নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

দ্য এথিকস



আধুনিক দর্শনের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সৃষ্টিকর্ম হলো দর্শনকে জ্যামিতিক কাঠামোতে উপস্থাপন করা এবং সেটা হবে ইউক্লিডের জ্যামিতির মত স্বচ্ছ এবং প্রাণবন্ত। কিন্তু ফলাফল দাঁড়ালো সম্পূর্ণ উল্টো। অল্প কথায় বলতে গেলে দর্শন হয়ে গেল দুর্বোধ্য এবং তার প্রতিটি বাক্য বুঝতে জন্য ইহুদি ধর্মগ্রন্থ তালমুদের ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়লো। বিজ্ঞজনেরা তাদের চিন্তার জগত এভাবেই আমাদের সামনে প্রকাশ করেছেন কিন্তু কখনোই সুনিশ্চিত করে কিছু বলেন নি। পূর্বের গাণিতিক হিসাব নিকাশ তাদেরকে সাহায্য করেছিল তাদের চিন্তার জগতকে সমুন্নত করতে। দার্শনিক রেনে দেকার্ত প্রস্তাব করেন, দার্শনিক তত্ত্ব যদি গাণিতিকভাবে উপস্থাপন করা না যায় তাহলে সেটা যথাযথ হবে না। কিন্তু দেকার্ত নিজেই নিজের বক্তব্যে অবিচল থাকেন নি। দেকার্ত পিছু হটে গেলেও দেকার্তের পরামর্শ বাস্তবায়নে এগিয়ে এলেন বারুখ ডি স্পিনোজা। বলে রাখা ভালো স্পিনোজা ইতিমধ্যেই গণিতে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছেন। তিনি বিজ্ঞানের মৌলিক কার্যপ্রণালী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুশীলন করেন এবং তার ভিত্তিতে কোপার্নিকাস, কেপলার, গ্যালিলিওদের অর্জিত জ্ঞান অধ্যয়ন করে মুগ্ধ হয়ে যান। বস্তু এবং কাঠামোর উপর একনাগাড়ে মনোনিবেশ করার ফলে আমাদের ক্লান্ত মনোজগতের গঠন হয়ে গেছে গাছাড়া ঢিলেঢালা তখন আমাদের মন জ্যামিতির আদলে গড়া দর্শনকে দুটো গালমন্দ করে একটু শান্তি খুঁজে পায়। দার্শনিক জ্যামিতি যেন দাবা খেলার একটা কৃত্রিম বোর্ড যেখানে মানুষের চিন্তা ভাবনা মনে হবে স্বতঃসিদ্ধ, চিন্তার সংজ্ঞা উপপাদ্য দ্বারা প্রমানিত এবং চিন্তা পরিচালিত হয় দাবার হাতি ঘোড়া, সৈন্য, নৌকার মত হিসেবের ছক মেপে মেপে। স্পিনোজা উদ্ভাবন করলেন নিঃসঙ্গ মনের যুক্তিপূর্ণ স্বান্তনা। শৃঙ্খলার বিন্যাস আমাদের মানসিক গঠনের পরিপন্থী। আমরা কষ্টকর কল্পনা বিলাসের পিছনে ছুটতে বেশি পছন্দ করি এবং স্বপ্নের মত দর্শনের জাল বুনতে ভালবাসি। কিন্তু একটা একান্ত অনুগত ইচ্ছায় স্পিনোজার মন বাঁধা পড়েছিল সেটা হলো বৈশ্বিক একতা এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অসহনীয় বিশৃঙ্খলা কমিয়ে আনা। স্পিনোজার অন্তরে ঘটেছিল মনস্তাত্ত্বিক মেরুকরণ। মনে করি দক্ষিণ মেরুর সৌন্দর্যের প্রতি লালসা থেকেও তার মাঝে উত্তর মেরুর সত্যান্বেষণের ক্ষুধা অনেক বেশি তীব্র ছিল। তার অন্তরের অভ্যন্তরে বসত করা শিল্পী মন ছিল নির্ভেজাল একজন স্থপতি, যে গড়ে তুলেছিল চিন্তার নিখুঁত কাঠামো এবং ভারসাম্য।

তারপরেও আধুনিক দর্শনের শিক্ষার্থী স্পিনোজার দর্শনের পরিভাষা বুঝতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খাবে আর অভিযোগ করবে—এ বড় জটিল জিনিস। ল্যাটিন ভাষায় লিখিত বইয়ে স্পিনোজা যেন স্বপ্ন চালিত, প্রকাশ করলেন তার আধুনিক চিন্তা মধ্যযুগের পাণ্ডিত্যপূর্ণ আখ্যায়। তখনকার সময়ে দর্শন চর্চা এবং বোঝার জন্য অন্যকোন ভাষা ছিল না। তাই তিনি ব্যবহার করলেন ‘substance’ পরিভাষা যেখানে আমরা সচারচার লিখে থাকি বাস্তবতা অথবা সারমর্ম। তিনি লিখলেন নিখুঁত যেখানে আমরা লিখে থাকি পরিপূর্ণ। আমাদের উদ্দেশ্যের জন্য আদর্শ এবং বস্তগত বিষয়ের উপর নির্মোহ নিরপেক্ষ একই সাথে আনুষ্ঠানিক। এগুলোই চিন্তার যাত্রাপথে প্রধান বাধা যেগুলোতে প্রকাশ পাবে আমাদের দুর্বলতা কিন্তু ভবিষ্যতে অটল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেবে।

সংক্ষেপে বলা যেতে পারে স্পিনোজা কোন পাঠ্য বিষয় নয়, স্পিনোজাকে অধ্যয়ন এবং অনুধাবন করতে হয়। আপনাকে অবশ্যই স্পিনোজার সান্নিধ্যে আসতে এমনভাবে যেমন করে আপনি ইউক্লিডের কাছে পৌঁছেছিলেন। এই দুইশ পাতার বই থেকে পুনরায় সংগঠিত করে দেখতে হবে একটা মানুষ সারাজীবন দুঃখ কষ্ট সহ্য করে বিনা অভিযোগে ঋষির মত লিখে রেখে গেছেন সব চিন্তা ও চেতনা। দ্রুত পঠনে সেই লেখার সারমর্ম উদ্ধার করতে পারবেন এমন চিন্তা করবেন না যেন। দর্শনের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই নয়। হয়ত নজর এড়িয়ে যেতে পারে ছোট্ট একটা বাক্য যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অংশ পরবর্তী অংশের উপর নির্ভরশীল। কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপাতত অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও একটু পরেই হয়ত দেখা যাবে যুক্তি এবং আলোচনা দাঁড়িয়ে আছে সেই প্রয়োজনহীন বাক্য বা শব্দের উপর ভিত্তি করে। আপনি কোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বুঝতে পারবেন না যতক্ষন না আপনি পুরো লেখাটা পড়ছেন। স্পিনোজাকে নিয়ে অতি উচ্ছসিত জার্মান গণিতজ্ঞ কার্ল গুস্তাভ জ্যাকব জ্যাকবি’র মত হয়ত অতিরঞ্জন করে আমাদের বলার দরকার নেই, “এথিকস বইয়ের একটা বাক্যও যদি কারো অগোচরে বাদ পড়ে যায় তাহলে সে স্পিনোজাকে বুঝতে পারবে না।” স্পিনোজা তার এথিকস বইয়ের দ্বিতীয় অংশ বলেছেন, “এখানে সন্দেহাতীতভাবে এই বইয়ের শুরুতে পাঠক প্রথমদিকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে এবং এমনকিছুর সম্মুখীন হবেন যেটাতে পাঠক স্থির হয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হবে। তখন পাঠকের জন্য আমার চাওয়া হলো তিনি যেন আমার সাথে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান এবং বইটা পুরোপুরি পড়ার আগে যেন বইয়ের আলোচ্য বিষয় নিয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে না যান।” পাঠকের কাছে অনুরোধ বইটা যেন একবারে পড়ে না ফেলেন, কিন্তু একটু একটু করে বারবার বসে সময় নিয়ে পড়তে হবে। এথিকস বইটা শেষ করার পর বইটা নিয়ে আবার চিন্তা করুন, এবার আপনি বুঝতে শুরু করবেন। এরপর ইংরেজ আইনজ্ঞ স্যার ফ্রেডরিখ পলক’র ‘স্পিনোজার জীবন ও দর্শন’ এবং আরেক ইংরেজ দার্শনিক জেমস মার্টিনি’র ‘স্টাডি অফ স্পিনোজা’ বই দুটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পড়লে আপনি স্পিনোজার বক্তব্য বুঝতে শুরু করবেন। আপনি দ্বিতীয়বারের মত আবার এথিকস বইটা পড়তে শুরু করুন। এখন আপনার কাছে মনে হবে বইটা সম্পূর্ণ নতুন। যখন দ্বিতীয়বারের আপনি এথিকস বইটা শেষ করবেন তখন আপনি আজীবন দর্শনের প্রেমিক হয়ে যাবেন।

[ উইল ডুরান্টের 'স্টোরি অফ ফিলোসফি' বইয়ের স্পিনোজা অধ্যায়ের ধারাবাহিক অনুবাদ। আজ প্রকাশিত হলো "দ্য এথিকস" বইয়ের আলোচনা। ]

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

লুসিফেরাস কাফের
লুসিফেরাস কাফের এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 2 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, জুন 27, 2016 - 9:59অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর