নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নরসুন্দর মানুষ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

কোচিং ব্যবস্থা বা প্রাইভেট টিউশনিঃ আসলে কি হচ্ছে এতে?


পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা।আর এই পরিবর্তন আমরা সচেতনে হোক বা অবচেতনে হোক সবাইই কম-বেশী চাই।যদিও পরিবর্তনের অনেক দিক আছে। মূলত মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগিক আর মনোদৈহিক ভাবে পরিবর্তনই অন্যান্য অনেক পরিবর্তনের কারণ।আর এই জন্যই মানুষের জন্য শিক্ষার আয়োজন; স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে ঠিক এই ব্যাপারটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার
প্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ কতটা গভীরবভাবে উপলব্ধি করে তা প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা,যদি তাদের উপলব্ধির পরিধি বিস্তৃত হত তবে বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় যত অসংগতি আছে তত হয়তো থাকতো না।সেহেতু প্রশ্ন তুলতেই হচ্ছে।

শিক্ষা নিয়ে যারা একটু ভাবনা-চিন্তা করেন তারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারবেন,এখানে একজন শিক্ষিকা বা শিক্ষকের গুরুত্ব কতটা।শিক্ষা পণ্যের মত নয় যে তা ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক দ্বারা চিহ্নিত করা যাবে।প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়-
"মনোরাজ্যের দান গ্রহণসাপেক্ষ, অথচ আমরা দাতার মুখ চেয়ে গ্রহীতার কথাটা একেবারেই ভুলে যাই।এ সত্য ভুলে না গেলে আমরা বুঝতাম যে, শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান করায় নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন,তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন, মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন, তার জ্ঞান পিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন, এর বেশি আর কিছু পারেন না।"

এটা যে কতটা ঠিক তা বুঝতে নিশ্চয়ই কারো অসুবিধা হবার কথা নয়।চারিদিকে জানার,নিজের বুদ্ধিকে উন্নত করার,আবেগকে সুন্দর করার এত এত উপাদান আছে যা সারা জীবন কিন্তু কেউ হাতে ধরে ধরে শেখাবে না।সেই প্রবাদটা এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক :
কাউকে একটা মাছ ধরে দাও, সে একদিনেই খেয়ে ফেলবে কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দাও সে প্রতিদিনই ধরে খেতে পারবে।

আর এটা যদি যৌক্তিকভাবে সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন চলে আসে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেন তো?না অনেকেই ভাববার মতো সময় পান না?
ভাবতে গেলে সময় লাগে।কিন্তু যে শিক্ষিকা বা শিক্ষক স্কুল বা কলেজে যাবার আগে নিজের কোচিং চালাচ্ছেন আবার স্কুল থেকে এসেই শুরু করছেন। সে কি আদৌ কারোরই কথা ঠিকঠাক ভাবতে পারছেন?না পারছেন স্কুলের স্টুডেন্টদের নিয়ে সময় করে ভাবতে না পারছেন তার কোচিং বানিজ্যের ক্রেতাদের দিকে ঠিকঠাক নজর দিতে।আর তাতে করে হচ্ছে কি-যারা পিছনের তারা বরাবরই পিছনে থাকছে।কিন্তু অভিভাবিকা-অভিভাবক বলি আর ছাত্রী-ছাত্র বলি কেউই এমন ফাঁকি ধরতে পারছেন না।স্রোতে গা ভাসানোর আনন্দটাই আলাদা!
এবার যুক্তির খাতিরে আমি ধরে নিলাম,এক জন শিক্ষিকা-শিক্ষক তার স্কুলে কোন ফাঁকি দেন না, তার ছাত্রী-ছাত্রদের ব্যাপারে রীতিমতো ভাবনাচিন্তা করেন এবং কোনপ্রকার কোচিং বানিজ্যের সাথে যুক্ত নন।কিন্তু এক্ষেত্রেও তিনি ছাত্রী-ছাত্রদের সহযোগিতা নাও পেতে পারেন। কেননা, তার ছাত্রী-ছাত্ররা অন্য কারো অধীনে উক্ত সিলেবাসে পাঠ শেষ করছে।এতে করে দু'ধরনের কনসেপ্টচুয়াল ব্যাপার-স্যাপারে সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।আর এই জন্য সে ক্লাসে মনোযোগী হতে পারে না।

আবার যদি ধরে নিই, কোনো কোচিং শিক্ষিকা-শিক্ষক তার ছাত্রী-ছাত্রদের নিয়ে ঠিকঠাক ভাবছেন,পঠন-পাঠনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এগোচ্ছেন ।তাহলেও এক্ষেত্রে কি দাঁড়াবে?

প্রথমত তার যে স্কুলে শিক্ষিকা-শিক্ষক আছে (যারা সরকারি বেতনপ্রাপ্ত)তাদের দায়িত্ব হয়তো কমে যাবে।আর যেহেতু কোচিং এ অভিভাবিকা-অভিভাবকরা অনেক অর্থ দিয়ে পড়াচ্ছেন, যেখানে কিনা দায়িত্বে নিয়েছে গণতান্ত্রিক সরকার অবৈতনিক শিক্ষার।

সবমিলিয়ে শিক্ষাসিস্টেমেরই ধস আমরা দেখতে পারছি।

কোচিং এর পাশাপাশি সমান হারে আছে ব্যক্তিগত প্রাইভেট টিউশনি ব্যবস্থা।যেখানে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সাথে ব্যাপারটা একেবারেই যায় না।"স্কুল(School)" ব্যাপারটার মধ্যেই আছে সমষ্টিগত সামাজিক ব্যাপার।কিন্তু প্রাইভেট টিউশনিতে যেটা একেবারেই দুর্লভ বলতে পারি।যেখানে মা-বাবার অযৌক্তিক ইচ্ছা-অনিচ্ছারই প্রাধান্য বেশি।ছাত্রী-ছাত্রীদের মানসিক অবস্থা বা ইচ্ছা-অনিচ্ছা একেবারে মূল্যহীন বলা চলে।
তবে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং এর স্বপক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তি দেওয়া হয় তাহল-
যেহেতু স্কুল-কলেজে ঠিকঠাক পড়ালেখা হয় না সেহেতু বাধ্য হয়ে পড়াতেই হয়।
এটা বোঝবার মত সচেতনতা যাদের আছেন তাদের নিশ্চয়ই এটা বোঝা উচিত গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ইচ্ছায় অনেক কিছু ঘটতে পারে।তারা কেন সংঘটিত হচ্ছে না?কেন সমস্যাকে মেনে নিয়ে পুরো শিক্ষাসিস্টেমেরই মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে?এখানে কেউ কেউ বলতে পারেন, তা এখানে সাধারণ জনগণের কি করার?
তাদেরকে এটা বলতেই হচ্ছে,আপনি সরকারকে দোষ দিলে ভূলটি করবেন, কেননা সরকার কিন্তু আপনার দ্বারাই গঠিত হয়।অর্থাৎ আপনি বা আপনার মত অন্যদের দ্বারা।আপনার ছেলে মেয়ে শিক্ষা নামক গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে এভাবে বঞ্চিত হচ্ছে আর আপনি চুপটি করে মেনে নিচ্ছেন।আবার তার স্বপক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন।সেটা একটু কেমন কেমন হয়ে যাচ্ছে না?

আরেকটি প্রশ্ন অনেক করে বসেন,সরকারি ডাক্তাররা নিজেস্ব চেম্বার খুলে বসলে দোষ নেই,শিক্ষিকা-শিক্ষকরা কোচিং খুলে বসলে সমস্যা কোথায়?
ডাক্তারি করা আর শিক্ষকতা করা যে এক ব্যাপার নয় একটু চিন্তা করলেই ব্যাপারটা বোঝা যায়।
তবে আমি মাত্র কয়েকটি দিক তুলে ধরছি:
★ছাত্রী বা ছাত্রের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় শিক্ষিকা বা শিক্ষককে।যেখানে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক বরং উলটো এবং খুব কম সময়ের ব্যাপার।

★ডাক্তারের প্রত্যেক রোগিকে অনেক ভাবে না চিনলেও চলে,কিন্তু একজন শিক্ষিকা বা শিক্ষককে তার স্টুডেন্ট কে বুঝতে হয় খুব যত্ন করে।চিনতে হয় অনেক ভাবে।

মানুষের ভাবনাচিন্তার জন্য তার পারিপার্শ্বিকতা অনেকটা দায়ী।শিক্ষিকা-শিক্ষকদের, অভিভাবিকা-অভিভাবকদের,ছাত্রী-ছাত্রদের ভাবনা চিন্তাও তার পরিপার্শ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলে অধিকাংশ সময়।কিন্তু এটা মানতেই হবে উজান স্রোতের যাত্রীরা অনেক ক্ষেত্রে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক দিকেই যান।যদিও কেউ কেউ আবার ব্ল্যাকশিপ বলে থাকেন!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

দীপ্ত সুন্দ অসুর
দীপ্ত সুন্দ অসুর এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 11 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, মে 7, 2017 - 6:13পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর