নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

কুরআন অনলি রেফারেন্স: (২৫) বদর যুদ্ধ - নৃশংস যাত্রার সূচনা!


ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ-টি সংঘটিত হয়েছিল বদর নামক স্থানে। পৃথিবীর প্রায় সকল ইসলাম-বিশ্বাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বদর যুদ্ধের কারণ হলো, “মক্কার কুরাইশ কাফেরদের শত্রুতা!” তাঁরা বিশ্বাস করেন, কুরাইশরা অন্যায়ভাবে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়েছিল। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা আগ বাড়িয়ে অন্যায়ভাবে কখনোই কোনো সংঘর্ষ কিংবা যুদ্ধে লিপ্ত হননি। তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে কুরাইশ ও অন্যান্য অমুসলিমদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের যাবতীয় নিষ্ঠুরতা, সংঘর্ষ ও যুদ্ধের কারণ ছিল "শুধুই আত্মরক্ষা!"

ইসলামের প্রোপাগান্ডা মেশিন যে কত শক্তিশালী তার একটি প্রমাণ হলো ইসলাম বিশ্বাসী ও বহু অবিশ্বাসী মানুষদের এই বিশ্বাস! তাঁদের এই বিশ্বাসের উৎস যে শত শত বছরের মিথ্যা ও অপপ্রচারণার ফসল, তা অতি সহজেই বোঝা যায় কুরআন ও আদি উৎসের নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের বর্ণনায়। আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা মুহাম্মদের জীবনী ও হাদিস গ্রন্থে বদর যুদ্ধের যে কারণ ও প্রেক্ষাপট লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো এই:

“বদর যুদ্ধের প্রায় দুই মাস আগের ঘটনা। বাণিজ্য-ফেরত নিরীহ কুরাইশ কাফেলার উপর রাতের অন্ধকারে মুহাম্মদ ও তার মক্কাবাসী অনুসারীদের (মুহাজির) পর পর সাতটি ডাকাতি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অষ্টম বারে মুহাম্মদ 'আবদুল্লাহ বিন জাহাশ' নামের এক অনুসারীর নেতৃত্বে এক হামলাকারী দল পাঠান। মুহাম্মদের এই অনুসারীরা রাতের অন্ধকারে "নাখলা" নামক স্থানে বাণিজ্য শেষে মক্কায় ফেরত-যাত্রী এক নিরীহ কুরাইশ কাফেলার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই হামলায় তারা আমর বিন আল-হাদরামী নামের এক নিরীহ কুরাইশ কাফেলা যাত্রীকে নৃশংস ভাবে করে খুন ও ওসমান বিন আবদুল্লাহ ও আল হাকাম বিন কেউসুন নামের দুইজন কাফেলা-যাত্রীকে করে বন্দি। অতঃপর, তারা কুরাইশদের ঐ কাফেলা বহর ও বন্দী দু’জন কুরাইশ-কে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় মুহাম্মদের কাছে প্রত্যাবর্তন করে। মুহাম্মদ এই ডাকাতি লব্ধ লুণ্ঠিত সম্পদের (গণিমত) এক-পঞ্চমাংশ নিজের অধিকারে রাখেন ও বাঁকি চার-পঞ্চমাংশ এই হামলায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন (কুরআন: ৮:৪১)। পরবর্তীতে তিনি এই দু’জন বন্দি কুরাইশকে মুক্তি পণ আদায়ের বিনিময়ে তাঁদের পরিবারের কাছ ফেরত দেন।

আবদুল্লাহ বিন জাহাশের নেতৃত্বে নাখলার এই নিরীহ কুরাইশ বাণিজ্য ফেরত কাফেলায় ডাকাতি, একজন নিরপরাধ আরোহীকে খুন ও দু’জন নিরপরাধ মুক্ত-মানুষকে বন্দীর কদর্য ঘটনাটি যে রাত্রিতে সংঘটিত হয়, তা ছিল রজব মাসের শেষ দিন। তৎকালীন আরবে যিলকদ, যিলহ্জ, মুহররম ও রজব - এই চারটি মাসকে “সম্মানিত মাস” রূপে বিবেচনা করা হতো। এই মাস গুলোতে কোনো প্রকার বিবাদ-ফ্যাসাদ, খুনাখুনি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ করাকে আরবরা খুবই গর্হিত বিবেচনা করতেন। পবিত্র মাসেও স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদের এহেন নৃশংস আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে যখন আরবরা ধিক্কার দেয়া শুরু করেন, তখন মুহাম্মদ তার এই দস্যুবৃত্তি, খুন ও অপহরণের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে কুরআনের যে আয়াত-টি হাজির করেন, তা হলো এই: [1]

২:২১৭ (সূরা আল বাক্বারাহ) – “সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। -----।" [2]

>> অর্থাৎ মুহাম্মদ অজুহাত দিচ্ছেন, মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে যেহেতু কুরাইশরা মুহাম্মদের প্রচারণায় অবিশ্বাস ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন (‘কুফরী করা’), তাকে ও তার অনুসারীদের-কে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেছিলেন ও তাদেরকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন; সেহেতু কুরাইশদের বাণিজ্য বহরের ওপর তার এই রাহাজানি, খুন, অপহরণ ও মালামাল লুণ্ঠন সম্পূর্ণরূপে "হালাল!" কারণ, মুহাম্মদের (আল্লাহর) বিবেচনায়,

“তার ধর্মের বিরুদ্ধে কোনরূপ সমালোচনা ও বিরোধিতা করা (ফেতনা সৃষ্টি) মানুষ খুন করার চেয়েও খারাপ!”

নাখলার এই ঘটনার প্রায় দুই মাস পরে, মুহাম্মদ খবর পান যে আবু-সুফিয়ান ইবনে হারবের নেতৃত্বে এক দল কুরাইশ তাদের বিশাল বাণিজ্য কাফেলা-বহর নিয়ে সিরিয়া থেকে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করছেন। এই খবরটি পাওয়ার পর মুহাম্মদ কুরাইশদের এই বাণিজ্য-ফেরত কাফেলা বহরের ওপর রাতের অন্ধকারে "নাখলা আক্রমণ" এর অনুরূপ অতর্কিত হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মুহাম্মদ অনুসারীরা ধারণা করেছিলেন যে রাতের অন্ধকারে আবু-সুফিয়ান ও তাঁর সঙ্গীদের কাফেলায় অতর্কিত হামলা-টি হবে সহজ, অর্জিত হবে গনিমত। ইতিপূর্বের একের পর এক ডাকাতি হামলার কবলে পড়া ও মাত্র মাস দুই আগে 'নাখলায়' মুহাম্মদের সহিংস হামলাটির পর বাণিজ্য-ফেরত কুরাইশ কাফেলা যাত্রীরা ছিলেন সতর্ক-সন্ধানী। মুহাম্মদের এই আক্রমণ-প্রস্তুতির সংবাদটি গুপ্তচর মাধ্যমে আবু সুফিয়ান জানতে পারেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদের এই ডাকাতি-আক্রমণের কবল থেকে তাঁর ও তাঁর দলের লোকদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টায় মক্কাবাসী কুরাইশদের কাছে এই মর্মে খবর পাঠান যে, মুহাম্মদের ডাকাতি হামলা থেকে তাঁদের বাণিজ্য-মালামাল রক্ষার্থে তাঁরা যেন তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের এহেন উপর্যুপরি ডাকাতি-হামলা ও সন্ত্রাসী অপকর্মের পুনরাবৃত্তি রোধে ক্ষতিগ্রস্ত (Victim) কুরাইশরা আবু সুফিয়ান ও তাঁর দলের লোকদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। মক্কাবাসী কুরাইশদের এগিয়ে আসার খবরটি যখন মুহাম্মদ অনুসারীরা জানতে পারেন, তখন তাদের অনেকেই "এই কঠিন সংঘর্ষে" জড়িত হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। মুহাম্মদ তার এই অনিচ্ছুক অনুসারীদের কুরাইশদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেন। অতঃপর বদর প্রান্তে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। তারিখটি ছিল ১৫ই মার্চ ৬২৪ সাল; বরাবর ১৯ শে রমজান (মতান্তরে ১৭ই রমজান), হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ। [3]

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর "ওহী বার্তার" রহস্য (secret) হলো কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা প্রত্যক্ষ ও পর্যবেক্ষণ শেষে "তার ফলাফল জানার পর" মুহাম্মদ আল্লাহর নামে রচনা করতেন শ্লোক। অতঃপর তা তিনি জিবরাইল প্রদত্ত "ওহী বার্তা" নামে প্রচার করতেন। যদি ঘটনাটির ফলাফল শুভ হয়, তবে তিনি তার সমস্ত কৃতিত্ব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে "তার নিজের ও আল্লাহর" জন্য রাখতেন। উদাহরণ, বদর যুদ্ধ (কুরআন: ৮:১-২৪)। আর যদি ঘটনাটির ফলাফল অশুভ হয়, তবে তার সমস্ত দায়ভার তিনি তার অনুসারীদের ওপর চাপাতেন। তাঁদের ইমানের দুর্বলতার অজুহাত হিসাবে। তাঁদের-কে দিতেন সান্ত্বনা, দেখাতেন লোভ (গনিমত ও বেহেশত), করতেন ভীতি প্রদর্শন। উদাহরণ: ওহুদ যুদ্ধ (কুরআন: ৩:১২১-১৭৯) ও হুদাইবিয়ার ব্যর্থতা (কুরআন: ৪৮:১-২৯)। ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম রক্তক্ষয়ী এই বদর যুদ্ধও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ওহী নাজিলের এই প্রক্রিয়াতেই বদর যুদ্ধ শেষে তার ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর মুহাম্মদ "আল্লাহর নামে" রচনা করেছিলেন শ্লোক, যা উল্লেখিত আছে কুরআনের 'সুরা আনফালে'। বদর যুদ্ধের ওপরে বর্ণিত ঘটনাটিকে মুহাম্মদ 'সুরা আনফালে' বর্ণনা করেছেন এই ভাবে: [4] [5]

৮:৭–৮ (সুরা আনফাল) - "আর যখন আল্লাহ দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কন্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক; অথচ আল্লাহ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে, যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও পাপীরা অসন্তুষ্ট হয়।"

>> "তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কণ্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক", অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের দল ও তাঁদের বাণিজ্য-কাফেলার ধন সম্পদ। কিন্তু, মুহাম্মদ (আল্লাহ) চেয়েছিলেন, "কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে", অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের লোকজনের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার জন্য মক্কা থেকে আগত কুরাইশ দল।

সংক্ষেপে,

নাখলা ও নাখলা পূর্ববর্তী ঘটনার মতই বদর যুদ্ধে আগ্রাসী আক্রমণকারী ব্যক্তিটি ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল্লাহ ও তার অনুসারীরা, কুরাইশরা নয়। এটি ছিল কুরাইশদের প্রতিরক্ষা লড়াই।

মুহাম্মদ তাঁর সুদীর্ঘ ১০ বছরের মদিনা জীবনে কমপক্ষে ৬০ টিরও বেশী (মতান্তরে এক শত) সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। গড়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি। বিশিষ্ট আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে একমাত্র “ওহুদ ও খন্দক” ছাড়া আর সবখানেই প্রথম আক্রমণকারী ছিলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ও তার দুর্ধর্ষ বাহিনী। আর এই ওহুদ ও খন্দক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটও ছিল এই যুদ্ধের পূর্বে সংঘটিত মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের আগ্রাসী হামলা ও অমানুষিক নৃশংসতা। মুহাম্মদের শক্তি বৃদ্ধির পর অনুরূপ হামলার জন্য শুধু একটা উপলক্ষই যথেষ্ট ছিল! আর তা হলো, “মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল! রসুলের বশ্যতা স্বীকার করে মুসলামনিত্ব বরণ করো! অন্যথায় পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো!” সুতরাং, কুরাইশ ও অন্যান্য অমুসলিমদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের যাবতীয় নিষ্ঠুরতা, সংঘর্ষ ও যুদ্ধের কারণ ছিল "শুধুই আত্মরক্ষা", তথাকথিত মোডারেট ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের (অধিকাংশই না জেনে) এই দাবী নিঃসন্দেহে ভ্রান্ত ও ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি। সত্য তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের রেফারেন্সের উদ্ধৃতি "কুরআন অনলি কুইক রেফারেন্স" বইটির মূল অংশের মুখ্য আলোচ্য বিষয় নয়। ‘কুরআন’ ও মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে লিখিত বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের আলোকে মুহাম্মদের জীবন ইতিহাসের সবিস্তার আলোচনা 'ইসলামের অজানা অধ্যায়' বইটিতে করা হয়েছে। [3] সিরাত ও হাদিস গ্রন্থগুলোর সাহায্য ছাড়া কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদের বানীগুলোর যতটুকু মর্মার্থ উদ্ধার করা সম্ভব, তার ভিত্তিতে পৃথিবীর সভ্য সমাজে "ইসলাম" নামের মতবাদটি বর্তমান বিশ্ব সমাজে আদৌ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে কি না এবং মুহম্মদের শিক্ষা ও কার্যকলাপ কী আদৌ ঐশ্বরিক নাকি দানবীয় - তার নির্ধারণই "কুরআন অনলি কুইক রেফারেন্স” লেখাটির মূল উদ্দেশ্য।

>>> মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের ওপর কুরাইশদের "যথেচ্ছ অকথ্য অত্যাচার" ও তাঁদেরকে মক্কা থেকে বিতাড়িত করার উপাখ্যান গত ১৪০০ বছর যাবত পৃথিবীর সকল ইসলাম পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা উচ্চস্বরে প্রচার করে আসছেন! ইসলামের ইতিহাসের এই বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত অতিকথার (myth) আদি উৎস হলো মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। এই দাবিটির যে আদৌ কোনো সত্যতা নেই, তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হলো 'কুরআন' নিজেই। মদিনায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনের (হিজরত) ১৬ মাস পরে আরবদের “সম্মানিত মাসে" রাতের অন্ধকারে নাখলায় সংঘটিত নিরীহ বাণিজ্য ফেরত কুরাইশ কাফেলায় ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও মালামাল লুণ্ঠনের ঘটনার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনেই যে মুহাম্মদ তার এই ২:২১৭ অজুহাতটি হাজির করছিলেন, তা ইসলামের ইতিহাসের আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। “মদিনায় এসে” মুহাম্মদ কুরাইশদের বিরুদ্ধে যে অনৈতিক সহিংস আগ্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন, তার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে মুহাম্মদ কুরাইশদের বিরুদ্ধে যে অপবাদগুলো আরোপ করেছিলেন তা হলো:

"কাফেররা আল্লাহ ও রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, তোমাদের ধর্মকে উপহাস করে, আল্লাহ ও রসুলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ধর্মের ব্যাপারে ফিতনা সৃষ্টি করে, তোমাদের মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করে, তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে”; ইত্যাদি।

লক্ষণীয় বিষয় এই যে, কুরাইশরা মুহাম্মদ কিংবা তার কোনো অনুসারীকে কখনও কোনও "শারীরিক আঘাত" করেছিলেন, কিংবা তাঁরা তার কোনো অনুসারীকে কখনও "খুন" করেছিলেন' - এর সামান্যতম ইঙ্গিতও মুহাম্মদের এই অজুহাতগুলোর কোথাও নেই।

বাস্তবিকই, মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে কুরাইশরা মুহাম্মদের তুলনায় ধনে-মানে-জনে বহুগুণ শক্তিশালী হওয়া সত্বেও তাঁরা তার কোনো অনুসারীকে কখনো “খুন” করেছিলেন এমন একটি উদাহরণও ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল কুরআনের কোথাও নেই। এমনকি, তাঁরা মুহাম্মদ কিংবা তার কোনো অনুসারীকে কখনো কোনো "শারীরিক আঘাত" করেছিলেন, এমন উদাহরণও নেই। যদি কুরাইশরা এমন একটি ঘটনাও সংঘটিত করতেন, তবে সেটাই হতো কুরাইশদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের আগ্রাসী আক্রমণের বৈধতার এক 'মোক্ষম অজুহাত!' সেক্ষেত্রে, কুরাইশদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অনৈতিক ও গর্হিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে মুহাম্মদ নিশ্চিতরূপেই সেই মোক্ষম অজুহাতটি বারংবার ব্যবহার করতেন। কুরাইশদের বিরুদ্ধে তার অনুসারীদের উদ্দীপ্ত করার হাতিয়ার হিসাবে।

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা মুসলমানদের ওপর যে যৎকিঞ্চিত অত্যাচারের বর্ণনা জানতে পারি, তা পারিবারিক ও মালিক-দাস দ্বন্দ্বের উদাহরণ। শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে কুরাইশরা সংঘবদ্ধভাবে নব্য মুসলমানদের ওপর যথেচ্ছ অত্যাচার-নিপীড়ন করতেন, এমন উদাহরণ আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় খুঁজে পাওয়া যায় না। আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, শুধু মক্কায় অবস্থানকালীন সময়েই নয়, মদিনায় এসে কুরাইশদের ওপর মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের যাবতীয় অনৈতিক আগ্রাসী সন্ত্রাসী আক্রমণ, লুণ্ঠন, হত্যা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও "দুটি মাত্র ব্যতিক্রম" ছাড়া কোনো কুরাইশই কোনো মুহাম্মদ অনুসারীকে মসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করেননি। এই দু'টি ঘটনার "মাত্র একটি” ছিল সমষ্টিগত, যেখানে সকল কুরাইশ গোত্র জড়িত ছিলেন (হুদাইবিয়া সন্ধি প্রাক্কালে, মদিনা হিজরতের ছয় বছর পর) । অন্যটি ছিল একান্ত ব্যক্তিগত (বদর যুদ্ধের পর আবু সুফিয়ান কর্তৃক সা'দ বিন আল নুমান কে মক্কায় ধরে রাখা)। আর, এই দুটি ঘটনাই ঘটেছিল মুহাম্মদের “মদিনায় হিজরতের পর”, মুহাম্মদের মক্কা অবস্থানকালীন সময়ে নয়!

আর মুসলমানদের জোরপূর্বক মক্কা থেকে বহিষ্কারের অজুহাতটিও যে বানোয়াট, তার প্রমাণ 'কুরআন' নিজেই। সত্য যে তার সম্পূর্ণ বিপরীত তা আমরা জানতে পারি মুহাম্মদের জবানবন্দিতেই :

৪:৮৯ (সূরা আন নিসা-মদীনায় অবতীর্ণ) – “তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।”

(৪:৯৯ [৪:৯৭] “---তারা বলেঃ এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলেঃ আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে?--"

৮:৭২ (সুরা আনফাল- মদীনায় অবতীর্ণ) – “এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। ---”

>> অর্থাৎ, মুহাম্মদই নিজ স্বার্থে তার আদি মক্কাবাসী অনুসারীদের (মুহাজির) তাঁদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মদিনায় তাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন, যেন তাঁদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁদের-কে আবার তাঁদের পূর্ব ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে না পারে।

শুধু তাইই নয়, কুরাইশরা মুসলমানদের "যথেচ্ছ" হুমকি-শাসানী বা ভীতি প্রদর্শন করতেন, অসম্মান বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন, এমন উদাহরণও কুরআনের কোথাও নেই। অন্যদিকে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যে কী পরিমাণ হুমকি-শাসানী, ভীতি প্রদর্শন, অসম্মান, দোষারোপ ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন, তা কুরআনের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে - যার আলোচনা গত তিনটি পর্বে করা হয়েছে। কুরআন সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, কুরাইশরা নয়, মুহাম্মদ ও তার সহকারীরাই ছিলেন আগ্রাসী, আক্রমণকারী, অবমাননাকারী ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যকারী। অবিশ্বাসী ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে মদিনায় শক্তিমান মুহাম্মদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন, ত্রাস ও হত্যার নির্দেশগুলো কী পরিমাণ বীভৎস ও নৃশংস ছিল, তা কুরআনের অসংখ্য বাক্যে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের এ সব হুমকি শুধু মৌখিক হুঁশিয়ারিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মদিনায় মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা অমানুষিক ও সন্ত্রাসী কায়দায় কীভাবে অমুসলিমদের হামলা করেছিলেন, খুন করেছিলেন, নির্যাতন করেছিলেন, মুক্ত মানুষকে জোরপূর্বক বন্দী করে ধরে নিয়ে এসে চিরদিনের জন্য দাস ও যৌন-দাসীতে রূপান্তরিত করেছিলেন, তাঁদেরকে ভিটে মাটি থেকে উৎখাত করে তাঁদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি লুট করেছিলেন; তা মুহাম্মদ নিজেই তার জবানবন্দি 'কুরআনে' অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন!

মুহাম্মদের ভাষায় তার সামান্য কিছু উদাহরণ: [6] [7]

৮:১২-১৪ (সূরা আল-আনফাল) - "যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্খির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।"

>> কাফেরদের গর্দানে আঘাত করে তাঁদের জোড়ায় জোড়ায় কাটার নির্দেশ দিচ্ছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব।

৮:১৭ - "সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহ্ই তাদেরকে হত্যা করেছেন। ---"

>> অর্থাৎ, মুহাম্মদের নির্দেশে তার অনুসারীরা কাফেরদের অমানুষিক নৃশংসতায় জোড়ায় জোড়ায় হত্যা করেছিলেন!

৮:১৩-১৪ - "যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের, সেজন্য এই নির্দেশ| বস্তুত: যে লোক আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্য হয়, নি:সন্দেহে আল্লাহ্র শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আপাতত: বর্তমান এ শাস্তি তোমরা আস্বাদন করে নাও এবং জেনে রাখ যে, কাফেরদের জন্য রয়েছে দোযখের আযাব।"

>> কী কারণে তাঁদের-কে হত্যা করা হয়েছিল তাও মুহাম্মদ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সেই কারণ-টি হলো, "যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে মুহাম্মদের (রসূলের)!"

৮:৫৫ - "সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহ্র নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অত:পর আর ঈমান আনেনি।"

>> মুহাম্মদ ঘোষণা দিচ্ছেন, ইসলাম অবিশ্বাসীরা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব (the worst of beasts)!

৮:৫৬ - "যাদের সাথে তুমি চুক্তি করেছ তাদের মধ্য থেকে অতঃপর প্রতিবার তারা নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন করে এবং ভয় করে না।"

>>কুরআনে অবিশ্বাসীদের সাথে মুহাম্মদ 'চুক্তির বিষয়' উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু কী সেই 'চুক্তি', কী তার শর্ত, কীভাবে অবিশ্বাসীরা তা ভঙ্গ করেছিলেন- ইত্যাদি বিষয়ের "সামান্যতম" আলোকপাত কুরআনের কোথাও নাই!

৮:৫৭ - "সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।"

>> "তথাকথিত" চুক্তিটি কী, কী তার শর্ত ও কীভাবে অবিশ্বাসীরা তা ভঙ্গ করেছিলেন তার কোনরূপ প্রমাণ হাজির না করেই মুহাম্মদ তার অনুসারীদের অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিলেন!

৮:৫৮ - "তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের ভয় থাকে, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে যেন হয়ে যাও তোমরাও তারা সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।"

>> যার সরল অর্থ হলো, অমুসলিমদের সাথে চুক্তিবদ্ধ ইসলাম বিশ্বাসীরা যে কোনো মুহূর্তে তাঁদের সেই চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে; "প্রয়োজন শুধুমাত্র সন্দেহ পোষণ!" [8]

৮:৬৭-৬৯ - "নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ আল্লাহ চান আখেরাত। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌছাত। সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।"

>> মুহাম্মদ যুদ্ধ বন্দিদের 'বন্দি অবস্থাতেই' হত্যা করতে উৎসাহী ছিলেন, কিন্তু তা তিনি করতে পারেন নাই। কারণ? এর কারণ আমরা জানতে পারি সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের প্রাণবন্ত বর্ণনায়। [9]

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] 'নাখলায়' প্রথম সফল অভিযান:
http://www.dhormockery.net/2014/03/blog-post_1332.html

[2] ইবনে কাথিরের তফসীর: কুরআন ২:২১৭:
http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=196

[3] ‘কুরআন’ ও মুহাম্মদেরই মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে লিখিত বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের আলোকে বদর যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের সবিস্তার বর্ণনা: ইসলামের অজানা অধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[4] ওহুদ যুদ্ধের চরম বিপর্যয় - 'বিনষ্ট নবী গৌরব পুনরুদ্ধারে কলা-কৌশল':
http://www.dhormockery.net/2015/03/blog-post_14.html

[5] হুদাইবিয়ার ব্যর্থতা - 'বিনষ্ট নবী গৌরব পুনরুদ্ধারের কলা-কৌশল':
http://www.dhormockery.net/2016/05/blog-post_38.html

[6] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/

[7] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[8] "এই অজুহাতেই" মুহাম্মদ বনি কেইনুকা গোত্রের সাথে চুক্তি-ভঙ্গ করে তাঁদের শত শত বছরের পৈতৃক আবাসভূমি থেকে বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করেছিলেন:
http://www.dhormockery.net/2014/10/blog-post_70.html

[9] বন্দীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত:
http://www.dhormockery.net/2014/05/blog-post_4838.html

Comments

অজানা নাম এর ছবি
 

আপনার লেখা ইসলামের অজানা অধ্যায় (মরু রসূলের ওহী- এর লিংক থেকে) সম্পূর্ণ পড়েছি। আপনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার খুব আগ্রহ অনুভব করছি। সম্ভব কিনা?

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

ভাই অজানা নাম,
লেখাগুলো পড়া ও মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই সিরিজটি ও 'ইসলামের অজানা অধ্যায়' বইটির অবশিষ্ট অংশ প্রকাশ সম্পুর্ণ করা পর্যন্ত যদি জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই কথা হবে। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

গোলাপ মাহমুদ

 
অজানা নাম এর ছবি
 

"কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।"
>> অর্থাৎ, মুহাম্মদের নির্দেশে তার অনুসারীরা কাফেরদের অমানুষিক নৃশংসতায় জোড়ায় জোড়ায় হত্যা করেছিলেন!
এখানে “জোড়ায় জোড়ায়” শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গের জোড়াসমূহ। দু’জন দু’জন করে অর্থ নয়।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 46 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর