নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বাংলাদেশের প্রচলিত ইফতারপার্টি জামায়াত-শিবিরের আবিষ্কৃত অপসংস্কৃতি


বাংলাদেশের প্রচলিত ইফতারপার্টি জামায়াত-শিবিরের আবিষ্কৃত অপসংস্কৃতি
সাইয়িদ রফিকুল হক

ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টির প্রাককথন:

একটা সময় ছিল—যখন বাংলাদেশের মানুষ ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি বলে কোনোকিছু চিনতো না, আর তা জানতোও না। সেই সময় মানুষের জীবনযাপনপ্রক্রিয়া ছিল একেবারে সহজ-সরল। তবে আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে অতিপ্রাচীনকাল থেকে রমজান-মাসে স্বল্পপরিসরে গ্রামভিত্তিক ‘রোজাদার-খাওয়ানো’র একটা প্রচলন ছিল। আর এটা একসময় দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিলো। তখন গ্রামে-গ্রামে যে সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিলো—তারউপর ভিত্তি করে সমাজের মানুষদের নিয়ে নিজস্ব সমাজভিত্তিক মানুষকে রমজান-মাসে দাওয়াত করে খাওয়ানো হতো। এতে গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন বা ধনিকশ্রেণীর মানুষগুলো তার নিজস্ব-সমাজের রোজাদার-লোকদের দাওয়াত করে খাওয়াতেন। আর সেখানে সামান্য ইফতারসামগ্রী খাওয়ানোর পরে নামাজশেষে রোজাদারদের জন্য পেটভরে সুস্বাদু তথা মাছ-মাংসসমৃদ্ধ খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতো। এর মাধ্যমে আমাদের গ্রামীণসমাজে মানুষের মধ্যে গড়ে উঠতো সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। কিন্তু কালক্রমে এই ধারণার বাইরে হঠাৎ করেই শহরভিত্তিক (বিশেষ করে প্রথমে ঢাকা-শহরভিত্তিক পরবর্তীতে অন্যান্য শহরভিত্তিক) জন্মলাভ করে বর্তমান ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি। পরবর্তীতে এগুলো গ্রামেগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

বাংলাদেশের সাধারণ রোজাদারগণ নিজেদের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সারাদিনের রোজাশেষে ইফতার করে থাকেন। এতে তারা খুব সন্তুষ্ট। এরা নিরীহ রোজাদার ও সাধারণ মুসল্লী মাত্র। বাদবাকী একশ্রেণীর রোজাদার আছে—এরা ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি ব্যতীত ইফতার করে না। এরা সারাদিন মাথায় একটা টুপি, গায়ে একটা পাঞ্জাবি-পায়জামা চাপিয়ে কিংবা কেউ-কেউ ফুলপ্যান্টের উপর একখানা পাঞ্জাবি আর টুপি লাগিয়ে নানারকম ধান্দাবাজি করে রেডিমেট রোজাদার সেজে বিভিন্ন ইফতারমাহফিলে গিয়ে আড্ডাবাজির ইফতার খেয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন ভণ্ডপীরের মুরীদ, আর আজকালকার সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এখন একশ্রেণীর মানুষের ধারণা এমন হয়েছে যে, ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি না করলে বুঝি অফিসের প্রেস্টিজ কমে যাবে! এমন একটি ধারণার বশবর্তী হয়ে আজকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে সাধারণ অফিসগুলোতে পর্যন্ত ইফতারপার্টির আয়োজন করা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। মূলত আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অপসংস্কৃতির জের ধরেই আজকালকার ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টির সূচনা ও বিস্তার। আর এর মূলে রয়েছে বাংলাদেশের একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল নামক ভয়ানক অপশক্তি জামায়াত-শিবিরের অপতৎপরতা ও দুরভিসন্ধি। আর সেই ইতিহাস কিঞ্চিৎ পরে সবিস্তারে বলা হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন দলের ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি একটি ফ্যাশন ও বিবিধ রাজনৈতিক অসৎউদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও পরিচালিত। এর বাইরে আর-কিছু কখনও দেখতে পাইনি। ধীরে-ধীরে এই অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজব্যবস্থাকে একেবারে গ্রাস করতে চলেছে।

বাংলাদেশে রমজান-মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতারপার্টি বা ইফতারমাহফিল প্রচলনের ইতিহাস:

আমাদের দেশে আশির দশক থেকে ইফতারমাহফিলের প্রচলন হতে শুরু করে। আর এই সময়টা ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় সামরিকজান্তা ও স্বৈরাচার এরশাদ-সরকারের আমল। এইসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের দালালগোষ্ঠী—জামায়াত-শিবির সক্রিয় ও সরাসরি অংশগ্রহণের বিরাট প্রস্তুতিগ্রহণ করতে শুরু করেছিলো। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার ও সামরিকজান্তা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তার আমলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী তথা জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতি করার বিরাট একটা সুযোগ দিয়েছিলো। এইসময় তারা জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় দলগোছানোর প্রাথমিকপ্রস্তুতিও গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু তাদের প্রাণপ্রিয় খলিফাহ জিয়াউর রহমানের অকাল-মৃত্যুর পর তারা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারতো না। এইসময় মুক্তিযুদ্ধের সকল সপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি তাদের প্রতিরোধ করতে শুরু করে দেয়। এতে এরা অত্যন্ত কুকৌশলে আর কু-মতলবে প্রতিবছর ‘ইফতারমাহফিলে’র নামে নিজেদের ধর্মভিত্তিক স্বার্থের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতো—আর এভাবে তারা ইফতারমাহফিলের নামে সংগঠিত হতো। আর এখানে, প্রধান অতিথি, প্রধান আলোচক হয়ে আসতো একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীগং—গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান, আব্দুস সোবহান, আব্দুল কাদের মোল্লা (কসাই কাদের), আবুল কালাম ইউসুফ (একে ইউসুফ), মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাসিক ‘মদীনা’র সম্পাদক মহীউদ্দীন খান, আবুল কালাম আযাদ (বাচ্চু-রাজাকার), ইসলামীছাত্রসংঘ তথা ইসলামীছাত্রশিবিরের তরুণনেতা কুমিল্লা চোদ্দোগ্রামের আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইত্যাদি। এইসময় এরা বাইরে অরাজনৈতিকভাবে কিন্তু ভিতরে-ভিতরে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশে তথা জনসভারূপেই এই ইফতারমাহফিলের আয়োজন করতো। আর সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এরা এই ইফতারমাহফিলে দলীয় লোকজন ব্যতীত নিজেদের ঘরানার সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত লোকদেরও দাওয়াত করতো। এই কাতারে ছিল এরশাদ-সরকারের গৃহপালিত কবি সৈয়দ আলী আহসান, কবি আল মাহমুদ, কবি তালিম হোসেন (নজরুলসঙ্গীতশিল্পী শবনম মুশতারী ও ইয়াসমীন মুশতারীর বাবা), মেজর জয়নাল আবেদীন অবসরপ্রাপ্ত ইত্যাদি। মূলত এভাবেই এদের হাতে স্বাধীনবাংলাদেশে এদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এই ইসলামবিরোধী ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টি’র সূচনা। এরপর নব্বইয়ের দশক থেকে ইফতারমাহফিল আর ইফতারপার্টি দেশের একটি ভণ্ডশ্রেণীর কাছে ধর্মের একটি অপরিহার্য দিক হিসাবে বিবেচিত হয়। এখন ঢাকঢোল পিটিয়ে ইফতারপার্টির আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত এই ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টির আয়োজনের মূলে রয়েছে অসৎ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যহাসিল করা। এগুলো এখন নিজেদের স্বার্থ আর ধান্দাবাজির অংশ হিসাবে আমাদের সমাজে টিকে আছে আর দিন-দিন এগুলো আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর বর্তমানে পাকিস্তানীদের দালাল—জামায়াত-শিবির এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি করলেও ‘ইফতারমাহফিল’ এখনও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের একটি প্রধান অংশ। তাদের দেখাদেখি এখন বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ইফতারপার্টির এই অপসংস্কৃতি চালু করেছে।

ইসলামধর্মের কোথাও এভাবে কখনও-কোনো ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টির আয়োজনের কথা বলা হয়নি। এটি ইসলামীশরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এগুলো বিদআতে সাইয়্যেয়াহ। কুরআন-হাদিসের কোথাও এর সপক্ষে একটি কথাও নাই। ইসলামের নবী সা. রোজাদারদের ইফতার করানোর কথা বলেছেন—কিন্তু সেটি ঘরোয়াভাবে ও পবিত্রতার সঙ্গে। এখনকার এইসব ইফতারপার্টি নামক ভণ্ডের সমাবেশে নয়।

বর্তমানে প্রচলিত ইফতারমাহফিল বা ইফতারপার্টির বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১. এগুলো সম্পূর্ণ অসৎ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ও পরিচালিত।
২. ইফতারপার্টির জন্য রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় চলে সীমাহীন চাঁদাবাজি। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর একশ্রেণীর ভণ্ড নেতা-কর্মী সরাসরি জড়িত। এরা ইফতারমাহফিলের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে তাদের নিকট থেকে ব্যাপক চাঁদা আদায় করে থাকে। এরা এই চাঁদাবাজি থেকে কিছু খরচ করে আর বাকী অংশ নিজেরা ভাগ করে নেয়। মূলত রমজান-মাসে ইফতারমাহফিলের নামে চাঁদাবাজির মোক্ষম সুযোগ ঘটে।
(কিন্তু সর্বপ্রকার চাঁদাবাজি ইসলামে নিষিদ্ধ। আর আজকের দিনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি নিঃসন্দেহে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চাঁদাবাজি করে এধরনের ইফতারপার্টির কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই।)
৩. সরকারিভাবে যে-সব ইফতারপার্টির আয়োজন করা হয় তাও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের শামিল। আর এখানেও একটি শ্রেণী ইফতারপার্টির আয়োজন করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এই ইফতার পার্টি যদি বড়সড়-নামকরা কোনো কনভেনশন-হলে বা পার্টি-সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে এতে লুটপাটের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। আর সেক্ষেত্রে এই লুটপাটের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় কোটি-কোটি টাকা।
৪. ইফতারপার্টিতে রোজাদারদের চেয়ে বেরোজাদারদের সংখ্যাই বেশি। এটি আসলে নিজেদের স্বার্থআদায় আর ধর্মের নামে ভোগ-বিলাসিতা মাত্র।
৫. ইফতারমাহফিলের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ বরাদ্দ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। জনগণের অর্থে এটি একপ্রকার ফুর্তি। আর ইসলামধর্মের নামে এইজাতীয় ফুর্তির কোনো সুযোগ নাই।
৬. মানুষ এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে ইফতার করতে পারে না। এখানে, নিজের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রতিটি ইফতারপার্টিতে চলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি। আর এখানে সবাই দাওয়াত পায় না।
৭. ইফতারপার্টির নামে এখানে দুনিয়াবি-শয়তানী কথাবার্তার অবতারণা করা হয়। আর সবখানে নিজেদের লাভের হিসাব কষা হয়। তাই, এগুলো স্রেফ আড্ডাবাজি আর শয়তানী।
৮. ইফতারপার্টির আয়োজন করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে জায়গায়-জায়গায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টিও করা হয়। ইসলামে এগুলো নাজায়েজ।
৯. এইসব ইফতারপার্টির দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনো উপকার হয় না। বরং এখানে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়। আর এভাবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীও যে-সব ইফতারমাহফিলের আয়োজন করে থাকে তাও জাতির জন্য ক্ষতিকর।
১০. কুরআনে বলা হয়েছে: ‘অপচয়কারী শয়তানের ভাই’। ইফতারমাহফিলগুলো আসলে এখন শয়তানের দরবার। আর এগুলো ইসলামের নামে স্রেফ ভণ্ডামি ও শয়তানী।
১১. রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যতীত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও তাদের নেতা-কর্মীদের সমুদয় অর্থই হারাম বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত। আর এদের টাকায় পরিচালিত ইফতারপার্টিও অবৈধ। তাই, কোনো রোজাদার-ব্যক্তি বা সাধারণ মানুষ জেনেশুনে এদের হারাম-টাকায় ইফতার করলে তার রোজা ভঙ্গ হবে, এবং সে গোনাহগার হবে।

রোজার সঙ্গে ইফতারের একটি সম্পর্কও রয়েছে। আর তা হলো—একজন রোজাদার সারাদিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পরে ইফতার করবে। এখানে, রোজার জন্য নির্দিষ্ট একটি সময়ও বেঁধে দেওয়া আছে—সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখতে হবে। আর সে এইসময় যেকোনোপ্রকারের হালাল-সামগ্রীর মাধ্যমে রোজা-ভঙ্গ করবে—মানে, ইফতার করবে। কিন্তু ইফতার-সামগ্রীর কোনো নির্দিষ্ট তালিকা বা বিষয় বা খাবার নাই। আর ইফতারিবিষয়ক কোনো বর্ণনা সুনির্দিষ্টভাবে কুরআন-হাদিসের কোথাও নাই। তবে হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়, আমাদের নবীজী সা. খেজুর, খুরমা ও পানি দ্বারা ইফতার করতেন। আসলে, আরবদেশে খেজুর-খুরমা বেশি জন্মে। তাই, এই ব্যবস্থা। এজন্য অনেকে খেজুর-খুরমা দ্বারা ইফতার করাটাকে ‘সুন্নত’ বলে মনে করে থাকে। পূর্বেই বলা হয়েছে, ইফতারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সামগ্রী নাই। একজন মুসলমান যেকোনো হালাল খাবার দ্বারা রোজা-ভঙ্গ বা ইফতার করতে পারবে। আর এই হিসাবে বাঙালি ভাত, মাছ, রুটি, শাকসবজি চিড়া, মুড়ি, পায়েস, হালুয়া ইত্যাদি সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে পারবে। কিন্তু এইজাতীয় ইফতারপার্টি কীসের ভিত্তিতে? এটি কোথায় পেয়েছে আজকালকার এই ভণ্ডরা? এই লোকদেখানো ইফতারমাহফিলের নামে এরা আনন্দফুর্তির এরকম বিধানই বা পেয়েছে কোথায়? আর গরিবের টাকা মেরে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই হারাম-টাকার ইফতারপার্টির অনুমতি কে দিয়েছে? জানি, এর জবাব মিলবে না কারও কাছে।

মধ্যরাতের আরেক অপসংস্কৃতি সাহরিপার্টি:

ইদানীং (কয়েক বছর যাবৎ) ইফতারপার্টির অপসংস্কৃতির আদলে দেশে শুরু হয়েছে ‘সাহরিপার্টি’। এর মূলে রয়েছে আমাদের দেশের একশ্রেণীর উচ্চবিত্তপরিবারের আনন্দফুর্তির ধর্মবিলাসিতা। এরা ধার্মিক নয়, ভণ্ড। গত কয়েক বছর যাবৎ গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী, ধানমন্ডী, মগবাজার ইত্যাদি এলাকায় এইজাতীয় অপসংস্কৃতি খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। এরা এখন পারিবারিকভাবে, গোত্রগতভাবে, বন্ধুবান্ধব মিলে দলগতভাবে, দলবেঁধে যেকোনো নামি-দামি রেস্টুরেন্টে কিংবা চাইনিজে রাতের আঁধারে ‘সাহরি’ খেতে যাচ্ছে! এদের কাছে এই ‘সাহরিপার্টি’ এখন রাতের জমজমাট আড্ডা ও পিকনিক। এগুলো একসময় ভাইরাসের মতো মধ্যবিত্তের অন্দরমহলেও ঢুকে পড়বে। আর তখন শুরু হবে দেশজুড়ে ধর্মের নামে বিরাট অপসংস্কৃতি।

সাইয়িদ রফিকুল হক
০৭/০৬/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর