংশবিশেষ তুলে ধরে ও তার অপব্যাখ্যা করে ও এরপরে এটা বলা হয় যে তিনি মিথ্যা বলেছেন যে “কাদীয়ান” শব্দটি কোরআনে আছে। প্রকৃতপক্ষে, পুরো উদ্ধৃতিটি পড়লে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে এটা কেবল একটা ঐশী কাশফ ছিলো এবং তিনি আক্ষরিক অর্থে কোরআনে কাদীয়ানের থাকার কথা বলেননি।

আমি একটি কাশফে আমার ভাই মির্যা গোলাম ক্বাদীরকে পবিত্র কোরআন জোরে জোরে তিলাওয়াত করতে শুনলাম। তিলাওয়াত করতে করতে একপর্যায়ে তিনি তিলাওয়াত করলেন, “আমরা এটাকে কাদীয়ানের নিকটে পাঠালাম”। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম যে কাদীয়ানের নাম পবিত্র কোরআনে কীভাবে আসবে।
(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), ইযালা এ আওহাম)

এখানে উল্লেখ্য, বিরোধীরা কখনোই হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এর কোনও বইয়ের বা অনুচ্ছেদের পুরোটা দেয় না, আংশিক কয়েকটি বাক্য বা বাক্যাংশ নিয়ে তার অপব্যাখ্যা প্রচার করে। যদি কোনও পাঠক কোনও একটি বই পুরো পড়েন তবে তার কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


অভিযোগ ৬: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ইলহামের অর্থ ভুল করতেন[/sb]

খন্ডন:

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) কখনো কখনো ইলহামের অর্থ ভুল করতেন:

হে ঈসা (হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এর ইলহাম, বারাহীনে আহমদিয়া)

এই ইলহামে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-কে ঈসা হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। যাহোক, এই ইলহামের বেশ কয়েক বছর পরেই তিনি মসীহ হবার দাবী করেন, যদিও প্রথমে তিনি ইলহামটির অর্থ ভুল করেছিলেন। এমন কিছু ইলহামের উদাহরণ নিয়ে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর সমালোচকরা তাঁর নবুওয়াতের দাবী অস্বীকার করে, কিন্তু তারা ভুলে যায় যে অন্য নবীরাও ইলহামের অর্থ ভুল করেছিলেন:

(সে বললো,) ‘হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি আমাকে সৎকর্মশীল (উত্তরাধিকারী) দান কর।’ তখন আমরা তাকে এক পরম সহিষ্নু পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। এরপর সে যখন তার সাথে দৌড়াদৌড়ি করার বয়সে পৌঁছলো সে বললো, ’হে আমার প্রিয় পুত্র! নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখে থাকি আমি তোমাকে জবাই করছি। অতএব চিন্তা কর (এ ব্যপারে) তোমার অভিমত কি?’ সে বললো, ‘হে আমার পিতা! তোমাকে যা আদেশ দেয়া হচ্ছে তুমি তাই কর। আল্লাহ চাইলে তুমি অবশ্যই আমাকে ধৈর্যশীল দেখতে পাবে।’ এরপর তারা উভয়ে যখন (আল্লাহর ইচ্ছার সামনে) আত্মসমর্পন করলো এবং সে (অর্থাৎ ইবরাহীম) তাকে মাটিতে উপুড় করে শোয়ালো, তখন আমরা তাকে ডাক দিলাম, ‘হে ইবরাহীম! তুমি তোমার স্বপ্নকে অবশ্যই পূর্ণ করেছ।’ এভাবেই আমরা এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। (আল কোরআন: ৩৭: ১০২-১০৪)

ইবরাহীম (আ) স্বপ্নের একটি আদেশ ভুল বুঝেছিলেন যে তাঁকে তাঁর নিজ সন্তানকে হত্যা করার আদেশ দেয়া হচ্ছে, য়েখানে বাস্তবে শুধু এটাই বলা হয়েছিল যে তিনি ও তাঁর সন্তান যেন সর্বদা আল্লাহর অনুগত হয়ে থাকেন।

আর নূহ তার প্রভু-প্রতিপালককে ডেকে বললো, ‘হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত এবং তোমার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। আর তুমি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক।’ তিনি বললেন, ‘হে নূহ! সে কখনো তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিঃসন্দেহে সে ছিলো সর্বতোভাবে অসৎকর্মপরায়ণ। অতএব তুমি আমার কাছে তা চেয়ো না যে সম্পর্কে তোমার কোনও জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আমি উপদেশ দিচ্ছি, তুমি যেন অজ্ঞদের অন্তর্গত না হয়ে যাও।’ (আল কোরআন: ১১: ৪৫-৪৭)

আল্লাহ নূহ (আ)-কে জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবারকে বাঁচানো হবে তাই নূহ (আ) ভুল করেছিলেন যে তাঁর অস্বীকারকারী পুত্রকেও এই প্রতিজ্ঞায় সামিল করা হয়েছে।


অভিযোগ ৭: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এর কাছে আসা ইলহামগুলো ধর্মের জন্য অবমাননাকর।

খন্ডন:

এই অভিযোগ আনা হয় এরকম ইলহামের ভিত্তিতে:

তুমি আমার কাছে আমার একত্বের অংশ, তুমি আমাতে এবং আমি তোমাতে।(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এর ওপরে হওয়া ইলহাম)

যাহোক, মুহাম্মদ (সা) এমন ধরণেরই কিছু ওহী পেয়েছেন:

অতএব তোমরা তাদের হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন। আর তুমি যখন (হে মুহাম্মদ! তাদের প্রতি কাঁকর) নিক্ষেপ করছিলে, (তা) তুমি নিক্ষেপ করনি, বরং আল্রাহই নিক্ষেপ করেছিলেন। আর (এর উদ্দেশ্য ছিলো) তিনি যাতে নিজ পক্ষ থেকে মুমিনদেরেএক উত্তম পরীক্ষা গ্রহণ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা (ও) সর্বজ্ঞ।(আল কোরআন: ৮:১৮)

এমন ওহীর ব্যাখ্যাও আল্লাহ দিয়েছেন,

আবু হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, “আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দা স্বেচ্ছায় ইবাদতের মাধ্যমে আমার কাছে আসতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি তার শ্রবণেন্দ্রিয় হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, আর তার দর্শনেন্দ্রিয় হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, আর তার হাত যা দিয়ে সে ধরে, আর তার পা যা দিয়ে সে হাঁটে।(বুখারী)

এ ধরণের ওহীর উদাহরণ বাইবেলেও পাওয়া যায়:

God - from Sinai He came and He flashed forth from Seir upon them. He beamed forth from the mountainous region of Paran and with him were holy myriads at his right hand warriors belonging to them. (Bible, Deuteronomy 33:2)

এসব বাইবেলের বাণীগুলোকে ধর্ম অবমাননাকারী বলা তো দূরে থাক, অআহমদী মাওলানারা একমত হন যে ঈশ্বরের পারানে(মক্কার নিকটস্থ একটি পাহাড়) আগমণ একটি সত্য ভবিষ্যৎবাণী যা মহানবী মুহাম্মদ (সা) এর আগমণের নির্দেশ করে। এমনই ভাষার ব্যবহার ইতিহাসে বহুবার বহু বিখ্যাত মুসলমান দরবেশ করেছেন:

l am that aspect of God about which you have been indifferent. (Ali ibn Talib, Sharh Fusoos al Hukrn, Preface, viii, p32)

That glorious sage Abu Yazid came to the disciples and said: I am God. This perfect spiritual leader, in the state of spiritual intoxication declared: There is no God but me, serve me. In other words, in my robe there is none but God, so how long will you search Him in heaven and earth (Jaladudin Rumi, Miftah al Ulum, sec. iv, pt. ii, p25-36)

অভিযোগ ৮: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর কাছে আসা ওহীগুলো ব্যাকরণগতভাবে ভুল।

খন্ডন:

এই অভিযোগ করা হয় যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর কাছে আসা কিছু ইংরেজী ইলহাম ব্যাকরণগতভাবে ভুল, যেমন:

God is coming by His army. He is with you to kill enemy.( হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর কাছে আসা ইলহাম)

যাহোক, এটা মনে রাখা উচিৎ যে যখন তিনি এমন ভাষায় অবতীর্ণ হওয়া ওহীগুলো ছাপাতেন যে ভাষা তিনি জানতেন না, মির্যা গোলাম আহমদ (আ) কখনো কখনো এটাও উল্লেখ করতেন যে ওহীর কিছু অংশ তিনি ভুলে গিয়েছিলেন:

ওহীর দ্রুত অবতীর্ণ হওয়ার কারণে কিছু শব্দের অর্থ অস্পষ্ট রয়ে গেছিলো…… যেহেতু এসব ওহী বিদেশী ভাষায় এসেছে এবং ওহী দ্রুত আসে, এমন হওয়া সম্ভব যে উচ্চারণে হালকা বিচ্যুতি হয়ে থাকবে।(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), হকীকাতুল ওহী)

এই অবস্থায়, আমি এমন একটি ওহী পেয়েছিলাম যার মাত্র একটি বাক্যাংশ আমি স্মরণ করতে পারি। যেহেতু ওহীটি এতো দ্রুত অবতীর্ণ হলো যেন একটি বিদ্যুৎ চমক, বাকিটুকু ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), আল-বদর ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৯০৩)

এই বলে আপত্তি করা হয় যে একজন নবী কিভাবে ওহীর অংশ ভুলে যেতে পারেন। যাহোক, নবীরাও মানুষ এবং স্বয়ং মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) কখনো কখনো ওহীর অংশ ভুলে যেতেন:

আল-খুদরী কর্তৃক বর্ণিত: “নবীজী (সাঃ) আসলেন এবং আমাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আমাকে ক্বদরের রাত সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।’”(বুখারী)

এটাও মনে রাখা উচিৎ যে শুধু এজন্য যে একটি ওহী সাধারণ ব্যাকরণগত নিয়ম মেনে চলেনা তার মানে এই নয় যে সেটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল। উদাহরণ হিসেবে দেয়া যায়:

Of government the properties to unfold,
Would seem in me to affect speech and discourse;
Since I am put to know that your own science
Exceeds, in that, the lists of all advice
My strength can give you: then no more remains,
But that to your sufficiency as your Worth is able,
And let them work. (William Shakespeare, Measure for Measure)

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার সর্বসম্মতভাবে ইংরেজী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে বিবেচিত তবুও তাঁর অনেক অনেক সেরা কাজে ব্যাকরণের নিয়ম মানা হয়নি।


অভিযোগ ৯: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) বিরোধীদের সাথে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন

খন্ডন:

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) কখনো কখনো ইসলামের বিরোধীদের কথার জবাবে তাদের ‘অজ্ঞ’ বা তদ্রুপ উপাধিতে সম্বোধন করতেন। এই বলে অভিযোগ করা হয় যে এই ধরণের ভাষা একজন নবীর মানায় না। যাহোক, কুরআন প্রায়ই এই বলে প্রত্যয়ন করে যে পূর্বের নবীগণ এমনই ভাষায় বিরোধীদের ও পাপীদের কাজকে নিন্দা করেছেন:

তারা বললো, ‘হে মুসা! তাদের যেমন অনেক উপাস্য আছে আমাদের জন্যও তেমনি একটি উপাস্য বানিয়ে দাও।’ সে বললো, ‘নিশ্চয় তোমরা এক বড় অজ্ঞ জাতি।’ (আল-কোরআন ৭:১৩৯)
তুমি বল, ‘এরচেয়েও নিকৃষ্ট কিছু আল্লাহর কাছে প্রতিফলরূপে (তোমাদের জন্য) রয়েছে আমি কি তোমাদের (তা) অবহিত করবো? আল্লাহ যাদের অভিশাপ দিয়েছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন, যাদের একাংশকে তিনি বানর ও শূকর করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের উপাসনা করেছে এরাই অবস্থানের দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং সোজা পথ থেকে সবচেয়ে বেশী দূরে সরে গেছে।(আল কোরআন ৫:৬১)

আর খুব বেশী শপথকারী লান্ঞ্ছিত ব্যক্তির কথা তুমি কখনো মেনো না, (যে) চরম ছিদ্রান্বেষী (এবং) পরনিন্দা করে বেড়ায়, (যে) ভাল কাজে অধিক বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী (ও) ভয়ংকর পাপী, (যে) অতি পাষাণ ও জারজ (আল কোরআন ৬৮: ১১-১৪)
তওরাতের (আদেশ পালনের) দ্বায়িত্ব যাদের ওপরে ন্যস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু এতদসত্ত্বেও যারা তা (সঠিকভাবে) পালন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হলো কিতাবের বোঝা বহনকারী গাধার ন্যায়। (আল কোরআন ৬২:৬)


অভিযোগ ১০: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ’অভিশাপ শব্দটি ১০০০ বার লিখেছেন

খন্ডন:

এই অভিযোগ যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) আরবীতে “লানত” শব্দটি ১০০০ বার তার বইয়ে লিখেছেন তা সত্যি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি এই শব্দ সেসব ভারতীয় মুসলমানদের জবাবে লিখেছিলেন, যারা না শুধু ইসলাম ত্যাগ করেছিল, বরং তাদের পূর্ববর্তী ধর্মকে গালিগালাজ করতো। এবং তাঁর এই কাজ কুরআনের নির্দেশের পূর্ণ অনুসরণ ছিলো:

আল্লাহ সেই জাতিকে কেমন করে হেদায়াত দিবেন যারা ঈমান আনার পর অস্বীকার করেছে, অথচ নিশ্চয় এ রসূল সত্য বলে তারা সাক্ষ্য দিয়েছিলো এবং তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমানাদও এসেছিল? আর আল্লাহ অত্যাচারী লোকদের হেদায়াত দেননা। এদেরই (কর্মের) প্রতিফল হিসেবে এদের ওপর নিশ্চয় আল্লাহর, ফিরিশতাদের এবং সব মানুষের অভিসম্পাত।(আল কোরআন ৩:৮৭-৮৮)

নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের অনুরূপ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেনে। এরপর তিনি তাকে বললেন, ‘হও’। অতএব তা (হতে শুরু করবে এবং তা) হয়েই যায়। (এ হলো) তোমার প্রভু-প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (নিশ্চিত) সত্য। সুতরাং তুমি সন্দেহপোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। তোমার কাছে (ঐশী) জ্ঞান এসে যাওয়ার পরও কেউ যদি তোমার সাথে এ বিষয়ে বিতর্ক করে তবে তুমি বল, ‘আস, (আমরা) আমাদের পুত্রদের, (তোমরা) তোমাদের পুত্রদের, (আমরা) আমাদের নারীদের, (তোমরা) তোমাদের নারীদের, (আমরা) আমাদের নিজেদের (লোকদের) এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের (লোকদের) ডেকে আমরা সকাতরে প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ কামনা করি।’(আল কোরআন ৩:৬০-৬২)

কোরআন এটাও সাক্ষী দেয় যে পূর্বের নবীগণ এভাবেই অবিশ্বাসীদের অভিসম্পাত করেছেন:


বনী ইসরাইলের মধ্যে যারা অস্বীকার করেছে তাদের ওপরে দাউদ ও ঈসা ইবনে মরিয়মের মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা ছিলো তাদের ক্রমাগত অবাধ্যতা ও সীমালংঘণের কারণে।(আল কোরআন ৫:৭৯)

অভিযোগ ১১: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) মৃত্যুর হুমকি দিতেন

খন্ডন:

এই অভিযোগ করা হয় যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর ইসলামের বিরোধীদের ব্যপারে শাস্তির ভবিষ্যৎবাণীগুলো হুমকি ছিলো। এইসব অভিযোগকারীরা ভুলে যান যে কোরআনে বর্ণিত আছে যে আল্লাহর নবীগণ এরচেয়েও বেশী ভয়াবহ শাস্তির ভবিষ্যৎবাণী করেছেন:

নিশ্চয় আমরা লূতের পরিবার ছাড়া তাদের সবার ওপরে পাথর (বর্ষণকারী) ঝড় পাঠিয়েছিলাম। আমরা তাদের (অর্থাৎ লূতের পরিবারকে) প্রত্যুষে রক্ষা করেছিলাম আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহরূপে। এভাবেই আমরা কৃতজ্ঞদের পুরষ্কার দিয়ে থাকি। আর নিশ্চয় সে (অর্থাৎ লূত) আমাদের শাস্তি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা সতর্কবাণী সম্পর্কে সন্দেহে পড়ে গেল। (আল কোরআন ৫৪: ৩৫-৩৭)

আর মূসা বললো, ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! তুমি ফেরাউন ও তার প্রধানদের এ পার্থিব জীবনের সাজসজ্জা ও ধনসম্পদ দান করেছ। হে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! এটি কেবল (লোকদেরকে) তোমার পথ থেকে বিচ্যুতই করে। হে আমাদের প্রভু প্রতিপালক! তাদের ধনসম্পদ নিশ্চিহ্ন কর এবং তাদের অন্তরেও আঘাত হানো। কেননা তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না (বলে মনে হয়)। (আল কোরআন ১০: ৮৮-৮৯)

আর নূহ বললো, ‘হে আমার প্রভূ-প্রতিপালক! ভূপৃষ্ঠে কাফিরদের কোন গৃহবাসীকেই তুমি রেহাই দিও না। তুমি রেহাই দিলে নিশ্চয় এরা তোমার বান্দাদের পথভ্রষ্ট করে দিবে এবং কেবল পাপী ও অকৃতজ্ঞদেরই জন্ম দিবে।(আল কোরআন ৭১: ২৭-২৮)



অভিযোগ ১২: পিগটের (Piggot) ভবিষ্যৎবাণী ফলেনি

খন্ডন:

এ অভিযোগ করা হয় যে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) জন হিউগ স্মিথ পিগটের (John Hugh Smyth Piggot) মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন নিজের মৃত্যুর আগে কিন্তু যেহেতু সেটা ফলেনি ভবিষ্যৎবাণীটি ব্যর্থ হয়েছিল। যাহোক, যে নোটিশে এই ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিলো, সেখানে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) এটাও উল্লেখ করেন যে,

সুতরাং আমি তাকে সতর্ক করছি যে যদি সে নিজের অন্যায় দাবীর জন্য তওবা না করে সে অতি শীঘ্রই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।(হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), ১৯০২)

ভবিষ্যৎবাণীতে এটা শর্ত ছিলো যে পিগট নিজের ঈশ্বর হবার দাবীর জন্য যেন তওবা করে। বাস্তবে সকল সাক্ষ্য বিদ্যমান আছে যে ১৯০২ থেকে ১৯০৮ থেকে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর ওফাতের আগ পর্যন্ত পিগট একবারও নিজের সেই ঈশ্বর হবার দাবীর পুনরাবৃত্তি করেনি, যদিও সে একটি দলের ধর্মীয় নেতা ছিলো এবং নিয়মিত বক্তৃতাও দিতো। বরং সে নিজের পেশা হিসেবে ‘পাদ্রী’ লিখতো এবং নিজের বাসার সামনে একটি বোর্ডও লাগিয়েছিলো যাতে লেখা ছিলো:

"I am a man. Nothing akin to humanity to I consider alien to me" (John Hugh Smyth Piggot's personal plaque)[/sb][/si]

সকল অআহমদী বিজ্ঞ পন্ডিত এ বিষয়ে একমত হবেন,

The flamboyant Messiah became a quiet gentle pastor. He adopted the role of benign squire rather than that of Messiah. (D. McCormick, writing in his biography on Piggot, The Temple of Love)

[John Hugh Smyth Piggot] backed off and retreated from these claims. (Dr Joshua Schwieso, university lecturer and Membership Secretary for the Society of Church Archaelogy)

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর এমন ভবিষ্যৎবাণীগুলো সবসময় শর্তসাপেক্ষ ছিলো এবং যারা তওবা করতো তারা বেঁচে যেত। এটা একেবারে সেই ইউনুস (আ)-এর সাথে মিলে যায়, কোরআন ও বাইবেল অনুযায়ী যাঁর লোকেরা তওবা করার কারণে নিজেদের ধ্বংসের ভবিষ্যৎবাণী থেকে বেঁচে গিয়েছিলো:
অতএব ইউনুসের জাতি ছাড়া অন্য কোনও জনপদ কেন এমন হলো না, যারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান কাজে আসতো। তারা (অর্থাৎ ইউনুসের জাতি) যখন ঈমান এনেছিলো তখন আমরা তাদের পার্থিব জীবনে (তাদের কাছ থেকে) লান্ঞ্ছনার আযাব দূর করে দিয়েছিলাম। আর তাদের এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত জীবনোপকরণ দিয়েছিলাম।(আল কোরআন ১০: ৯৯)


অভিযোগ ১৩: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) বাথরুমে মারা গেছেন

খন্ডন:

এই অভিযোগ করা হয় যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) বাথরুমে মারা গেছেন। এটা চরম একটা মিথ্যা কথা, যেটা আহমদীয়া-বিরোধীদের নোংরা মানসিকতার পরিচয় ফাঁস করে দেয়। সকল সাক্ষী-সাবুদ যা ইতিহাসে সংরক্ষিত আছে নিশ্চিত করে যে তিনি তাঁর শয্যাকক্ষে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর সর্বশেষ বই সমাপ্ত করার ও লাহোরে বক্তব্য দেয়ার কিছুকাল পরে। যদি এই মিথ্যা প্রচারকারীদের কাছে একটিও কোনও প্রমাণ থেকে থাকে নিজেদের জঘন্য নোংরা মিথ্যার সপক্ষে, তারা তা পেশ করুক।


অভিযোগ ১৪: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) কলেরায় মারা গেছেন

খন্ডন:

আহমদীয়ার বিরোধীরা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করে এই উক্তির মাধ্যমে,

যে রাতে হযরত সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়লেন, আমি আমার ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিলাম। যখনই তাঁর অসুস্থতা বেড়ে গেল, আমি জেগে উঠেছিলাম। যখন আমি হযরত সাহেবের কাছে গেলাম ও তাঁর পরিস্থিতি দেখলাম, তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আমি কি কলেরায় ভুগছি?” (মীর নাসির নওয়াব)

একজন রোগীর সংঙ্কাপূর্ণ প্রশ্ন – যখন তিনি কোনও ডাক্তারী বিশেষজ্ঞ ছিলেন না – কোনওভাবেই তাঁর প্রকৃত রোগ সম্পর্কে কোনও ধারণা দেয় না। যে সকল ইংরেজ অআহমদী ডাক্তার যারা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর চিকিৎসা করেছেন এবং সকল উপস্থিত সাক্ষী একথা স্বীকার করেন যে তিনি দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং সম্ভবত পাকস্থলীর কোনও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ভারতে সেসময় কলেরার প্রাদূর্ভাব রোধ করতে আইন ছিলো যে, কলেরায় মৃত মানুষের দেহ পরিবহন করা যাবে না। আইন অনুযায়ী কলেরায় মৃত মানুষের দেহ মৃত্যুর স্থানেই দাফন করতে হবে। তবুও, অআহমদী ইংরেজ অফিসিয়ালরা প্রত্যয়ন করেন যে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর মৃত্যু কলেরায় হয়নি, যাতে করে তাঁর মৃতদেহ ট্রেনে বহন করে কাদিয়ানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিলো।


অভিযোগ ১৫: নবীরা কোনও উত্তরাধিকার রেখে যাননা

খন্ডন:

এই অভিযোগ এই ভিত্তিতে করা হয় যে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) নিজের সন্তানদের জন্য উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছিলেন যেটা আপাতদৃষ্টিতে এই হাদীসের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ:

আমাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার থাকবে না, যা আমরা (নবীগণ) রেখে যাই তা হচ্ছে দান।(বুখারী)

যাহোক, এই হাদীস নিজেই কুরআনের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ:

আর সোলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হলো, (আল কোরআন ২৭:১৭)

এ হলো তোমার প্রভু-প্রতিপালকের (সেই) কৃপার বর্ণনা, যা তিনি তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন, যখন সে তার প্রভূ-প্রতিপালককে নিভৃতে ডেকেছিলো। সে বলেছিলো, ‘হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বার্ধক্যের দরুন আমার মাথার চুল উজ্জ্বল-শুভ্র হয়ে গেছে। হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! এরপরও তোমার কাছে দোয়া করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি। আর নিশ্চয় আমার (মৃত্যুর) পর আমার আত্মীয়-স্বজনদের আচরণ সম্পর্কে ভয় করি। (অপরদিকে) আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান কর, যে আমার উত্তরাধিকারী হতে পারে এবং ইয়াকুবের বংশধরদের উত্তরাধিকারীও হতে পারে।(আল কোরআন ১৯:৩-৭)

বহু নবী উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছিলেন এবং এই হাদীসের মূল অর্থ এই যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এটা দাবার কেবল বুঝিয়েছিলেন যে তিনি কোনও উত্তরাধিকার রেখে যাবেন না, যেমন আরেকটি হাদীসে সাক্ষ্য দেয়,

মালিক বিন আউস-আন-নাসরী কর্তৃক বর্ণিত, “আল্লাহর নবী (সা) বলেছেন, ‘আমাদের সম্পত্তির কোনও উত্তরাধিকার থাকবে না এবং আমরা যাই রেখে যাই তা দান করে দেয়া হবে’ এবং এটা দ্বারা আল্লাহর নবী (সা) নিজেকে বুঝিয়েছিলেন।”(বুখারী)

অভিযোগ ১৬: ক্রমাগত বিরোধীতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-কে মিথ্যা প্রমাণ করে

খন্ডন:

এই অভিযোগ করা হয় যে যেহেতু বেশীরভাগ মুসলমান হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ)-এর আনুগত্য করেনি বরং তারা তাঁর বিরোধ করে, তিনি মিথ্যা প্রমাণিত হোন। কোরআন এটাকে অস্বীকার করে:

আর তোমার পূর্বেও রসূলদের ঠাট্টাবিদ্রুপ করা হয়েছে। (পরিণামে) তাদের মাঝে যারা এ রসূলদের সাথে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল তাদেরকে তাই ঘিরে ফেললো যা নিয়ে তারা ঠাট্টাবিদ্রুপ করতো।(আল কোরআন ৬:১১)

নিশ্চয় আমরা বনী ইসরাইলের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তাদের প্রতি অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম। তাদের কাছে যখনই কোনও রসূল এমন কিছু নিয়ে আসতো যা তাদের মনঃপূত হতো না তখনই (তাদের) এক দলকে তারা প্রত্যাখ্যান করতো এবং অন্য একদলের কঠোর বিরোধীতা করতো।(আল কোরআন ৫:৭১)

এদের পূর্ববর্তীদের কাছেও যত রসূলই এসেছিলো তারাও এমনটিই বলেছিলো, ‘এ এক জাদুকর বা পাগল।’ (আল কোরআন ৫১: ৫৩)

এতে তার জাতির যেসব প্রধান অস্বীকার করেছিলো তারা বললো, ‘সে তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। সে তোমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে নিশ্চয় তিনি ফিরিশতা অবতীর্ণ করতেন। আমরাতো আমাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে এরূপ (কিছুই) শুনিনি। সে তো কেবল একটি মানুষ যাকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে। সুতরাং তার পরিণতির জন্য তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা কর। (আল কোরআন ২৩: ২৫-২৬)

অতএব মুসা যখন আমাদের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে তাদের কাছে এল তখন তারা বললো, ’এটা কেবল এক বানানো যাদু। আর আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এমন কথা কখনো শুনিনি।’ (আল কোরআন ২৮:৩৭)

কোরআন এ ব্যপারে সাক্ষ্য দেয় যে প্রত্যেক নবীর সাথে ঠাট্টাবিদ্রুপ করা হয়েছে, তাঁদের মিথ্যাবাদী আখ্যা দেয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। সত্যি তো এই যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরেও বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাঁর (সা)-এর অস্বীকার করে এবং ইসলামকে মিথ্যাধর্ম মনে করে (৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১৬০ কোটি মানুষ মুসলমান) । ঈসা (আ) এর ক্ষেত্রে, আজও ইহুদীরা তাঁর (আ)-এর শিক্ষা অস্বীকার করে। বাস্তব এই যে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) ও তাঁর (আ) এর অনুসারীদের বিজয় সময়সাপেক্ষ।

অভিযোগ ১৭: হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) জিহাদ বিলুপ্ত করেছেন

খন্ডন:

এই অভিযোগ করা হয় এমন উদ্ধৃতির উল্লেখ করে:

আমি পরিষ্কার ঘোষণা করিয়াছি, বর্তমান সময়ে জিহাদ ববা ধর্ম-যুদ্ধ হারাম (নিষিদ্ধ)। কারণ ‘ইয়াক সেরোস সালীব’ (ক্রুশ ধ্বংস করা) যেমন মসীহ মাউদ (আ)-এর কাজ, তদ্রুপ ‘ইয়াজাউল হার্ব’ (যুদ্ধ রহিত করা) তাঁহার আর একটি কাজ; এই শেষোক্ত কাজের জন্য জিহাদ হারাম বলিয়া ফতোয়া দেয়া আমার কাজ ছিলো। অতএব আমি বলিতেছি, বর্তমান যুগে ধর্মের নামে অস্ত্র ধারণ করা হারাম এবং ভীষণ পাপ। সীমান্ত প্রদেশের অসভ্য লোকেরা জিহাদের নামে ডাকাতি করিয়া জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে। এইরূপে শান্তি নষ্ট করিয়া তাহারা ইসলামের দুর্নাম রটাইতেছে। তাহাদের জন্য আমার বড়ই দুঃখ হয়। এই বর্বরদের জন্য কোন প্রকৃত মুসলমানেরই সহানুভূতি থাকা উচিৎ নহে। (মালফুজাত, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ))

সত্যি বলতে গেলে আজকের বিশ্বে সব শান্তিপ্রিয় মুসলমানই ওপরের কথাগুলোর সত্যতা দেখতে পাবেন। ইসলামের নামে কট্টরপন্থী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নানান পাশবিক শাস্তি যেমন শিরচ্ছেদ, পাথর ছুঁড়ে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা এসব ইসলামের জন্য কোন সুনাম বয়ে আনছে না। তেমনি ইসলামের নামে অস্ত্রধারণ করে জঙ্গিবাদ করে সারাবিশ্বের মানুষের কাছে ইসলামকে বরং ছোটই করা হচ্ছে।
হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ) অস্ত্রের জিহাদের বদলে কলমের জিহাদের ডাক দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন,

সুতরাং তাঁর সত্যতার নিদর্শন হচ্ছে যে, তিনি যুদ্ধ করবেন না। এর কারণ এটাই যে, সে যুগে বিরুদ্ধবাদীরা ধর্মীয় যুদ্ধ ছেড়ে দিবে। তবে এ মোকাবেলা ভিন্ন একটি ধরণ এবং পদ্ধতি অবলম্বন করে নিয়েছে তা হচ্ছে কলমের সাহায্যে ইসলামের উপর আপত্তি করা। খৃস্টানদের দেখ, তাদের এক একটি পুস্তিকা পন্ঞ্চাশ, পন্ঞ্চাশ হাজার সংখ্যায় প্রকাশিত হচ্ছে। প্রত্যেক ধরণের চেষ্টা চলছে মানুষ যেন ইসলামের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে। সুতরাং এর মোকাবেলার জন্য আমাদের কলমের সাহায্যে কাজ নেওয়া উচিৎ না তীর চালানো উচিৎ? এ সময় যদি কেউ এমন ধারণা করে তবে তারচেয়ে নির্বোধ এবং ইসলামের শত্রু আর কে হবে? এ ধরণের কথা বলা ইসলামকে কলংকিত করা ছাড়া আর কি? (হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ), লেকচার লুধিয়ানা)

প্রতিটি শান্তিপ্রিয় মুসলমান একথা স্বীকার করবেন যে এ যুগে যেসব লোক ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ করে তারা প্রকৃতপক্ষেই ইসলামের শত্রু। বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা, হলি আর্টিজানে ন্যাক্কারজনক হামলা, বিভিন্ন সময়ে হওয়া সংখ্যালঘু শ্রেণীর ওপরে হামলা এসব অমুসলিমদের কাছে ইসলামের নামে শুধু কলংকই লেপে দিয়েছে।

Comments

উদয় খান এর ছবি
 

দুর্ভাগ্য যে বেচারা উপযুক্ত মানসিক চিকিৎসা ব্যতিত মারা গেলো

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নাঈমুর রহমান আকাশ
নাঈমুর রহমান আকাশ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 28, 2018 - 7:15অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর