নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

নেফারপ্রীতি পর্ব-৯ : আমার দ্বীপগাঁয়ে নেফারপ্রীতির অবতরণ



নেফারপ্রীতির টলটলে চোখে নোনা জল দেখে বলি, নেফারপ্রীতি ২০১৮ এর আমার দ্বীপগাঁয়ে চলো। সেখানে হয়তো জল আসবে না তোমার চোখে। বুনো কেয়াবনের বাতাসে ঘুরবো আমরা তরমুজ ক্ষেত কিংবা বুনো মহিষের হোগলা পাতার চরে! মেঘনা উপকূলের কাছে এলেই আমার চর দেখে বুঝতে পারি এটাই আমার মায়ের শেষশয্যাভূমি। আমরা একটা তরমুজ খেতে নামি। আমার পরিচিত কৈশোরিক জমিগুলো চিনতে পারি আমি। যেখানে কৃষকরা বর্গা হিসেবে তরমুজ লাগিয়েছে এবার। একটা মাঝারি তরমুজ ছিঁড়ে নেফারপ্রীতির হাতে দিয়ে বলি, তুমি এটা খেলে আমার খুব ভাল লাগলে নেফারপ্রীতি! মায়ের জমি এটা! কিন্তু সে হেসে বলে, তুমিতো কিচ্ছু চেননা, এর ভেতরতো লাল হয়নি এখনো। বরং ওটা রেখে দাও, আমি যেটা বলি সেটা ভাঙো তুমি। এবং গোলগাল আরো ছোট সাইজের একটা তরমুজ দেখালো আঙুল দিয়ে আমায়! দুজনে রোদদুপুরে টকটকে লাল তরমুজ শেষ না করতেই, বর্গাচাষি হারেজ আলী আসে একদম আমাদের কাছে। আমাকে দেখে বিস্মিত হয়ে বলে, ছোটভাই কখন আইলেন? আমারে ডাকলেন না কেন? এইভাবে মাটিতে বইসা মেহমান নিয়া তরমুজ খাইবেন? দাও আনি? কাইট্টা দেই?
:
নেফারপ্রীতি বলে, চাচা তরমুজের সাইজ এতো ছোট কেন? সার পানি দেন নাই? বিদেশি মেহমানরে ছোট তরমুজ খাওয়াইবেন?
দিছি গো মা জননি! কিন্তু এইবার সারে নাকি ভেজাল ছিল, তাই তরমুজ বড় হয় নাই, লোকসান হইবে তরমুজ চাষ কইরা! কর্জ করছি ষাইট হাজার টাকা এই তরমুজ চাষে। তা মনে হয় শোধ করবার পারুম না মা!
নেফারপ্রীতি বললো, কেন আপনার ঐ পুব দিকের সব তরমুজওইতো বড় দেখলাম। যান দেইখা আসেন ক্ষেতের পুব দিকটায়। মাটিতে উঁচু উঁচু তরমুজের মত দেখে ঐদিকে গেল হারেজ আলী। ডাক দিলাম আমি, চাচা বড় তরমুজ কি পাইছেন? উঁচু গলায় হারেজ বললো, এ দিকে লতার মধ্যে কবে এতো বড় তরমুজ ফললো, আগে কখনো দেখিনাই বাবা! আল্লার কাছে হাজার শুকরিয়া!
নেফারপ্রীতি আমাকে বললো, চাচাকে ডাক দাও! সে দেখুক এখানের তরমুজ আরো বড়। আমার ডাকে দৌঁড়ে এলো হারেজ চাচা। বললাম চাচা, সব বড় তরমুজ আপনি মাটির মধ্যে ঢেকে রেখেছেন লতা দিয়া? এই দেখুন কত বড় তরমুজ? নেফারপ্রীতির হেঁটে যাওয়া পথের সব বড় তরমুজ দেখে হারেজ চাচা কি বলবে বুঝতে পারেনা সে! চোখ মুছে বলে, বাবা বুড়া বয়সে কি আগে চোখে ভুল দেখেছি। না এখন ভুল দেখছি বুঝতে পারছি না। সব আল্লাহর মেহেরবানি! চোখের ছানিটা কাটাইতে অইবে বাবা! জমিতে এতো বড় তরমুজ। আর আমি আল্লাহর না শুকরিয়া করলাম!
:
এবার আমার বাড়ি যেতে নদীতে মাছধরা সলেমানের নৌকোকে ডাক দিলাম। বললাম, সলেমান পার করে দাও বাবা আমাদের ওপারে! কাছে এসে সলেমান বললো, ভাইজান আপনারে তো পার করুম কিন্তু ইলিশ জালের নৌকায় মহিলা তোলা যাইবে না। মহিলারা অপয়া! আর যদি ওনার শরীর খারাপ থাকে, তবে আর কখনো মাছ পামুনা জালে।
নেফারপ্রীতি হেসে বললো, তুমি আজ কটা মাছ পেয়েছো সলেমান?
২টা। বলে পাটাতন তুলে ২টা মাছ দেখায় সলেমান, মার মধ্যে মূলত ১টাকে ইলিশ বলা যায়। অন্যটা এতো ছোট যে, তা কিশোর ইলিশ বা ইলিশের নাতি বললে ভুল হবেনা।
গতকালকে কটা পেয়েছিলে সলেমান?
সারাদিন ৩টা ইলিশ। আর ২টা পোয়া!
আমি বললাম, সলেমার এ মহিলাকে তোমার নায়ে উঠাও। ভাল মাছ পাবে তুমি। রাজি হয়না সলেমান। তারপরো ২ বার নৌকো কিনে দিয়েছিলাম ওর বাবাকে আমি। ওর মাকে শহরে নিয়ে একবার চিকিৎসা করিয়েছিলাম গলায় কৈ মাছ আটকে যাওয়াতে। তাই না করতে পারেনা আমার কথায়। মুখ কালো করে বলে, ওঠেন ভাইজান। আমরা অশিক্ষিত গরিব মানুষ! কি আর কমু আপনাগোরে।
:
নৌকো নদীর মাঝে এলে নেফারপ্রীতি বলে, সলেমান তোমার জালটা ফেলো নদীতে। সলেমান বলে, না আপনাকে ওপার নামাইয়া দিয়া আসি। এখন জোয়ার আইছে। জাল ফেললে এখন মাছ পামু না। তাছাড়া নৌকায় আপনে মহিলা। এখন জাল ফেলা মানে ফাও পন্ডশ্রম। আমি হাত লাগিয়ে বললাম, ফেলো তুমি জাল। পন্ডশ্রম হলে তার দাম দেব আমি। নিজেই ৪/৫টা প্লুট ফেললাম নদীতে। বাধ্য হয়ে সলেমান তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জাল ফেলতে বললো তার ছোটছেলে কাছেমকে। নিজেও ফেললো ২ হাতে। নৌকো জোয়ার চলে যাচ্ছে ওপরের দিকে তাই হালটা আমি ধরে বললাম, সব জালটা ফেলো সলেমান। মিনিট দশেকে সব জাল ফেলা হলে নেফারপ্রীতি বললো, এবার ওঠাও।
সলেমান বললো, ভাইজান কি কয় এইসব? কষ্ট কইরা জাল ফালাইলাম। ২ ঘন্টা না যাইতে তুইলা ফালামু? বললাম - তোল তুমি!
জলদাস জীবনে বড় হওয়া মানুষ আমি। তাই সব জানি এসব জালচক্র। এবং নিজেই টানা শুরু করলাম জালটা।
কিন্তু টানতে পারছি না আমরা। আমাদের জাল আর নৌকো কে যেন টেনে নিতে চাইছে পানির নিচে। জোয়ার উত্তর দিকে উজানে বইলেও, জলমাঝের কোন এক জলদানব যেন আমাদের জাল আর নৌকো টেনে নিয়ে যাচ্ছে সোজা দক্ষিণ বরারব!
:
দরিদ্র সলেমানের ২-হাতার ডিঙি নৌকো প্রবল টানে ডুবে যাচ্ছে দেখে নেফারপ্রীতিকে বললাম, কি হচ্ছে নেফারপ্রীতি! আবার তোমার সাথে সমুদ্রে ছিল এমন কোন সমুদ্ররাক্ষস নয় তো? নেফারপ্রীতি জলের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো, না! এক ঝাঁক ইলিশ! তারা টেনে নিয়ে যাচ্ছে ওর নৌকো। তোমরা ৩ জনে ১ সাথে নৌকা বাও, তবে তীরে নিতে পারবে। না হলে ডুবে যাবে নৌকো! কিন্তু ৩ জনে বেয়েও নৌকো তীরে নিতে পারছিলাম না আমরা। বললাম, নেফারপ্রীতি কিছু একটা করো! ওদের দুজনকে চোখ বুজতে বললো নেফারপ্রীতি। কিন্তু ওরা ভয় পেয়ে চোখ বুজলো না। বাধ্য হয়ে ওদের চোখে কাদামিশ্রিত জল ছিটালো নেফারপ্রীতি। জলকাদাতে চোখে অন্ধকার দেখে যখন ছেঁড়া ময়লা গামাতে চোখ রগরাচ্ছিল বাপ-বেটা, ঠিক সেই মূহূর্তে চোখের এক ঝটকায় নৌকোকে একদম তীরে ছুঁড়ে ফেললো নেফারপ্রীতি। আমরা স্থলে ধাক্কা খেয়ে পড়তে পড়তে কোন রকমে দাঁড়ালাম। নেফারপ্রীতি সলেমানকে বললো, এবার জাল টানো আমরা আসছি। এ কথা বলে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমাকে টানতে টানতে মার কবরের পাশ দিয়ে আমাদের বাড়ির দিকে হেঁটে চললো নেফারপ্রীতি। আমি দেখতে পারলাম না, কত মাছ উঠলো সলেমানের জালে! নাকি ডুবে গেছে ওর নৌকো!
(এরপর পর্ব ১০ আগামিকাল)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর