নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ধর্মের দোহাই দিয়ে মানবতা কে আর কতকাল অস্বীকার করবেন?


আমাদের দেশটি হলো বৈচিত্র্যতায় ভরা, অসম্ভব কৌতুকে পরিপূর্ণ একটি দেশ। এদেশে সবাই ধর্মভীরু, ধর্মের হানি হলে ঘরে ঘরে জিহাদী তৈরি হয়, ধর্মের কোনো বিধান নিয়ে যৌক্তিক কোনো বিশ্লেষন করলে বলে তুই ব্যাটা নাস্তিক, তোর ঈমান নাই। আমার না হয় ঈমান নাই, কিন্তু যারা ধর্মের পক্ষে দাঁড়ি আমাকে নাস্তিক বলে ট্যাগ দেয় তাদের ঈমানের পরীক্ষা যদি তখন নিতে যাই, বলে তোর মত নাস্তিকের কাছে আমার ঈমানের পরীক্ষা দিবো না। হাস্যকর বিষয়টি হলো, অনলাইন ভিত্তিক ধর্মী অবমাননার যে আইনটি আছে, আরেকটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে, ধর্মী অনুভূতিতে আঘাতের যে বিধানটি আছে, সেটিকে ব্যবহার করে যতগুলো মামলা হয়েছে, যারা ওইসব মামলার বাদী, তাদের ধর্মচর্চার ফিরিস্তি তুলে ধরতে গেলে ধর্মও লজ্জা পাবে। সত্য তো এটাই, যারা ধর্মকে লালন-পালন করে, ধর্মকে নিত্যদিন তারাই ধর্ষন করে।

০১.
আসুন আলোচনা করি বাংলাদেশে তথা ইসলাম ধর্মের প্রচলিত একটা ট্যাবুর বিষয়ে। বিষয়টি হলো সমকামিতা। সমকামিতা এই দেশে সামাজিক ভাবে নিষিদ্ধ, কারনটা যতটা না সামাজিক, তার চেয়ে বেশি হলো ধর্মীয়। ধর্মে সমকামিতাকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। হবেই-বা-না কেন? আরে বাবা তোদের এক সাথে ৪টা বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে, দাসীর সাথে কোনো বিয়ে ছাড়া সেক্স করার অনুমতি দেয়া হলো, গনিমতের মাল ভেবে বিধর্মীদের ধর্ষন করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে, তারপরও কেন তোদের সমকামী হতে হবে? আল্লাহ তার বিধান দিয়ে এতো এতো ভ্যাজাইনা তোদের জন্য ধর্ম সিদ্ধ করলো, তাও তোরা শালা, এনালের দিকে কেন ঝুকবি! আসুন সেটাই দেখি কেন ঝুকবে এনালের দিকে।

প্রাসঙ্গিক ভাবে তারেক মাসুদ পরিচালিত মুভি “মাটির ময়না”র একটা গানের লাইন মনে পড়লো

“যদি ভেস্ত যাইতে চাও গো, অন্তরে রাইখো আল্লার ডর,
যদি আল্লার সন্ধান চাও গো, প্রেম রাখিও অন্তরের ভিতর”

গানে একজন পুরুষ শরিয়তের পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছিলো, আর একজন মহিলা মারফতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করছিলো গানে গানে। শরিয়তের পক্ষের লোকে তার কথা শুরু করছে “ডর” বা ভয় দিয়ে, ধর্ম এমনই একটা বিষয়ে যা কেবল নিদের্শ দেয়, পালন করতে বলে, এবং নিদের্শনা পালন না করলে কি কি শাস্তি হবে তার ভয় দেখায়। এখানে কোনো প্রেমের স্থান নেই। এখন পাঠক একটু ধর্মীয় মানসিকতা ছেড়ে আমার সাথে একটু ভাবুন তো। ধরুন আপনার বাচ্চা ছেলে অংকে ভয় পায়, যেমনটা আমরা আল্লায় ভয় পাই। ছেলে অংকে ভয় পায় ফেইলের ভয়ে, বোঝে না তাই, আমরা ভয় পাই দোযখের ভয়ে, নিদের্শনা পালন করি না তাই। এখন যে অংকে ভয় পায়, তাকে আপনি মেরে, শাস্তি দিয়ে, আদৌকি অংক শিখাতে পারবেন? সত্যি করে বলুন তো আসলেই তা সম্ভব? আচ্ছা যদি দুইটা অপশন দেই আপনার ছেলেকে অংক শেখানোর, ০১. ছেলে অংক না শিখলে, তাকে আপনি জলন্ত আগুনের মাঝে ফেলে দিবেন এই মর্মে ঘোষনা দিলেন, আর যদি শিখে তো তাকে আপনি ২০ বছর পরে ঘুরতে নিয়ে যাবেন কোকাফ শহরে (জ্বিনের শহর)। ০২. ছেলেকে বোঝালেন কেন তার অংক শেখা উচিত, তাকে দেখালানে কি ভাবে অংক করতে হয়, এবং তাকে অনুপ্রেরনা দিলেন সে পারবে এই মর্মে।

কোন অপশনটা আপনি বেছে নিবেন? প্রথমটা যদি আপনি বাছাই করতে চান তবে আপনার সাথে আমি আর কোনো তর্কে যাবো না। কিন্তু যদি দ্বিতীয়া বাছাই করেন। তবে আমি বলবো আপনি তো তাহলে শাস্তির বিষয়কে এড়িয়ে গেলেন? লোভ ও দেখলেন না! তাহলে আমি যদি ধর্মের তত্ত্বে আসি, আপনি তাহলে ধর্মের দেখানো রাস্তাকে অস্বীকার করলেন, কিন্তু কেন করলেন? করলেন এই কারনে যে, আপনি ও বোঝেন শাস্তির ভয় দেখিয়ে, আপনি তার অংক ভীতিকে আরো বাড়িয়ে তুলবেন, এবং তার মেধা আরো বেশি অক্ষম হয়ে যাবে ভীতি কাজ করার কারনে। পাশাপাশি যে লোভের কথা বললাম কোকাফ শহরে ঘোরানো, তাও ছেলে বিশ্বাস করবেনা, কারন এমন শহর আদৌ আছে কিনা আপনি নিজেও জানেন না। আর ২০বছর পরে এই ওয়াদা আপনি মনে রাখতে পারবেন না, ছেলেও না। মানে পুরাই একটা ভোগাস লোভ।

দেখুন ধর্ম আমাদের শুধু নিদের্শনা দিয়ে তা মানতেই বলছে শাস্তির ভয় দেখিয়ে আর বেহেস্তের লোভ দেখিয়ে। কিন্তু তার মাঝে সার্বজনীন মানবতার প্রেমের কোনো বানী নেই। সাবধানে পড়বেন আমি বলছি “সার্বজনীন” মানবতার প্রেমের কোনো বানী নেই। বলতে পারেন প্রেমের কথা বলেছে, আল্লার প্রতি, নবীর প্রতি। আমি বলবো কোরানের কোথায় বলেছে প্রেমের কথা আমাকে একটু দেখান, সব তো ঈমান আনার কথাই বলে গেছে।

০২.
এবার বলি, কেন এতো এতো রকমের সেক্সের ব্যবস্থা ধর্ম সিদ্ধ করে দেয়ার পরেও কেন, সমকামী সেক্সের দিকে ঝুঁকতে হবে। আসলে ধর্ম যে পাল্‌সটি এখানে মিস করে গেছে তা হলো প্রেম, ধর্ম আসলে প্রেম বিষয়টির প্রতি মোটেই আগ্রহী নয়, যতটা না আগ্রহ সেক্সের প্রতি ধর্মে আছে, ততটা আগ্রহ প্রেমের প্রতি নাই, তাই গড়পতা খাত ওয়ারী সেক্সের বৈধ জায়গা গুলো নির্ধারন করলেও প্রেমের ক্ষেত্রেকে নির্ধারান করতে ধর্ম ব্যার্থ। আর এটা স্বাভাবিক যে ধর্ম এখানে ব্যার্থ হবেই, কারন ধর্ম দাঁড়িয়ে আছে বিনিময় প্রথার উপর ভিত্তি করে, তুমি আমার জন্য এটা করো বিনিময় আমি ওটা দিবো, তুমি এই বলিদান দাও, বিনিময় আমি ওই উপহার দিবো। তুমি জিহাদ করে মতো নিশ্চিত হুর পাবা। বিনিময়ের থিওরি এটা আসলে ভালোবাসার মাঝে চলে না, প্রেমের মাঝে চলে না। তাই ওই প্রেমের উপর ভিত্তি করে মানুষে মানুষে সম্পর্ক কখনো সমকামীতার দিকে ঝুঁকবে, কখনো উভকামীতার দিকে, কখনো বা বিপরীতকামীতার দিকে ঝুঁকবে, এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিকতাকে ধর্ম তার বিনিময়ের মাঝে অন্তুভূর্ক্ত করতে পারে নি বলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছে, এটা নিষিদ্ধ, কারন সমকামীতাকে শুধু মাত্র যৌণতার সংজ্ঞায় বাঁধা সম্ভব নয়, এটার সাথে জগতের চিরাচরিত ভালোবাসার বিষয়টিও জড়িত আছে। আর ভালোবাসা প্রেম বিষয়টাকে ধর্ম বরাবরই অস্বীকার করে বলেছে, লোভ দেখাও, ভয় দেখাও উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

এই যে কথা গুলো লিখলাম এটা বোঝার জন্য কিন্তু খুব একটা ভাববার দরকার নেই, একটু নিরপেক্ষ দৃস্টি ভঙ্গি থেকে ভাবলে এটা যে কেউ অনুধাবন করতে পারে, কিন্তু আমরা সত্যকে জানতে চাই না। আমরা মানতে চাই না আমাদের প্রচলিত নিয়মের বাইরের বিষয়কে। আমার পরিবর্তন করতে চাইনা আমাদের সেই রীতিনীতি কে যেই রীতিনীতি প্রমানিত ভুল। সব কিছু দেখে, শুনে , বুঝেও কেবল মাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে মানবতা কে আর কতকাল অস্বীকার করবেন, কত সহস্র বছর এভাবে চুপ করে থাকবেন বলতে পারেন?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 1 দিন ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর