নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

পিঙ্ক ফ্লয়েড আন্তর্জাতিক ব্যান্ড সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম।



সেই সাদাকালো যুগ পেরিয়ে আজ রঙিন যুগে পৌঁছে গেলেও "পিঙ্ক ফ্লয়েড" আছে তার মতো করেই। পিঙ্ক ফ্লয়েডকে বলা হয় ইংরেজ প্রোগ্রেসিভ ও সাইকোডেলিক রক ব্যান্ড। এরা মূলত লন্ডন ভিত্তিক ইংরেজ রক ব্যান্ড। কিন্তু প্রোগ্রেসিভ আর সাইকোডেলিক সঙ্গীতের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আছে। "পিঙ্ক ফ্লয়েড" বিখ্যাত দার্শনিক গানের কথা, স্বনিক পরীক্ষণ, সম্প্রসারিত কম্পোজিশন, এবং বিস্তৃত লাইভ শো এর জন্য। এমনকি সঙ্গীত ইতিহাসের সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং প্রভাবশালী ব্যান্ড দল তারা।

মূলত পিঙ্ক ফ্লয়েড গঠিত হয় ১৯৬৫ সালে। সিড ব্যারেট, নিক মেইসন, রজার ওয়াটার্স, এবং রিচার্ড রাইট পিঙ্ক ফ্লয়েড এর যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু এর আগে ১৯৬০ সাল থেকে তারা লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড সঙ্গীত প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে জনপ্রিয় ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েড তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম "দ্যা পাইপার অ্যাট দ্যা গেটস অব ডাউন" প্রকাশ করে। এই পুরো অ্যালবামের নেতৃত্বে ছিলেন সিড ব্যারেট। এবছরই অর্থাৎ ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে সবচেয়ে জনপ্রিয় সদস্য হয়ে উঠা গিটার বাদক ডেভিড গিলমোর পিঙ্ক ফ্লয়েডের পঞ্চম সদস্য হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু এই জনপ্রিয় ব্যান্ডটা তার ঠিক পরের বছরই প্রথম ধাক্কাটা খায়। ১৯৬৮ সালের এপ্রিলে তখনকার গিটারিস্ট এবং লিড ভোকাল সিড ব্যারেট অতিরিক্ত ড্রাগ ব্যবহারের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় ব্যান্ড ত্যাগ করেন। তার অনুপস্থিতিতে রজার ওয়াটার্স প্রাথমিক গীতিকার এবং ব্যান্ড লিডার হয়ে ওঠেন। আর এই সময়েই পিঙ্ক ফ্লয়েড সবার নজর কেড়ে নেয়। ১৯৭৩ সালে জনপ্রিয় স্টুডিও অ্যালবাম "দ্যা ডার্ক সাইড অব দ্যা মুন" প্রকাশ করে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার পর থেকে দু বছরের ব্যবধানে আরো তিনটি অ্যালবাম রিলিজ করে। তবে আজকের এই পিঙ্ক ফ্লয়েডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সাড়া জাগানো অ্যালবাম "উইশ ইউ ওয়ার হেয়ার", "অ্যানিমেল্স", "দ্যা ওয়াল" এবং ১৯৮৩ সালে প্রকাশ হওয়া "দ্যা ফাইনাল কাট" অ্যালবাম। "দ্যা ডার্ক সাইড অব মুন" এবং "দ্যা ওয়াল" হয়ে ওঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিক্রিত অ্যালবাম।

গল্পটা থেমে যেতে পারতো এখানেই। সৃজনশীল উত্তেজনার পরেই রিচার্ড রাইট ১৯৭৯ সালে পিঙ্ক ফ্লয়েড ত্যাগ করেন। ১৯৮৫ সালে একই পথ অনুসরণ করেন সবচেয়ে জনপ্রিয় গীতিকার ওয়াটার্স। কিন্তু হাল ছাড়েন নি ডেভিড গিলমোর এবং মেইসন। পিঙ্ক ফ্লয়েড হিসেবে নিজেদের তখনো অব্যাহত রেখেছিলেন। এখন পর্যন্ত এই সময়টাই ছিলো এই ব্যান্ডের সবচেয়ে কালো যুগ। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো রাইট পুনরায় পিঙ্ক ফ্লয়েডে যোগদান করেন। আর এই তিনজন মিলে প্রকাশ করেন আরো দুটি অ্যালবাম। যথারীতি ১৯৮৭ ও ১৯৯৪ সালে রিলিজ হওয়া "অ্যা মৌমানট্রি ল্যাপ্স অব রিজন", "দ্যা ডিসিশন বেল" আবারো পিঙ্ক ফ্লয়েডকে নতুন করে জাগিয়ে তুলে।

৭০ এর দশকে পিঙ্ক ফ্লয়েড এর প্রভাব প্রবল। সেই সময়কার "জেনেসিস" বা "ইয়েস" এর মত ব্যান্ড তাদের দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছিলো। এর বাইরে এই সময়কার জনপ্রিয় ব্যান্ড "ড্রিম থিয়েটার" পিঙ্ক ফ্লয়েড থেকে প্রভাবিত হয়েছে।
বেশ কয়েকদিন ধরে একটা ছোটখাটো জরিপ চালানো হয়েছে বাংলাদেশি শ্রোতাদের কাছে পিঙ্ক ফ্লয়েডের জনপ্রিয়তা নিয়ে। যারা পুরনো শ্রোতা কিংবা অনেক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক এর সাথে যুক্ত আছেন তাদের কাছে পিঙ্ক ফ্লয়েড একটা আশার নাম। পিঙ্ক ফ্লয়েড এর গানের কথা ও গানের কম্পোজিশন একটা মানুষের মন জয় করে নেয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন অনেকেই। পিঙ্ক ফ্লয়েড সাইকোডেলিক রক জনরার গান করে বলেই তাদের থেকে প্রেরণা নিয়ে এখন আমাদের দেশেও সাইকোডেলিক ব্যান্ড খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া প্রায়ই দেশের সকল প্রান্তে অনুষ্ঠিতব্য রক কনসার্টগুলোতে দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের গান পরিবেশন করে থাকে। শ্রোতারাও অনেকটা আগ্রহ থেকেই গলা মেলান।

বিশ্বের জনপ্রিয় ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েড দাবি করে তাদের গানের কথাগুলো অর্থপূর্ণ। অর্থাৎ যদি গানের কথাগুলো বুঝতে পারেন তবে গানগুলো অবশ্যই আপনার জন্য। আপনার চিন্তা-চেতনা থেকেই সৃষ্টি পিঙ্ক ফ্লয়েডের। দার্শনিক গানের কথার দ্বারা বিখ্যাত হওয়া এই ব্যান্ড দল জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে নিজেদের প্রতিভা আর পরিশ্রম দিয়ে। যদিওবা এখন আর পিঙ্ক ফ্লয়েড ব্যান্ডটা নেই তবে ডেভিড গিলমোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত যতদূর পারা যায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। ডেভিড গিলমোর কয়েক বছর পর পর পিঙ্ক ফ্লয়েড এর গান নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বের হোন। পিঙ্ক ফ্লয়েডের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে "হাই হোপস, কমফোর্টেবলি নাম্ব, কামিং ব্যাক টু লাইফ, অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্যা ওয়াল, গ্রীন ইজ দ্যা কালার, উইশ ইউ ওয়ার হেয়ার" গানগুলোই বাংলাদেশি শ্রোতাদের কাছে প্রিয়। অর্থপূর্ণ গানের কথাগুলো যেকোনো মানুষকেই স্তব্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
পিঙ্ক ফ্লয়েড এই বিশ্বের মিউজিক বোদ্ধাদের অনেক কিছুই দিয়েছে। জন্ম দিয়েছে এক নতুন সৃষ্টির। পিঙ্ক ফ্লয়েড সৃষ্টির পর থেকেই বুঝা যাচ্ছে সঙ্গীত শব্দটা শান্তির বাহক। আমরা যারা প্রতিনিয়ত ব্যান্ড সঙ্গীত শুনি তাদের কাছে পিঙ্ক ফ্লয়েড নামটাই একটা অনুপ্রেরণা। পিঙ্ক ফ্লয়েড আমাদের শেখায় কিভাবে জীবনের সবচেয়ে কালো অধ্যায়টা হাসিমুখে পেরিয়ে আসা যায়। ভালো থাকুক পিঙ্ক ফ্লয়েড, ভালো থাকুক পিঙ্ক ফ্লয়েড শ্রোতারা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

দুর্জয় দাশ গুপ্ত
দুর্জয় দাশ গুপ্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 14 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, আগস্ট 17, 2017 - 11:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর