নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আমার শরীরের মালিকানা আমি শুধু নিজেই।


নারীর শরীরের মালিকানা দাবী করা; অর্থাৎ নারীর শরীর একান্তই তাঁর নিজের। অন্য পুরুষের নয়, স্বামীর নয়, পিতার নয়, বন্ধুর নয়, কাজিনের নয়, সমাজের নয়, শুধু নারীর নিজের। সুইডেনের ডে কেয়ার গুলোতে শিশুর চার বছর বয়স থেকে শেখানো হয় তোমার শরীর তোমার, তোমার শরীরের সিদ্ধান্তও তোমার। যে বয়সে শিশু “সিদ্ধান্ত” শব্দটি কেবল শিখছে তখনই তাকে শিখিয়ে দেয়া হয়, মানুষের শরীর তাঁর নিজের। অন্যের নয়। এমন কি বাবা-মা’ও তোমার শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাঁরা কেবল তোমাকে সাহায্য করতে পারেন, যদি তুমি চাও। মানুষের শরীরের স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে এতো অল্প বিষয়ে এই রকমের শিক্ষা দেয়া নিয়ে হয়তো অনেকেই আপাতভাবে রুঢ়তা খুঁজে পাবেন, তাহলে কি মানুষ ছোট শিশুদের আদর করবেনা, কোলে নেবেনা? আদর করবে, কোলে নেবেন যদি শিশুটি চায়, যদি আপনাকে এলাউ করে।

একটা শিশু যখন জানে তাঁর শরীর কেবলই তাঁর, সে এর মধ্যদিয়ে এটাও শেখে অন্যের শরীরও কেবলই অন্যের। তাঁর শরীর নিয়ে যেমন অন্য কেউ অনাকাংখিত কিছু করতে পারেনা, তেমনি অন্যের শরীরের উপরে অযাচিত করার অধিকার তাঁর নেই। এটা পুরুষতন্ত্রের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। আমরা কি বাংলাদেশে এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াই? দাঁড়াইনা। নিজের ও অন্যের শরীরের মালিনা বিষয়ে এই শিক্ষাটি আমাদের শিশুদের নেই। নেই বলেই সে যখন তরুন হয়ে ওঠে, তখন বাসের ভীড়ে, চাপাচাপিতে অন্য নারীর শরীরে অবলীয়ায় তাঁর হাত চলে যায়। এটা তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়না। এই শরীরের “সিদ্ধান্ত” বিষয়ে আইনী বিধানও আছে, কিন্তু সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াটা জরুরী। পুরুষতন্ত্রের সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠান গুলো আমাদের শিখিয়েছে, নারীর শরীর পুরুষের সিদ্ধান্তের অধীন। নারীর শরীর নারীর নিজের নয়। অবচেতন ভাবে আমরা এটাই জানি। বিবাহ নামের প্রতিষ্ঠানটি আমাদের মস্তিষ্কে এই শিক্ষাটি গেঁথে দিয়েছে হাজার বছর ধরে। বিবাহ নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা কিভাবে দাঁড়াবো? কিভাবে বলবো যে বিবাহ নামের চুক্তির সাথে নারীর শরীরের মালিকানার কোনও সম্পর্ক নেই, থাকা উচিৎ নয়। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীর শরীর বিষয়ে পুরুষতন্ত্রের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যতটা সংগ্রাম জারী হয়েছে বিগত দশকগুলোতে, আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষিত মহলেও তাঁর কোনও ছিটে-ফোটা প্রভাব পড়েনি। আমরা দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক প্রথা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার বদলে সমস্যাটিকে “ব্যক্তির সমস্যা”, কিছু “খারাপ মানুষের” সমস্যা, “পুরুষের সমস্যা” ইত্যাদি বলে চিহ্নিত করি এবং এর অবধারিত ফলাফল হচ্ছে কিছু বিচ্ছিন্ন চটকদার – পপুলার লেখালেখি। কোনও সংগঠিত আন্দোলন বা চিন্তা গড়ে ওঠা নয়। আমাদের দরকার পুরুষতন্ত্রের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্থিত আন্দোলন, যা ব্যাখ্যা করবে, কেনো শুধু নারীই নয়, সকল মানবিক মানুষের এই “পুরুষতন্ত্রের সংস্কৃতি” নামের জগদ্দল পাথর থেকে মুক্তি পাওয়া দরকার।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – বাংলাদেশে আমরা এটা কিভাবে করবো? পুরুষের চরিত্র কে, তাঁর যৌনেচ্ছাকে, তাঁর হরমোনকে, তাঁর প্রবৃত্তি কে গালিগালাজ করে? ”স্ট্যানফোর্ডের ধর্ষণের শিকার এই মেয়েটিকে অন্তত পুলিশের হাতে হেনস্থা হতে হয়নি, তাকে কেস করার জন্য বারবার থানায় ধর্না দিতে হয়নি, পুলিশ তাকে ইজ্জতের দোহাই দিয়ে ফিরিয়ে দেয়নি” কিন্তু কেনো? এই পুলিশও তো পুরুষতন্ত্রেরই অধীন তাই না? কেনো স্ট্যানফোর্ডের মেয়েটিকে পুলিশের হাতে হেনস্থা হতে হয়নি এই প্রশ্নটিও একটা বিরাট উত্তর দিতে পারে। আমেরিকার মতো একটি প্রবল পরাক্রমশালী পুরুষতান্ত্রিক দেশেও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিচার চাইবার, অধিকার দাখিল করবার। পুলিশ এখানে কেবলই নির্মোহ ভাবে তথ্য সংগ্রাহক এবং সাহায্যকারী। পুলিশ এখানে পুরুষতন্ত্রের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষমতা প্রভাব থেকে মুক্ত। রেইপ কেইস গ্রহনের সময় পুলিশকে ভাবতে হয়না, আক্রমনকারী কার ছেলে, কার ব্যবসায়িক পার্টনার, কতটা ধনী বা কতটা ক্ষমতাবান ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে? শুধু কি রেইপ কেইস? সকল অপরাধের অভিযোগ গ্রহনের ক্ষেত্রে পুলিশের পা’টা বাঁধা থাকে কোথায়? আমরা জানি, হয় আওয়ামীলীগের স্থানীয় অফিসে নয়তো বিভিন্ন মন্ত্রীর দফতরে।

সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার সাথে কোনও না কোনও ভাবে অর্থনৈতিক অথবা রাজনৈতিক শক্তির যোগাযোগ আছে। সেটা কোটিপতি ব্যবসায়ীর সন্তানদের বেলাতেও দেখা গেছে আবার শ্রমিক লীগের নেতার বেলাতেও দেখা গেছে। বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা গুলোর সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতার এই যে সংশ্রব, এ বিষয়ে আমাদের কি কোনও সংগ্রাম আছে? কোনও নারীবাদী সংগঠন কি আওয়ামীলীগের সদর দফতর ঘেরাও করার কথা ভেবেছেন? কেউ কি ভেবেছেন কি করে একটি উপজেলা যুবলীগের সম্পাদক এতোটা ক্ষমতা পায় যে তাকে থানা – পুলিশ – আদালত নিয়ে না ভাবলেও চলে? নারীর প্রতি সহিংসতায় রাজনৈতিক শক্তির দায় নিয়ে কি আমরা কিছু বলবো? আন্দোলন করবো? প্রধান দলগুলোকে এক যায়গায় এনে প্রতিশ্রুতি আদায় করবো? ইজ্জতের কথাও উল্লেখ করেছেন উপরে। ইজ্জত হচ্ছে হাজার বছরের পুরোনো পুরুষতান্ত্রিক সংস্কার যার সবচাইতে বড় ধারক হচ্ছেন আমাদের নারীরাই। “ইজ্জত”কে মহীয়ান করে তোলার সকল আয়োজন করেছে পুরুষতন্ত্র, কিন্তু কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করেনি, কেউ বলেনি, এটা পৃথিবীর সবচাইতে বড় মিথ্যা গুলোর একটা। সেজন্যেই একজন রেইপ – ভিক্টিম সারাজীবন তাঁর আগের “ইজ্জত” ফিরে পান না। সেজন্যেই একজন রেইপ “ভিক্টিম” কে মনে করিয়ে দেয়া হয়, এই শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি তাঁর সবচাইতে “মূল্যবান” কিছু হারিয়েছেন। আমরা কি এই ইজ্জত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবো? আমরা কি প্রমোট করবো যে নারীর প্রতি সহিংসতায় নারীর “ইজ্জতের” হানি ঘটেনা, যদি ইজ্জত হানি ঘটে থাকে তা ঘটে আক্রামনকারীর।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রবিউল আলম ডিলার
রবিউল আলম ডিলার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 3 দিন ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 25, 2018 - 1:32পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর