নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নরসুন্দর মানুষ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

আহমদীয়া মুসলিম জামাতের ওপরে আনা বিভিন্ন অভিযোগসমূহ ও তার খন্ডন


অভিযোগ ১: আহমদী মুসলমানদের সংখ্যা নগণ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ

খন্ডন:
সারা পৃথিবীতে আহমদীদের সংখ্যা ঠিক কত তা বের করা অসম্ভব।
"আমি আপনাদের সারা দুনিয়ার পরিসংখ্যান দিতে পারব না। কোনও কোনও জায়গায় সাংগঠনিক কাঠামো সুগঠিত নয়, তাই তারা পরিসংখ্যান দিতে পারেন না, কিন্তু আমরা মিলিয়নের চেয়েও বেশী সংখ্যায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছি।”
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.)
প্রেস কনফারেন্স, ২০১৩
ইংলিশ প্রেসের সাথে সাক্ষাৎকার

যাহোক, কিছু স্বতন্ত্র গবেষণা থেকে এ বিষয়ে হালকা ধারণা পাওয়া যায়। যেমন, Pew Research Center, USA বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ধর্মীয় গবেষণার কেন্দ্র। তাদের গবেষণা “'The World's Muslims: Unity & Diversity' (2012)” সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের মুসলমানদের শতকরা হার বের করার চেষ্টা চালায়। আরেকটি পিউ রিপোর্ট, 'The Future of the Global Muslim Population' (2011) থেকে আমরা জানতে পারি, সেসব দেশে মুসলিম জনসংখ্যা কত।
দুটো গবেষণার সম্মিলিত ফলাফল থেকে এসব দেশে বসবাসকারী আহমদীদের সংখ্যার চিত্র পাওয়া যায় এভাবে:



অভিযোগ ২. জামাত ত্যাগকারীদের হার প্রমাণ করে যে আহমদীয়া মিথ্যা

খন্ডন:

পবিত্র কোরআন এ বিষয়ে একমত যে সবসময়ই এমন কিছু লোক ছিল এবং থাকবে যারা সত্য ধর্মকে ত্যাগ করে:

অবশ্যই যারা সত্য গ্রহণ করার পরে অবিশ্বাস করে এবং তাদের অস্বীকার বেড়ে যায়, তাদের তওবা কবুল
করা হবে না।(আল কোরআন ৩:৯০-৯১)

বস্তুত, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ জরিপগুলো বারবার নগণ্যসংখ্যক কিছু আহমদীই পায় যারা জামাত ত্যাগ করেন এবং প্রকৃতপক্ষে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান জামাত, যেকোনও ধর্মের হিসেবে। বেশ কয়েক বছর ধরে Dr. David B. Barret* কর্তৃক পরিচালিত একটি জরিপদলের করা জরিপ উল্লেখ করা যায়।
(*ড. বেরেট একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন খ্রিস্টান পন্ডিত) তাঁর লেখা গবেষণাপত্র World Christian Encyclopedia (2001) তে ছাপা হয় যেখানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় ফেরকার জনসংখ্যা ও বৃদ্ধিহার নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন। সেখান থেকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডাটাসমূহ দেয়া হলো যেটা প্রমাণ করে আহমদীয়া মুসলিম জামাত যেকোনও বড় মুসলমান দলের হিসেবে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধিরত।

অভিযোগ ৩: একজন সাধারণ আহমদীর দুর্বল ঈমান প্রমাণ করে যে আহমদীয়া মিথ্যা

খন্ডন:

আহমদীয়া-বিরোধীরা সবসময় এমন ঘটনা তুলে ধরতে পছন্দ করেন যেখানে কোনও একজন আহমদী হালকা কিছু ভুল করে থাকবেন। শুধু আল্লাহই জানেন,এমন কোনও ঘটনা যদি আদৌ সত্যি হয়ে থাকে। তবুও, এটা আহমদীয়ার সত্যতায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। এটা প্রমাণিত যে ঈসা (আ) এর বিশ্বস্ত একজন শিষ্যই সবচেয়ে নিকৃষ্টভাবে তাঁকে (আ) প্রতারিত করেন। সেটা ঈসা (আ) এর সত্যতায় কোনও সন্দেহ ফেলতে পারেনি। তেমনিভাবে, ইসলামের ইতিহাসও সাক্ষী আছে, বহু গোত্র যারা হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ওপরে ঈমান এনেছিল, তারা নবীজী (সা) এর ওফাতের পরে বিদ্রোহ করে বসে। সেটাও রসুলে করীম (সা) এর সত্যতায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। তেমনি কোনও একজন আহমদী মুসলমানের কোনও ব্যক্তিগত ত্রুটি আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সত্যতায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনা।

অভিযোগ ৪: আহমদী মুসলমানরা মনে করে অন্য ফেরকা/ধর্মের লোকেরা জাহান্নামে যাবে

খন্ডন:

“আহমদীয়া ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী কুরআন করীমের বর্ণণায় আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক এতোটাই বিস্তৃত যে যারা এমনকি অমুসলিম – অআহমদী বলাই বাহুল্য – কুরআনের বর্ণণা অনুযায়ী বিশ্বাসে ভিন্ন, এমনকি ভুলও, তথাপি তারা যদি সত্য মনে ঈশ্বরকে ডাকে তবে তাদের আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার অধিকার আছে। আর আল্লাহ নিজে তাদের ডাকে সাড়া দেন কারণ আল্লাহ সত্যকে ভালোবাসেন। সুতরাং বিশ্বাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশ্বাসে মতভেদ হতে পারে চিন্তার ভিন্নতা থেকে, আবার আচারের ভিন্নতা থেকে। কেউ যদি একবারেই ইসলাম না বোঝে, তবে কেন সে জাহান্নামে যাবে? সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে অন্তরের সত্যতা ও পবিত্রতা, জীবনের কর্ম, একহাতে ঈশ্বরের জন্য ভালোবাসা, আরেক হাতে মানবতার জন্য ভালোবাসা।”
হযরত মির্যা তাহের আহমদ, খলীফাতুল মাসীহ আর রাবে (রাহে.)
প্রশ্নোত্তর পর্ব

অভিযোগ ৫: আহমদীরা ধর্ম গ্রহণের জন্য টাকা দেয়

খন্ডন:

এটার উল্টোটা সঠিক। যেকোনও আহমদীকে, হয় বয়’আত করা বা জন্মগত, সবসময় বলা হয় জামাতের স্থানীয় মসজিদে দান করবার জন্য।

অভিযোগ ৬: আহমদীদের ‘চাঁদা’ ইসলামের শিক্ষা বহির্ভূত ও পরিপন্থী

খন্ডন:
আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদের নিজেদের কর-বহির্ভূত-আয়ের প্রায় ৯% পর্যন্ত বিভিন্ন চাঁদায় খরচ করতে বলা হয় (চাঁদায়ে আম, মজলিস চাঁদা, জলসা চাঁদা ইত্যাদি)। অবশ্যই যারা আয় করেন না বা যারা দরিদ্র সদস্য তারা চাঁদা দেয়ার দ্বায়িত্ব থেকে অব্যহতিপ্রাপ্ত।

তাদের অবশ্যই এমন ব্যক্তিদের চাঁদা দিতে বলা উচিৎ নয়…..ব্যবস্থাপনার উচিৎ হবে এমন লোকেদের ব্যপারে চিন্তা করা এবং তাদের চাঁদা দিতে জোরাজুরি করা সমুচিৎ হবে না। চাঁদা অবশ্যই লোকের অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিঃ।
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ, খলীফাতুল মাসীহ আল খামেস (আই.)
জুমুআর খুতবা, ৭ নভেম্বর ২০১৪

এই অর্থ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, বইপুস্তকের প্রকাশনা ও ইসলাম প্রচারের জন্য মিডিয়া, মিশনারী কার্যক্রম এবং দাতব্য সংগঠনের পরিচালনার জন্য ব্যয় করা হয়।
এখানে দ্রষ্টব্য, আহমদীয়া মুসলিম জামাত জামাত বহির্ভূত কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনও অর্থ গ্রহণ করে না, অর্থাৎ জামাতের সকল অর্থায়ন জামাতের সদস্যরা নিজেরাই করে থাকেন। এসব কাজকর্মে খরচ করার ব্যপারে বারবার কুরআনে সমর্থন পাওয়া যায়,

আল্লাহর পথে খরচ কর। (আল কোরআন ২: ১৯৫-১৯৬)

যারা আল্লাহর পথে খরচ করে, আর নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা উপেক্ষা করে, তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে পুরষ্কার রয়েছে, আর তাদের কোনও ভয়ও থাকবে না, না তারা নিরাশ হবে। (আল কোরআন ২: ২৬২-২৬৩)

যেই আল্লাহর জন্য খরচ করে, তার সাতশোগুণ পুরষ্কার পায়। (তিরমিযী)

এখন আপত্তি করা হয় যে, কোনও নির্ধারিত হার কুরআনে দেয়া হয়নি, সুতরাং এটা অইসলামিক। এটাও সত্য নয়।
হযরত উমর (রা) এর খিলাফতকালে, একজন খলিফা যিনি সকল অআহমদী সুন্নী মুসলিমের কাছেও ঐশী খিলাফতপ্রাপ্ত ও খোলাফায়ে রাশেদীনের অন্তর্ভুক্ত, তিনি (রা) সময়ের প্রয়োজন অনুসারে করের হার, চাঁদা সংগ্রাহক ও প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অআহমদী সুন্নী মুসলিমরা এতে কোনই আপত্তি করতে পারেন না যে ইসলামের কোনও খলিফা সময়ের প্রয়োজন অনুসারে চাঁদার হার ও চাঁদা গ্রহণের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করে দিতে পারেন।

অভিযোগ ৭: চাঁদার টাকার অপব্যবহার করা হয়

খন্ডন:

আহমদীয়া-বিরোধীরা এই অভিযোগ এনে থাকেন। যাহোক, এটা পুরোপুরি অসত্য। সারাবিশ্বে সব আহমদী মুসলমান এই কথার সাক্ষ্য দিবেন যে তাঁদের আর্থিক কুরবানী প্রকৃতপক্ষে মহৎ এবং উপযুক্ত দাতব্য কার্যক্রমে খরচ করা হয়। তার ওপরে, আহমদীয়া মুসলিম জামাত স্বতন্ত্র অডিটের মাধ্যমে অর্থের অপচয় রোধ নিশ্চিত করে।

কারও এটা ভাবা উচিৎ হবে না - আর চাঁদাদারদের এটা মনে রাখা উচিৎ - যে জামাত তাঁদের চাঁদার টাকায় চলছে এবং এজন্য সেক্রেটারী মাল তার কাছে বারবার আসেন। এটা আল্লাহর শপথ যেটা তিনি প্রতিশ্রুত মসীহর কাছে করেছিলেন যে, কখনও আর্থিক কোনও দৈন্য পড়বে না এবং জামাত সুষ্ঠুভাবে চলবে ইনশআল্লাহ। তিনি শুধু এ নিয়ে সতর্ক ছিলেন যে অর্থ যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার হয়। মহামহিম আল্লাহর রহমতে, আমরা এটা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করি যে ব্যয় সবচেয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ করা হয়। যদি কোনও স্থানে কোনও অবহেলা দেখা যায়, লোকজনের মনোযোগ এমন জিনিসে পড়ে এবং একটি অডিট ব্যবস্থা এরজন্যই মজুত আছে। আর এটা জামাতের প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্ব যে তিনি ব্যয়ের ব্যপারে সজাগ নজর রাখবেন এবং এটা নয় যে সব বিল যেগুলো আসবে আপনাআপনি প্রয়োজনের জন্য মন্জুর করে দেবেন। অডিট ব্যবস্থাকে স্বতন্ত্রভাবে ও কার্যকরভাবে চলতে দিন যাতে অডিটররা পুরোপুরি ক্ষমতার সাথে কাজ করতে পারেন। (হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই), জুমুআর খুতবা, ১৬ আগস্ট ২০১৩)

আরও বলা যায়, যেসব দেশে এমনকি সরকার খোলাখুলিভাবে বিরোধী এবং আহমদীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে মদদ দেয়, যেমন পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া, সেখানেও কর্তৃপক্ষ একটাও আর্থিক অপব্যয়ের ঘটনা পায়নি। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাজ্যের মতো দেশে, যেখানে আহমদীয়া মুসলিম জামাত নথিভুক্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান, এবং যুক্তরাজ্যের দাতব্য কমিশন (UK’s Charity Commission) অডিট চালায় এবং আহমদীয়া মুসলিম জামাতের আর্থিক ব্যবস্থার তথ্যাবলী কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত হয়, যার ফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং কর্তৃপক্ষ জামাতের অ্যাকাউন্ট ও ব্যয়ের ব্যপারে নিশ্চিত হয়। উল্লেখ্য, UK’s Charity Commission বহু ঘটনা তুলে ধরেছে যেখানে যুক্তরাজ্যের অআহমদী মুসলমানদের চ্যারিটিগুলোতে আর্থিক অনিয়ম এবং অসহযোগীতার অভিযোগ পাওয়া গেছে কিন্তু আজ পর্যন্ত একবারও আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনতে পারেনি। এই তথ্য UK’s Charity Commission এর অনলাইন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।


অভিযোগ ৮: “ভালোবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয়কো কারও ‘পরে” বাণীটি ইসলামসম্মত নয়

খন্ডন:

আহমদীয়া মুসলিম জামাতের তৃতীয় খলিফা “ভালোবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয়কো কারও ‘পরে” বাণীটির প্রচলন করেন। জামাতের বিরোধীরা এটা বলে আপত্তি করেন যে আহমদীরা অবশ্যই খারাপ লোকদেরও ভালোবাসবে। যাহোক, তারা এই বাণীর প্রকৃত অর্থ ধরতে পারেন:

যদি আমরা নির্যাতিতদের রক্ষা করতে চেষ্টা করি, সেটাও তার জন্য ভালোবাসা। যদি আমরা জালিমের জুলুমকে থামাতে চেষ্টা করি, এটা তার জন্য ভালোবাসা। (হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.), প্রেস কনফারেন্স, ইংলিশ প্রেসের সাথে সাক্ষাৎকার)

এটা কুরআনসম্মত শিক্ষা:

তিনি কি তোমাকে এতীম অবস্থায় দেখতে পেয়ে আশ্রয় দেননি? আর তিনি কি তোমাকে (খোদা অন্বেষণেও মানবপ্রেমে) আত্মহারা পেয়ে পথনির্দেশনা দেননি? আর তিনি তোমাকে বিশাল পরিবারের অধিকারী (দেখতে) পেয়ে সম্পদশালী করে দেননি? ( আল কোরআন ৯৩: ৭-৯)

হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নিজেদের লোকদের বাদ দিয়ে (অন্যদের) অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনও ত্রুটি করবে না। তারা চায় তোমনা যেন কষ্টে পড়। নিশ্চয় তাদের মুখ থেকে বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের অন্তর যা গোপন করে তা এর চেয়েও মারাত্মক। তোমরা বিবেকবুদ্ধি খাটালে (বুঝতে পারতে) নিশ্চয় আমরা তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ ষ্পষ্টভাবে বর্ণণা করে দিয়েছি। শুন, তোমরা তাদের ভালবাস ঠিকই, অথচ তারা তোমাদের ভালোবাসে না। ( আল কোরআন ৩: ১১৯-১২০)

এই শিক্ষা ঈসা (আ) কর্তৃক বাইবেলেও দেয়া আছে:

তোমরা নিজেদের প্রতিবেশীকেও নিজেদের মতোই ভালবাসবে। (মথি ২২: ৩৪-৪০)

এক নতুন নির্দেশ আমি তোমাদের দিচ্ছি, যে তোমরা এক অপরকে সেভাবেই ভালোবাস, যেভাবে আমি তোমাদের ভালোবেসেছি সেভাবেই তোমরা এক অপরকে ভালোবাস। এভাবে সব মানুষ বুঝতে পারবে যে তোমরা আমার শিষ্য, যদি তোমাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা থাকে। (জন ১৩: ৩৪-৩৫)

অভিযোগ ৯: আহমদীদের অন্য ফেরকার জানাযা পড়া নিষেধ

খন্ডন:

যদি কোনও অজানা ব্যক্তি, একজন মুসলমান যেকোনও স্থানে মৃত পাওয়া যায়, তবে আমরা এ নিয়ে কোনও দ্বিধা করব না যে আগে তার সত্যিকার বিশ্বাস জানা প্রয়োজন। এটা সাধারণ নিয়ম যে সকল মুসলমানের কবরে দাফন পাওয়ার অধিকার আছে এবং আমরা তার জানাযা পড়ে নেব। একবার একটা প্লেন ক্রাশ করেছিল এবং যাত্রীদের মধ্যে একজন মুসলিম ছিলো এবং আশেপাশে আহমদীরা ব্যতীত আর কোনও মুসলমান ছিলো না আর তারা জানাযা পড়ে নিয়েছিলো। (হযরত মির্যা তাহির আহমদ (রাহে.))

অভিযোগ ১০: আহমদীদের অআহমদী মুসলমানদের সাথে বিয়ে করা নিষেধ

খন্ডন:

এ অভিযোগ করা হয় যে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদের জোর আদেশ দেয়া – ব্যতিক্রমী ঘটনাগুলো বাদ – যে অন্য ফেরকা বা ধর্মের লোকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হওয়া ইসলাম-পরিপন্থী শিক্ষা। এমন অভিযোগের ব্যপারে হাস্যকর ব্যপার হচ্ছে একই আহমদীয়া-বিরোধী দল যারা জোরগলায় এই অভিযোগ করে থাকেন তারা অআহমদী মুসলমানদের এটাও বলেন যে কখনো যাতে একজন আহমদীকে বিয়ে না করেন, বিষয়টা কিন্তু যথেষ্ট স্ববিরোধী।
এটা লক্ষণীয় যে যদিও জামাতে এমন বিয়ে করতে নিরুৎসাহিত করা হয়, তথাপি যদি কেউ বিশেষ ক্ষেত্রে এমন বিয়ে করার জন্য আবেদন করেন তবে তার আবেদন মন্জুর করা হয়। এটা দ্রষ্টব্য যে এই নিরুৎসাহিতকরণ কোনও আইনী বাধ্যবাধকতা বা ফতোয়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা যা জামাতের ইতিহাসের একটা সময়ে করা হয় এবং অন্য সময়ে করা হয়নি। আর এটা আহমদীদের একার অনন্য উদাহরণও নয়, হযরত উমর (রা), হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যুর পরে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা, মুসলমানদের খ্রিস্টানদের সাথে বিয়ে করতে নিষেধ করেছিলেন, যদিও তা কুরআনসম্মত।
এই নিয়মের কারণগুলোর মধ্যে একটি যে, অআহমদী মুসলমাদের অনেক ধর্মীয় নেতারা প্রায়ই আহমদীদের সাথে অআহমদীদের হওয়া বিবাহকে বাতিল ঘোষণা করেন। এটার ফলে অনেক কাহিনী হয়েছে যেখানে আহমদী মহিলারা, যারা ইতোমধ্যে এমন বিয়ে করে ফেলেছিলেন, তাদের ওপরে মারাত্মকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাদের সন্তানসন্ততিদেরকে জারজ বলে ডাকা হয়েছে। তার ফলে এই ব্যবস্থা অআহমদীদের এমন আচরণের একটা জবাব হিসেবে নেয়া হয়েছে এবং তরুণ আহমদীদের এমন অকিন্চিৎকর পরিস্থিতির শিকার হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য নেয়া হয়েছে। আজও আহমদী মুসলমানরা এমন বিপদ থেকে মুক্ত নন, যেমন একটি সাম্প্রতিক স্বতন্ত্র গবেষণায় উঠে এসেছে:
One report was however found referring to a stigma against Sunni Muslims marrying members of the Ahmadiyya community...While, in general, relations between Sunni and Shia Mauritians appear cordial, sources note a fractious relationship between the Ahmadiyya sect, which has approximately 4,000 members, and Sunni Muslims. Although the Ahmadiyya are considered by Mauritian authorities (when counting religious affiliation for censuses) to be Muslims, they are not accepted as Muslims by Sunni Muslims. Hollop notes that Sunni Muslims will not marry members of the Ahmadiyya sect and that relations between the two have not always been amicable...No reports were found from Mauritius of people receiving adverse treatment from family members or other Muslims for marrying someone from a different Muslim sect. As noted in the answer to question one, reports were located to indicate a stigma exists when Muslims marry members of the Ahmadiyya sect who other Muslims do not regard as Muslims.
(Country Advice - Mauritius – MUS39194, Australian Government Report, 2011)

অভিযোগ ১১: আহমদীয়া মুসলিম জামাতের শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তিবিষয়ক

খন্ডন:

জামাতের ক্ষেত্রে দাপ্তরিকভাবে কাউকে শাস্তি দেয়ার ঘটনা যথেষ্ট কম এবং এটা শুধুমাত্র চরম সীমালংঘনের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে শুধু কোনও সদস্যকে খলীফা হুজুরের বয়’আত থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এমতাবস্থায়, তাদের থেকে কোনও প্রকার চাঁদা গ্রহণ করা হয়না এবং তারা জামাতের কোনও দায়িত্বপূর্ণ পদ পান না্ তবে এছাড়া তাদের মর্যাদার কোনওরকম হানি করা হয়না। তারা তখনও আহমদীই থাকেন এবং আহমদী মসজিদে যখন ইচ্ছা নামাজ পড়তে পারেন আর যদি কেউ ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন তবে তার আবেদন মন্জুর করে তাকে আবার জামাতের সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ করে নেয়া হয়। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের খলিফাগণ বহু সময়ে এ ব্যপারে আলোচনা করেছেন,

যখন কোনও অভিযোগ আসে তবে এটা আমার অন্তরের জন্য বেশ কষ্টকর হয় যে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেই। যদি আমাদের সত্যিই প্রতিশ্রুত মসীহর সাথে সম্পর্ক থেকে থাকে তবে আমাদের উচিৎ হবে পুরনো সম্পর্ক ও সহযোগীতা পুনরায় স্থাপন করা।
(হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.), জুমুআর খুতবা, ৩১ আগস্ট ২০০৭)

শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তির ব্যবস্থা আমাদের জামাতেও বিদ্যমান এবং এটা নিষ্ঠুরতার চিহ্ন নয় বরং আত্মশুদ্ধির জন্য। সকল বাধানিষেধ ব্যক্তির উন্নতির জন্যই, অন্যথায় অযথা নিষ্ঠুরতাও হত্যারই সামিল।
(হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.), জুমুআর খুতবা, ২ আগস্ট ২০১৩)

[si]কিছু ব্যক্তি যারা যথেচ্ছভাবে জামাতের নিয়ম ভঙ্গ করেন তাদের জামাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন আমরা তাদের অআহমদী ঘোষণা করিনি, এটি পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার, আমরা তাদের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে বহিষ্কার করেছি, তার মানে তারা আর আমাদের খলীফাতুল মসীহের অনুগত সংগঠনের কোনও অংশ নন, কিন্তু আমাদের কোনও অধিকার নেই তাদের অআহমদী ঘোষণা করার।
(হযরত মির্যা তাহের আহমদ (রাহে.), প্রশ্নোত্তর পর্ব)

শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত শাস্তির বিধান দেয়া হয় জামাতে কিছু জিনিসের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য কারণ একজন সত্যিকারের মুমিনের শুধু সেগুলোই চর্চা করা উচিৎ যেগুলো ভালো। এটা ছাড়া, না সে ভালোর পথে চলতে পারবে, না সে খারাপকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে।
(হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.), জুমুআর খুতবা, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১১)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নাঈমুর রহমান আকাশ
নাঈমুর রহমান আকাশ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 28, 2018 - 7:15অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর