নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

একজন একরামের জন্য এখন আপনাদের এতো দরদ!


একজন একরামের জন্য এখন আপনাদের এতো দরদ!
সাইয়িদ রফিকুল হক

পৃথিবীর কোথায় ধর্ম আছে? কোথায় মানবতা আছে? আর কোথায় বিচার আছে? এইরকম একটা দেশের নাম বলুন তো? এবার বুঝি আপনাদের জবান চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল! আর বুঝি কোনোদিন আপনাদের মুখে ভাষা ফুটবে না! একটু ভেবেচিন্তে সবাই বলেন তো—পৃথিবীর কোথায় বা কোন দেশে একটুখানি ধর্ম, মানবতা ও বিচার আছে? সাহস থাকলে একবার বলুন। কিন্তু ভেবেচিন্তে সারাদিনেও আপনারা একটা দেশের নাম খুঁজে পাবেন না। আর সবখানেই আছে সমস্যা আর গুরুতর সমস্যা। তবে বাংলাদেশ নিয়ে আপনাদের এতো ক্ষ্যাপামি কেন? আর এতো পাগলামিই-বা কেন?

বাংলাদেশে একটাকিছু হলেই অমনি কিছু-কিছু বেআদব তারস্বরে চিৎকার ও চেঁচামেচি করে অশ্লীলভাষায় বলতে থাকে, “এই বালের রাষ্ট্র! থুথু দিচ্ছি এই রাষ্ট্রের ওপর! ঘৃণা করি এই রাষ্ট্রকে!” এরা কতবড় বেআদব আর রাজাকারের বাচ্চা! ৩০লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, আর কত বাধার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে আমরা এই রাষ্ট্র গড়েছি। এই পবিত্র রাষ্ট্র নিয়ে তোমাদের মতো একটা বেআদবের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার জন্য নয়? আমাদের মনে রাখতে হবে: বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই রাষ্ট্র বিনির্মাণ করেছি। এখানে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ কথাও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আরে, সমালোচনা করবে সরকারের সমালোচনা কর। তাও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। যে-কারও মনে চাইলেই মিথ্যাতথ্য দিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। এই সরকারও বহু মানুষের সম্মিলনের ফসল। সরকারের দোষত্রুটি থাকতেই পারে। কারণ, এটি মানুষের সরকার। আর মানুষের ভুলত্রুটি থাকবেই। তাই বলে তুমি নরাধম, সরকারের সমালোচনার নামে এই পবিত্র রাষ্ট্রকে গালি দিবে? তোমাদের মতো নরপশুদের সস্তা কথা শুনে আজ আমরা স্তম্ভিত ও বিস্মিত। আর তোমাদের ভালো না লাগলে এই রাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাও। আমাদের রাষ্ট্র আমরাই গড়বো। তোমাদের এই ধৃষ্টতার কোনো ক্ষমা নাই।

সরকারের সমালোচনা করতে হবে। সরকারকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাদের ভুলত্রুটি দেখিয়ে দিতে হবে। সরকার তা না-শুনলে তুমি তাদের ভোট দিয়ো না। আর প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলো। জানি, তোমাদের এসব করার মুরোদ নাই। আর এসব করার জন্য জনমত ও জনসমর্থন লাগে। কিন্তু তোমাদের এই দুইটির একটিও নাই। তোমরা ভয়ানক অকর্মা বলেই সরকারের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে প্রতিবাদ করতে না পেরে আজ আমাদের পবিত্র রাষ্ট্রকে গালিগালাজ করছো! আবারও বলছি: যেকোনো সরকার ভুল করতে পারে—কিন্তু তাই বলে সরকারের ভুলের জন্য আমাদের ৩০লক্ষ শহীদের রাষ্ট্রকে তোমরা কথায়-কথায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও গালিগালাজ করবে! এগুলো তোমাদের সীমাহীন বেআদবি, ধৃষ্টতা, আর সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আর এগুলো চিরদিন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

অতিসম্প্রতি আমাদের দেশে মাদকবিরোধী শুদ্ধি-অভিযান শুরু হয়েছে। আর এই অভিযানে টেকনাফের কথিত ইয়াবাসম্রাট একরামুল হক একরাম নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি আওয়ামীলীগের টিকিটে স্থানীয় পর্যায়ে একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। মানে, তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর জন্য এখন চারিদিকে কতজনের কতরকম মায়াকান্না দেখছি! আর তাদের কতরকম লোকদেখানো শোকের মাতম! অথচ, এরাই একদিন একরামকে বলেছিলো ‘ইয়াবাসম্রাট’! একইমুখে এইসব বিপথগামী-বাঙালি কত কথা বলতে পারে! আরও দেখেছি, প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে যে-সব লোক আওয়ামীলীগকে গালিগালাজ করে থাকে (এটা তাদের চিরদিনের অভ্যাস, আর রুটিন-ওয়ার্ক) তারাও এখন একরামের জন্য কত কান্নাকাটি করছে! এই দেশের একশ্রেণীর নষ্ট-পচা-গলা বামপন্থী—যারা জামায়াত-বিএনপিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এখন আওয়ামীলীগের নিয়মিত সমালোচনা করে—তারাও একজন একরামের জন্য নাকি চোখের জল ফেলছে! আসলে, এটি কোনো মানবিক চিন্তা নয় কিংবা নয় কোনো মানবতা। এটি হলো এই দেশের অসৎ-মানুষদের ঘোলাপানিতে মাছশিকারের অপচেষ্টা মাত্র। তা নয়তো কী? যারা জীবনভর কোনো বাছবিচার না করে আওয়ামীলীগারদের একতরফাভাবে গালিগালাজ করে—তারা কেন হঠাৎ আজ একজন একরামের জন্য এতোটা উতলা হলো?
নিহত একরামের বিরুদ্ধে নাকি মাদকপাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। এগুলো আমরা কখনও দেখিনি, আমরা শুধু কিছু-কিছু ব্যবসায়ী দৈনিক পত্রিকা আর প্রাইভেট টিভিচ্যানেলের সংবাদ দেখে জেনেছি। এখন দেখছি, যারা একরামকে একদিন ‘ইয়াবাসম্রাট’ বা ‘গডফাদার’ বলেছে—তারাই এখন একরামকে ভালোমানুষ বলছে! আর তারাই এখন একরামের জন্য ভিডিও-ক্লিপ প্রকাশ করেছে!

নিহত একরাম নির্দোষ হলে আশা করি তিনি বিচার পাবেন। তার মৃত্যুতে প্রয়োজনে তদন্তকমিটি গঠিত হবে। কিন্তু আপনারা একরামপ্রীতি দেখাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে আঘাত করবেন না। আর নিজেদের ইচ্ছেমতো অপরাজনীতিও করবেন না।

নিহত একরামের পক্ষে-বিপক্ষে আমার কোনো অবস্থান নাই। কিন্তু যারা একরাম নিহত হওয়ার পর তার এই নির্মম ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অপরাজনীতি করার পাঁয়তারা করেছে, এখনও করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। একজন মানুষ হিসাবে তার মৃত্যুতে আমিও সমব্যথী। কিন্তু রাষ্ট্রকেও তো আগাছা-পরগাছা পরিষ্কার করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। আর যদি এব্যাপারে আইনশৃঙ্খলারক্ষাবাহিনী কারও প্ররোচনায় অতিউৎসাহী হয়ে (কালোটাকার লোভে) একরামকে হত্যা করে থাকে—তবে তাদেরও কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। আর আমরা জানি, আইনশৃঙ্খলারক্ষাবাহিনীর মধ্যে একরামের চেয়েও বড়-বড় ‘ইয়াবাসম্রাট’ আর ‘গডফাদার’ রয়েছে।

একরাম নিহত হওয়ার পরপরই ভয়ানক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একটি রেডিমেট ভিডিও-ক্লিপ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে পত্রিকাব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গডফাদার মাহফুজ আনামের ‘দি ডেইলি স্টার’ নামক একটি টয়লেট পেপার। এদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এরা এই মাদকবিরোধী-অভিযানকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে এইজাতীয় একটি বিতর্কিত ভিডিও-ক্লিপ প্রকাশ করেছে। এখানে স্মর্তব্য, দেশে মাদকবিরোধী-অভিযান শুরু হওয়ার আগে থেকেই ‘ডেইলি স্টার গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ করেছিলো। এদের সঙ্গে হয়তো যুক্ত রয়েছে বড়-বড় ইয়াবাসম্রাট, মাদকসম্রাট আর তার গডফাদার। তাই, এরা মিলেমিশে একজন একরামকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে এই অভিযানকে পণ্ড করতে চেয়েছে। আর দুর্নীতিবাজ-পুলিশের সহযোগিতায় অনেক বড়-বড় ইয়াবাসম্রাট (অভিযান শুরুর আগেই) ইতোমধ্যে মক্কায় পাড়ি জমিয়েছে ওমরা-হজ্জ-আদায় করার জন্য। এরা সমাজের আত্মস্বীকৃত ও তথাকথিত এলিটশ্রেণী। এদের নিকট থেকে দেশের দুর্নীতিবাজ-পুলিশগুলো নিয়মিত ‘বখরা’ পেয়ে থাকে। রাষ্ট্রের টাকা খেয়ে রাষ্ট্রের চিরশত্রু ইয়াবাসম্রাটদের পাহারা দেওয়াই এইজাতীয় পুলিশ-অফিসারদের একমাত্র কাজ। ওই এলিটশ্রেণীর ইন্ধনেই হয়তো দুর্নীতিবাজ র‌্যাব-পুলিশ প্রকৃত, আসল ও বড়সড় ইয়াবাসম্রাটদের (এলিটশ্রেণীকে) সমাজের চোখে আড়াল করতেই একজন সাধারণ একরামকে হত্যা করিয়েছে। যাতে, সাধারণ মানুষের কাছে এই অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। আর এই মাদকবিরোধী অভিযানও বন্ধ হয়। আসল ইয়াবাসম্রাটরা এখানে একজন সাধারণ একরামকে হত্যা করে এভাবে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ মারতে চেয়েছে। আর তারা মনের আনন্দে মহাফুর্তিতে মক্কার নিরাপদ ও আরামদায়ক ঘাঁটিতে ভোগবিলাসে উন্মত্ত হয়ে রয়েছে। মক্কা এখন আমাদের দেশের বড়-বড় সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ ঘাঁটি।
এদেশে র‌্যাব-পুলিশের নজিরবিহীন ও জঘন্য অপকর্ম আমরা নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ৭-খুনের ঘটনায় দেখতে পেয়েছি। টাকালোভী-অমানুষের ভয়ংকর চেহারা আমরা দেখেছি।

একজন সাধারণ একরামকে হত্যার জন্য এদেশের নীতি ও আদর্শবিহীন একশ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা নামধারী টয়লেট পেপার ও ব্যবসানির্ভর প্রাইভেট টিভিচ্যানেল দায়ী। এদের মনমতো না হলে এরা যে-কাউকেই ‘গডফাদার’ বা ‘ইয়াবাসম্রাট’ বানিয়ে ফেলে। বাংলাদেশে এইজাতীয় কয়েকটি পত্রিকা আছে আছে—যারা নিজেরাই একেকটি দেশবিরোধী রাজনৈতিক দল। আর এই পত্রিকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—

১. দৈনিক প্রথম আলো ওরফে দৈনিক প্রথম শয়তানের আলো;
২. দি ডেইলি স্টার ওরফে পাকিস্তান-স্টার;
৩. দৈনিক ‘আমার দেশ’ পাকিস্তান;
৪. দৈনিক মানবজমিন ওরফে পাকিস্তান-জমিন।

এছাড়াও রয়েছে একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক যায়যায়দিন ইত্যাদি। এগুলো সর্বাংশে টয়লেট পেপার। এগুলো নিয়ে এখানে আলোচনার কোনো অবকাশ নাই। তাই, আমরা মূল আলোচনায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের এইমুহূর্তের আলোচনার বিষয় হলো: দৈনিক প্রথম আলো ওরফে দৈনিক প্রথম শয়তানের আলো, দি ডেইলি স্টার ওরফে পাকিস্তান-স্টার, দৈনিক ‘আমার দেশ’ পাকিস্তান ও দৈনিক মানবজমিন। এরা সবসময় একটুখানি সুযোগ পেলে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে সাধারণ একজন ওয়ার্ড কমিশনারকে পর্যন্ত একেবারে নাকাল করে ছাড়ে। এদের কাছে কোনো বাছবিচার নাই। এরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে ভুলে গিয়েছে। এরা বর্তমান মাদকবিরোধী-অভিযানের শুরু থেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ করে একে প্রশ্নবিদ্ধ করার আপসহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর এরাই একজন সাধারণ একরামকে ‘ইয়াবাসম্রাট’ বা ‘গডফাদার’ বানিয়েছে। কিন্তু কেন? আর কেনই-বা এখন একটি বিতর্কিত ভিডিও-ক্লিপ প্রকাশ করে নিহত একরামকে নিয়ে এরা অপরাজনীতি করছে?

‘ডেইলি স্টার’ কিংবা ‘প্রথম আলো’ পার্টির কোনো জনসমর্থন নাই। কিন্তু এদের দুরভিসন্ধির বিরাট ক্ষমতা রয়েছে। কারণ, এরা ২০০৬ সালের ১১ই জানুআরির ‘সামরিক-তত্ত্বাবধায়ক-সরকারগঠনে’র অন্যতম কুশীলব। একরাম হয়তো এদের নতুন অ্যাসাইনমেন্ট। একজন একরামকে নিয়ে এরা পানি ঘোলা করতে চাচ্ছে! আর এরা এখন সেই অপচেষ্টাই করছে নাতো?
বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ ও ‘দি ডেইলি স্টার’ নামক পত্রিকা দুইটি সবসময় নিজেদের ধরা ছোঁওয়ার বাইরে মনে করে থাকে। আর এরা সবসময় ভদ্রবেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতায় লিপ্ত হয়। এদের নোংরা ও জঘন্য ষড়যন্ত্রের কথা দেশবাসীর জানা আছে। বাংলাদেশের প্রথিতযশা-বুদ্ধিজীবীদের মতে, এই পত্রিকা দুইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাসংস্থা ‘সিআইএ’-এর এজেন্ট। তাই, এদের কাজই হলো হঠাৎ-হঠাৎ কিছু কথিত সংবাদ পরিবেশন করে দেশের ভিতরে গোলোযোগসৃষ্টির অপচেষ্টা করা। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ এহেন কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছে।

গণধিকৃত বিএনপি’র জনসমর্থন ৩০-৩৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, জামাত ২-৩ শতাংশে বন্দি। স্বৈরাচার এরশাদের ‘জাতীয় পার্টি’ এখন আওয়ামীলীগের সহযোগী! আর বাকী রইলো নষ্ট-পচাগলা বামপন্থীরা। ওদের কোনো পারসেন্টেজ নাই। টকশো-গলাবাজ বামপন্থী জুনায়েদ সাকীর মতো দালালের মুখে শুনেছি, “দেশের পদ্মাসেতু নাকি অর্থের অপচয়! আর এটি নাকি দুঃস্বপ্ন!” কিন্তু দেশের মানুষ এখন এসব খায় না। দেশে রাজনীতি করার মতো যোগ্যলোকের আজ বড়ই অভাব।

এই দেশে আওয়ামীলীগের সমালোচনা করার জন্য একটি যোগ্যদলের প্রয়োজন। কিন্তু সেই যোগ্যদল না থাকায় তার অভাব পূরণ করতে চাচ্ছে দুই নাটের গুরু—মতিউর রহমান ও তার জ্ঞাতিভ্রাতা মাহফুজ আনাম! এরা দেশের ভিতরে আবার একটা গোলোযোগসৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দের ‘স্বৈরাচার তত্ত্বাবধায়ক-সরকারগঠন’ করতে চায়। সেই স্বপ্নে তারা এখনও বিভোর। আর তাই, এদের হঠাৎ এতো একরামপ্রীতি সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ। জাতি তাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পারছে।

‘দি ডেইলি স্টার’ পার্টি প্রতিদিন আওয়ামীলীগের মন্ত্রী, এমপি, কমিশনার, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই তুলোধোনা করছে। এরাই তো একদিন একরামকে বলেছে ইয়াবার গডফাদার! এদের সঙ্গে রয়েছে আরও কতকগুলো প্রাইভেট টিভি-ব্যবসায়ীগোষ্ঠী। এরা সবাই মিলেমিশে একরামকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে, মাদকসম্রাট বানিয়েছে। তাদের দেওয়া এভিডেন্সের ভিত্তিতে তিনি র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গিয়েছেন। যারা তাকে ‘ইয়াবাসম্রাট’ বানিয়েছে এখন তারাই আবার তার স্ত্রী-কন্যার কষ্টের বিষয়টাকে পুঁজি করে একটা ভিডিও বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে। এখন বাংলাদেশের রাজনীতি ঝিমিয়ে পড়েছে। কারণ, দেশে কোনো যোগ্য বিরোধীদল নাই। আর এই সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীদের কুশীলব ‘দি ডেইলি স্টার’ পার্টি।

একরামের প্রতি এদের সহানুভূতি, মমত্ববোধ কিংবা ভালোবাসা কোনোটাই নাই। এরা করুণার বশবর্তী হয়ে একরামকে সামনে রেখে অপরাজনীতির ফায়দা লুটতে চায়। প্লিজ, নিহত একরামকে নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। আমরা চাই একরামের মতো আর যেন কেউ অসহায়-অবস্থায় মৃত্যুবরণ না করে। আর একরাম-হত্যার বিরুদ্ধে শক্তিশালী তদন্তকমিটি গঠিত হোক। এর বিরুদ্ধে একটা দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন বিচার হোক।

নিহত একরাম আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত একজন কাউন্সিলর ছিলেন। তাকে ‘ইয়াবাসম্রাট’ বা ‘গডফাদার’ বানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো, দি ডেইলি স্টার, ইন্ডিপেন্ডেন্টটিভি আর যমুনাটিভি। আজ তার জন্য আওয়ামীবিরোধী ‘ডেইলি স্টার পার্টি’র এতো মায়াকান্না কেন? একজন একরামের জন্য এখন আপনাদের এতো দরদ কেন? ঘটনা কী? একটু বলবেন?

সাইয়িদ রফিকুল হক
০৫/০৬/২০১৮

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর