নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

প্রেমজ পিঁপড়ের ফেরোমেন ঘ্রাণ !


অনেকদিন পর ঘুমে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করলো আমার একঝাঁক পিঁপড়ে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতির নানার রঙের পিঁপড়ে এসে ঝেঁকে ধরলো আমার পুরো বিছানা। আমার হাতের আঙুল বেয়ে তারা উঠে এলো আমার বুকের কাছে। ওরা চারদিকে বসলো কিংবা দাঁড়িয়ে কথা কইতে চাইলো আমার সাথে। গভীর ঘুমের মাঝে আজব এসব সপ্তবর্ণা পিঁপড়ে পরিবার দেখে বিস্মিত এবং ভয় পেলাম আমি। কিন্তু ওরা যখন ওদের ভালবাসার উলের কাঁটায় স্বপ্নবোনা জীবনের সোয়েটার নিয়ে দাঁড়ালা আমার একদম শিয়রে আর হৃদয়ের কাছাকাছি, তখন চমকিত হয়ে শুনতে থাকলাম এসব হাজারো পিঁপড়ের গান!
:
পিঁপড়েরা একটা মাদকীয় ফেরোমেনযুক্ত ঘ্রাণ ছড়ালো আমার কক্ষের চারদিকে! এ গভীর রাতে এমন ঘ্রাণে আপ্লুত হলাম আমি। আপ্লুত হলো আমার ঘরের সকল প্রপঞ্চের জিনিসপত্র। ভয়ার্ত কণ্ঠে বললাম, "কি চাও তোমরা? কেন এসেছো আমার কাছে এ গভীর রাতে"? পিঁপড়েরা করুণ আকুলতা ভরা রিণরিণকে গলায় বললো, "স্যার আপনাকে ভয় দেখাতে নয়, হত্যা করতে নয়, আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি"! বললাম, "কিসের কৃতজ্ঞতা পিঁপড়েদের? তোমাদের কৃতজ্ঞতা দিয়ে কি করবো আমি"? বললো --
- "স্যার আপনি একদিন জীবন বাঁচিয়েছিলেন আমাদের পরম যত্নে। আজ থেকে প্রায় ২২-বছর আগে। কিন্তু নানা কারণে তখন কৃতজ্ঞতা জানাতে পারিনি আপনাকে। এরপর বুড়ো হয়ে মারা যাই আমরা সবাই প্রায় কুড়ি বছর আগে। পিঁপড়েদের জীবনচক্রের নিয়মানুসারে প্রতি ২০-বছর পর আবার তারা জন্ম নেয় নতুন অবয়বে। আমরাও তাই ঐ প্রজন্মের সবাই আবার নতুন পিঁপড়ে-রূপে জন্ম নিলাম প্রায় ১-বছর আগে। জন্ম নিয়েই খোঁজা শুরু করি আপনাকে। কিন্তু আপনার গাঁ, বাড়ি, মাঠ, স্কুল সব খুঁজেও পাইনি আপনাকে। অবশেষে আমরা ভালবাসার ফেরোমেন ছুঁড়ে-ছুঁড়ে জানতে পারি, আপনার ঘ্রাণ আসছে ঢাকা থেকে। কিন্তু ঢাকাতো অনেক দুর! কারণ আমাদের জন্ম হয়েছিল সেই পুরণো চরের মাঠ, বাগান আর জলমগ্ন মাটিতেই। অবশেষে আমরা প্লান করি, ঢাকাতে যাবো আপনার নৈকট্যে কিন্তু কিভাবে আসবো ঢাকা? প্রায় ৩-মাস আগে আপনাদের দ্বীপগাঁ থেকে যখন তরমুজ ভরা হচ্ছিল ট্রলারে এবং জানলাম, ঐ ট্রলার সরাসরি যাবে ঢাকায়, তখন সবাইকে মুহূর্তে ফেরোমেন বার্তা পাঠালাম ট্রলারঘাট আসতে। ৩০-মিনিটের মাথায় ৩-লাখ পিঁপড়ে, যাদের বাঁচিয়েছিলেন আপনি ২২-বছর আ্গে, তারা এক কাপড়েই উঠে পড়লো ঢাকাগামি ট্রলারে। জীবন বাঁচাতে সবাই তরমুজের ফাঁকে ফাঁকে আত্মগোপন করে রইলো। ধরা পড়লে ট্রলার মাঝিরা জলে ছুঁড়ে ফেলবে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে দেবে আমাদের, তাই এ ৩-দিন মুলত না খেয়েই ট্রলারে কাটালাম আমরা"!
:
এবার ভয় কাটলো আমার। বললাম, "আমার জন্যে তোমরা আমার দ্বীপগাঁ থেকে এ বারিধারার ফ্লাটে এলে? বিস্মিত আমি কিন্তু কিভাবে এতোদুর আসতে পারলে ট্রলার কি বারিধারা ফ্লাটে আসে"? পিঁপড়েদের দলনেতা বললো, "স্যার ট্রলার ভিড়লো গাবতলী ঘাটে। শুনতে পেলাম তরমুজ নামিয়েই ট্রলার ধোবে তারা। তাতে আমাদের মারা পড়ার খুবই সম্ভাবনা। তাই জীবনমরণ রিক্স নিয়ে তরমুজ নামানোর ফাঁকেই সিঁড়ির উল্টো দিক বেয়ে নেমে যাই সবাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো আপনাকে পাবো কিভাবে? আপনার শরীরি ঘ্রাণ নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে নর্দমা ঠেলে, পাকা সড়ক এড়িয়ে অনেক সতর্কতার মাঝে এখানে পৌঁছতে প্রায় ৭০-দিন লাগলো আমাদের। কারণ দিনে এতো মানুষ আর গাড়ি যে! চলতে পারছিলাম আমরা ঢাকার সড়কে।
:
বললাম - "পিঁপড়ে বন্ধুরা! তোমরা কেন আসলে জীবন বাজি রাখা এমন রিক্স নিয়ে আমাকে দেখতে? আমার কিছু মনে নেই কবে কিভাবে উপকার করেছিলাম তোমাদের"। পিঁপড়েরা বললো, "স্যার আপনি ঘুমিয়ে যান আবার, আমরা আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি ২২-বছর আগে আপনার গাঁয়ের পথে"। এবার অন্য এক ফেরোমেন বাতাসে ছড়ালো পিঁপড়েরা, যাতে প্রিয়ার সুখময়ী বক্ষতলে অফুরাণ ফুলেল শব্দময়তার গন্ধে ঘুমিয়ে পড়লাম আমি এক স্বাপ্নিক জগতে।
:
আসলে ঘুমতো নয় আমি চলে গেলাম কৈশোরে আমার ২২-বছর আগের অতীত জীব প্রপাতের মোহনীয় মুগ্ধ ধারাবাহিকতার গানভরা এক কাব্যময় জীবনে। এক গ্রীস্মের বিকেলে আকস্মিক জোয়ারজলে ভরে গেলো আমাদের চারপাশের বিলগুলো। ঐ জোয়ারের পানি ছিটিয়ে খেলা করছিলাম আমরা গাঁয়ের দুরন্ত কিশোরেরা। হঠাৎ একটা দৃশ্য চোখে পড়ে মনটা ধুক করে উঠলো আমার। একটা গাছের মরা ডালকে আঁকড়ে ধরে আছে অনেকগুলো পিঁপড়ের একটা দলা বা বল। প্রত্যেকে প্রত্যেককে কামড়ে ধরে একটা মোটা রশির মত তৈরি করেছে তারা। কৌতুহল নিয়ে পিঁপড়েদের বেঁচে থাকা দেখছিলাম। হঠাৎ প্রচন্ড জলতোড়ে একটা দলা ছিঁড়ে নিলো জলে। সেখানেও পিঁপড়েরা কুন্ডলী পাকিয়ে বল আকারে ভাসতে থাকলো বিলের অথৈ পানিতে। আমি গাছের কটা বড় পাতা ছিঁড়ে ফেলে দিলাম একদম ঐ ভাসমান দলার কাছেই। আশ্চর্যজনকভাবে পিঁপড়েরা কামড়ে ধরলো পাতাগুলো। আমার তখন মায়া হলো খুব ওদের জন্যে। তাই পাতাসহ সব দলাকে উঠিয়ে নিয়ে এলাম ঐ শুকনো ডালটার কাছে, যেখানে অন্য হাজারো পিঁপড়ে তখনো আঁকড়ে ধরে আছে মরা ডালটাকে। কি মনে করে যেন পিঁপড়েসহ ডালটাকে তুলে একটা গাছে লটকে দেই আমি। সব পিঁপড়েরা চলে যায় বৃক্ষের ডালে ডালে।
:
সম্ভবত ঐ জোয়ার জলে ভেসে যাওয়া থেকে হাজারো কিংবা লাখো পিঁপড়ে বেঁচে গিয়েছিল সেদিন। কিন্তু প্রায় ২২-বছর আগের সে কথাটি মনে ছিলনা আমার। আজ প্রায় ২২ বছর পর ঐ পিঁপড়েরা মরে যাওয়ার পরও, আবার নতুন জন্মান্তরে মনে রেখেছে সে কথা তা চিন্তনে আমার সপ্তরঙা সুবর্ণ হৃদয়ের রক্তলেখায় জেগে থাকা পলিময় চরে আবার ফিরে যাই ঐসব পিঁপড়েদের সুখময় জীবন ঘরে!
:
এক সময় সূর্য উঠে ভরে যায় সোনালি রোদ্দুরে আমার পুরো ঘর। প্রথম প্রেমের অপরূপ সব রূপকথার সুখকর আনন্দবন্যায় খুঁজতে থাকি আমি রাতের পিঁপড়েদের। একটা পিঁপড়েও আর খুজে পাইনা আমি পুরোঘর, বারান্দা কিংবা বাগানে। অনুরিত বৃক্ষশব্দের শেকড়ের প্রাণময়তার নিকুঞ্জ রিণরিণে গানে পিঁপড়েরা ছড়িয়ে দিয়ে যায় আমায় এক ভালবাসার ফেরোমেন। যার ঘ্রাণে আমার হৃদয় সৈকতে ভেসে আসে কত প্রেমজ জঞ্জাল! পিঁপড়েরা আমার নাকে প্রেমের বাগদাদি আতর, আর চোখে সুখের সুলেমানি সুরমা লাগিয়ে কোথায় হারিয়ে যায় জানিনা আমি! ওদের জন্যে আমার ভালবাসার চতুর্দশী চাঁদ দৌঁড়ে যায় বুনো মেঘের বাতাসে প্রতিনিয়ত। এরপর প্রতিরাতে বর্ষাস্রোতে ভাসমান জেদী কচুরিপানার মতো ওদের খুঁজে ফিরি আমি আমার চারদিকে। ঐসব পিঁপড়েরা এক চমকিত স্নপ্নময় রাতঘুমের সুবর্ণরেখায় উড়ে-উড়ে সুখবাতাসে ঘুম পাড়িয়ে রাখে আমায় প্রতিনিয়ত!

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর