নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

সরকার যদি থাইল্যান্ডকে সত্যই অনুসরণ করে তবে বদির পরিবার হত ইতিহাস৷ একরামুলের জন্য মায়া কান্না নয়, করুণা হয়


ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ইয়াবা৷ থাইল্যান্ডে দিনে দুপুরে মানুষ হত্যা সব রকমের অপরাধ করত ইয়াবা সেবনকারীরা৷ এটা যখন মহামারি আকার ধারণ করলো তখন থাইল্যান্ড সরকার উপায় না দেখে ৩০০০ জনকে গুলি করে মেরেছে এবং পরে তা পুরোপুরি শিথিল করতে সক্ষম হয়েছে৷

বর্তমানে বাংলাদেশও থাইল্যান্ডকে ফলো করছে৷ কিন্তু বাংলাদেশে আয়ত্তে আনা আরো কঠিন৷ কারণ ইয়াবার গডফাদারের তালিকায় শুধু সাধারণ নয়, আছে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি, কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য এমনকি আইনের কর্মকতা সহ পুলিশ সদস্যরাও৷ ২০১০ এর ইয়াবা গডফাদারের যে তালিকা তা সরাষ্ট্র মন্ত্রানালয় হতে প্রকাশিত যার শীর্ষে আছে টেকনাফের এমপি বদি৷ অথচ এখন এসে তারা বদির কোন দোষই পাচ্ছেন না৷ বদির সম্পর্ক নেই বলে দাবী সরকার মহলের৷ আগে তারাই সনাক্ত করেছিলো৷ ২০১২ তে তালাশ টিম যে অনুসন্ধান চালায় তাতে বদি একরামুলরা ছিলো তালিকায় গডফাদার হিসেবে৷ ২০১৭ সালে তালাশের ৬৯ নং ইপিসোড সহ দুটো যমুনার টিভির অনুসন্ধানে পূনরায় নাম উঠে আসে এবং বেড়ে দাড়ায় চারগুনের চেয়ে বেশি৷

ইয়াবা তৈরী হয় হিটলারের নির্দেশে যুদ্ধাদের জন্য৷ সে এমন একটু ঔষধ তৈরী করতে বলে যা খেলে যুদ্ধাদের ক্লান্তি আসবেনা৷ ঠিক এজন্যই ইয়াবার জন্ম৷ পরে তার সৈন্যদের অবস্থাই খারাপ হয়ে গেছিলো৷ ১৯৭০ সালের দিকে বিশ্বব্যাপি এই ইয়াবাকে নিষিদ্ধ করা হয়৷ পরে থাইল্যান্ডে এর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে যার কারণে থাইল্যান্ড সরকার বাধ্য হয় গুলির নির্দেশ দিতে৷ বর্তমানে বাংলাদেশ এর ভয়াবহ সীমানায়৷ অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র ইয়াবা সেবন করছে, পনের বছরের ছেলে দুই লক্ষ টাকা চুরি করে উড়িয়ে দিচ্ছে নিমিষেই৷ মেয়ে ইয়াবা খেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে বলছে তার বাবা তাকে ধর্ষণ করত৷ শুধুমাত্র ইয়াবা খেতে নিষেধ করায় অথচ মা বাপের আদরের মেয়ে৷ ঐশী মা বাবাকে হত্যা করলো ইয়াবার কারণে৷ লন্ডনি পিতা মাতার একমাত্র মেয়ে, বাবা নিষেধ করলো বলে বাবার মাথা ফাটিয়ে দিলো৷ ব্যবসায়ী বাপের ছেলে বাপকে পিটিয়েছে, সম্পত্তি তচনচ করেছে৷ রাতে ডিজে পার্টি, নাচ গান যৌনতায় জড়িয়ে পড়ছে এবং খুন বাড়ছে ইয়াবার কারণে৷ চিকিৎসা বিজ্ঞান সাতটি ধাপ প্রকাশ করেছে এই ইয়াবার৷ চার নম্বরে বলা হয়েছে এরা একা হয়ে যেতে চায়, পরিবার হতে আলাদা হতে চায় এবং হয়ে যায়৷ পাঁচ নম্বরে বলা হচ্ছে এরা যেকোন দূর্ঘটনা ঘটাতে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম৷ প্রমাণটা অবশ্য আমি নিজ চোখে দেখেছি৷ আমার এক আপা চার পাঁচ দুটোই করে৷ সে যেকোন সময় ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর কেটে ফেলে হাসতে হাসতে৷ সে পরিবারের কারো সাথে থাকেনা৷ ছয়তে বলা হচ্ছে একসময় তাদের ঘুম চলে যায় এবং শরীরের অবনতি হয়৷ পুরোটাই সত্য যদি আপাকে না দেখতাম৷ এমনো হয়েছে তাকে আমি রক্ষার জন্য পরিবারকে জানাতে গিয়ে সে আমাকেই হিট করে বসলো এবং অশ্লীলভাবে আমাকে অন্যের কাছে তুলে ধরলো৷ আমি হতবাক হয়েছি প্রথম দিকে পরে বুঝলাম ও মাদকাসক্ত৷

শুধু একরামুলের মেয়ের চোখের জল আর স্ত্রীর চোখের জল দেখলে হবে না, এখন লাখো পরিবার কাঁদছে এই ইয়াবার জন্য৷ এক সময়ের জেলে মাত্র দশ বছরে কোটি টাকার মালিক৷ কক্সবাজারের টেকনাফে ৯০% লোক ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত৷ আমার চোখের সামনে টেকনাফে দামি মোটর সাইকেল বিক্রি করতে দেখলাম মাত্র ১০০০০ টাকায় টেকনাফে৷ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মোটর সাইকেল ব্যবহারকারী বোধয় টেকনাফেই৷ সব ইয়াবার টাকা৷ টেকনাফে বোরকা পরা মহিলারা ইয়াবা চালানে বেশি এগিয়ে৷ এক মেয়ের এগার বার জেল হবার পরও সে ব্যবসা চালাচ্ছে৷ এদিক ঢুকে ওদিক বের হয়৷ ছোট ছোট শিশু হতে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এই ব্যবসায় জড়িত৷ আর তাদের হাতে ইয়াবা যেত বদি পরিবারএকরা সহ একরামুলদের হাত ধরে৷ অবাক হবার কিছু নেই যে থানার ভেতরেও ইয়াবা বিক্রি সহ খাওয়া হয়৷ অসংখ্য মানুষের লাশের নাম এই ইয়াবা৷ বাবার হাতে সন্তানের লাশ, বাবাকে হুমকি ডাইরী করলে৷ নিরবে কেঁদে গেছে মা৷ এই জলের কারণও বদি একরামুলরা‍৷

একরামুলের মেয়ের কান্না, বউয়ের কান্না দিয়ে হিসেব বরাবর হয়না৷ তার চেয়ে বহু রক্ত বহু জলের স্রোতের স্বাক্ষি বাংলাদেশ৷ সরকার ক্ষমতার জন্য বদিকে নয় আরো অসংখ্য লাশকে আহবান করছে৷ থাইল্যান্ডের মত অবস্থান নিলে তালিকাভুক্তদের মধ্যে প্রথম গুলিটা বদির বুকে পড়ত, পড়ত বান্দরবানের সাত পুলিশ কর্মকরতার বুকে৷ গডফাদার মারলে বদির পরিবার আর থাকবে না কারণ তারা ভাই বোন, বোনের জামাই, ভাইগ্না, ভাগ্নি সবাই তালিকাভুক্ত৷ আর একরামুলকে মেরে বন্ধুক যুদ্ধ বলে চালানোর প্রয়োজন মোটেও ছিলোনা যদি সঠিক প্রদক্ষেপ নিত৷ বুঝলাম এদিকে ঢুকে ওদিকে বের হয়ে যায় বলে গুলির প্রয়োজন, কিন্তু ছোট খাট মেরে লাভ কি? তাদের জন্য আইন শক্ত করে বড়গুলোই ফেলে দিলে বুঝা যেত এটা শক্ত অবস্থান থাইদের মত৷ আর একরামুলকে সৎ দাবী করা লোকগুলো রোহিঙ্গা দরদির মত৷ না জেনে লাফানো স্বভাব৷ আপনি ক্রসফায়ার আর পরিকল্পিত হত্যার বিরুদ্ধে বলুন ঠিক আছে কিন্তু সৎ আর মেয়ের কান্নার বিজ্ঞাপন করছেন কেন? ইয়াবার কারণে লাখো পরিবার যে ভুগছে তাদের কান্নার কি হবে৷ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ঠের পাচ্ছেন কী? নিচে কিছু লিংক এবং কপি করা বিষয় টানলাম রেফারেন্স হিসেবে দেখে নিতে পারেন....

১. ২০১৪ সালে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, এই ৫১ ব্যিক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করাসহ পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ করে দিতেন। সাংসদ বদিসহ এদের মধ্যে অন্যগতম একজন ছিলেন সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফের ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা একরামুল হক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট সম্ভব নয়। কক্সবাজারের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধিই তাদের উপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী হিসেবে পূনর্বাসন করছে।

সূত্র: http://www.jugantor.com/old/first-page/2014/11/15/174184
.
২. সংবাদ শিরোনাম: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই ৩১ জনের তালিকায় (প্রথম আলো - ২৬ জুন ২০১৩)
পৌর কাউন্সিলর ও টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেনের নাম। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়ার জামাতা নূর হোসেন। তাঁরা সবাই সাংসদের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত।
http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/14884/ইয়াবা-নিয়ন্ত্রকদের-পৃষ্ঠপোষক-সাংসদ-
.
৩. সংবাদ শিরোনাম: ইয়াবা চালান নিয়ে তুলকালাম (কালের কন্ঠ)
চালানের মূল মালিক একরামুল হকের ১৬ লাখ ইয়াবা পাচারের চুক্তি মতে মাল খালাস করা হয়।.... ১৩ লাখ ইয়াবা বিজিবি’র অভিযানের সময় খোয়া যাবার কথা বলতে থাকেন।উল্লেখ্য একরাম পরিবহন ব্যবসায় জড়িত।
সূত্র: http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/02/02/597425
.
৪. সংবাদ শিরোনাম: ইয়াবা ব্যবসায় দুই দেশের ভিআইপিরা (প্রথম আলো ২১ জানুয়ারি ২০১৪)
তালিকায় রয়েছে পৌর কাউন্সিলর ও টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক।
http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/128059/ইয়াবা-ব্যবসায়-দুই-দেশের-ভিআইপিরা
.
৫. কক্সবাজার ও টেকনাফের স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত।জনপ্রতিনিধিরাই ইয়াবা কারবারি! (মার্চ ৯,২০১৭)
http://www.dailycoxsbazar.com/?p=70540http://www.newsbangladesh.com/deta...
জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্য্যমে কমন নাম ছিল ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক
.
৬. তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরাই জনপ্রতিনিধি! (২০১৬-০৬-২৬) http://www.risingbd.com/risingbd-special-news/171601
টেকনাফে ঘরে ঘরে ইয়াবা ব্যবসা ( বাংলাদেশ প্রতিদিন ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭)
.
৭. চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেম্বাররা সবাই জড়িত বাণিজ্যে
http://www.bd-pratidin.com/first-page/2017/02/07/206094
.
৮. পৃষ্ঠপোষক কিছু পুলিশ আর রাজনীতিক (কালের কণ্ঠ ২৩ মে, ২০১৮)
http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2018/05/23/639443
.
৯. ইয়াবা চোরাচালান রোধে নাফ নদীতে রাতে মাছ ধরা বন্ধ কার্যকর (জনকণ্ঠ ২৩ জুলাই ২০১৭)
http://web.dailyjanakantha.com/details/article/282591/ইয়াবা-চোরাচালান-রোধে-নাফ-নদীতে-রাতে-মাছ-ধরা-বন্ধ-কার্যকর/print/
.
১০. বন্দুকযুদ্ধের পরও থেমে নেই ইয়াবা পাচার!(উত্তরাধাকার নিউজ ২০১৪ মে)
http://u71news.com/article/2721/index.html

১১. তালাশ (ভিডিও সহ),
এছাড়া যমুনা টিভির ইনভেস্টিগেশন360 তেও তার বিশদ বর্ণনা উঠে এসেছে।
https://m.youtube.com/watch?feature=youtu.be&v=MmLHuXYb_2E
.

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 11 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর