নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কার নির্দেশে চলছে বন্দুকযুদ্ধ, এত লাশের দায় কার?



মানুষ খুব ভালোভাবেই জানে যে, ক্ষমতাধরদের উদ্যোগে বা তাদের কারো কারো আশ্রয় প্রশ্রয়ে মাদকের ব্যবসা হয়। আর পুলিশ নিয়মিত বখরা আদায় করে এবং এদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সেই পাশা উল্টে গেল! মাদকের জগতের রাঘব বোয়ালরা যদিও ধরাছোঁয়ার বাইরে, তবে প্রতিদিনই লাশ হচ্ছেন ছোটখাটো ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী বা মাদকসেবীরা, চলছে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান।

এই অভিযোগ আমার কল্পিত বা অনুমানকৃত নয়। চলমান অভিযানের মধ্যেই প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর-এর ২৪ মে, ২০১৮ তারিখের একটি খবর দেখুন। 'তেজগাঁও রেললাইন বস্তি, ‘পুলিশ পাহারায়’ মাদকের হাট' শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চললেও তেজগাঁও রেললাইন বস্তিতে ‘পুলিশি প্রহরায়’ মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজার, এফডিসি রেলগেট ও তেজগাঁও এলাকায় বুধবার পুলিশকে সাইরেন বাজিয়ে চলতে দেখা গেছে। সাইরেনের আওয়াজ পেয়েই সতর্ক হয়ে যায় মাদক বিক্রেতারা। অভিযোগ রয়েছে- মোটা অঙ্কের মাসোহারা পাওয়ায় পুলিশ তাদের দেখেও না দেখার ভান করছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য।"

তাই কিছু দালাল ও দলদাস ছাড়া দেশে এখন কম বেশি সবাই র‍্যাব-পুলিশের এই অভিযান নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন। মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‍্যাব ও বিচার বিভাগের লাখ লাখ লোককে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পালা হয়। এরা এদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন না করে মানুষ খুন করে বেড়াচ্ছে। অথচ এদের দিয়ে দায়িত্বটা পালন করানো গেলে কাউকে বন্দুকযুদ্ধের নামে মরতে হত না, দেশে মাদকেরও এত বিস্তার ঘটত না। মানুষের জানা আছে, এহেন অভিযান কয়েক মাস চলবে, তারপর আবার গা ঢাকা দেওয়া বোয়াল মাছরা বেরিয়ে আসবে। পুলিশ আবার বখরা গুণবে! বিচার বিভাগ এখনও যেমন কিছু দেখে না, তখনও কিছু দেখবে না।

দেশের মানুষ ও বিভিন্ন মিডিয়া তাই এই অভিযানের বিরোধিতা করছে। অপরাধীকে বিচারের দায়িত্ব আদালতের হাতে দিয়ে র‍্যাব-পুলিশের এই খুনোখুনি বন্ধ করার আহবান জানাচ্ছে তারা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, র‍্যাব আর পুলিশকে খুনি বলে গালি দেওয়া হলেও এই অভিযানের আসল যিনি হর্তাকর্তা, তার ব্যাপারে সবার মুখ বন্ধ। কে সে?

র‍্যাব-পুলিশ, যারা কিনা সারা বছর মাদক পাহারা ও সরবরাহের দায়িত্ব নিজেরাই পালন করে থাকে, তারা কেন মাদক ব্যবসায়ীদের মারতে যাবে? তাতে তো তাদের আম-ছালা দুটোই যাবে। তারা বরং মাদকসেবীকে ধরে টাকা খাবে, আবার মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও টাকা নেবে, এটাই হওয়া কথা, বছরের পর বছর এটাই ঘটছে। এবারের অভিযানেও তাদের সেই মনোভাব যে প্রকাশ পায়নি, তেমন নয়!

২৫ মে, ২০১৮ দৈনিক যুগান্তর একটি খবর দিয়েছে 'মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড' শিরোনামে। তাতে বলা হয়েছে, "যশোর জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি মো. জালাল আহম্মেদ জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কোনো সফলতা না থাকা এবং অনেক ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানোর অভিযোগে ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।"

খবরটা পড়লেই বোঝা যায়, ওই ইন্সপেক্টর কেন চুপচাপ বসে আছেন, আর তার ওস্তাদ ওসি কেন আগে থেকেই ঢাকায় গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছেন। সীমান্ত এলাকা সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা জানেন, মাদক ব্যবসায় সেখানে কত লোক যুক্ত। এই অবস্থায় সীমান্তের মাদক চোরাচালানকারী ও ব্যবসায়ীদের বন্ধু পুলিশের পক্ষে কীইবা করা সম্ভব?

আবার ০২ জুন ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত 'একরামের স্ত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‍্যাব' শীর্ষক প্রথম আলোর এক খবর থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, কক্সবাজারের নিহত একরামুলের স্ত্রী "আয়েশা বিবিসিকে বলেছেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে র‍্যাব-৭-এর গাড়ি দেখে তাদের বললাম, আপনারা কেন আমার স্বামীকে খুন করছেন? তখন ওনারা বলেছেন, ওপর থেকে অর্ডার এসেছে। আল্লাহর কাছে বিচার দেন। আমরা কাজ করার মানুষ। আমরা শুধু অর্ডার পালন করছি।’"

এসব আলাপ থেকে বোঝা যায়, র‍্যাব-পুলিশ এই অভিযানের হোতা নয়। অভিযান শেষ হলেই আবার তারা এই মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেবে। তাহলে কে এই অভিযানের মাস্টারমাইন্ড? মজার ব্যাপার হলো, এটা মোটামুটি সবাই বলেই দিয়েছে, তবু যেন মিডিয়া বা সুশীল সমাজ তা শুনতে পায় নি। কিছু খবরের উদ্ধৃতি দিচ্ছি, দেখেন তো আপনারা তাকে চিনতে পারেন কিনা?

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, "৩ মে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবকে সোচ্চার হওয়ার কথা বলার পর থেকে ৪ মে থেকে ১৩ মে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‍্যাব।" দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : মাদক থাকলে র‍্যাব ক্যাম্পের পাশে ফেলে যান : বেনজীর

"প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সফল হয়েছে। আশা করি মাদক নির্মূলেও পুলিশ সফল হবে। যারা মাদক সরবরাহ, ব্যবসা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।" দৈনিক যুগান্তর, ১৬ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : মাদক নির্মূলেও পুলিশ সফল হবে : প্রধানমন্ত্রী,

শেখ হাসিনা বলেন, "আমরা সমস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‍্যাবকে আমরা বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছি। যেখানেই মাদক, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।" দৈনিক যুগান্তর, ২০ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : মাদক থেকে দেশকে উদ্ধার করব : প্রধানমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।" র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট"। দৈনিক যুগান্তর, ২০ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

"এই অভিযানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসিকে বলছিলেন, এ বছর অন্তত তিনটি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেছিলেন। তার ধারাবাহিকতাতেই এ অভিযান চলছে।" বিবিসি বাংলা, ২৩ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম, বাংলাদেশে যেভাবে শুরু হলো মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

"বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর আগে ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে কয়েক ডজন অভিযুক্ত নিহত হয়েছিল।" দ্যা গার্ডিয়ান, (অনুবাদ : সাউথ এশিয়ান মনিটর), ২৫ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : ফিলিপাইন স্টাইলের মাদকবিরোধী যুদ্ধে বাংলাদেশে আতঙ্ক

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, "মাদকের কারণে কাউকে আটক করলে কোনো তদবির করা যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।" বাংলানিউজ ২৪ডটকম, ২৬ মে, ২০১৮। খবরের শিরোনাম : মাদকের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না

এসব খবর থেকে খুব পরিষ্কার যে, এসব হত্যার দায় দায়িত্ব কার! উপরেল্লিখিত দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনটিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ডিরেক্টর মীনাক্ষি গাঙ্গুলিকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, "একজন মন্ত্রী মাদকাসক্তদের গুলি করতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এটাকে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের সাথে তুলনা করেছেন। তাই উদ্বেগের কারণ রয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী হয়তো কোনো দায়বদ্ধতা এবং নজরদারি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাবে"। সুতরাং, দেশের আইন ও বিচার বিভাগকে অকার্যকর করে শেখ হাসিনা যে এই খুনোখুনি শুরু করেছেন, এ নিয়ে কারো সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকার কথা নয়।

অবশ্য দলদাসরা বলতে পারেন, তিনি সত্যিকারার্থেই মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কথা হলো, তাহলে এমপি বদি কীভাবে সহী-ছালামতে সৌদি পাড়ি দিল? শামীম ওসমানের মতো মাদকের গডফাদারের সংসদে দাঁড়িয়ে কিভাবে কথা বলে, তাকে কেন আজ ধরা হচ্ছে না? মাদক ব্যবসার সহযোগী র‍্যাব-পুলিশের ঘুষখোরদের কেউ কেন ক্রসফায়ারে যাচ্ছে না? শেখ হাসিনা, 'দ্যা মাদার অব ক্রসফায়ার' কেন এদের দেখতে পাচ্ছেন না? অ্যাঁ?

শেখ হাসিনা এখন দেশের রাণীর মতো, সব স্বৈরাচাররাই স্বস্তা জনপ্রিয়তার মোহে এ ধরনের কাজ করে। কখনও তারা দুর্নিতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, কখনো বা মাদকের। কখনও নেমে যায় ফুটপাত পরিস্কার করতে, কখনও বা খাল কাটতে। কিন্তু সমস্যার গোড়ায় তারা হাত দেয় না, তাহলে যে সরাসরি গদিতে টান পড়ে। তাই মাদকের গডফাদারদের না ধরে শেখ হাসিনা এখন ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীদের বলি দিয়ে স্বস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চাইছেন। এছাড়া নির্বাচনের আগে এর মাধ্যমে অনেককে ভয় দেওয়ার কাজটাও হয়ে যাচ্ছে।

এসব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে থাকেন, না পারলে আর কয়েক মাস অপেক্ষা করেন, দেখবেন, নির্বাচনের কিছু আগে কীভাবে এই মাদক ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী তহবিলে চাঁদা দেয়, আর শেখ হাসিনা কীভাবে তাদের মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন!

Comments

নগরবালক এর ছবি
 

আমাদের তার নাম বলার সাহস নাই, নাম বললে জীবন থাকবে না। তাই আমাদের নীতি হলো

গোসল করিবো সাঁতার কাটিবো বেনী ভিজাইবো না,
জানিয়া শুনিয়া সত্য কখনো স্বীকার করবিবো না।

‌‌‍‍--নগরBaLoK--

 
রাসেল হাসান লিয়া এর ছবি
 

নির্দোষ মানুষরা ক্ষতিগ্রস্ত না হোক তেমনটাই প্রত্যাশা। অভিযানের ফলে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাত অনেকটাই কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তাতে সমাজ ও একেকটি পরিবার স্বস্তি বোধ করে। জনগণের এই স্বস্তি যেন অাশীর্বাদ হয়ে অভিযান পরিচালনাকারীদের ও সরকারের সাথে থাকে। অতীতের মাদকাসক্তদের জননীর অাশীর্বাদ পুষ্টরা যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য মাদক বিরোধী মানুষরা সচেতন থাকুক।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নুর নবী দুলাল
নুর নবী দুলাল এর ছবি
Online
Last seen: 29 min 4 sec ago
Joined: শনিবার, জানুয়ারী 19, 2013 - 3:35অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর